বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

অটোমান সাম্রাজ্যের পতন: সেভ্র চুক্তি, আতাতুর্ক, তুর্কি স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ১৯২২ সালে সুলতানতের অবসান

সিরিজ: অটোমান সাম্রাজ্য: উত্থান, স্বর্ণযুগ ও পতনের ইতিহাস

অটোমান সাম্রাজ্যের পতন: সেভ্র চুক্তি, আতাতুর্ক, তুর্কি স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ১৯২২ সালে সুলতানতের অবসান
১৯২২: ছয় শতাব্দীর অটোমান সুলতানতের অবসান

১৯১৮ সালের ৩০ অক্টোবর মুদ্রোসের অস্ত্রবিরতি স্বাক্ষরের মাধ্যমে অটোমান সাম্রাজ্যের প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ শেষ হয়। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়া মানেই শান্তি ফিরে আসা ছিল না। বরং পরবর্তী চার বছর অটোমান ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় হয়ে ওঠে। বিজয়ী মিত্রশক্তির দখল, সেভ্র চুক্তির কঠোর শর্ত, আনাতোলিয়ায় গ্রিক সামরিক অভিযান এবং মুস্তাফা কামালের নেতৃত্বে জাতীয় প্রতিরোধ—সবকিছু মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৯২২ সালে ছয় শতাব্দীরও বেশি পুরোনো অটোমান সুলতানতের বিলুপ্তি ঘটে।

মুদ্রোসের শর্ত মিত্রশক্তিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অটোমান অঞ্চল দখলের ব্যাপক সুযোগ দেয়। ব্রিটিশ, ফরাসি ও ইতালীয় বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিতে শুরু করে। ১৯১৮ সালের নভেম্বরে মিত্রশক্তির যুদ্ধজাহাজ কনস্টান্টিনোপলে প্রবেশ করে, যা অটোমান সরকারের অসহায় অবস্থার শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়।

তখন সুলতান ছিলেন ষষ্ঠ মেহমেদ বা মেহমেদ ভাহদেদ্দিন। তার সরকার বিজয়ী শক্তিগুলোর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে রাজবংশ ও রাষ্ট্রের যতটা সম্ভব অংশ রক্ষা করতে চাইছিল। কিন্তু মিত্রশক্তির পরিকল্পনা শুধু আরব প্রদেশগুলো বিচ্ছিন্ন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। আনাতোলিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি ও গ্রিসের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল।

সবচেয়ে বিস্ফোরক ঘটনা ঘটে ১৯১৯ সালের ১৫ মে, যখন গ্রিক বাহিনী মিত্রশক্তির অনুমোদনে স্মিরনা বা ইজমিরে অবতরণ করে। অবতরণের পর সহিংসতা এবং পশ্চিম আনাতোলিয়ায় গ্রিক অগ্রযাত্রা তুর্কি মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি করে। একই সময়ে যুদ্ধ ও সাম্রাজ্য ভাঙনের বৃহত্তর প্রক্রিয়ায় গ্রিক, আর্মেনীয় এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠীও ব্যাপক সহিংসতা ও স্থানচ্যুতির শিকার হয়।

এই পরিস্থিতিতেই সামনে আসেন অটোমান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মুস্তাফা কামাল পাশা, যিনি গ্যালিপলি অভিযানে তার ভূমিকার কারণে ইতোমধ্যে পরিচিত ছিলেন। ১৯১৯ সালের ১৯ মে তিনি সামসুনে পৌঁছান। পরবর্তী তুর্কি জাতীয় ইতিহাসে এই ঘটনাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনামুহূর্ত হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মুস্তাফা কামাল ও তার সহযোগীরা যুক্তি দেন যে ইস্তাম্বুলের সরকার দেশের স্বাধীনতা ও ভূখণ্ড রক্ষা করতে সক্ষম নয়। আনাতোলিয়ায় বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিরোধ সংগঠন ইতোমধ্যে তৈরি হচ্ছিল। লক্ষ্য ছিল এসব বিচ্ছিন্ন শক্তিকে একটি কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের অধীনে আনা।

এরজুরুম ও সিভাস কংগ্রেস এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেখানে অটোমান মুসলিম-অধ্যুষিত ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ও বিদেশি দখলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের নীতি জোরালো হয়। মুস্তাফা কামাল ধীরে ধীরে আন্দোলনের প্রধান রাজনৈতিক ও সামরিক নেতায় পরিণত হন।

১৯২০ সালের মার্চে মিত্রশক্তি কনস্টান্টিনোপলের ওপর আরও প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং অটোমান সংসদের অনেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এর জবাবে জাতীয়তাবাদীরা আঙ্কারায় নতুন রাজনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলে। ১৯২০ সালের ২৩ এপ্রিল গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বা বৃহৎ জাতীয় পরিষদ উদ্বোধন করা হয়।

এর ফলে কার্যত দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার তৈরি হয়—কনস্টান্টিনোপলে সুলতানের সরকার এবং আঙ্কারায় জাতীয় পরিষদ। প্রথমটি আন্তর্জাতিকভাবে অটোমান রাষ্ট্রের সরকার হিসেবে স্বীকৃত থাকলেও দ্বিতীয়টি ক্রমে আনাতোলিয়ার প্রতিরোধের বাস্তব রাজনৈতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

এর মধ্যেই অটোমান সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় ১৯২০ সালের ১০ আগস্টের সেভ্র চুক্তি। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে অটোমান রাষ্ট্রের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব মারাত্মকভাবে সংকুচিত হতো।

আরব অঞ্চলগুলো অটোমান নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গ্রিস পূর্ব থ্রেস ও স্মিরনা অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পায়। পূর্ব আনাতোলিয়ায় একটি স্বাধীন আর্মেনিয়ার ব্যবস্থা রাখা হয় এবং কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়েও বিশেষ বিধান ছিল। প্রণালিগুলো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অধীনে যাওয়ার কথা ছিল এবং ইউরোপীয় শক্তির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যাপকভাবে বজায় থাকত।

কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সেভ্র চুক্তি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা যায়নি। আঙ্কারার জাতীয় আন্দোলন এটিকে প্রত্যাখ্যান করে এবং সামরিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে থাকে।

জাতীয়তাবাদীদের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি আসে পূর্ব আনাতোলিয়ায়। ১৯২০ সালে কাজিম কারাবেকিরের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আর্মেনিয়া প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করে। পরে সোভিয়েত রাশিয়া ও দক্ষিণ ককেশাসের পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যে পূর্ব সীমান্ত নতুনভাবে নির্ধারিত হয়।

একই সময়ে দক্ষিণ আনাতোলিয়ায় ফরাসি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চলছিল। শেষ পর্যন্ত ১৯২১ সালের আঙ্কারা চুক্তির মাধ্যমে ফ্রান্স জাতীয়তাবাদী সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায় এবং দক্ষিণ ফ্রন্টের বড় অংশ শান্ত হয়।

কিন্তু যুদ্ধের প্রধান ক্ষেত্র ছিল পশ্চিম আনাতোলিয়া। গ্রিক বাহিনী ইজমির থেকে অভ্যন্তরের দিকে অগ্রসর হয়ে আঙ্কারার জাতীয়তাবাদী সরকারকে পরাজিত করার চেষ্টা করে। ১৯২১ সালের প্রথম ও দ্বিতীয় ইনোনু যুদ্ধ তুর্কি জাতীয় বাহিনীর জন্য রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যদিও এগুলোর আকার পরবর্তী বৃহৎ যুদ্ধগুলোর তুলনায় সীমিত ছিল।

গ্রিক বাহিনী এরপর আরও বড় অভিযান চালায় এবং আনাতোলিয়ার গভীরে প্রবেশ করে। ১৯২১ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সাকারিয়া নদীর কাছে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুস্তাফা কামাল তখন জাতীয় বাহিনীর সর্বাধিনায়কের বিশেষ ক্ষমতা পেয়েছিলেন।

সাকারিয়ায় গ্রিক অগ্রযাত্রা শেষ পর্যন্ত থেমে যায়। গ্রিক বাহিনী পশ্চিমে পশ্চাদপসরণ করে এবং কৌশলগত উদ্যোগ ধীরে ধীরে আঙ্কারা সরকারের হাতে চলে আসে। এই বিজয়ের পর মুস্তাফা কামালের রাজনৈতিক মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পায়।

প্রায় এক বছর প্রস্তুতির পর ১৯২২ সালের আগস্টে তুর্কি জাতীয়তাবাদী বাহিনী বৃহৎ আক্রমণ শুরু করে, যা বুয়ুক তাআররুজ বা মহান আক্রমণ নামে পরিচিত। দুমলুপিনারের যুদ্ধে গ্রিক বাহিনী বড় পরাজয়ের মুখে পড়ে এবং দ্রুত পশ্চিম আনাতোলিয়া থেকে সরে যেতে থাকে।

সেপ্টেম্বরে তুর্কি বাহিনী ইজমিরে প্রবেশ করে। এর কয়েক দিনের মধ্যে শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং বিশেষ করে গ্রিক ও আর্মেনীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক মৃত্যু ও স্থানচ্যুতি ঘটে। আগুনের সূচনা ও নির্দিষ্ট দায় নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে, কিন্তু এর মানবিক বিপর্যয় ছিল বিশাল। পশ্চিম আনাতোলিয়ার যুদ্ধও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

জাতীয়তাবাদী বাহিনী এরপর পূর্ব থ্রেস ও প্রণালির দিকে এগোলে ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। চানাক সংকট নতুন আন্তর্জাতিক যুদ্ধের সম্ভাবনা সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে তা এড়ানো যায়।

১৯২২ সালের অক্টোবরে মুদানিয়া অস্ত্রবিরতি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে গ্রিক-তুর্কি যুদ্ধ কার্যত শেষ হয় এবং পূর্ব থ্রেস তুর্কি নিয়ন্ত্রণে ফেরানোর পথ তৈরি হয়। এখন আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে কে তুর্কি পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করবে—ইস্তাম্বুলের সুলতান সরকার, নাকি আঙ্কারার জাতীয় পরিষদ—এই প্রশ্ন সামনে আসে।

আঙ্কারার নেতৃত্ব এই দ্বৈত ক্ষমতার অবসান ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯২২ সালের ১ নভেম্বর গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি অটোমান সুলতানত বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ১২৯৯ সালের কাছাকাছি ওসমান প্রথমের সঙ্গে যে অটোমান রাজবংশীয় রাষ্ট্রের সূচনা ধরা হয়, তার সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে। শেষ সুলতান ষষ্ঠ মেহমেদ ১৭ নভেম্বর ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজে করে কনস্টান্টিনোপল ত্যাগ করেন।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—১৯২২ সালে সুলতানত বিলুপ্ত হলেও খিলাফত তখনই বিলুপ্ত হয়নি। আবদুলমেজিদ দ্বিতীয়কে নতুন সুলতান না বানিয়ে শুধু খলিফা নির্বাচিত করা হয়। এই পৃথক অটোমান খিলাফত আরও কিছুদিন টিকে থেকে ১৯২৪ সালে বিলুপ্ত হবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেভ্র চুক্তি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। নতুন আলোচনার ফল হিসেবে ১৯২৩ সালের লোজান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা নতুন তুর্কি রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অবস্থানের ভিত্তি তৈরি করে এবং সেভ্রের পরিকল্পনাকে প্রতিস্থাপন করে।

গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে বাধ্যতামূলক জনসংখ্যা বিনিময়ের ব্যবস্থাও এই নতুন যুগের অংশ হয়। ধর্মের ভিত্তিতে নির্ধারিত এই বিনিময়ে বিপুলসংখ্যক অর্থোডক্স খ্রিষ্টান আনাতোলিয়া থেকে গ্রিসে এবং মুসলমান গ্রিস থেকে তুরস্কে স্থানান্তরিত হয়, কিছু নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী ব্যতিক্রম ছিল। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা বহু মিশ্র সম্প্রদায় এই প্রক্রিয়ায় ভেঙে যায়।

১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর তুরস্ক প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয় এবং মুস্তাফা কামাল তার প্রথম রাষ্ট্রপতি হন। “আতাতুর্ক” উপাধিটি অবশ্য তিনি তখনও পাননি; তুর্কি সংসদ ১৯৩৪ সালে তাকে এই উপাধি প্রদান করে। তাই ১৯১৯–১৯২২ সালের ঘটনায় তাকে ঐতিহাসিকভাবে মুস্তাফা কামাল বা মুস্তাফা কামাল পাশা বলা অধিক নির্ভুল।

অটোমান সাম্রাজ্যের পতন তাই শুধু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের সরাসরি ফল ছিল না। ১৯১৮ সালের সামরিক পরাজয় সাম্রাজ্যকে ভেঙে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু ১৯১৯–১৯২২ সালের যুদ্ধ নির্ধারণ করেছিল আনাতোলিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

সেভ্র চুক্তি বিজয়ী শক্তিগুলোর পরিকল্পিত যুদ্ধোত্তর ব্যবস্থা তুলে ধরেছিল। কিন্তু তুর্কি জাতীয় আন্দোলনের সামরিক সাফল্য, ফ্রান্স ও ইতালির পরিবর্তিত অবস্থান, সোভিয়েত রাশিয়ার সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্ক এবং গ্রিক অভিযানের ব্যর্থতা সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত হতে দেয়নি।

একই সঙ্গে এই সময়কে শুধু তুর্কি জাতীয় বিজয়ের কাহিনি হিসেবে দেখলেও ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়ে যায়। অটোমান সাম্রাজ্যের শেষ দশকগুলোতে তুর্কি, আর্মেনীয়, গ্রিক, আরব, কুর্দি এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠী যুদ্ধ, গণহত্যা, জাতিগত সহিংসতা, নির্বাসন ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। নতুন জাতিরাষ্ট্রের জন্মের সঙ্গে পুরোনো বহুজাতিক সাম্রাজ্যিক সমাজের গভীর মানবিক বিপর্যয়ও যুক্ত ছিল।

১৯২২ সালের সুলতানত বিলুপ্তি তাই একটি রাজবংশের ক্ষমতা হারানোর চেয়েও বড় ঘটনা। অটোমান রাজনৈতিক বৈধতার মূল ভিত্তি—সুলতান, রাজবংশ এবং সাম্রাজ্য—এর জায়গায় আঙ্কারাকেন্দ্রিক জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রায় ছয় শতাব্দী ধরে অটোমানরা একটি ছোট আনাতোলীয় সীমান্ত বেইলিক থেকে কনস্টান্টিনোপল বিজয়ী সাম্রাজ্য, তিন মহাদেশের শক্তি এবং ইউরোপীয় আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রীয় খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছিল। সেই দীর্ঘ ইতিহাসের রাজনৈতিক সমাপ্তি আসে কোনো এক দিনের যুদ্ধে নয়, বরং বিশ্বযুদ্ধ, বিদেশি দখল, সেভ্রের বিভাজন পরিকল্পনা, জাতীয় প্রতিরোধ এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে।

১৯২২ সালের ১ নভেম্বর সুলতানত বিলুপ্তির মাধ্যমে অটোমান সাম্রাজ্যের রাজবংশীয় শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে। এর পরের বছর লোজান চুক্তি ও তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি দেয়। আর ১৯২৪ সালে খিলাফত বিলুপ্ত হলে অটোমান রাজবংশের শেষ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটিও ইতিহাসে পরিণত হয়।


আপনার পছন্দ হতে পারে