বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

ডেটা সেন্টারের ভেতরে কী থাকে? ইন্টারনেটের অদৃশ্য অবকাঠামোর পরিচয়

ডেটা সেন্টারের ভেতরে কী থাকে? ইন্টারনেটের অদৃশ্য অবকাঠামোর পরিচয়
পর্দার আড়ালে সচল ইন্টারনেটের অবকাঠামো

মুঠোফোনে একটি ওয়েবসাইট খুলতে কয়েক মুহূর্ত লাগে। একটি ছবিতে চাপ দিলে ছবি আসে, ভিডিও চালু হয়, আবার নিজের লেখা কোনো মন্তব্য সঙ্গে সঙ্গে পর্দায় দেখা যায়। কাজগুলো এত সহজ দেখায় যে পেছনের যন্ত্রপাতির কথা মনে থাকে না। অথচ প্রতিটি অনুরোধের জন্য কোথাও কম্পিউটার কাজ করছে, তথ্য পড়ছে, উত্তর তৈরি করছে এবং যোগাযোগপথ দিয়ে তা পাঠাচ্ছে। এই যন্ত্রগুলোর একটি বড় অংশ থাকে ডেটা সেন্টারে। বাইরে থেকে ভবনটি সাধারণ শিল্পস্থাপনার মতো মনে হতে পারে, কিন্তু ভেতরে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, শীতলীকরণ ও নিরাপত্তার সমন্বয়ে দিনরাত কাজ চলে।

ডেটা সেন্টার হলো কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো রাখার জন্য পরিকল্পিত একটি ভবন বা সুরক্ষিত স্থান। সেখানে ওয়েবসাইট চালানো, তথ্য সংরক্ষণ, অনলাইন সেবা পরিচালনা, হিসাব করা এবং ব্যবহারকারীর অনুরোধের উত্তর দেওয়ার যন্ত্র থাকে। সব ডেটা সেন্টার একই আকারের নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সেবা চালানোর জন্য কয়েকটি কক্ষ থাকতে পারে; আবার বড় সেবাদাতার একাধিক বিশাল ভবন থাকতে পারে। ইন্টারনেটের সব তথ্য একটি কেন্দ্রে রাখা নেই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য স্থাপনা, তাদের মধ্যকার সংযোগ এবং ব্যবহারকারীর যন্ত্র মিলেই সেবাগুলো চলে।

ভেতরে ঢুকলে সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্য সারি সারি উঁচু ধাতব তাক। প্রতিটি তাকে একটির ওপর আরেকটি বসানো অপেক্ষাকৃত পাতলা কম্পিউটার থাকে। এগুলোকে সার্ভার বলা হয়। সাধারণ ব্যক্তিগত কম্পিউটারের মতো সার্ভারেও প্রসেসর, স্মৃতি, সংযোগব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে তথ্য রাখার যন্ত্রাংশ থাকে। পার্থক্য হলো, এগুলো বহু ব্যবহারকারীর অনুরোধ সামলানোর জন্য তৈরি ও পরিচালিত হয়। একটি সার্ভার ওয়েবসাইটের পৃষ্ঠা তৈরি করতে পারে, অন্যটি ভিডিও প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে, আবার কোনো সার্ভার প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কাজ চালাতে পারে।

তবে একটি ওয়েবসাইট মানেই একটি নির্দিষ্ট সার্ভার—এমন নয়। ছোট সাইট এক যন্ত্রের একটি অংশ ব্যবহার করতে পারে। বড় সাইটের কাজ বহু যন্ত্রে ভাগ করা হয়। একই শারীরিক সার্ভারের ক্ষমতা ভাগ করে একাধিক স্বতন্ত্র সফটওয়্যার পরিবেশ তৈরি করাও সম্ভব। ব্যবহারকারীর কাছে সেটি আলাদা সার্ভারের মতো দেখা যায়। এই ব্যবস্থার জন্যই অনেক প্রতিষ্ঠান নিজে ধাতব যন্ত্র না কিনেও প্রয়োজনমতো গণনাশক্তি ভাড়া নিতে পারে। ‘ক্লাউডে রাখা’ কথাটির পেছনেও শেষ পর্যন্ত বাস্তব ভবন, বাস্তব যন্ত্র এবং বাস্তব বিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে।

সার্ভারের পাশাপাশি থাকে তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা। ওয়েবসাইটের লেখা, ব্যবহারকারীর আপলোড করা ছবি, হিসাবের নথি বা সফটওয়্যারের প্রয়োজনীয় ফাইল কোনো না কোনো সংরক্ষণযন্ত্রে থাকে। কখনো সার্ভারের মধ্যেই সংরক্ষণক্ষমতা থাকে, কখনো আলাদা বহু যন্ত্র মিলে বড় তথ্যভান্ডার তৈরি করে। দ্রুত ব্যবহার করতে হয় এমন তথ্যের জন্য এক ধরনের যন্ত্র, বিপুল পরিমাণ তথ্য অপেক্ষাকৃত কম খরচে রাখার জন্য অন্য ধরনের যন্ত্র বেছে নেওয়া হতে পারে। কেবল কত তথ্য রাখা যাবে, সেটিই প্রশ্ন নয়; কত দ্রুত তা পড়া ও লেখা যাবে, সেটিও সেবার গতিকে প্রভাবিত করে।

সব তথ্য একই রকমভাবে রাখা হয় না। একটি সংবাদ নিবন্ধের ছবি আলাদা ফাইল হিসেবে থাকতে পারে, কিন্তু পাঠকের নাম, নিবন্ধের পরিচয়, মন্তব্য বা প্রকাশের সময় সাজানো তথ্যভান্ডারে রাখা হতে পারে। কেউ মন্তব্য জমা দিলে সার্ভার প্রথমে অনুরোধটি পরীক্ষা করে, তারপর উপযুক্ত তথ্যভান্ডারে নতুন তথ্য লেখে। পরে অন্য পাঠক পৃষ্ঠাটি খুললে সেই তথ্য পড়ে উত্তর তৈরি হয়। ফলে ডেটা সেন্টারের কাজ শুধু পুরোনো তথ্য ফেরত দেওয়া নয়; প্রতিনিয়ত নতুন তথ্য গ্রহণ, যাচাই, পরিবর্তন এবং সঠিক ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে দেওয়া।

এই যন্ত্রগুলোকে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত করে নেটওয়ার্কের সরঞ্জাম। তাকের পেছনের তার, আলোকতন্তুর সংযোগ, পথনির্দেশক যন্ত্র এবং সংযোগ ভাগ করার যন্ত্র মিলে ভেতরের যোগাযোগ তৈরি করে। সার্ভারকে তথ্যভান্ডারের সঙ্গে, এক তাককে অন্য তাকের সঙ্গে এবং পুরো স্থাপনাকে বাইরের ইন্টারনেটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। কয়েকটি আলোকসংকেতের পথ বিচ্ছিন্ন হলে যেন পুরো সেবা থেমে না যায়, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের বিকল্প পথ রাখা হতে পারে। তারগুলোর নামকরণ ও সুশৃঙ্খল বিন্যাসও জরুরি; ভুল সংযোগ খুলে ফেলা কিংবা ত্রুটি খুঁজতে দেরি হওয়া বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।

একটি ওয়েবসাইট দেখার পথ ধরে বিষয়টি স্পষ্ট করা যায়। আপনি ঠিকানা লিখলে প্রথমে আপনার যন্ত্র জানতে চায় সেই নামের সঙ্গে কোন নেটওয়ার্ক ঠিকানা সম্পর্কিত। এরপর অনুরোধটি আপনার সংযোগদাতা ও ইন্টারনেটের বিভিন্ন যোগাযোগপথ পেরিয়ে উপযুক্ত সেবায় পৌঁছায়। সেখানে সার্ভার অনুরোধ বুঝে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠা বা তথ্য তৈরি করে। দরকার হলে তথ্যভান্ডার থেকে লেখা পড়ে, অন্য সেবা থেকে ফল নেয় এবং শেষে উত্তর পাঠায়। আপনার পর্দায় ছবি ও লেখা ফুটে ওঠার আগে কয়েকটি পৃথক যন্ত্র ও সফটওয়্যার অতি দ্রুত এই কাজগুলো সম্পন্ন করে।

প্রতিটি অনুরোধ অবশ্য মূল ডেটা সেন্টার পর্যন্ত যায় না। বহুল ব্যবহৃত ছবি, নকশার ফাইল বা ভিডিওর কিছু অংশ দর্শকের কাছাকাছি অন্য কেন্দ্রে সাময়িকভাবে রাখা হতে পারে। তখন সেখান থেকেই দ্রুত উত্তর আসে। যদি প্রয়োজনীয় ফাইল সেখানে না থাকে, কাছের কেন্দ্রটি মূল সেবার কাছ থেকে তা নিয়ে আসতে পারে। এই ব্যবস্থা দূরের মূল সার্ভারের ওপর চাপ কমায় এবং ব্যবহারকারীর অপেক্ষার সময়ও কমাতে পারে। তাই একই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি ও ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য আলাদা পথ বা আলাদা স্থাপনা থেকে আসা অস্বাভাবিক নয়।

এত যন্ত্র চালানোর প্রথম শর্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। সার্ভার হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে চলমান কাজ থেমে যেতে পারে, অরক্ষিত তথ্য হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং ব্যবহারকারীরা সেবা পাবেন না। ডেটা সেন্টারে তাই সাধারণ বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণের বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। কোথাও একাধিক সরবরাহপথও থাকে। বিদ্যুৎ সরাসরি যন্ত্রে পৌঁছানোর আগে তার মান ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রতিটি সার্ভারতাক কত বিদ্যুৎ নিচ্ছে, কোথায় অতিরিক্ত চাপ পড়ছে এবং কোন অংশে ত্রুটি দেখা দিয়েছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।

বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জরুরি উৎপাদকযন্ত্র চালু হতে কিছু সময় লাগে। সেই ছোট ব্যবধান সামলাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা ও ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজন হলে জরুরি উৎপাদকযন্ত্র দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ দিতে পারে, তবে তার জন্য জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ দরকার। সব স্থাপনার সুরক্ষার স্তর এক নয়। কোথাও শুধু মৌলিক বিকল্প ব্যবস্থা থাকে, কোথাও এমনভাবে একাধিক স্বতন্ত্র উপাদান সাজানো হয় যে একটি অংশ মেরামতের সময়ও সেবা চলতে পারে। যন্ত্র কেনার পাশাপাশি নিয়মিত পরীক্ষা না করলে এই বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা যায় না।

বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে সার্ভার তাপও তৈরি করে। ঘরের মধ্যে সারি সারি শক্তিশালী যন্ত্র চালালে সেই তাপ সরানো বড় প্রকৌশলগত কাজ হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত গরমে যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমতে পারে বা ত্রুটি দেখা দিতে পারে। তাই ডেটা সেন্টারে ঠান্ডা বাতাস যন্ত্রের সামনের দিকে পৌঁছানো এবং পেছন দিয়ে বেরোনো গরম বাতাস আলাদা করে সরানোর পরিকল্পনা থাকে। তাকগুলোর মুখোমুখি ও পেছন-পেছন অবস্থান অনেক সময় এই উদ্দেশ্যে নির্ধারিত হয়। ঠান্ডা ও গরম বাতাস এলোমেলোভাবে মিশে গেলে শীতলীকরণে বাড়তি শক্তি লাগে।

শীতলীকরণ মানেই সব যন্ত্রকে বরফশীতল ঘরে রাখা নয়। লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে যন্ত্রের উপযুক্ত তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং তৈরি হওয়া তাপ বাইরে সরিয়ে নেওয়া। কোথাও যান্ত্রিক শীতলীকরণ, কোথাও বাইরের অনুকূল আবহাওয়া, আবার কোথাও জলভিত্তিক ব্যবস্থা কাজে লাগে। বেশি তাপ উৎপন্ন করা কিছু বিশেষ প্রসেসরের ক্ষেত্রে তরলের সাহায্যে যন্ত্রের কাছ থেকেই তাপ সরানোর পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। পদ্ধতি বাছার সময় স্থানীয় আবহাওয়া, বিদ্যুতের খরচ, জলের প্রাপ্যতা এবং যন্ত্রের তাপের ঘনত্ব বিবেচনা করতে হয়।

ডেটা সেন্টারের শক্তি দক্ষতা বোঝার একটি উপায় হলো পুরো স্থাপনার বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে সার্ভার, সংরক্ষণ ও নেটওয়ার্কের যন্ত্রগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনা করা। বাকি শক্তি শীতলীকরণ, বিদ্যুৎ বিতরণ ও অন্যান্য সহায়ক কাজে যায়। তবে শুধু একটি অনুপাত কম হলেই সব দিক থেকে স্থাপনাটি পরিবেশবান্ধব হয়ে যায় না। বিদ্যুতের উৎস কী, শীতলীকরণে কত জল লাগছে, যন্ত্র কতটা কাজে লাগছে এবং অতিরিক্ত তাপ ব্যবহারের সুযোগ আছে কি না—এসবও গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত বাড়তে থাকা অনলাইন সেবার সঙ্গে এই প্রশ্নগুলোর গুরুত্ব বাড়ছে।

আগুন ও অননুমোদিত প্রবেশ থেকে সুরক্ষাও অবকাঠামোর অংশ। যন্ত্রে ত্রুটি বা বৈদ্যুতিক সমস্যার আগাম লক্ষণ ধরতে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকে। আগুন শনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হয় যাতে মানুষ নিরাপদ থাকে এবং যন্ত্রের ক্ষতিও সীমিত হয়। ভবনের বাইরে ও ভেতরে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত থাকে; সবাই সব কক্ষে ঢুকতে পারেন না। কর্মীদের পরিচয় যাচাই, প্রবেশের নথি এবং নির্দিষ্ট কাজের অনুমতি শারীরিক নিরাপত্তা বজায় রাখে। তবে তালা ও ক্যামেরা থাকলেই তথ্য সুরক্ষিত হয় না; সফটওয়্যার ও ব্যবহারকারীর অনুমতির নিয়মও ঠিক রাখতে হয়।

তথ্য হারানোর বিরুদ্ধে আলাদা প্রস্তুতি প্রয়োজন। একটি সংরক্ষণযন্ত্র নষ্ট হলেও কাজ চালাতে একই তথ্যের আরেকটি অনুলিপি রাখা হতে পারে। কিন্তু একই জায়গায় একাধিক অনুলিপি থাকলেই পূর্ণ সুরক্ষা হয় না; ভুলবশত তথ্য মুছে ফেলা, ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা পুরো স্থাপনার বড় বিপর্যয় সব অনুলিপিকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিয়মিত ব্যাকআপ এবং প্রয়োজনে তা ফিরিয়ে আনার পরীক্ষা দরকার। একই সেবার বিকল্প ব্যবস্থা অন্য স্থানে রাখা হতে পারে। বিকল্প ব্যবস্থা চালু থাকা এবং পুরোনো তথ্য পুনরুদ্ধার করতে পারা দুটি আলাদা সক্ষমতা।

এই সব ব্যবস্থা দেখাশোনা করেন নানা ধরনের কর্মী। কেউ সার্ভার বসান বা নষ্ট যন্ত্রাংশ বদলান, কেউ বিদ্যুৎ ও শীতলীকরণ দেখেন, কেউ নেটওয়ার্কের ত্রুটি শনাক্ত করেন। সফটওয়্যার দল পর্যবেক্ষণ করে কোন সেবায় অনুরোধ বেড়েছে, কোথায় উত্তর দিতে দেরি হচ্ছে কিংবা কোন অংশে ত্রুটি ঘটেছে। অনেক কাজ দূর থেকে পরিচালিত হলেও যন্ত্র পরিবর্তন, তার সংযোগ বা বিদ্যুৎব্যবস্থার মেরামতে মানুষকে সরাসরি স্থাপনায় যেতে হয়। ডেটা সেন্টার তাই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় কোনো রহস্যময় বাক্স নয়; এটি মানুষের পরিকল্পনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে সচল থাকে।

ডেটা সেন্টার আর ইন্টারনেটও এক জিনিস নয়। ডেটা সেন্টার সেবা চালানোর একটি স্থান; ইন্টারনেট হলো অসংখ্য নেটওয়ার্কের পারস্পরিক সংযোগ। কোনো ওয়েবসাইট ধীর হলে কারণ সার্ভারে অতিরিক্ত চাপ, তথ্যভান্ডারের সমস্যা, সফটওয়্যারের ত্রুটি বা ব্যবহারকারীর নিজস্ব সংযোগ—যেকোনোটি হতে পারে। আবার ভালো ডেটা সেন্টার থাকা সত্ত্বেও ভুল সফটওয়্যার নকশায় সেবা বন্ধ হতে পারে। অনলাইন অভিজ্ঞতার গতি ও নির্ভরযোগ্যতা তাই ভবনের ভেতরের যন্ত্র থেকে ব্যবহারকারীর মুঠোফোন পর্যন্ত পুরো পথের ওপর নির্ভর করে।

পরের বার একটি ওয়েবপৃষ্ঠা খুললে তার পেছনে সার্ভারতাকের সারি কল্পনা করা যায়, কিন্তু গল্পটি সেখানে শেষ নয়। লেখা পড়তে তথ্যভান্ডার, উত্তর পাঠাতে নেটওয়ার্ক, যন্ত্র চালাতে বিদ্যুৎ, তাপ সরাতে শীতলীকরণ এবং বিপর্যয়ের পর সেবা ফিরিয়ে আনতে ব্যাকআপ দরকার। এই উপাদানগুলো একসঙ্গে কাজ করে বলেই পর্দায় একটি সাধারণ স্পর্শের উত্তর পাওয়া যায়। ডেটা সেন্টার ইন্টারনেটের অদৃশ্য কারখানা—কারণ সেখানে তথ্য শুধু জমা থাকে না, প্রতিনিয়ত প্রক্রিয়াকরণ, সুরক্ষা এবং পৃথিবীর নানা প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলে।