বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

কানাডা থেকে নিউজিল্যান্ড: ব্রিটিশ বসতি উপনিবেশগুলোর স্বশাসিত ডোমিনিয়নে পরিণত হওয়ার ইতিহাস

সিরিজ: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার

কানাডা থেকে নিউজিল্যান্ড: ব্রিটিশ বসতি উপনিবেশগুলোর স্বশাসিত ডোমিনিয়নে পরিণত হওয়ার ইতিহাস
উপনিবেশ থেকে ডোমিনিয়ন—ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে স্বশাসনের দীর্ঘ যাত্রা

ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তার সব উপনিবেশকে একই পদ্ধতিতে শাসন করেনি। ভারত, আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অধিকাংশ ভূখণ্ডে ব্রিটিশ কর্মকর্তা, ঔপনিবেশিক গভর্নর এবং সীমিত স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে জনগণের ওপর শাসন পরিচালিত হতো। অন্যদিকে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নিউফাউন্ডল্যান্ড ও পরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিপুলসংখ্যক ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারী নিজেদের নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান ও অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসন দাবি করেন। সময়ের সঙ্গে এসব অঞ্চল সরাসরি নিয়ন্ত্রিত উপনিবেশ থেকে স্বশাসিত ডোমিনিয়নে রূপান্তরিত হয়। তবে এই সাংবিধানিক স্বাধীনতা প্রধানত শ্বেতাঙ্গ বসতি স্থাপনকারীদের জন্য গড়ে উঠেছিল; আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি, সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক অধিকার প্রায় সর্বত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আমেরিকান বিপ্লব ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। তেরো উপনিবেশে স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব ও কর আরোপের বিরোধ যথাসময়ে সমাধান করতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্রিটেন একটি মূল্যবান সাম্রাজ্য হারিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে শ্বেতাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ বা প্রভাবশালী বসতি উপনিবেশগুলোতে লন্ডন তুলনামূলক নমনীয় নীতি গ্রহণ করে। স্থানীয় নির্বাচিত পরিষদ, দায়িত্বশীল সরকার এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিস্তৃত স্বাধীনতা দেওয়ার মাধ্যমে এসব অঞ্চলকে সাম্রাজ্যের ভেতরে ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়। ব্রিটিশ নীতিনির্ধারকেরা বুঝেছিলেন, সীমিত স্বশাসন অনেক সময় কঠোর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের চেয়ে সাম্রাজ্য রক্ষায় বেশি কার্যকর।

কানাডায় এই পরিবর্তনের পেছনে আমেরিকান বিপ্লবের সরাসরি প্রভাব ছিল। যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন হওয়ার পর হাজার হাজার ব্রিটিশ অনুগত উত্তর দিকে চলে এসে নোভা স্কশিয়া, নিউ ব্রান্সউইক ও বর্তমান অন্টারিও অঞ্চলে বসতি গড়েন। ১৭৯১ সালে ব্রিটিশ সরকার কুইবেককে আপার কানাডা ও লোয়ার কানাডায় বিভক্ত করে। আপার কানাডায় ইংরেজিভাষী বসতি স্থাপনকারী এবং লোয়ার কানাডায় ফরাসিভাষী জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল। উভয় অঞ্চলে নির্বাচিত আইনসভা থাকলেও গভর্নর ও তার নিযুক্ত কর্মকর্তারা বাস্তব নির্বাহী ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতেন।

১৮৩৭–৩৮ সালে আপার ও লোয়ার কানাডায় বিদ্রোহ দেখা দিলে ব্রিটিশ সরকার লর্ড ডারহামকে পরিস্থিতি তদন্তে পাঠায়। তার প্রতিবেদনে নির্বাচিত আইনসভার কাছে জবাবদিহিমূলক দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়। একই প্রতিবেদনে ফরাসিভাষী কানাডীয়দের ইংরেজি সংস্কৃতিতে আত্মীকরণের পক্ষপাতদুষ্ট পরিকল্পনাও ছিল। ১৮৪০ সালের ইউনিয়ন আইনে আপার ও লোয়ার কানাডাকে যুক্ত করে কানাডা প্রদেশ গঠন করা হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক চাপের পর ১৮৪৮ সালে সেখানে কার্যকর দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়—অর্থাৎ গভর্নরকে নির্বাচিত আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থনপুষ্ট মন্ত্রীদের পরামর্শে শাসন করতে হতো।

বিশাল ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রেলপথ নির্মাণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলার প্রয়োজন কানাডীয় উপনিবেশগুলোকে ফেডারেশনের দিকে নিয়ে যায়। ১৮৬৭ সালের ব্রিটিশ উত্তর আমেরিকা আইনে কানাডা প্রদেশকে অন্টারিও ও কুইবেকে ভাগ করে নোভা স্কশিয়া ও নিউ ব্রান্সউইকের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে কানাডা ডোমিনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন ফেডারেল সরকারের নিজস্ব সংসদ ও প্রধানমন্ত্রী থাকলেও ব্রিটিশ রাজা রাষ্ট্রপ্রধান এবং গভর্নর-জেনারেল তার প্রতিনিধি হিসেবে রয়ে যান। বৈদেশিক নীতি ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের কিছু ক্ষমতা তখনো ব্রিটিশ সরকারের হাতে ছিল।

কানাডার বিস্তার আদিবাসীদের জন্য স্বাধীনতার প্রক্রিয়া ছিল না। সরকার পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের ভূমি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন চুক্তি সম্পাদন করলেও সেগুলোর ব্যাখ্যা, বাস্তবায়ন ও সম্মতির প্রকৃতি ছিল অসম। ফার্স্ট নেশনস, ইনুইট ও মেতিস জনগোষ্ঠী ভূমি হারানো, শিকারক্ষেত্র সংকোচন এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণের মুখোমুখি হয়। আবাসিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে আদিবাসী শিশুদের পরিবার ও সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে জোরপূর্বক আত্মীকরণের নীতি চালানো হয়। তাই কানাডার স্বশাসন বৃদ্ধি পেলেও আদিবাসীদের ওপর ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব আরও গভীর হয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ায়ও স্বশাসনের ভিত্তি তৈরি হয় দণ্ড উপনিবেশ থেকে মুক্ত বসতি-সমাজে রূপান্তরের সঙ্গে। উনিশ শতকের প্রথমার্ধে নিউ সাউথ ওয়েলস, ভ্যান ডিমেনস ল্যান্ড, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও পোর্ট ফিলিপ অঞ্চলে বসতি সম্প্রসারিত হয়। মুক্ত অভিবাসন, পশম রপ্তানি এবং স্বর্ণ আবিষ্কারের ফলে জনসংখ্যা ও অর্থনীতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। দণ্ডিত পরিবহনের বিরোধিতা এবং স্থানীয় কর ও ভূমিনীতি নিয়ন্ত্রণের দাবি রাজনৈতিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করে। ১৮৫০ ও ১৮৬০-এর দশকের মধ্যে অধিকাংশ অস্ট্রেলীয় উপনিবেশ দায়িত্বশীল সরকার লাভ করে।

প্রতিটি অস্ট্রেলীয় উপনিবেশের নিজস্ব সংসদ, শুল্কব্যবস্থা, রেলপথের নীতি এবং প্রশাসন ছিল। কিন্তু প্রতিরক্ষা, আন্তঃউপনিবেশ বাণিজ্য, অভিবাসন ও যোগাযোগের প্রশ্নে সমন্বয়ের প্রয়োজন বাড়তে থাকে। দীর্ঘ আলোচনা ও গণভোটের পর ছয়টি উপনিবেশ ১৯০১ সালের ১ জানুয়ারি যুক্ত হয়ে অস্ট্রেলীয় কমনওয়েলথ গঠন করে। নতুন ফেডারেশনের নিজস্ব সংবিধান, সংসদ ও প্রধানমন্ত্রী ছিল। ব্রিটিশ রাজমুকুটের প্রতিনিধি হিসেবে গভর্নর-জেনারেল থাকলেও দৈনন্দিন শাসন নির্বাচিত অস্ট্রেলীয় মন্ত্রিসভার হাতে চলে যায়।

এই গণতান্ত্রিক অগ্রগতি সবার জন্য সমান ছিল না। ব্রিটিশ বসতি স্থাপনকারীরা অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকে দখলযোগ্য বলে ধরে নিয়ে আদিবাসীদের সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করেছিল। সীমান্ত সহিংসতা, রোগ, স্থানচ্যুতি ও শিশু অপসারণের নীতিতে বহু আদিবাসী সমাজ বিপর্যস্ত হয়। ১৯০১ সালের নতুন ফেডারেশন শ্বেতাঙ্গ অস্ট্রেলিয়া নীতির মাধ্যমে অ-ইউরোপীয় অভিবাসন সীমিত করে। আদিবাসী অস্ট্রেলীয়রা দীর্ঘদিন পূর্ণ নাগরিক অধিকার, সামাজিক সেবা ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বসতি স্থাপনকারীদের স্বশাসন আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেনি; বরং অনেক ক্ষেত্রে তাদের ওপর স্থানীয় ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করেছিল।

নিউজিল্যান্ডে ব্রিটিশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ভিত্তি ছিল ১৮৪০ সালের ওয়াইতাঙ্গি চুক্তি। ব্রিটিশ রাজমুকুট ও বহু মাওরি প্রধানের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিটির ইংরেজি ও মাওরি ভাষার পাঠে সার্বভৌমত্বের অর্থে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য ছিল। ইংরেজি পাঠে রাজমুকুটকে সার্বভৌম ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হলেও মাওরি পাঠে অনেক প্রধান নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় থাকবে বলে বুঝেছিলেন। পরবর্তী বসতি সম্প্রসারণ, সন্দেহজনক জমি ক্রয় এবং ঔপনিবেশিক সরকারের ভূমিদাবি থেকে সংঘাত সৃষ্টি হয়।

১৮৫২ সালের নিউজিল্যান্ড সংবিধান আইন নির্বাচিত সাধারণ পরিষদ ও প্রাদেশিক সরকার প্রতিষ্ঠা করে। ১৮৫৬ সালের মধ্যে দায়িত্বশীল সরকার কার্যকর হয়। তবে মাওরি ভূমি ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন অমীমাংসিত থেকে যায়। ১৮৪০-এর দশক এবং বিশেষ করে ১৮৬০-এর দশকের নিউজিল্যান্ড যুদ্ধগুলোতে ব্রিটিশ ও ঔপনিবেশিক বাহিনী বিভিন্ন মাওরি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করে। বিদ্রোহের অভিযোগে বিপুল মাওরি ভূমি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ১৮৬৭ সালে মাওরিদের জন্য সংসদে নির্দিষ্ট আসন সৃষ্টি করা হলেও ক্ষমতার ভারসাম্য ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীদের হাতেই ছিল।

১৯০৭ সালে নিউজিল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ডোমিনিয়নের মর্যাদা গ্রহণ করে। একই বছর নিউফাউন্ডল্যান্ডও ডোমিনিয়ন হয়। তবে “ডোমিনিয়ন” শব্দটি তাৎক্ষণিক পূর্ণ স্বাধীনতা বোঝাত না। এসব দেশের অভ্যন্তরীণ শাসন প্রায় সম্পূর্ণভাবে নির্বাচিত সরকারের হাতে থাকলেও বৈদেশিক নীতি, যুদ্ধ ঘোষণা, সর্বোচ্চ সাংবিধানিক কর্তৃত্ব এবং কিছু আইনি আপিলের ক্ষেত্রে ব্রিটেনের ভূমিকা বজায় ছিল। তবু উপনিবেশের তুলনায় ডোমিনিয়ন ছিল অনেক বেশি স্বায়ত্তশাসিত এবং সাম্রাজ্যের ভেতরে বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত রাজনৈতিক একক।

দক্ষিণ আফ্রিকার পথ ছিল আরও সংঘাতপূর্ণ। কেপ কলোনিতে সীমিত প্রতিনিধিত্বমূলক ও পরে দায়িত্বশীল সরকার গড়ে উঠলেও ব্রিটিশ সম্প্রসারণ আফ্রিকান রাজ্য ও বুর প্রজাতন্ত্রগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক যুদ্ধ সৃষ্টি করে। দ্বিতীয় ইঙ্গ-বুর যুদ্ধের পর ট্রান্সভাল ও অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৯১০ সালে কেপ, নাটাল, ট্রান্সভাল ও অরেঞ্জ রিভার কলোনি যুক্ত হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ইউনিয়ন নামে ডোমিনিয়ন গঠন করে। কিন্তু নতুন রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ক্ষমতা মূলত শ্বেতাঙ্গদের হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল এবং কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ক্রমে কঠোর ভূমি ও বর্ণবৈষম্যমূলক আইনের অধীন হয়।

ডোমিনিয়নগুলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অংশ হলেও তাদের স্বতন্ত্র জাতীয় পরিচয় দ্রুত শক্তিশালী হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেন যুদ্ধ ঘোষণা করলে ডোমিনিয়নগুলোও স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। কানাডীয়, অস্ট্রেলীয়, নিউজিল্যান্ড, নিউফাউন্ডল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকান সৈন্যরা ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় লড়াই করেন। ভিমি রিজ, গ্যালিপলি ও অন্যান্য যুদ্ধ তাদের জাতীয় স্মৃতিতে বিশেষ স্থান পায়। বিপুল প্রাণহানি ডোমিনিয়নগুলোর মধ্যে এই ধারণা শক্তিশালী করে যে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তে তাদের স্বাধীন মতামত থাকা উচিত।

যুদ্ধের শেষে ডোমিনিয়নগুলো পৃথকভাবে ভার্সাই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে এবং নতুন আন্তর্জাতিক সংগঠনে নিজস্ব সদস্যপদ পায়। ১৯২৬ সালের সাম্রাজ্যিক সম্মেলনের বেলফোর ঘোষণা ব্রিটেন ও ডোমিনিয়নগুলোকে মর্যাদায় সমান, অভ্যন্তরীণ বা বৈদেশিক বিষয়ে একে অপরের অধীন নয় এবং রাজমুকুটের প্রতি অভিন্ন আনুগত্যে যুক্ত স্বায়ত্তশাসিত সম্প্রদায় হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই নীতি ১৯৩১ সালের ওয়েস্টমিনস্টার আইনে আইনি রূপ পায়। এর ফলে ব্রিটিশ সংসদ সাধারণভাবে কোনো ডোমিনিয়নের অনুরোধ ও সম্মতি ছাড়া তার জন্য আইন প্রণয়ন করতে পারত না।

সব ডোমিনিয়ন একই সময়ে এই স্বাধীনতা পুরোপুরি গ্রহণ করেনি। কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আইরিশ ফ্রি স্টেট দ্রুত এর আওতায় আসে। অস্ট্রেলিয়া ১৯৪২ সালে আইনটি গ্রহণ করে, যার কার্যকারিতা ১৯৩৯ সাল থেকে ধরা হয়। নিউজিল্যান্ড ১৯৪৭ সালে গ্রহণ করে। সাংবিধানিক সম্পর্কের কিছু অবশেষ আরও বহু বছর বজায় ছিল। তবে ওয়েস্টমিনস্টার আইন ডোমিনিয়নকে কার্যত স্বাধীন রাষ্ট্রে রূপান্তরের निर्णায়ক ধাপ এবং পরবর্তী কমনওয়েলথ ব্যবস্থার ভিত্তি হয়ে ওঠে।

বসতি উপনিবেশগুলোর ডোমিনিয়নে পরিণত হওয়ার ইতিহাস তাই ব্রিটেনের উদারভাবে স্বাধীনতা দেওয়ার সরল কাহিনি নয়। স্থানীয় রাজনৈতিক আন্দোলন, বিদ্রোহের আশঙ্কা, ভৌগোলিক দূরত্ব, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং সাম্রাজ্য রক্ষার বাস্তব প্রয়োজন ব্রিটেনকে ক্ষমতা ভাগ করতে বাধ্য করেছিল। একই সঙ্গে এই ব্যবস্থা স্পষ্ট জাতিগত বৈষম্যের ওপর দাঁড়িয়েছিল। ভারতীয়, আফ্রিকান ও ক্যারিবীয় জনগণ দীর্ঘদিন যে স্বশাসন পাননি, শ্বেতাঙ্গ বসতি স্থাপনকারীরা তা তুলনামূলক দ্রুত অর্জন করেছিলেন।

কানাডা থেকে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত ডোমিনিয়নগুলোর উত্থান ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাঠামো বদলে দেয়। সরাসরি আদেশের পরিবর্তে নির্বাচিত সরকার, ভাগ করা রাজমুকুট এবং অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার ভিত্তিতে নতুন সম্পর্ক তৈরি হয়। স্বশাসনের মাধ্যমে বসতি স্থাপনকারীরা ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে এলেও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর নির্মিত উপনিবেশিক ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়নি। এই দ্বৈত উত্তরাধিকার—একদিকে সংসদীয় গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক স্বাধীনতা, অন্যদিকে ভূমি দখল ও বর্ণগত বঞ্চনা—আজও কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও অন্যান্য সাবেক ডোমিনিয়নের ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়কে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।


আপনার পছন্দ হতে পারে