বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

পলাশীর যুদ্ধ কি আসলে যুদ্ধ ছিল, নাকি সাজানো ক্ষমতা হস্তান্তর?

সিরিজ: ইতিহাসের আড়ালে ষড়যন্ত্রের রহস্য

পলাশীর যুদ্ধ কি আসলে যুদ্ধ ছিল, নাকি সাজানো ক্ষমতা হস্তান্তর?
যুদ্ধের আড়ালে পরিকল্পিত ক্ষমতা হস্তান্তর

১৭৫৭ সালের ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিশাল বাহিনী এবং রবার্ট ক্লাইভের তুলনামূলক ছোট ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী মুখোমুখি হয়েছিল। কামান ছোড়া হয়, সৈন্য নিহত হয়, মীর মদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেনানায়ক প্রাণ হারান এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। এই অর্থে পলাশীর ঘটনা নিঃসন্দেহে একটি বাস্তব যুদ্ধ ছিল। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত নবাবের অধিকাংশ সৈন্য ইচ্ছাকৃতভাবে নিষ্ক্রিয় ছিল, প্রধান সেনাপতিদের একাংশ আগেই শত্রুর সঙ্গে গোপন চুক্তি করেছিল এবং বিজয়ের পর কে নবাব হবেন তা যুদ্ধ শুরুর আগেই নির্ধারিত হয়েছিল। এই অর্থে পলাশী একটি সাধারণ যুদ্ধ ছিল না; এটি সীমিত সামরিক সংঘর্ষের আবরণে সংঘটিত পরিকল্পিত শাসক পরিবর্তন।

পলাশীকে বোঝার ক্ষেত্রে দুটি বিপরীত সরলীকরণ প্রায়ই দেখা যায়। একটি মতে, এটি ছিল ইংরেজদের সামরিক দক্ষতায় অর্জিত এক অসাধারণ বিজয়, যেখানে অল্পসংখ্যক সুশৃঙ্খল সৈন্য বিশাল ভারতীয় বাহিনীকে পরাজিত করেছিল। অন্য মতে, সেখানে কোনো যুদ্ধই হয়নি; সবকিছু আগে থেকে সাজানো ছিল এবং নবাবের ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে মীর জাফরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। দুটি ব্যাখ্যাই আংশিক সত্য ধারণ করলেও কোনোটিই সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। প্রকৃত ঘটনা ছিল যুদ্ধ, সামরিক অভ্যুত্থান, দরবারি ষড়যন্ত্র এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের এক জটিল সমন্বয়।

পলাশীর সংঘর্ষের আগে বাংলা ছিল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল। বাংলা, বিহার ও ওড়িশার নবাবি প্রশাসন বিপুল রাজস্ব, উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করত। ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো এখানে মূলত বাণিজ্যের অনুমতি নিয়ে কাজ করলেও ধীরে ধীরে নিজেদের দুর্গ, অস্ত্র, সৈন্য ও রাজনৈতিক যোগাযোগ গড়ে তুলেছিল। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তখনো বাংলার শাসক ছিল না, কিন্তু কলকাতায় তারা একটি সুরক্ষিত সামরিক-বাণিজ্যিক কেন্দ্র তৈরি করেছিল।

আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর ১৭৫৬ সালে তরুণ সিরাজউদ্দৌলা নবাব হলে দরবারের পুরোনো ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়। ঘসেটি বেগম, প্রভাবশালী সেনাপতি মীর জাফর, রায় দুর্লভ, জগৎশেঠ ব্যাংকার পরিবার এবং আরও কয়েকটি গোষ্ঠী নতুন নবাবের নীতি নিয়ে অসন্তুষ্ট বা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। সিরাজ দ্রুত নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এতে বহু ক্ষমতাবান ব্যক্তির সম্পদ, পদ ও নিরাপত্তা নিয়ে ভয় সৃষ্টি হয়। নবাবের দরবার বাহ্যিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকলেও ভেতরে ভেতরে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।

ইংরেজদের সঙ্গে সিরাজের সংঘাতও একই সময়ে তীব্র হয়। কোম্পানির কর্মচারীরা বাণিজ্যিক ছাড়ের অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত পণ্যের শুল্ক এড়াতেন। তারা নবাবের অনুমতি ছাড়া কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করছিলেন এবং নবাবের সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আশ্রয় দিচ্ছিলেন। সিরাজ এসব কাজকে তাঁর সার্বভৌম ক্ষমতার প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন। ১৭৫৬ সালের জুনে তাঁর বাহিনী কলকাতা দখল করলে ইংরেজদের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও মর্যাদায় বড় আঘাত লাগে।

রবার্ট ক্লাইভ ও চার্লস ওয়াটসনের নেতৃত্বে ইংরেজ বাহিনী ১৭৫৭ সালের জানুয়ারিতে কলকাতা পুনর্দখল করে। ফেব্রুয়ারিতে আলীনগরের চুক্তির মাধ্যমে সাময়িক সমঝোতা হলেও উভয় পক্ষের অবিশ্বাস দূর হয়নি। মার্চে ইংরেজরা ফরাসি অধিকৃত চন্দননগর দখল করে বাংলায় নিজেদের প্রধান ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বীকে দুর্বল করে দেয়। এরপর কোম্পানির নেতৃত্ব শুধু বাণিজ্যিক সুবিধা পুনরুদ্ধার নয়, সিরাজকে সরিয়ে একজন অনুগত নবাব বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

মীর জাফর ছিলেন নবাবি সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ সেনাপতি। সিরাজের আমলে তাঁর মর্যাদা ও প্রভাব কমে যাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। বাংলার শক্তিশালী ব্যাংকার জগৎশেঠ পরিবারও সিরাজের শাসনে নিজেদের সম্পদ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নিরাপদ বোধ করছিল না। রায় দুর্লভ ও ইয়ার লতিফ খানের মতো সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও নবাববিরোধী গোষ্ঠীতে যুক্ত হন। ইংরেজরা বুঝতে পারে, এই অভ্যন্তরীণ বিভাজন ব্যবহার করতে পারলে সরাসরি দীর্ঘ যুদ্ধ ছাড়াই বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতার ওপর প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

ইংরেজদের সঙ্গে মীর জাফরের যে গোপন চুক্তি হয়, তার মূল শর্ত ছিল সরল। কোম্পানি সিরাজউদ্দৌলাকে অপসারণ করে মীর জাফরকে নবাব করতে সহায়তা করবে। বিনিময়ে মীর জাফর কোম্পানি, কলকাতার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা, ইংরেজ সেনা ও নৌবাহিনী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিপুল অর্থ দেবেন। তিনি কোম্পানির বাণিজ্যিক ও ভূখণ্ডগত সুবিধাও নিশ্চিত করবেন। ফলে যুদ্ধের আগেই ইংরেজরা শুধু শত্রুকে দুর্বল করেনি; তারা পরবর্তী নবাব এবং বিজয়ের আর্থিক পুরস্কারও নির্ধারণ করে রেখেছিল।

এই গোপন সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দিক ছিল মীর জাফর ও তাঁর সহযোগীদের নিষ্ক্রিয় থাকার প্রতিশ্রুতি। তারা প্রকাশ্যে নবাবের বাহিনীর অংশ হিসেবে পলাশীতে যাবে, কিন্তু ইংরেজদের বিরুদ্ধে কার্যকর আক্রমণ চালাবে না। যুদ্ধের পরিস্থিতি ইংরেজদের অনুকূলে গেলে তারা মীর জাফরের নবাবি সমর্থন করবে। অর্থাৎ কোম্পানির বাহিনীকে কাগজে-কলমে যে বিশাল সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হতে হচ্ছিল, বাস্তবে সেই বাহিনীর একটি বড় অংশ যুদ্ধের আগেই রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিল।

রবার্ট ক্লাইভ তবু পুরোপুরি নিশ্চিন্ত ছিলেন না। গোপন চুক্তি থাকা আর যুদ্ধক্ষেত্রে তা কার্যকর হওয়া এক বিষয় নয়। মীর জাফর ভয় পেয়ে মত বদলাতে পারতেন, সিরাজ ষড়যন্ত্র আবিষ্কার করে তাঁকে বন্দী করতে পারতেন অথবা নবাবের বিশ্বস্ত বাহিনী ইংরেজদের পরাজিত করতে পারত। কাটোয়ায় ইংরেজ কর্মকর্তাদের যুদ্ধপরিষদে সঙ্গে সঙ্গে নদী অতিক্রম করে অগ্রসর হওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে মতভেদ হয়। ক্লাইভ নিজেও প্রথমে সতর্কতার পক্ষে ছিলেন, পরে সিদ্ধান্ত বদলে পলাশীর দিকে অগ্রসর হন।

২২ জুন রাতে ইংরেজ বাহিনী পলাশীর আমবাগানে পৌঁছায়। আমবাগানটি মাটির উঁচু পাড় দিয়ে ঘেরা ছিল, যা সৈন্যদের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা দেয়। কাছেই ছিল একটি শিকারগৃহ, যেখানে ক্লাইভ অবস্থান নেন। অন্যদিকে সিরাজের বাহিনী বিস্তৃত শিবিরে অবস্থান করছিল। সংখ্যার বিচারে নবাবের বাহিনী ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রচলিত হিসাবে সেখানে কয়েক দশ হাজার পদাতিক, বহু হাজার অশ্বারোহী এবং অর্ধশতাধিক ভারী কামান ছিল। সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনায় পার্থক্য থাকলেও ইংরেজ বাহিনীর তুলনায় তা যে বহুগুণ বড় ছিল, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।

ক্লাইভের অধীনে মোটামুটি তিন হাজারের কাছাকাছি সৈন্য ছিল। তাদের মধ্যে ইউরোপীয় পদাতিক, ভারতীয় সিপাহি, গোলন্দাজ এবং অল্পসংখ্যক নাবিক অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইংরেজদের কামান ছিল হালকা ও তুলনামূলক সহজে স্থানান্তরযোগ্য। নবাবের ভারী কামান অনেক ক্ষেত্রে বড় কাঠের মঞ্চ বা গাড়িতে স্থাপন করা ছিল এবং সেগুলো সরাতে বলদ বা হাতির প্রয়োজন হতো। ফলে কামানের সংখ্যায় নবাব এগিয়ে থাকলেও গতিশীলতা ও লক্ষ্য পরিবর্তনে ইংরেজরা সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল।

নবাবের পক্ষে একটি ছোট ফরাসি গোলন্দাজ দলও উপস্থিত ছিল। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন সাঁ ফ্রেজ নামে পরিচিত একজন ফরাসি কর্মকর্তা। তিনি ও তাঁর গোলন্দাজরা যুদ্ধের শুরুতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কামান চালায়। মীর মদন ও মোহনলালের নেতৃত্বাধীন বাহিনীও বাস্তব আক্রমণ পরিচালনা করে। এই সক্রিয় অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে পলাশীর ঘটনাকে সম্পূর্ণ অভিনয় বা রক্তপাতহীন ক্ষমতা হস্তান্তর বলা যায় না।

২৩ জুন সকাল নাগাদ নবাবের কামান থেকে ইংরেজ অবস্থানের দিকে গোলাবর্ষণ শুরু হয়। ইংরেজরা আমবাগানের উঁচু পাড় ও গাছের আড়ালে আশ্রয় নেয়। নবাবের কামানের গোলা প্রচণ্ড শব্দ করলেও দূরত্ব ও ইংরেজদের সুরক্ষিত অবস্থানের কারণে প্রত্যাশিত ক্ষতি করতে পারেনি। ক্লাইভের বাহিনী সীমিত গোলাবর্ষণের পাশাপাশি আত্মরক্ষামূলক অবস্থান ধরে রাখে। দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধের গতি ধীর ছিল এবং কোনো পক্ষই তাৎক্ষণিক নির্ণায়ক সাফল্য পায়নি।

মীর জাফর, রায় দুর্লভ ও ইয়ার লতিফ খানের অধীন বিশাল বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছিল। তারা ইংরেজদের দিকে সম্পূর্ণ শক্তিতে অগ্রসর হলে ক্লাইভের ছোট বাহিনী চারদিক থেকে ঘিরে পড়তে পারত। কিন্তু তারা নির্ণায়ক আক্রমণ করেনি। একই সময়ে তারা প্রকাশ্যে ইংরেজদের সঙ্গে যোগও দেয়নি। এই দ্বৈত অবস্থান ছিল অত্যন্ত হিসাবি। সিরাজ জয়ী হলে তারা নিজেদের আনুগত্যের দাবি করতে পারত, আর ইংরেজরা জয়ী হলে গোপন চুক্তির সুবিধা গ্রহণ করতে পারত।

দিনের মাঝামাঝি সময়ে বর্ষার বৃষ্টি যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি বদলে দেয়। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, ইংরেজরা তাদের বারুদ ও অস্ত্র ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করেছিল। নবাবের কিছু কামানের বারুদ যথাযথভাবে রক্ষা করা হয়নি বলে তা ভিজে যায়। তবে শুধু ভেজা বারুদ দিয়ে সমগ্র ফল ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। নবাবের সব অস্ত্র একসঙ্গে অকার্যকর হয়ে গিয়েছিল—এমন ধারণারও শক্ত ভিত্তি নেই। বৃষ্টির প্রধান প্রভাব ছিল যোগাযোগ, কামান পরিচালনা এবং উভয় পক্ষের সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা।

মীর মদন সম্ভবত ধারণা করেছিলেন, ইংরেজদের বারুদও ভিজে গেছে। তিনি অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে সামনে অগ্রসর হলে ইংরেজ কামানের গোলায় গুরুতর আহত হন। তাঁকে নবাবের শিবিরে নেওয়া হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর মৃত্যু ঘটে। মীর মদনের মৃত্যু সিরাজের জন্য শুধু একজন সেনাপতির ক্ষতি ছিল না; এটি তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও সক্রিয় যুদ্ধনেতাদের একজনকে সরিয়ে দেয়। যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষের শক্তি মুহূর্তের মধ্যে দুর্বল হয়ে পড়ে।

মোহনলাল তখনো সংঘর্ষ চালিয়ে যেতে চাইছিলেন। তাঁর বাহিনী এবং ফরাসি গোলন্দাজরা ইংরেজদের ওপর চাপ বজায় রেখেছিল। কিন্তু মীর মদনের মৃত্যুর পর সিরাজ যুদ্ধের অবস্থা নিয়ে মীর জাফরের পরামর্শ চান। ষড়যন্ত্রকারীরা যুদ্ধ বন্ধ করে বাহিনীকে শিবিরে ফেরানোর পক্ষে মত দেয় বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ আছে। সিরাজ মোহনলালকে পিছু হটার নির্দেশ দিলে সক্রিয় বাহিনীর মনোবল ও শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে।

যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রসরমান একটি বাহিনীকে হঠাৎ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত বিপজ্জনক। মোহনলালের সৈন্যরা পিছু হটতে শুরু করলে ইংরেজরা সেটিকে নবাবি বাহিনীর সাধারণ পশ্চাদপসরণ হিসেবে দেখে সামনে এগিয়ে আসে। নবাবের শিবিরে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। যারা এতক্ষণ অপেক্ষা করছিল, তারা প্রতিরোধে এগিয়ে আসেনি। ফলে সীমিত পশ্চাদপসরণ দ্রুত সামগ্রিক পরাজয়ে পরিণত হয়।

এখানেই সাজানো ক্ষমতা হস্তান্তর এবং প্রকৃত যুদ্ধ একসঙ্গে মিশে যায়। মীর মদন, মোহনলাল, ফরাসি গোলন্দাজ ও তাদের অধীন সৈন্যরা সত্যিকারের যুদ্ধ করছিল। তারা জানত না যে উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন সেনাপতি শত্রুপক্ষের সঙ্গে আগে থেকেই সমঝোতা করে রেখেছেন। অন্যদিকে মীর জাফর ও তাঁর সহযোগীরা এমন একটি ফলের অপেক্ষা করছিলেন, যাতে প্রকাশ্যে ইংরেজদের হয়ে লড়াই না করেও সিরাজের পতন নিশ্চিত করা যায়। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের এক অংশে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আরেক অংশে পরিকল্পিত নিষ্ক্রিয়তা চলছিল।

ইংরেজদের ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। প্রচলিত হিসাবে কোম্পানির বাহিনীতে নিহতের সংখ্যা কয়েক দশকের নিচে এবং আহতের সংখ্যা কয়েক ডজন ছিল। নবাবের পক্ষে কয়েকশ সৈন্য নিহত বা আহত হয়ে থাকতে পারে, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন বিবরণে পার্থক্য রয়েছে। কয়েক ঘণ্টার কামান ও গোলাগুলির পরও এত বড় বাহিনীর তুলনায় ক্ষয়ক্ষতি ছিল সীমিত। এটি প্রমাণ করে যে পলাশী সর্বাত্মক যুদ্ধ ছিল না। নবাবের সম্পূর্ণ বাহিনী সক্রিয়ভাবে অংশ নিলে হতাহতের পরিমাণ এবং যুদ্ধের সময়কাল উভয়ই অনেক বেশি হওয়ার কথা ছিল।

তবে কম হতাহতের অর্থ এই নয় যে ঘটনা নকল ছিল। সামরিক ইতিহাসে এমন বহু যুদ্ধ আছে যেখানে একটি পক্ষের নেতৃত্ব ভেঙে পড়া, পিছু হটার ভুল নির্দেশ বা মনোবলের পতনে অল্প ক্ষয়ক্ষতিতেই ফল নির্ধারিত হয়েছে। পলাশীর বিশেষত্ব হলো, এই নেতৃত্বের ভাঙন আকস্মিক ছিল না; তার বড় অংশ আগেই গোপন রাজনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছিল। যুদ্ধের ভেতরের সংকটকে ষড়যন্ত্রকারীরা পরিকল্পিতভাবে পরাজয়ে পরিণত করেছিল।

বিকেলের দিকে ইংরেজ বাহিনী নবাবের শিবিরের দিকে এগিয়ে যায়। ফরাসি গোলন্দাজরা কিছু সময় প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও বৃহত্তর নবাবি বাহিনী কার্যকরভাবে সংগঠিত হয়নি। সিরাজ যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে মুর্শিদাবাদের দিকে চলে যান। ইংরেজরা নবাবের শিবির, কামান এবং যুদ্ধসামগ্রী দখল করে। মীর জাফর তখনো সতর্ক ছিলেন; ইংরেজ বিজয় স্পষ্ট হওয়ার পরই তিনি নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন।

রবার্ট ক্লাইভ যুদ্ধের পর মীর জাফরকে অভিনন্দন জানান এবং চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে নবাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। অর্থাৎ ইংরেজরা কোনো ভূখণ্ড সরাসরি নিজেদের রাজ্য ঘোষণা করেনি। তারা বর্তমান নবাবকে সরিয়ে তাঁরই সেনাপ্রধানকে মসনদে বসায়। বাহ্যিকভাবে নবাবি প্রতিষ্ঠান অক্ষুণ্ন থাকে, কিন্তু নতুন নবাবের ক্ষমতার উৎস আর শুধু বংশ, দরবার বা মুঘল স্বীকৃতি ছিল না; তাঁর সিংহাসন ইংরেজ সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

সিরাজ মুর্শিদাবাদে ফিরে কোষাগার ও সমর্থন ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু রাজধানীর ক্ষমতাবান গোষ্ঠীগুলোর বড় অংশ ইতোমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। তিনি ছদ্মবেশে পালানোর চেষ্টা করলেও ধরা পড়েন। মীর জাফরের পুত্র মীরনের নির্দেশে মোহাম্মদী বেগ তাঁকে হত্যা করেন বলে প্রচলিত ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সিরাজ নিহত হননি; তাঁর রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ও পরিকল্পিত অনুসরণই তাঁর শেষ পরিণতি নির্ধারণ করে।

পলাশীর ঘটনাকে সাজানো ক্ষমতা হস্তান্তর বলার পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হলো—যুদ্ধের আগে থেকেই শাসক পরিবর্তনের লিখিত চুক্তি ছিল। মীর জাফরের নবাব হওয়া, কোম্পানির ক্ষতিপূরণ, ইংরেজ কর্মকর্তা ও বাহিনীর পুরস্কার, বাণিজ্যিক সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের শর্ত আগেই নির্ধারিত হয়েছিল। যুদ্ধের পর নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করতে হয়নি; পরিকল্পনাটি কার্যকর করাই ছিল প্রধান কাজ।

আরেকটি প্রমাণ হলো নবাবের প্রধান সেনাপতিদের আচরণ। একজন সেনাপতি যুদ্ধের আগে শত্রুর সঙ্গে চুক্তি করে নিজের বাহিনী নিষ্ক্রিয় রাখলে সেই সংঘর্ষকে স্বাভাবিক যুদ্ধ বলা যায় না। সংখ্যার বিচারে সিরাজের যে শক্তি ছিল, বাস্তবে তার কেবল একটি অংশ লড়েছিল। বাকি অংশের উপস্থিতি নবাবকে মিথ্যা নিরাপত্তা দিয়েছিল, অথচ ইংরেজদের গোপন সুবিধা দিয়েছিল। এটি ছিল সামরিক বাহিনীকে ভেতর থেকে অচল করে দেওয়ার একটি কৌশল।

তৃতীয় প্রমাণ হলো বিজয়ের পর অর্থ বিতরণ। মীর জাফরকে নবাব বানানোর বিনিময়ে কোম্পানি ও তার কর্মকর্তারা বাংলার কোষাগার থেকে বিপুল সম্পদ পান। এটি কোনো সাধারণ শান্তিচুক্তির ক্ষতিপূরণ ছিল না; শাসক পরিবর্তনে সহায়তার মূল্যও ছিল। ক্লাইভসহ বহু কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে ধনী হয়ে ওঠেন। ফলে পলাশীর অভিযানে কোম্পানির প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পদলাভের প্রবল উদ্দেশ্যও কাজ করেছিল।

তবু একে পুরোপুরি পূর্বনির্ধারিত নাটক বলা যায় না। গোপন চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ফল ব্যর্থ হতে পারত। সিরাজ যুদ্ধের আগে মীর জাফরকে গ্রেপ্তার করতে পারতেন। মীর মদন বেঁচে থেকে আক্রমণ অব্যাহত রাখতে পারতেন। মোহনলালের বাহিনী পিছু না হটে ইংরেজ অবস্থান ভেদ করতে পারত। ফরাসি সহায়তা আরও শক্তিশালী হতে পারত। মীর জাফর শেষ মুহূর্তে পক্ষ বদলাতে পারতেন। এমনকি ইংরেজ বাহিনীর বারুদ ভিজে গেলে কিংবা তারা আমবাগানের প্রতিরক্ষা হারালে ফল অন্য রকম হতে পারত।

ক্লাইভ নিজেও ঝুঁকির কথা জানতেন। তিনি মীর জাফরের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা করেননি এবং যুদ্ধের আগে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। ইংরেজ বাহিনী যদি পরাজিত হতো, গোপন চুক্তির দলিল মীর জাফরকে রক্ষা করতে পারত না। কাজেই পলাশীর ফল পরিকল্পিত হলেও তা শতভাগ নিশ্চিত ছিল না। ষড়যন্ত্র ইংরেজদের বিপুল সুবিধা দিয়েছিল, কিন্তু সেই সুবিধাকে বিজয়ে রূপ দিতে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান ধরে রাখা, কামান কার্যকর রাখা এবং সঠিক সময়ে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন হয়েছিল।

পলাশীকে সামরিক দৃষ্টিতে মহাযুদ্ধ বলা কঠিন। এটি দীর্ঘ অবরোধ, সর্বাত্মক বাহিনী-সংঘর্ষ বা ব্যাপক রক্তক্ষয়ের ঘটনা ছিল না। নবাবের বিশাল সেনাবাহিনী পুরোপুরি ব্যবহৃত হয়নি এবং যুদ্ধ এক দিনের মধ্যেই শেষ হয়। ইংরেজদের জয় কোনো সমান শক্তির বাহিনীর ওপর ব্যাপক কৌশলগত ধ্বংস সাধনের ফলও ছিল না। সামরিক সংঘর্ষটি মূলত আগে থেকে প্রস্তুত রাজনৈতিক অভ্যুত্থানকে বাস্তবায়নের চূড়ান্ত চাপ হিসেবে কাজ করেছিল।

আবার এটিকে শুধু শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর বলাও ভুল। মীর মদনসহ বহু সৈন্য সত্যিই প্রাণ দিয়েছিলেন। মোহনলাল ও ফরাসি গোলন্দাজরা সত্যিই যুদ্ধ করেছিলেন। কামান, বন্দুক, অশ্বারোহী আক্রমণ ও আহত সৈন্যের ঘটনা বাস্তব ছিল। সিরাজ স্বেচ্ছায় মসনদ ছেড়ে দেননি; তাঁকে সামরিক পরাজয়, দরবারি বিচ্ছিন্নতা এবং পালানোর পর হত্যার মাধ্যমে সরানো হয়েছিল। তাই ‘ক্ষমতা হস্তান্তর’ কথাটি ব্যবহার করলে এর সহিংসতা ও প্রতিরোধের দিকটি আড়াল হয়ে যেতে পারে।

সবচেয়ে যথার্থভাবে পলাশীকে বলা যায় বিদেশি সামরিক সহায়তায় সংঘটিত একটি পরিকল্পিত দরবারি অভ্যুত্থান, যার চূড়ান্ত পর্যায়ে সীমিত কিন্তু বাস্তব যুদ্ধ হয়েছিল। ইংরেজ কোম্পানি নিজে তখন সরাসরি বাংলার সিংহাসনে বসেনি; তারা মীর জাফরকে সামনে রেখে শাসক পরিবর্তন ঘটায়। এতে স্থানীয় ষড়যন্ত্রকারীরা সাময়িকভাবে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করলেও দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানি সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়।

মীর জাফর নবাব হওয়ার পরই গোপন চুক্তির মূল্য পরিশোধ করতে হয়। কোম্পানি, তার বাহিনী, কলকাতার ইউরোপীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন কর্মকর্তা বিপুল অর্থ পান। এত বড় অর্থপ্রদান বাংলার কোষাগারে চাপ সৃষ্টি করে এবং নতুন নবাবকে শুরু থেকেই ইংরেজদের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। মীর জাফর যখন কোম্পানির ক্রমবর্ধমান দাবি পূরণে ব্যর্থ হন, তখন ইংরেজরা তাঁকে সরিয়ে মীর কাসিমকে নবাব করে। এতে স্পষ্ট হয়, পলাশীর পর নবাবের বৈধতার প্রকৃত নির্ধারক কে হয়ে উঠেছিল।

তবে পলাশীর পরদিন থেকেই বাংলা পুরোপুরি ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হয়নি। নবাবি প্রশাসন, রাজস্বব্যবস্থা এবং দেশীয় কর্মকর্তারা তখনো কাজ করছিলেন। ইংরেজ কোম্পানি প্রথমে পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণের পথ অনুসরণ করে। পরবর্তী সংঘাত, মীর কাসিমের প্রতিরোধ, ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধ এবং ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের মাধ্যমে কোম্পানির শাসন আরও আনুষ্ঠানিক ও বিস্তৃত হয়। পলাশী ছিল এই ধারাবাহিকতার প্রথম নির্ধারক মোড়।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী বর্ণনায় পলাশীকে প্রায়ই ক্লাইভের সাহস, শৃঙ্খলা ও সামরিক প্রতিভার বিজয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী স্মৃতিতে এটি প্রধানত মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনি। উভয় দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সত্যের অংশ আছে, কিন্তু পূর্ণ ইতিহাস জানতে অর্থনৈতিক স্বার্থ, দরবারি রাজনীতি, ব্যাংকারদের ভূমিকা, ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা, কোম্পানির কূটকৌশল এবং সিরাজের প্রশাসনিক দুর্বলতাকে একসঙ্গে দেখতে হয়।

শুধু মীর জাফরকে দোষী করলে রায় দুর্লভ, ইয়ার লতিফ খান, জগৎশেঠ পরিবার, মধ্যস্থতাকারী এবং ইংরেজ কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা আড়াল হয়ে যায়। আবার সিরাজকে সম্পূর্ণ নির্ভুল জাতীয় বীর হিসেবে দেখলেও তাঁর রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা, দ্রুত শত্রু তৈরি করা এবং সন্দেহভাজন সেনাপতিদের বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা নিতে না পারার বিষয়গুলো বোঝা যায় না। পলাশীর বিপর্যয় ব্যক্তিগত বিশ্বাসঘাতকতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতারও ফল ছিল।

পলাশীর ফল সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বিশাল ছিল। এক দিনের সীমিত সংঘর্ষে কোনো বৃহৎ অঞ্চল ধ্বংস হয়নি, নবাবের পুরো সেনাবাহিনী নিশ্চিহ্ন হয়নি এবং বাংলার অর্থনৈতিক কাঠামোও সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়নি। তবু এই যুদ্ধ একটি বিদেশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে বাংলার সিংহাসন নির্ধারণের ক্ষমতা দেয়। এই রাজনৈতিক লাভই পলাশীকে বিশ্বের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

অতএব, পলাশীর যুদ্ধ ‘যুদ্ধ ছিল কি না’—এই প্রশ্নের উত্তর এককথায় দেওয়া যায় না। সেখানে সত্যিকারের গোলাগুলি, মৃত্যু ও প্রতিরোধ ছিল, তাই এটি যুদ্ধ। কিন্তু নবাবের প্রধান সেনাপতিদের একটি অংশ আগেই শত্রুর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিল, তাই এটি স্বাভাবিক যুদ্ধ নয়। বিজয়ের পর কে শাসক হবেন ও কত অর্থ দেওয়া হবে, তা আগে থেকেই ঠিক ছিল, তাই এটি পরিকল্পিত ক্ষমতা পরিবর্তনও। আবার ফল শতভাগ নিশ্চিত ছিল না এবং কিছু বাহিনী প্রাণপণ লড়েছিল, তাই একে নিছক অভিনয় বলা যায় না।

পলাশী ছিল এমন এক যুদ্ধ, যার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র কামান নয়, বিশ্বাসঘাতকতা। যুদ্ধক্ষেত্রের দৃশ্যমান সংঘর্ষের নিচে লুকিয়ে ছিল আগেই সম্পন্ন রাজনৈতিক চুক্তি। মীর মদনের মৃত্যু, মোহনলালের প্রত্যাহার, মীর জাফরের নীরবতা এবং ক্লাইভের সময়োচিত অগ্রযাত্রা সেই গোপন পরিকল্পনাকে বাস্তব ফল দেয়। তাই পলাশীকে সবচেয়ে যথার্থভাবে বলা যায়—একটি বাস্তব কিন্তু সীমিত সামরিক সংঘর্ষের মাধ্যমে কার্যকর করা পূর্বপরিকল্পিত শাসক পরিবর্তন, যা শেষ পর্যন্ত শুধু নবাব বদলায়নি; বাংলার ক্ষমতার কেন্দ্রই দেশীয় দরবার থেকে একটি বিদেশি বাণিজ্যিক কোম্পানির দিকে সরিয়ে দিয়েছিল।


আপনার পছন্দ হতে পারে