বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ বিস্তার: পৃথিবীর এক-চতুর্থাংশ কীভাবে ব্রিটিশ শাসনে এসেছিল?

সিরিজ: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ বিস্তার: পৃথিবীর এক-চতুর্থাংশ কীভাবে ব্রিটিশ শাসনে এসেছিল?
পৃথিবীর মানচিত্রে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ বিস্তার

বিশ শতকের সূচনায় পৃথিবীর মানচিত্র খুললে কানাডার তুষারাবৃত উত্তরাঞ্চল থেকে ভারত মহাসাগরের দ্বীপ, আফ্রিকার মরুভূমি থেকে অস্ট্রেলিয়ার উপকূল এবং ক্যারিবীয় সাগর থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপ পর্যন্ত অসংখ্য ভূখণ্ড ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রঙে চিহ্নিত দেখা যেত। সর্বোচ্চ বিস্তারের সময় সাম্রাজ্যটি প্রায় সাড়ে তিন কোটি বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করত। এর অধীনে বাস করত আনুমানিক পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ কোটি মানুষ। অর্থাৎ পৃথিবীর স্থলভাগ ও জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ কোনো না কোনোভাবে ব্রিটিশ শাসনের আওতায় ছিল। মানব ইতিহাসে এত বিস্তৃত সাম্রাজ্য আর কখনো গড়ে ওঠেনি।

এই বিশাল সাম্রাজ্য কোনো একক সম্রাটের পরিকল্পনা কিংবা একটি ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তৈরি হয়নি। প্রায় তিন শতাব্দী ধরে বণিক, নাবিক, বসতি স্থাপনকারী, সৈন্য, প্রশাসক, ধর্মপ্রচারক, ব্যাংকার ও চার্টারপ্রাপ্ত কোম্পানির কর্মকাণ্ড মিলিয়ে এটি গড়ে ওঠে। কোথাও ব্রিটিশরা সরাসরি যুদ্ধ করে ভূখণ্ড দখল করেছিল, কোথাও স্থানীয় শাসকের সঙ্গে চুক্তি করেছিল, কোথাও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল, আবার কোথাও ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীরা আদিবাসীদের ভূমি দখল করে নতুন সমাজ নির্মাণ করেছিল। বাণিজ্য, নৌক্ষমতা ও ভূখণ্ড দখল পরস্পরকে শক্তিশালী করেছিল।

ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে ইংল্যান্ড স্পেন, পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের তুলনায় উপনিবেশ স্থাপনে পিছিয়ে ছিল। কিন্তু আটলান্টিক বাণিজ্যে অংশগ্রহণ, উত্তর আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে বসতি স্থাপন এবং নৌবাহিনীর উন্নয়ন ইংরেজ শক্তির ভিত্তি তৈরি করে। রাষ্ট্রের অনুমোদনপ্রাপ্ত বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলো দূরবর্তী অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা, দুর্গ নির্মাণ, চুক্তি সম্পাদন এবং প্রয়োজনে যুদ্ধ করার অধিকার পায়। ফলে সরকারি কোষাগারের সম্পূর্ণ ব্যয় ছাড়াই ইংল্যান্ড বিদেশে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।

অষ্টাদশ শতকের যুদ্ধগুলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের উত্থানে বিশেষ ভূমিকা রাখে। স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও বিশেষ করে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে ব্রিটিশ নৌবাহিনী বাণিজ্যপথ ও উপনিবেশ রক্ষার প্রধান অস্ত্রে পরিণত হয়। সাত বছরের যুদ্ধে ফ্রান্সকে পরাজিত করে ব্রিটেন কানাডায় প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করে এবং ভারতে ফরাসি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা দুর্বল করে দেয়। আমেরিকার তেরো উপনিবেশ হারানো ছিল বড় আঘাত, কিন্তু সেই পরাজয়ের পর ব্রিটিশ সম্প্রসারণের কেন্দ্র ধীরে ধীরে এশিয়া, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে সরে যায়।

ভারতীয় উপমহাদেশ সাম্রাজ্যের সবচেয়ে মূল্যবান অধিকার হয়ে ওঠে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্যের অনুমতি নিয়ে ভারতে প্রবেশ করলেও পলাশী ও বক্সারের যুদ্ধের পর বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্বের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তী এক শতাব্দীতে মহীশূর, মারাঠা, শিখ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তিকে পরাজিত অথবা অধীন করে কোম্পানি প্রায় সমগ্র উপমহাদেশ দখল করে। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর কোম্পানির শাসন বিলুপ্ত হয় এবং ভারত সরাসরি ব্রিটিশ রাজমুকুটের অধীনে যায়। ভারতের রাজস্ব, সৈন্য, কাঁচামাল ও বাজার ব্রিটিশ বিশ্বশক্তির কেন্দ্রীয় ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

ভারত ছিল শুধু একটি উপনিবেশ নয়; এশিয়া ও আফ্রিকায় ব্রিটিশ সম্প্রসারণের সামরিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রও ছিল। ভারতীয় সৈন্যদের চীন, আফগানিস্তান, মিশর, সুদান, পূর্ব আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে পাঠানো হতো। ভারতীয় রাজস্ব থেকে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের বিপুল ব্যয় বহন করা হতো। ভারত মহাসাগরের বন্দর, দ্বীপ ও সমুদ্রপথের ওপর ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল উপমহাদেশে যাতায়াত নিরাপদ রাখা। এ কারণেই এডেন, সিলন, মরিশাস, মালয় ও সিঙ্গাপুর সাম্রাজ্যিক যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

উনিশ শতকে ব্রিটিশ নৌবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামুদ্রিক বাহিনী হয়ে ওঠে। ১৮১৫ সালে নেপোলিয়নের পরাজয়ের পর দীর্ঘ সময় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী এককভাবে ব্রিটিশ নৌশক্তির সমকক্ষ হতে পারেনি। জিব্রাল্টার, মাল্টা, কেপ, এডেন, সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের মতো ঘাঁটি ব্রিটিশ জাহাজকে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেয়। কয়লাচালিত জাহাজের যুগে এসব ঘাঁটি জ্বালানি, মেরামত ও রসদ সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে আরও মূল্যবান হয়ে ওঠে। সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এত দূরবর্তী ভূখণ্ড নিয়ে একটি সাম্রাজ্য পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না।

শিল্পবিপ্লব ব্রিটেনকে সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধা দেয়। কারখানায় উৎপাদিত বস্ত্র, ধাতব সামগ্রী ও যন্ত্রপাতির জন্য বিদেশি বাজার দরকার ছিল; অন্যদিকে শিল্পের জন্য তুলা, পাট, রবার, চা, কফি, তামা ও অন্যান্য কাঁচামালের প্রয়োজন হতো। বাষ্পচালিত জাহাজ ভ্রমণের সময় কমায়, রেলপথ সৈন্য ও পণ্য পরিবহন সহজ করে এবং টেলিগ্রাফ দ্রুত নির্দেশ পাঠানোর সুযোগ দেয়। উন্নত কামান, রাইফেল ও যন্ত্রচালিত অস্ত্র অনেক যুদ্ধে সংখ্যায় বৃহত্তর স্থানীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেও ব্রিটিশদের সুবিধা দিয়েছিল।

ব্রিটেনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও সাম্রাজ্যের অদৃশ্য শক্তি ছিল। লন্ডন আন্তর্জাতিক ঋণ, বিমা, জাহাজ চলাচল ও পণ্যবাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা রেলপথ, খনি, বন্দর ও বাগানে পুঁজি বিনিয়োগ করত। স্টার্লিং মুদ্রা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। ফলে কোনো অঞ্চল আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ উপনিবেশ না হলেও ঋণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্রিটিশ প্রভাবের অধীনে চলে আসতে পারত। এই ধরনের প্রভাবকে অনেক সময় অনানুষ্ঠানিক সাম্রাজ্য বলা হয়।

উনিশ শতকের শেষভাগে আফ্রিকার জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মানচিত্র দ্রুত সম্প্রসারিত করে। সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণ ও মিশর দখলের পর ব্রিটেন নীল নদের অববাহিকা, সুদান, পূর্ব আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্তৃত্ব বাড়ায়। নাইজেরিয়া, গোল্ড কোস্ট, কেনিয়া, উগান্ডা, রোডেশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চল কখনো কোম্পানির মাধ্যমে, কখনো চুক্তি এবং কখনো সামরিক অভিযানে দখল করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার হীরা ও স্বর্ণ ব্রিটিশ স্বার্থকে আরও তীব্র করে এবং বোয়ার প্রজাতন্ত্রগুলোর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পথ তৈরি করে।

কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো বসতি স্থাপনকারী উপনিবেশগুলোর বিকাশ ছিল ভিন্ন ধরনের। ইউরোপীয় বসতি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আদিবাসী জনগোষ্ঠী ভূমি, জীবিকা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা হারায়। রোগ, যুদ্ধ, চুক্তিভঙ্গ এবং জোরপূর্বক আত্মীকরণের নীতি তাদের সমাজে গভীর বিপর্যয় ঘটায়। একই সময়ে ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত অধিবাসীরা ধীরে ধীরে স্বশাসন লাভ করে। এসব অঞ্চল পরে ডোমিনিয়নে পরিণত হলেও ব্রিটিশ রাজমুকুটের প্রতি আনুগত্য এবং সাম্রাজ্যিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সর্বত্র একই শাসনব্যবস্থা ছিল না। ভারতে কেন্দ্রীভূত আমলাতান্ত্রিক সরকার পরিচালিত হতো; আফ্রিকার বহু অঞ্চলে স্থানীয় রাজা, প্রধান ও মধ্যস্থতাকারীদের ব্যবহার করে পরোক্ষ শাসন চালানো হতো; আবার বসতি স্থাপনকারী উপনিবেশগুলোতে নির্বাচিত পরিষদ ও স্বায়ত্তশাসন গড়ে উঠেছিল। কোথাও রাজমুকুটের উপনিবেশ, কোথাও আশ্রিত রাজ্য, কোথাও কোম্পানি-শাসিত অঞ্চল এবং কোথাও নৌঘাঁটি ছিল। এই নমনীয় শাসনপদ্ধতি সীমিতসংখ্যক ব্রিটিশ কর্মকর্তা দিয়ে বিপুল জনগোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ সম্ভব করেছিল।

স্থানীয় সহযোগিতা ছাড়া সাম্রাজ্য পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। ভারতীয় সৈন্য, আফ্রিকান বাহিনী, দোভাষী, কর সংগ্রাহক, কেরানি, জমিদার, ব্যবসায়ী এবং দেশীয় শাসকরা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করতেন। ব্রিটিশরা প্রায়ই একটি গোষ্ঠীকে অন্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করত এবং জাতি, ধর্ম বা সামাজিক পরিচয়ের পার্থক্যকে শাসনের উপযোগীভাবে সাজাত। সহযোগীদের পদ, সম্পদ ও নিরাপত্তা দেওয়া হলেও চূড়ান্ত রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ব্রিটিশদের হাতে থাকত। তাই সাম্রাজ্য ছিল শুধু বিদেশি দখলদারদের ব্যবস্থা নয়; এটি ছিল স্থানীয় স্বার্থ, বাধ্যবাধকতা ও অসম সহযোগিতার জটিল কাঠামো।

সাম্রাজ্য বিস্তারকে বৈধ প্রমাণ করতে ব্রিটিশ শাসকেরা সভ্যতা, শিক্ষা, আইন ও উন্নয়নের ভাষা ব্যবহার করত। রেলপথ, বন্দর, বিদ্যালয়, আদালত ও আধুনিক প্রশাসন নির্মাণকে শাসনের সুফল হিসেবে তুলে ধরা হতো। কিন্তু অধিকাংশ অবকাঠামো নির্মিত হয়েছিল কাঁচামাল উৎপাদন, সৈন্য চলাচল এবং রপ্তানির সুবিধার্থে। ভূমি বাজেয়াপ্ত, বৈষম্যমূলক কর, বাধ্যতামূলক শ্রম এবং স্থানীয় শিল্পের ক্ষতি উপনিবেশিত জনগণের ওপর বিপুল চাপ সৃষ্টি করে। দুর্ভিক্ষের সময়ও রাজস্ব ও বাজারের নিয়মকে মানুষের জীবনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শক্তি ও নির্ভরতা উভয়ই প্রকাশ করে। ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল ও আফ্রিকার উপনিবেশগুলো থেকে সৈন্য, শ্রমিক, খাদ্য এবং অর্থ সংগ্রহ করা হয়। যুদ্ধ শেষে পরাজিত জার্মানি ও উসমানীয় সাম্রাজ্যের কিছু ভূখণ্ড ব্রিটিশ তত্ত্বাবধানে আসে। আফ্রিকায় টাঙ্গানিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরাক, ফিলিস্তিন ও ট্রান্সজর্ডানের মতো অঞ্চলের দায়িত্ব পাওয়ার ফলে বিশ শতকের তৃতীয় দশকের শুরুতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তার সর্বোচ্চ ভৌগোলিক বিস্তারে পৌঁছায়।

তবে এই সর্বোচ্চ বিস্তারের মধ্যেই পতনের উপাদান উপস্থিত ছিল। বিশাল ভূখণ্ড রক্ষা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ছিল, উপনিবেশগুলোতে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শক্তিশালী হচ্ছিল এবং যুদ্ধ ব্রিটেনকে ঋণগ্রস্ত করেছিল। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন, আয়ারল্যান্ডের সংগ্রাম, মিশরের বিক্ষোভ এবং আফ্রিকা ও এশিয়ার রাজনৈতিক সংগঠনগুলো সাম্রাজ্যিক কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে। উপনিবেশের মানুষ ব্রিটিশ স্বাধীনতা ও প্রতিনিধিত্বের ভাষাকেই ব্যবহার করে নিজেদের অধিকার দাবি করতে শুরু করে।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ বিস্তার ছিল নৌবাহিনী, শিল্প, অর্থ, যুদ্ধ, বাণিজ্যিক কোম্পানি, বসতি স্থাপন এবং স্থানীয় সহযোগিতার সম্মিলিত ফল। পৃথিবীর মানচিত্রে এর বিশালতা ব্রিটিশ শক্তির পরিচয় দিলেও সেই মানচিত্রের নিচে ছিল বহু ভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভূমি হারানো, শ্রমের শোষণ, সাংস্কৃতিক চাপ ও রাজনৈতিক অধীনতার ইতিহাস। সাম্রাজ্য বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ও বাণিজ্যের নতুন সংযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু সেই সংযোগ ছিল গভীরভাবে অসম। তাই এর সর্বোচ্চ বিস্তারকে শুধু বিজয়ের কাহিনি হিসেবে নয়, বরং ক্ষমতা, প্রতিরোধ এবং দীর্ঘস্থায়ী ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকারের ইতিহাস হিসেবেও বুঝতে হয়।