রাশিয়ার উত্থান ও অটোমানদের সংকট: কৃষ্ণসাগর, ক্রিমিয়া ও রুশ-তুর্কি যুদ্ধের ইতিহাস
সিরিজ: অটোমান সাম্রাজ্য: উত্থান, স্বর্ণযুগ ও পতনের ইতিহাস
কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার উত্থান ও অটোমান সংকট
সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত অটোমান সাম্রাজ্যের উত্তর সীমান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও কৌশলগত প্রতিরক্ষাবলয়গুলোর একটি ছিল কৃষ্ণসাগর। এর দক্ষিণ উপকূলের আনাতোলিয়া, পশ্চিমে দানিয়ুবের মোহনা, উত্তরে ক্রিমিয়া এবং আশপাশের বহু গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অটোমান বা অটোমান-সম্পর্কিত শক্তির নিয়ন্ত্রণে ছিল। কনস্টান্টিনোপলের বসফরাস ও দারদানেলিস প্রণালি নিয়ন্ত্রণের কারণে কৃষ্ণসাগরকে বাইরের বড় নৌশক্তির জন্য প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। কিন্তু অষ্টাদশ শতাব্দীতে এই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। রাশিয়ার দক্ষিণমুখী সম্প্রসারণ অটোমান সাম্রাজ্যের জন্য এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সংকট তৈরি করে, যা পরবর্তী দুই শতাব্দীর রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
রাশিয়া অটোমানদের জন্য শুরু থেকেই সমান শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে মস্কোভি রাষ্ট্র ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছিল, কিন্তু কৃষ্ণসাগরের উত্তরাঞ্চলে তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলোর একটি ছিল ক্রিমিয়ান খানাত। ১৪৭০-এর দশক থেকে ক্রিমিয়ার খানরা অটোমান সুলতানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে ছিল এবং সাধারণত অটোমান আধিপত্য স্বীকার করত।
ক্রিমিয়ান তাতার অশ্বারোহীরা অটোমান সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। একই সঙ্গে তারা দক্ষিণ রাশিয়া, পোল্যান্ড-লিথুয়ানিয়া ও ইউক্রেনীয় সীমান্ত অঞ্চলে নিয়মিত অভিযান চালাত। বন্দি সংগ্রহ ও দাসবাণিজ্য ক্রিমিয়ান অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ফলে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় নিরাপত্তার জন্য ক্রিমিয়া দীর্ঘদিন একটি বড় হুমকি হয়ে ছিল।
মস্কো রাষ্ট্র যখন কাজান ও আস্ত্রাখানের মতো তাতার খানাত দখল করে ভলগা অঞ্চলে সম্প্রসারিত হতে শুরু করে, তখন রুশ ও অটোমান প্রভাবক্ষেত্র ক্রমে একে অপরের কাছাকাছি আসে। ১৫৬৯ সালে অটোমানদের আস্ত্রাখান অভিযান ব্যর্থ হয়। এটি তখনই কোনো স্থায়ী রুশ-অটোমান মহাযুদ্ধের সূচনা করেনি, কিন্তু ভবিষ্যৎ সংঘর্ষের ভূগোল স্পষ্ট হয়ে উঠছিল।
সপ্তদশ শতাব্দীতে ইউক্রেনীয় কসাক, পোলিশ-লিথুয়ানীয় কমনওয়েলথ, ক্রিমিয়ান তাতার, রাশিয়া ও অটোমানদের মধ্যে সীমান্ত রাজনীতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কসাক নৌযোদ্ধারা কখনো কৃষ্ণসাগর পাড়ি দিয়ে অটোমান উপকূলেও হামলা চালাত। অন্যদিকে মস্কো ধীরে ধীরে দক্ষিণে নতুন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরি করছিল।
এই পরিবর্তনকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যান পিটার দ্য গ্রেট। তার লক্ষ্য ছিল রাশিয়াকে আরও শক্তিশালী সামরিক ও সামুদ্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করা। দক্ষিণে তার প্রথম বড় লক্ষ্যগুলোর একটি ছিল আজভ, যা ডন নদীর মোহনার কাছে অবস্থিত এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে প্রবেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
১৬৯৫ সালে প্রথম রুশ অভিযান আজভ দখলে ব্যর্থ হয়। পিটার বুঝতে পারেন, উপকূলীয় দুর্গ দখল করতে হলে শুধু স্থলবাহিনী যথেষ্ট নয়; নৌসমর্থনও দরকার। দ্রুত জাহাজ নির্মাণের পর ১৬৯৬ সালে দ্বিতীয় অভিযানে রাশিয়া আজভ দখল করে।
এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য, কিন্তু তখনও রাশিয়া সরাসরি উন্মুক্ত কৃষ্ণসাগরীয় নৌশক্তিতে পরিণত হয়নি। আজভ সাগর থেকে কৃষ্ণসাগরে যাওয়ার পথ অটোমান ও ক্রিমিয়ান নিয়ন্ত্রণের দ্বারা সীমাবদ্ধ ছিল। পিটার শেষ পর্যন্ত তার প্রধান মনোযোগ বাল্টিক অঞ্চলে সুইডেনের বিরুদ্ধে ঘুরিয়ে দেন।
কিছুদিন পর অটোমানরা আবার সুবিধা পায়। সুইডেনের রাজা দ্বাদশ চার্লস রাশিয়ার কাছে পরাজিত হয়ে অটোমান ভূখণ্ডে আশ্রয় নেওয়ার পর নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ১৭১০–১৭১১ সালের রুশ-অটোমান যুদ্ধের প্রুত অভিযানে পিটার দ্য গ্রেট নিজেই বিপজ্জনক অবস্থায় আটকা পড়েন।
অটোমান গ্র্যান্ড ভিজিয়ার বালতাজি মেহমেদ পাশার বাহিনী প্রুত নদীর কাছে রুশ বাহিনীকে ঘিরে ফেলে। শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে পিটারকে বেরিয়ে যেতে দেওয়া হয়, কিন্তু তাকে আজভ অটোমানদের ফিরিয়ে দিতে হয়। এই ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয় যে রাশিয়ার উত্থান কোনো নিরবচ্ছিন্ন বিজয়যাত্রা ছিল না এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতেও অটোমানরা রাশিয়াকে বড় সামরিক পরাজয় দিতে সক্ষম ছিল।
কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা অটোমানদের জন্য উদ্বেগজনক ছিল। রাশিয়ার জনসংখ্যা, রাজস্ব, সামরিক সংগঠন ও শিল্পভিত্তি বাড়ছিল। রুশ রাষ্ট্র নিয়মিত সেনাবাহিনী, কামান এবং নৌবাহিনী গড়ে তুলছিল। অন্যদিকে অটোমানদের উত্তর সীমান্তে বিশাল এলাকা রক্ষা করতে হচ্ছিল।
১৭৩৫–১৭৩৯ সালের যুদ্ধে রাশিয়া আবার ক্রিমিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে আক্রমণ করে। রুশ বাহিনী বাখচিসারাই পর্যন্ত পৌঁছে ক্রিমিয়ার গভীরে অভিযান চালায়। কিন্তু রোগ, রসদ সমস্যা এবং কঠিন ভূগোল তাদের প্রচণ্ড ক্ষতি করে। অস্ট্রিয়াও অটোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল, কিন্তু অটোমানরা অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে।
১৭৩৯ সালের বেলগ্রেড চুক্তি অটোমানদের জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল ছিল। রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরে স্বাধীন নৌবাহিনী রাখার সুযোগ তখনও সীমিত থাকে। ফলে শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত অটোমানরা কৃষ্ণসাগরে নিজেদের বিশেষ অবস্থান অনেকটাই ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে দ্বিতীয় ক্যাথরিন বা ক্যাথরিন দ্য গ্রেটের সময়।
১৭৬৮ সালে নতুন রুশ-অটোমান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের কারণ ছিল পোল্যান্ডের রাজনীতি, সীমান্ত সংঘর্ষ এবং বৃহত্তর রুশ-অটোমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমন্বয়। অটোমান নেতৃত্ব সম্ভবত রাশিয়ার বিরুদ্ধে দ্রুত সাফল্যের আশা করেছিল। বাস্তবে এই যুদ্ধ সাম্রাজ্যের জন্য এক বিপর্যয়কর অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।
রুশ স্থলবাহিনী দানিয়ুব ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে একের পর এক সাফল্য অর্জন করে। ১৭৭০ সালের লার্গা ও কাগুলের যুদ্ধে রুশ সেনাপতি পিওতর রুমিয়ান্তসেভ অটোমান ও তাদের সহযোগী বাহিনীকে পরাজিত করেন।
কিন্তু আরও বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে সমুদ্রে। রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের একটি অংশ ইউরোপ ঘুরে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করে এবং অটোমান নৌবাহিনীকে আক্রমণ করে। ১৭৭০ সালের চেশমে বা চেসমার যুদ্ধে অটোমান নৌবহরের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।
চেশমে ছিল শুধু একটি নৌপরাজয় নয়। এটি দেখিয়ে দেয় যে রাশিয়া এখন এমন সামরিক ও নৌক্ষমতা অর্জন করেছে, যার মাধ্যমে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে অভিযান পরিচালনা করে অটোমান নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে আঘাত হানা সম্ভব।
যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফল আসে ১৭৭৪ সালের কুচুক কায়নারজা চুক্তিতে। এই চুক্তি অটোমান-রুশ শক্তির ভারসাম্যের ইতিহাসে এক মৌলিক মোড়।
চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়া কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড ও সুবিধা লাভ করে। আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে ক্রিমিয়ান খানাতকে অটোমান রাজনৈতিক কর্তৃত্ব থেকে স্বাধীন ঘোষণা করা হয়, যদিও ধর্মীয় ক্ষেত্রে অটোমান সুলতানের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নটি জটিলভাবে বজায় ছিল।
কাগজে ক্রিমিয়া স্বাধীন হলেও বাস্তবে রুশ প্রভাব দ্রুত বাড়তে থাকে। অটোমানদের জন্য এটি ছিল মারাত্মক কৌশলগত ক্ষতি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ক্রিমিয়া ছিল রাশিয়ার দক্ষিণমুখী অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাফার অঞ্চল। এখন সেই প্রতিরক্ষা বলয় ভেঙে গেছে।
কুচুক কায়নারজা চুক্তিতে রাশিয়া বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাও পায়। পরবর্তী সময়ে রুশ সরকার অটোমান সাম্রাজ্যের অর্থোডক্স খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীর প্রশ্নে নিজেকে বিশেষ রক্ষক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে। চুক্তির নির্দিষ্ট ধারার প্রকৃত আইনগত অর্থ এবং পরবর্তী রুশ ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য ছিল; তাই রাশিয়া ১৭৭৪ সালেই সব অটোমান অর্থোডক্স প্রজার আনুষ্ঠানিক রক্ষক হয়ে গিয়েছিল—এমন সরল দাবি সঠিক নয়। কিন্তু ভবিষ্যৎ রুশ কূটনীতিতে এই প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে ওঠে।
১৭৮৩ সালে ক্যাথরিন আরও বড় পদক্ষেপ নেন। রাশিয়া ক্রিমিয়াকে সরাসরি নিজের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে।
অটোমানদের জন্য ক্রিমিয়ার ক্ষতি ছিল গভীর প্রতীকী ও কৌশলগত আঘাত। ক্রিমিয়ান খানাত শুধু একটি অধীন রাষ্ট্র ছিল না; এটি অটোমান উত্তর সীমান্তের সামরিক সহযোগী, কৃষ্ণসাগরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ এবং দীর্ঘদিনের মুসলিম রাজনৈতিক অংশীদার ছিল।
রাশিয়া ক্রিমিয়া অধিগ্রহণের পর সেখানে নতুন সামরিক ও নৌঘাঁটি গড়ে তোলে। সেভাস্তোপোল রুশ কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের প্রধান ঘাঁটিগুলোর একটিতে পরিণত হয়। এর অর্থ, যে কৃষ্ণসাগর একসময় প্রায় অটোমান নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল ছিল, সেখানে এখন স্থায়ী শক্তিশালী রুশ যুদ্ধবহর উপস্থিত।
১৭৮৭ সালে নতুন রুশ-অটোমান যুদ্ধ শুরু হয়। অটোমানদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার করা, কিন্তু যুদ্ধ আবারও কঠিন হয়ে ওঠে। রুশ সেনাপতি আলেকজান্ডার সুভোরভ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেন।
বিশেষ করে ১৭৯০ সালে ইজমাইল দুর্গের পতন অটোমানদের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। দানিয়ুবের কাছে অবস্থিত এই শক্তিশালী দুর্গ রুশ বাহিনী আক্রমণ করে দখল করে। যুদ্ধের শেষে ১৭৯২ সালের ইয়াসি চুক্তিতে অটোমানরা রাশিয়ার ক্রিমিয়া অধিগ্রহণ মেনে নিতে বাধ্য হয় এবং রুশ সীমান্ত আরও পশ্চিম ও দক্ষিণে এগিয়ে যায়।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ নাগাদ পরিস্থিতি তাই মৌলিকভাবে বদলে গেছে। অটোমানরা শুধু ক্রিমিয়া হারায়নি; কৃষ্ণসাগরের একচ্ছত্র কৌশলগত সুবিধাও হারিয়েছে। রাশিয়া এখন সরাসরি অটোমান সাম্রাজ্যের উত্তর উপকূল ও দানিয়ুবীয় অঞ্চলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম।
এর প্রভাব বলকানেও পড়ে। রাশিয়া নিজেকে অর্থোডক্স খ্রিষ্টান শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে বলকানের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। তবে বলকানের জাতীয় আন্দোলনগুলোকে শুধু রাশিয়ার সৃষ্টি বলা ভুল। সার্ব, গ্রিক, বুলগেরীয়, রোমানীয় এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন ছিল। রাশিয়া সেই বিদ্যমান অসন্তোষ ও ধর্মীয় সম্পর্ককে নিজের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার সুযোগ পেয়েছিল।
উনিশ শতকের শুরুতে রুশ-অটোমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়। ১৮০৬–১৮১২ সালের যুদ্ধে আবার দানিয়ুবীয় প্রিন্সিপ্যালিটি মোলদাভিয়া ও ওয়ালাচিয়া প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। নেপোলিয়নের রাশিয়া আক্রমণের ঠিক আগে বুখারেস্ট চুক্তিতে যুদ্ধ শেষ হয় এবং রাশিয়া বেসারাবিয়া লাভ করে।
অটোমান সাম্রাজ্যের জন্য এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ডগত ক্ষতি। দানিয়ুব ও কৃষ্ণসাগরের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে রাশিয়ার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়।
এরপর গ্রিক স্বাধীনতা যুদ্ধ রুশ-অটোমান সম্পর্ককে নতুন সংকটে ফেলে। ১৮২১ সালে শুরু হওয়া গ্রিক বিদ্রোহ দ্রুত আন্তর্জাতিক প্রশ্নে পরিণত হয়। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়া শেষ পর্যন্ত গ্রিক প্রশ্নে হস্তক্ষেপ করে।
১৮২৭ সালের নাভারিনোর যুদ্ধে ব্রিটিশ, ফরাসি ও রুশ সম্মিলিত নৌবহর অটোমান-মিশরীয় নৌবহরের বড় অংশ ধ্বংস করে। এরপর ১৮২৮–১৮২৯ সালে রাশিয়া সরাসরি অটোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে।
রুশ বাহিনী বলকান অতিক্রম করে এদির্নে পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং ককেশাসেও সাফল্য অর্জন করে। ১৮২৯ সালের এদির্নে চুক্তি অটোমানদের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করে। দানিয়ুবীয় প্রিন্সিপ্যালিটিগুলোর স্বায়ত্তশাসন আরও শক্তিশালী হয় এবং রাশিয়ার কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
এ সময় থেকে ইউরোপীয় কূটনীতিতে একটি প্রশ্ন ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে—অটোমান সাম্রাজ্য দুর্বল হলে তার ভূখণ্ড ও প্রভাবের ভবিষ্যৎ কী হবে? পরে এটি তথাকথিত Eastern Question বা “প্রাচ্য প্রশ্ন”-এর কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে ওঠে।
তবে রাশিয়া অটোমান সাম্রাজ্যকে সহজেই ধ্বংস করে দিতে পারত—এমন ধারণাও ভুল। ব্রিটেন, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া এবং অন্যান্য ইউরোপীয় শক্তি রাশিয়াকে বসফরাস, দারদানেলিস ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অতিরিক্ত শক্তিশালী হতে দিতে চাইত না। ফলে অটোমান সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব ক্রমে ইউরোপীয় শক্তির ভারসাম্যের অংশ হয়ে ওঠে।
এই বাস্তবতা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় ক্রিমিয়ার যুদ্ধে, ১৮৫৩–১৮৫৬ সালে।
রাশিয়া ও অটোমানদের মধ্যে ধর্মীয় অধিকার, প্রভাব এবং ভূরাজনৈতিক প্রশ্নে নতুন সংঘর্ষ শুরু হয়। ১৮৫৩ সালে সিনোপের যুদ্ধে রুশ নৌবাহিনী অটোমান নৌবহরের একটি অংশ ধ্বংস করে। ইউরোপে আশঙ্কা তৈরি হয় যে রাশিয়া অটোমানদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
ব্রিটেন ও ফ্রান্স অটোমান সাম্রাজ্যের পক্ষে যুদ্ধে প্রবেশ করে। পরে সার্ডিনিয়া-পিয়েডমন্টও মিত্রপক্ষে যোগ দেয়। যুদ্ধের প্রধান অভিযান ক্রিমিয়ায় স্থানান্তরিত হয় এবং সেভাস্তোপোল দীর্ঘ অবরোধের কেন্দ্রে পরিণত হয়।
এবার পরিস্থিতি উল্টো। যে ক্রিমিয়া ১৭৮৩ সালে রাশিয়ার উত্থানের প্রতীক হয়েছিল, সেই ক্রিমিয়াতেই ব্রিটিশ, ফরাসি ও অটোমান বাহিনী রুশ শক্তিকে আঘাত করছে। ১৮৫৬ সালের প্যারিস চুক্তিতে রাশিয়া কূটনৈতিকভাবে পিছিয়ে যায় এবং কৃষ্ণসাগরকে সামরিকীকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
অর্থাৎ রুশ-অটোমান যুদ্ধের ইতিহাসে রাশিয়া প্রতিবার জয়ী হয়নি। ক্রিমিয়ার যুদ্ধ বিশেষভাবে দেখায় যে অটোমানরা ইউরোপীয় জোট ব্যবহার করে রুশ সম্প্রসারণ ঠেকাতে পারত।
কিন্তু এই সাফল্যও একটি নতুন বাস্তবতা প্রকাশ করে। অটোমান সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা ক্রমে শুধু নিজের সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যের ওপরও নির্ভরশীল হয়ে উঠছিল। ব্রিটেন ও ফ্রান্স রাশিয়াকে ঠেকাতে অটোমানদের সাহায্য করেছিল মূলত নিজেদের কৌশলগত স্বার্থে।
১৮৭০-এর দশকে রাশিয়া আবার শক্তিশালীভাবে ফিরে আসে। বলকানে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, বিদ্রোহ এবং অটোমান দমন-পীড়ন ইউরোপীয় রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে। সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর সঙ্গে সংঘর্ষের পর ১৮৭৭ সালে রাশিয়া আবার অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
১৮৭৭–১৮৭৮ সালের যুদ্ধ অটোমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুতর ছিল। রুশ বাহিনী দানিয়ুব অতিক্রম করে বলকানে অগ্রসর হয়। প্লেভনার প্রতিরোধে ওসমান পাশার বাহিনী কয়েক মাস রুশ ও রোমানীয় বাহিনীকে আটকে রাখে এবং অটোমান সামরিক ইতিহাসে এটি বিখ্যাত প্রতিরোধে পরিণত হয়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্লেভনা পতন করে। রুশ বাহিনী বলকান পর্বতমালা অতিক্রম করে দক্ষিণে অগ্রসর হয় এবং ইস্তাম্বুলের কাছাকাছি সান স্তেফানো পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
১৮৭৮ সালের সান স্তেফানো চুক্তি বলকানে বিশাল রুশ প্রভাব প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তৈরি করে। কিন্তু ব্রিটেন ও অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি এতে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। ফলে বার্লিন কংগ্রেসে চুক্তির শর্ত ব্যাপকভাবে সংশোধিত হয়।
রোমানিয়া, সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর স্বাধীনতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়। বুলগেরিয়ার জন্য নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি হয় এবং অটোমানদের বলকানীয় কর্তৃত্ব আরও সংকুচিত হয়। রাশিয়াও ককেশাসে কার্সসহ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল লাভ করে।
এই দীর্ঘ ইতিহাসে ক্রিমিয়ার গুরুত্ব আলাদা। ১৭৭৪ সালে অটোমান নিয়ন্ত্রণ থেকে ক্রিমিয়ার বিচ্ছিন্নতা এবং ১৭৮৩ সালে রুশ অধিগ্রহণ ছিল উত্তর কৃষ্ণসাগরে অটোমান কৌশলগত ব্যবস্থার ভাঙনের সবচেয়ে বড় প্রতীক। এর আগে ক্রিমিয়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি বাফার ছিল; পরে সেটিই রাশিয়ার দক্ষিণমুখী নৌ ও সামরিক সম্প্রসারণের ঘাঁটিতে পরিণত হয়।
কৃষ্ণসাগরের নিয়ন্ত্রণ হারানোও শুধু মানচিত্রের পরিবর্তন ছিল না। এর অর্থ ছিল অটোমান রাজধানীর দিকে সম্ভাব্য রুশ নৌচাপ বৃদ্ধি, দানিয়ুবীয় অঞ্চলকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করা এবং ককেশাস ও বলকানে রুশ প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করা।
একই সঙ্গে ধারাবাহিক যুদ্ধ অটোমান অর্থনীতির ওপর বিপুল চাপ সৃষ্টি করে। সেনাবাহিনী আধুনিকীকরণ, নতুন দুর্গ নির্মাণ, নৌবহর পুনর্গঠন এবং দীর্ঘ সীমান্ত রক্ষার জন্য বিপুল অর্থ দরকার ছিল। সামরিক ব্যর্থতা তাই প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কারের প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে আসে।
বিশেষ করে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ থেকে অটোমান শাসকেরা বুঝতে শুরু করেন যে ইউরোপীয় সামরিক শক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে হবে। তৃতীয় সেলিমের নিজাম-ই জেদিদ, পরে দ্বিতীয় মাহমুদের সামরিক সংস্কার এবং উনিশ শতকের বৃহত্তর প্রশাসনিক পরিবর্তনের পেছনে রাশিয়াসহ ইউরোপীয় শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
অর্থাৎ রুশ চাপ শুধু অটোমানদের দুর্বল করেনি; এটি তাদের সংস্কারেও বাধ্য করেছে। পুরোনো সামরিক প্রতিষ্ঠান, করব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও প্রাদেশিক নিয়ন্ত্রণ নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দেয়।
রাশিয়ার উত্থানের আরেকটি গভীর প্রভাব ছিল জনসংখ্যার ওপর। ক্রিমিয়া, ককেশাস এবং কৃষ্ণসাগরের উত্তরাঞ্চলে রুশ সম্প্রসারণের ফলে বিভিন্ন সময়ে বিপুলসংখ্যক ক্রিমিয়ান তাতার, সার্কাসিয়ান এবং অন্যান্য মুসলিম জনগোষ্ঠী অটোমান ভূখণ্ডে চলে আসে। বিশেষ করে উনিশ শতকে এই অভিবাসন অটোমান আনাতোলিয়া ও বলকানের জনসংখ্যাগত কাঠামোতেও প্রভাব ফেলে।
তাই রুশ-অটোমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু সুলতান, জার ও যুদ্ধক্ষেত্রের ইতিহাস নয়। এটি ছিল সীমান্ত বদল, জনগোষ্ঠীর স্থানচ্যুতি, ধর্মীয় রাজনীতি, বাণিজ্যপথ, সমুদ্র নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যের ইতিহাস।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অটোমান সংকটকে শুধুমাত্র “রাশিয়া শক্তিশালী হয়েছে বলে অটোমানরা দুর্বল হয়েছে” এই একটি সূত্রে ব্যাখ্যা করা যায় না। অটোমান সাম্রাজ্যের নিজস্ব আর্থিক সমস্যা, প্রশাসনিক পরিবর্তন, সামরিক সংস্কারের বাধা, প্রাদেশিক শক্তির উত্থান এবং ইউরোপের দ্রুত পরিবর্তিত যুদ্ধপ্রযুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কিন্তু রাশিয়া এসব সমস্যার ওপর অবিরাম ভূরাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছিল। হাবসবুর্গদের সঙ্গে অটোমান সংঘর্ষ প্রধানত মধ্য ইউরোপকে কেন্দ্র করে থাকলেও রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র ছিল আরও বিস্তৃত—ক্রিমিয়া, কৃষ্ণসাগর, দানিয়ুব, বলকান, ককেশাস, বসফরাস এবং শেষ পর্যন্ত ইস্তাম্বুলের নিরাপত্তা পর্যন্ত।
এখানেই রাশিয়ার উত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব। ষোড়শ শতাব্দীতে কৃষ্ণসাগরের উত্তর উপকূলের অনেক দূরে থাকা মস্কোভি রাষ্ট্র অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষে ক্রিমিয়ার মালিক এবং কৃষ্ণসাগরের প্রধান নৌশক্তিগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছিল। উনিশ শতকে তার বাহিনী একাধিকবার বলকান পেরিয়ে অটোমান রাজধানীর কাছাকাছি পৌঁছায়।
অটোমান সাম্রাজ্য অবশ্য প্রতিবার পিছিয়ে যায়নি। প্রুতের যুদ্ধে পিটার দ্য গ্রেটকে সংকটে ফেলেছিল, ক্রিমিয়ার যুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে রাশিয়াকে পরাজিত করেছিল এবং বহু যুদ্ধে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। রুশ-অটোমান সম্পর্ক তাই একতরফা রুশ বিজয়ের ইতিহাস নয়।
তবু দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল অটোমানদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। তারা ক্রিমিয়া হারায়, কৃষ্ণসাগরের একচ্ছত্র অবস্থান হারায়, বেসারাবিয়া ও ককেশাসের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হারায় এবং বলকানের ওপর রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ক্রমে সংকুচিত হতে দেখে। একই সঙ্গে সাম্রাজ্যের নিরাপত্তায় ইউরোপীয় কূটনীতির ভূমিকা বাড়তে থাকে।
১৬৮৩ সালের পর হাবসবুর্গদের অগ্রযাত্রা অটোমানদের মধ্য ইউরোপীয় সীমান্তকে পিছিয়ে দিয়েছিল; অষ্টাদশ ও উনিশ শতকে রাশিয়ার উত্থান সেই সংকটকে কৃষ্ণসাগর, বলকান ও ককেশাস পর্যন্ত বিস্তৃত করে। এই দুই চাপ একসঙ্গে অটোমান সাম্রাজ্যকে এমন এক যুগে নিয়ে যায় যেখানে বিজয়ের চেয়ে সীমান্ত রক্ষা, সামরিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক জোট অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ক্রিমিয়ার পতন ছিল এই পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক। একসময় যে অঞ্চল অটোমানদের উত্তর সীমান্তকে রক্ষা করত, সেটিই রাশিয়ার দক্ষিণমুখী সামরিক শক্তির ঘাঁটি হয়ে ওঠে। যে কৃষ্ণসাগর একসময় অটোমান কৌশলগত নিরাপত্তার অভ্যন্তরীণ বলয়ের মতো ছিল, সেটিই পরে দুই সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বিপজ্জনক সংঘর্ষক্ষেত্রগুলোর একটিতে পরিণত হয়।
আর তাই রাশিয়ার উত্থান অটোমান ইতিহাসে শুধু আরেকটি শক্তিশালী শত্রুর আবির্ভাব ছিল না। এটি অটোমান সাম্রাজ্যের ভূরাজনৈতিক পরিবেশের মৌলিক পরিবর্তন। ধারাবাহিক রুশ-তুর্কি যুদ্ধ সাম্রাজ্যের অর্থ, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে; ক্রিমিয়ার ক্ষতি তার কৌশলগত গভীরতা কমিয়েছে; আর বলকান ও কৃষ্ণসাগরে রুশ প্রভাবের বিস্তার অটোমানদের পুরোনো ক্ষমতার ভারসাম্য ভেঙে দিয়েছে। এই সংকটই শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্যকে বুঝতে বাধ্য করেছিল—নতুন যুগে টিকে থাকতে হলে শুধু পুরোনো সামরিক ঐতিহ্য যথেষ্ট নয়; রাষ্ট্র, সেনাবাহিনী এবং প্রশাসনকেই নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে।
প্যারিসে ভাইকিং আক্রমণ ও নরম্যান্ডির জন্ম: রোলো থেকে নরম্যান শক্তির উত্থানের ইতিহাস
আলফ্রেড দ্য গ্রেট বনাম ভাইকিং: এডিংটনের যুদ্ধ, গুথরুম ও ডেনল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
গ্রেট হিথেন আর্মি: বিশাল ভাইকিং বাহিনী কীভাবে ইংল্যান্ডের রাজ্যগুলো একে একে দখল করেছিল?
ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড ও ফ্রান্সে ভাইকিং অভিযান: লুটপাট থেকে স্থায়ী বসতি ও রাজ্য প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
ভাইকিং লংশিপ ও নৌযাত্রা: যে প্রযুক্তি নর্স যোদ্ধাদের ইউরোপের আতঙ্কে পরিণত করেছিল
লিন্ডিসফার্ন আক্রমণ ৭৯৩: যে ভয়াবহ হামলা ইউরোপে ভাইকিং যুগের সূচনা করেছিল