আফিম যুদ্ধ ও চীনে ব্রিটিশ প্রভাব: হংকং দখল ও অসম চুক্তির মাধ্যমে সাম্রাজ্য বিস্তারের ইতিহাস
সিরিজ: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার
আফিম, যুদ্ধ ও অসম চুক্তিতে চীনে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যিক প্রভাবের বিস্তার
উনিশ শতকের শুরুতে চীন কোনো দুর্বল বা সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বাজার ছিল না। কিং সাম্রাজ্য বিশাল জনসংখ্যা, শক্তিশালী প্রশাসনিক ঐতিহ্য এবং নিজস্ব উৎপাদনব্যবস্থার অধিকারী ছিল। ইউরোপীয়রা চীনের চা, রেশম ও চীনামাটির পাত্র কিনতে আগ্রহী হলেও চীনা বাজারে ব্রিটিশ পণ্যের চাহিদা ছিল সীমিত। ফলে ব্রিটেনকে বিপুল পরিমাণ রুপা দিয়ে চীনা পণ্য কিনতে হতো। এই বাণিজ্যঘাটতি মোকাবিলায় ব্রিটিশ বণিকেরা এমন একটি পণ্য ব্যবহার করতে শুরু করে, যার চাহিদা তারা অবৈধভাবে সম্প্রসারিত করতে পারত—ভারতে উৎপাদিত আফিম। আফিম যুদ্ধের কেন্দ্রে ছিল মুক্ত বাণিজ্যের মহৎ আদর্শ নয়, বরং সামরিক শক্তি ব্যবহার করে একটি লাভজনক মাদকবাণিজ্য ও বিদেশি বাজার রক্ষা করার সাম্রাজ্যিক সিদ্ধান্ত।
চীনের সঙ্গে পশ্চিমা বাণিজ্য তখন ক্যান্টন বা বর্তমান গুয়াংজৌকে কেন্দ্র করে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হতো। বিদেশি বণিকেরা নির্দিষ্ট মৌসুমে অনুমোদিত চীনা বণিকগোষ্ঠীর মাধ্যমে ব্যবসা করতে পারতেন। তারা চীনের অভ্যন্তরে অবাধে যাতায়াত, স্থায়ী বসতি কিংবা সরাসরি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে আলোচনা করতে পারতেন না। ব্রিটিশ বণিকদের কাছে এই ব্যবস্থা বাধাজনক মনে হলেও কিং সরকার এটিকে বিদেশি যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ ও উপকূলীয় নিরাপত্তা রক্ষার কার্যকর উপায় হিসেবে দেখত।
ব্রিটেনে চায়ের চাহিদা অষ্টাদশ শতকজুড়ে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। চা আমদানি থেকে ব্রিটিশ সরকারও বিপুল শুল্ক পেত। কিন্তু বিনিময়ে চীনে বিক্রি করার মতো পর্যাপ্ত ব্রিটিশ পণ্য না থাকায় রুপার বহির্গমন বাড়তে থাকে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর বিহার ও বাংলায় নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে আফিম উৎপাদন সম্প্রসারণ করে। কোম্পানি কলকাতায় নিলামের মাধ্যমে আফিম ব্যক্তিগত ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করত; তারা সমুদ্রপথে তা চীনের উপকূলে নিয়ে চোরাকারবারিদের হাতে তুলে দিত। চীনে আফিম নিষিদ্ধ থাকায় কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি পাচারের দায় এড়ালেও উৎপাদন, নিলাম ও রাজস্বব্যবস্থা তার নিয়ন্ত্রণেই ছিল।
আফিম বিক্রির অর্থ দিয়ে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা চা ও অন্যান্য চীনা পণ্য কিনতে পারতেন। ফলে রুপার প্রবাহ উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করে। চীনে মাদকাসক্তি, সামাজিক ক্ষতি, দুর্নীতি এবং রুপার বহির্গমন গুরুতর সমস্যা তৈরি করে। আফিম কেনার জন্য ব্যবহৃত রুপা দেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় মুদ্রাব্যবস্থা ও কর পরিশোধে চাপ সৃষ্টি হয়। কিং সরকার বিভিন্ন সময় নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও উপকূলীয় চোরাচালান, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা এবং বিদেশি বণিকদের নেটওয়ার্কের কারণে ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছিল না।
১৮৩৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চীন-বাণিজ্যের একচেটিয়া অধিকার শেষ হলে আরও বেশি ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী চীনা বাজারে প্রবেশ করেন। তারা ক্যান্টন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়ে আরও বন্দর, স্থায়ী কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং চীনের অভ্যন্তরে বিস্তৃত বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার চাইছিলেন। একই সময়ে ব্রিটিশ প্রতিনিধিরা নিজেদের সমমর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রের দূত হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করতেন, কিন্তু কিং প্রশাসন পুরোনো শ্রেণিবিন্যাসভিত্তিক বৈদেশিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল। আফিম সংকটের সঙ্গে এই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বও যুক্ত হয়।
১৮৩৯ সালে সম্রাট দাওগুয়াং আফিম বাণিজ্য বন্ধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কর্মকর্তা লিন জেশুকে ক্যান্টনে বিশেষ কমিশনার হিসেবে পাঠান। তিনি চীনা ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশি বণিকদের আফিম সমর্পণ করতে বাধ্য করেন। ব্রিটিশ বাণিজ্য তত্ত্বাবধায়ক চার্লস এলিয়ট ব্যবসায়ীদের মজুত হস্তান্তরের নির্দেশ দেন এবং ব্রিটিশ সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে বলে আশ্বাস দেন। লিন হুমেনে বিশ হাজারের বেশি আফিমের সিন্দুক প্রকাশ্যে ধ্বংস করেন। এই ঘটনা ব্রিটিশ বাণিজ্যিক স্বার্থ ও জাতীয় মর্যাদার ওপর আঘাত হিসেবে উপস্থাপিত হয়।
ব্রিটিশ সংসদে যুদ্ধের নৈতিকতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল। অনেকে যুক্তি দেন, একটি অবৈধ ও ক্ষতিকর মাদকবাণিজ্য রক্ষায় চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অন্যায়। তবু প্রধানমন্ত্রী লর্ড মেলবোর্নের সরকার সামরিক অভিযান অনুমোদন করে। বণিকদের সম্পদের ক্ষতিপূরণ, কূটনৈতিক মর্যাদা এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের দাবি একসঙ্গে যুদ্ধের যুক্তিতে পরিণত হয়। ১৮৩৯ সালে সংঘর্ষ শুরু হলেও ১৮৪০ সালে ব্রিটিশ নৌবহর পৌঁছানোর পর প্রথম আফিম যুদ্ধ পূর্ণমাত্রা লাভ করে।
সামরিক শক্তির ব্যবধান ছিল বিশাল। ব্রিটিশদের আধুনিক কামান, প্রশিক্ষিত নৌসেনা এবং বাষ্পচালিত যুদ্ধজাহাজ ছিল, যা বাতাসের ওপর নির্ভর না করে নদী ও উপকূল ধরে চলতে পারত। চীনা বাহিনীর বহু কামান পুরোনো, দুর্গ দুর্বল এবং নৌযান ব্রিটিশ গোলার পাল্লা ও নির্ভুলতার তুলনায় অকার্যকর ছিল। ব্রিটিশরা শুধু ক্যান্টন আক্রমণ না করে উপকূল ধরে উত্তরে অগ্রসর হয়, বন্দর ও দ্বীপ দখল করে এবং ইয়াংসি নদীতে প্রবেশ করে চীনের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও কর পরিবহনব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলে।
চিংকিয়াং দখলের পর ব্রিটিশ নৌবহর নানকিংয়ের কাছে পৌঁছালে কিং সরকার আলোচনায় বাধ্য হয়। ১৮৪২ সালের নানকিং চুক্তি প্রথম আফিম যুদ্ধের অবসান ঘটায়। চুক্তিতে চীন ব্রিটেনকে হংকং দ্বীপ স্থায়ীভাবে ছেড়ে দেয়, ছয় মিলিয়ন রুপার ডলার আফিমের ক্ষতিপূরণসহ মোট একুশ মিলিয়ন ডলার প্রদানে সম্মত হয় এবং ক্যান্টন, আময়, ফুচৌ, নিংবো ও সাংহাই—এই পাঁচটি বন্দর ব্রিটিশ বাণিজ্য ও বসবাসের জন্য খুলে দেয়। বিদেশি বাণিজ্যকে একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণকারী কোহং ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয় এবং নির্দিষ্ট শুল্কহার চালু হয়।
নানকিং চুক্তিতে আফিমকে বৈধ ঘোষণা করা হয়নি এবং অতিরাষ্ট্রিক অধিকারও সরাসরি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ১৮৪৩ সালের বোগ চুক্তি ব্রিটিশদের অতিরাষ্ট্রিক বিচারিক অধিকার ও সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত জাতির মর্যাদা দেয়। এর ফলে চীনে থাকা ব্রিটিশ নাগরিকেরা অনেক ক্ষেত্রে চীনা আদালতের পরিবর্তে নিজেদের কনস্যুলার আইনের অধীন হন। চীন ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাষ্ট্রকে নতুন সুবিধা দিলে ব্রিটেনও তা পাওয়ার দাবি করতে পারত। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও অন্যান্য শক্তিও অনুরূপ সুবিধা আদায় করে। চীনা ইতিহাসে এসব ব্যবস্থা অসম চুক্তি নামে পরিচিত, কারণ সামরিক পরাজয়ের পর সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
হংকং ব্রিটেনের কাছে শুধু একটি দখল করা দ্বীপ ছিল না; এটি পূর্ব এশিয়ায় নৌঘাঁটি, মুক্তবন্দর ও বাণিজ্যিক মধ্যস্থতাকেন্দ্রে পরিণত হয়। ভিক্টোরিয়া হারবারের গভীর জল বড় জাহাজের জন্য উপযোগী ছিল। ব্রিটিশ বণিক, ভারতীয় ব্যবসায়ী, চীনা শ্রমিক ও উদ্যোক্তাদের আগমনে শহর দ্রুত বিকশিত হয়। এখান থেকে চীন, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আফিম, চা, তুলাবস্ত্র এবং অন্যান্য পণ্যের বাণিজ্য পরিচালিত হতো। হংকং পূর্ব এশিয়ায় ব্রিটিশ সামুদ্রিক সাম্রাজ্যের প্রধান দরজায় পরিণত হয়।
প্রথম যুদ্ধের পরও ব্রিটিশ বণিকেরা সন্তুষ্ট ছিলেন না। তারা চীনের আরও বন্দর, দেশের অভ্যন্তরে যাতায়াত, বেইজিংয়ে স্থায়ী কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং বাণিজ্যের বৃহত্তর স্বাধীনতা চাইছিলেন। কিং সরকার বিদ্যমান চুক্তির সীমার বাইরে নতুন সুবিধা দিতে অনিচ্ছুক ছিল। ১৮৫৬ সালে চীনা কর্মকর্তারা ক্যান্টনে নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রশ্ন থাকা অ্যারো নামের একটি জাহাজে অভিযান চালিয়ে নাবিকদের আটক করেন। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে পতাকার অবমাননা ও চুক্তিভঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করে, যদিও জাহাজটির ব্রিটিশ নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল।
একজন ফরাসি ধর্মপ্রচারককে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সও ব্রিটেনের সঙ্গে যোগ দেয়। এভাবে দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধ শুরু হয়। ১৮৫৭ সালে যৌথ ব্রিটিশ-ফরাসি বাহিনী ক্যান্টন দখল করে। এরপর তারা উত্তরে গিয়ে তাকু দুর্গ আক্রমণ এবং তিয়ানজিনের দিকে অগ্রসর হয়। ১৮৫৮ সালের তিয়ানজিন চুক্তিতে আরও বন্দর খুলে দেওয়া, বিদেশি দূতদের বেইজিংয়ে অবস্থান, বিদেশিদের চীনের অভ্যন্তরে ভ্রমণ এবং খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারকদের সুরক্ষার বিধান রাখা হয়। সংশোধিত শুল্কব্যবস্থার মাধ্যমে আফিম আমদানিও কার্যত বৈধ বাণিজ্যে পরিণত হয়।
কিং সরকার চুক্তি অনুমোদনে বিলম্ব এবং বিদেশি দূতদের প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করলে যুদ্ধ আবার শুরু হয়। ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ ও ফরাসি বাহিনী বেইজিংয়ের দিকে অগ্রসর হয়। আলোচনায় অংশ নেওয়া কয়েকজন বিদেশি বন্দীর ওপর নির্যাতন ও মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে ব্রিটিশ প্রতিনিধি লর্ড এলগিন পুরোনো গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ ধ্বংসের নির্দেশ দেন। অমূল্য শিল্পকর্ম লুণ্ঠন এবং প্রাসাদ পুড়িয়ে দেওয়া চীনা স্মৃতিতে ঔপনিবেশিক অপমানের অন্যতম গভীর প্রতীক হয়ে থাকে।
১৮৬০ সালের বেইজিং কনভেনশনে তিয়ানজিন চুক্তি কার্যকর করা হয় এবং কাউলুন উপদ্বীপের দক্ষিণাংশ ও স্টোনকাটার্স দ্বীপ ব্রিটেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হংকংয়ের ভূখণ্ড আরও বাড়ে ১৮৯৮ সালে, যখন ব্রিটেন কাউলুনের উত্তরের নিউ টেরিটরিজ ও আশপাশের দ্বীপগুলো নিরানব্বই বছরের জন্য ইজারা নেয়। এ সময় চীন শুধু ব্রিটেন নয়, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, জাপান ও অন্যান্য শক্তির চাপের মুখে বিভিন্ন বন্দর, রেলপথ, খনি ও প্রভাবক্ষেত্রে বিদেশি অধিকার দিতে বাধ্য হচ্ছিল।
চুক্তিবন্দরগুলোতে বিদেশি কনসেশন, ব্যাংক, গুদাম, জাহাজ কোম্পানি ও আদালত গড়ে ওঠে। সাংহাই বিশেষভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হয়। এসব অঞ্চল পুরোপুরি ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল না, কিন্তু সেখানে চীনা প্রশাসনের কর্তৃত্ব সীমিত হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ বণিক ও কর্মকর্তারা শুল্ক, নৌপথ, অর্থঋণ ও আইনি সুবিধার মাধ্যমে চীনের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব বিস্তার করেন। পরে ব্রিটিশ-নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক শুল্ক পরিষেবা চীনের রাজস্ব সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, যা একই সঙ্গে আধুনিক প্রশাসনিক দক্ষতা এবং বিদেশি নিয়ন্ত্রণের প্রতীক ছিল।
আফিম যুদ্ধ চীনের তাৎক্ষণিক পতন ঘটায়নি এবং ব্রিটেন কখনো সমগ্র চীনকে ভারতের মতো সরাসরি শাসন করেনি। বরং ব্রিটিশ প্রভাব গড়ে উঠেছিল অনানুষ্ঠানিক সাম্রাজ্য হিসেবে—যেখানে ভূখণ্ডের সীমিত দখলের পাশাপাশি চুক্তিবন্দর, অতিরাষ্ট্রিক অধিকার, নৌশক্তি ও অর্থনৈতিক চাপ ব্যবহার করা হতো। চীনের সরকার টিকে থাকলেও তার বাণিজ্যনীতি ও সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়।
এই পরাজয় কিং সাম্রাজ্যের দুর্বলতা প্রকাশ করে এবং অভ্যন্তরীণ সংকট আরও বাড়িয়ে দেয়। বিদেশি অনুপ্রবেশ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারি অক্ষমতার মধ্যে তাইপিং বিদ্রোহসহ বিশাল সংঘাত সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে কিছু চীনা কর্মকর্তা পশ্চিমা অস্ত্র, জাহাজ ও শিল্পপ্রযুক্তি গ্রহণের প্রয়োজন উপলব্ধি করেন। আত্মশক্তিবৃদ্ধি আন্দোলনের মাধ্যমে অস্ত্রাগার, জাহাজ কারখানা ও আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু বিদেশি চাপ ও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।
আফিম যুদ্ধের ইতিহাস ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের তথাকথিত মুক্ত বাণিজ্যের নৈতিক বৈপরীত্য প্রকাশ করে। ব্রিটেন নিজেকে আইন, সভ্যতা ও বাণিজ্যিক স্বাধীনতার বাহক হিসেবে তুলে ধরলেও চীনের নিষিদ্ধ মাদক নিয়ন্ত্রণের অধিকারকে কামান দিয়ে ভেঙেছিল। যে বাজার শান্তিপূর্ণ বাণিজ্যে উন্মুক্ত করা যায়নি, সেটি যুদ্ধজাহাজের শক্তিতে খুলে দেওয়া হয়েছিল। হংকং দখল, অসম চুক্তি এবং বিদেশি বিচারিক সুবিধা ব্রিটেনকে পূর্ব এশিয়ায় অসাধারণ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত প্রভাব দেয়, কিন্তু চীনের জন্য তা সার্বভৌমত্ব ক্ষয় ও দীর্ঘ “জাতীয় অপমানের শতাব্দী”র সূচনার প্রতীকে পরিণত হয়।
কম্বোডিয়া ও লাওসে ভিয়েতনাম যুদ্ধ: গোপন বোমাবর্ষণ, হো চি মিন ট্রেইল ও লাম সন ৭১৯
নিক্সনের ভিয়েতনামাইজেশন: সেনা প্রত্যাহার, হ্যামবার্গার হিল ও দক্ষিণের যুদ্ধ
আমেরিকায় যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন: টেট, কেন্ট স্টেট ও পেন্টাগন পেপারসের প্রভাব
হুয়ে যুদ্ধ ও মাই লাই গণহত্যা: ভিয়েতনাম যুদ্ধের অন্ধকার অধ্যায়
হিরোশিমা-নাগাসাকি বিতর্ক ও উত্তরাধিকার: কীভাবে শুরু হয়েছিল পারমাণবিক অস্ত্রের যুগ?
হিরোশিমা ও নাগাসাকির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব: তেজস্ক্রিয়তা, ক্যানসার ও পুনর্গঠনের ইতিহাস