বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

আলফ্রেড দ্য গ্রেট বনাম ভাইকিং: এডিংটনের যুদ্ধ, গুথরুম ও ডেনল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

সিরিজ: ভাইকিং যুগ: অভিযান, বিজয় ও নর্স সভ্যতার ইতিহাস

আলফ্রেড দ্য গ্রেট বনাম ভাইকিং: এডিংটনের যুদ্ধ, গুথরুম ও ডেনল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
এডিংটনে আলফ্রেড ও গুথরুমের ঐতিহাসিক সংঘর্ষ

নবম শতকের শেষভাগে ইংল্যান্ড এমন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল, যখন মনে হচ্ছিল অ্যাংলো-স্যাক্সন রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক স্বাধীনতা হয়তো পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে। গ্রেট হিথেন আর্মির ধারাবাহিক অভিযানে নর্থাম্ব্রিয়া, ইস্ট অ্যাংলিয়া এবং মার্সিয়ার বড় অংশ ইতোমধ্যে নর্স নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। শেষ বড় স্বাধীন অ্যাংলো-স্যাক্সন শক্তি ছিল দক্ষিণের ওয়েসেক্স। ৮৭৮ সালের শুরুতে সেটিও যখন পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়, তখন রাজা আলফ্রেড দ্য গ্রেট এবং নর্স নেতা গুথরুমের সংঘর্ষ ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী অধ্যায়ে পরিণত হয়।

আলফ্রেড ৮৭১ সালে ওয়েসেক্সের রাজা হন। তাঁর রাজত্বের শুরুটাই ছিল যুদ্ধের মধ্যে। এর আগে তাঁর ভাই রাজা এথেলরেডের সঙ্গে তিনি ভাইকিংদের বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। ৮৭১ সালের অ্যাশডাউনের যুদ্ধে অ্যাংলো-স্যাক্সনদের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের সঙ্গে আলফ্রেডের নাম বিশেষভাবে যুক্ত। কিন্তু একই বছরে আরও সংঘর্ষ ঘটে এবং ভাইকিংদের চাপ বন্ধ হয়নি। রাজা এথেলরেডের মৃত্যুর পর আলফ্রেড যখন সিংহাসনে বসেন, তখন তাঁর হাতে শান্ত ও স্থিতিশীল কোনো রাজ্য ছিল না।

প্রথম কয়েক বছর আলফ্রেডকে যুদ্ধের পাশাপাশি সমঝোতার পথও অনুসরণ করতে হয়। ভাইকিং বাহিনীর বিভিন্ন অংশ তখন ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছিল। হালফডানের নেতৃত্বাধীন নর্সদের একটি অংশ নর্থাম্ব্রিয়ায় জমি ভাগ করে স্থায়ী বসতি গড়তে শুরু করে। অন্যদিকে গুথরুমের নেতৃত্বাধীন শক্তি দক্ষিণ ইংল্যান্ডে ওয়েসেক্সের বিরুদ্ধে চাপ অব্যাহত রাখে। অর্থাৎ ভাইকিংদের উদ্দেশ্য আর শুধু দ্রুত লুণ্ঠন করে স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় ফিরে যাওয়া ছিল না; ইংল্যান্ডের মাটিতে স্থায়ী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল।

৮৭৬ সালে গুথরুমের বাহিনী ওয়্যারহাম দখল করে। আলফ্রেড তাদের অবরুদ্ধ করেন এবং একটি সমঝোতা হয়, কিন্তু শান্তি স্থায়ী হয়নি। নর্সরা পরে এক্সেটারের দিকে অগ্রসর হয়। ৮৭৭ সালে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে স্থিতিশীল মনে হলেও সেটি ছিল ঝড়ের আগের বিরতি। গুথরুম জানতেন, ওয়েসেক্সকে সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করতে পারলে ইংল্যান্ডের দক্ষিণে ভাইকিং আধিপত্যের সামনে বড় কোনো স্বাধীন অ্যাংলো-স্যাক্সন শক্তি থাকবে না।

৮৭৮ সালের জানুয়ারিতে গুথরুম আকস্মিকভাবে চিপেনহামে আক্রমণ করেন। সময় নির্বাচন ছিল অত্যন্ত কার্যকর। মধ্যশীতের সময় এমন বড় আক্রমণ প্রত্যাশিত ছিল না। আলফ্রেড সেখানে অবস্থান করছিলেন এবং আকস্মিক হামলায় তাঁর রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান ভেঙে পড়ে। ওয়েসেক্সের বহু মানুষ নিহত, পরাজিত অথবা ভাইকিং কর্তৃত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়। রাজা নিজেই অল্পসংখ্যক অনুসারী নিয়ে পালিয়ে যান।

এই মুহূর্তটি আলফ্রেডের জীবনের সবচেয়ে বিপজ্জনক অধ্যায়। তিনি সোমারসেটের জলাভূমি অঞ্চলে আশ্রয় নেন এবং অ্যাথেলনি এলাকাকে প্রতিরোধের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেন। পরবর্তী শতাব্দীর কিংবদন্তিতে এই সময়ের সঙ্গে বিখ্যাত “কেক পুড়িয়ে ফেলা” গল্পটি যুক্ত হয়েছে—এক সাধারণ নারীর বাড়িতে ছদ্মবেশে থাকা আলফ্রেড নাকি আগুনে রাখা কেকের দিকে খেয়াল না করায় সেগুলো পুড়ে যায়। গল্পটি জনপ্রিয় হলেও সমসাময়িক ইতিহাসে এর প্রমাণ নেই।

বাস্তব ইতিহাস আরও গুরুত্বপূর্ণ। আলফ্রেড জলাভূমির নিরাপদ পরিবেশ থেকে নিজের সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন এবং ধীরে ধীরে বাহিনী পুনর্গঠন করেন। তাঁর রাজত্ব সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়নি। ওয়েসেক্সের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও এমন অভিজাত, যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ ছিল যারা তাঁর প্রতি অনুগত ছিল। আলফ্রেডের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল পরাজয়ের পরও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ধরে রেখে নতুন বাহিনী সংগঠিত করতে পারা।

৮৭৮ সালের বসন্তে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। আলফ্রেড তাঁর অনুগতদের নির্দিষ্ট স্থানে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান। সোমারসেট, উইল্টশায়ার এবং হ্যাম্পশায়ারের একটি অংশ থেকে যোদ্ধারা তাঁর কাছে আসে। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকা রাজা আবার প্রকাশ্যে একটি সংগঠিত বাহিনীর নেতৃত্বে দাঁড়ান। এরপর তিনি গুথরুমের বিরুদ্ধে অগ্রসর হন।

দুই পক্ষের সিদ্ধান্তমূলক সংঘর্ষ ঘটে এডিংটনের যুদ্ধে, যা সাধারণভাবে ৮৭৮ সালের মে মাসের সঙ্গে যুক্ত। যুদ্ধক্ষেত্রের সুনির্দিষ্ট পরিচয় নিয়ে ঐতিহাসিক আলোচনা থাকলেও উইল্টশায়ারের এডিংটনকে বহুলভাবে গ্রহণ করা হয়। যুদ্ধের বিস্তারিত কৌশল সম্পর্কে সমসাময়িক উৎস খুব বেশি তথ্য দেয় না। ফলে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র বা উপন্যাসে দেখা নির্দিষ্ট যুদ্ধকৌশলকে নিশ্চিত ইতিহাস হিসেবে নেওয়া উচিত নয়।

আমরা যা জানি তা হলো, আলফ্রেড তাঁর বাহিনীকে সংগঠিত করে নর্সদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামেন এবং একটি শক্তিশালী shield wall বা ঢালবদ্ধ যুদ্ধবিন্যাসের মাধ্যমে গুথরুমের বাহিনীকে পরাজিত করেন। অ্যাংলো-স্যাক্সন ও নর্স উভয় পক্ষই এই ধরনের ঘন পদাতিক যুদ্ধবিন্যাস ব্যবহার করত। সামনের সারির যোদ্ধারা ঢাল পাশাপাশি রেখে প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীর তৈরি করত, আর বর্শা ও অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষের সারি ভাঙার চেষ্টা চলত।

এডিংটনে নর্স বাহিনী পরাজিত হয়ে তাদের সুরক্ষিত ঘাঁটির দিকে সরে যায়। আলফ্রেড এবার শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের বিজয়ে সন্তুষ্ট হননি। তিনি গুথরুমের বাহিনীকে অনুসরণ করে অবরোধ করেন। খাদ্য ও সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি হলে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে নর্সরা আলোচনায় বাধ্য হয়। এই পর্যায়েই সামরিক বিজয় একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় রূপ নিতে শুরু করে।

শর্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গুথরুমের খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের প্রতিশ্রুতি। কিছুদিন পরে তিনি বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেন এবং আলফ্রেড তাঁর ধর্মীয় পৃষ্ঠপোষক বা godfather হন। গুথরুম খ্রিস্টীয় নাম এথেলস্টান গ্রহণ করেন। মধ্যযুগীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি শুধু ব্যক্তিগত ধর্মান্তর ছিল না; এর মাধ্যমে দুই নেতার মধ্যে নতুন ধরনের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কও তৈরি হয়।

এই সমঝোতার সঙ্গে “ওয়েডমোরের চুক্তি” কথাটি জনপ্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পার্থক্য রয়েছে। ৮৭৮ সালের এডিংটনের পর গুথরুমের আত্মসমর্পণ, বাপ্তিস্ম এবং শান্তির শর্ত সম্পর্কে আমরা জানলেও Treaty of Wedmore নামে পূর্ণাঙ্গ কোনো সমসাময়িক লিখিত চুক্তিপত্র আমাদের হাতে নেই। পরবর্তী সময়ের আলফ্রেড ও গুথরুমের চুক্তি একটি পৃথক লিখিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে দুই শাসকের প্রভাবক্ষেত্রের সীমা ও অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়।

এই পরবর্তী চুক্তিতে সীমারেখা মোটামুটিভাবে টেমস নদী থেকে লিয়া নদী ধরে বেডফোর্ড এবং সেখান থেকে ওয়াটলিং স্ট্রিটের দিকে নির্ধারিত হয়। এর একদিকে আলফ্রেডের রাজনৈতিক প্রভাব এবং অন্যদিকে গুথরুমের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল ছিল। একই সঙ্গে হত্যা বা অপরাধের ক্ষতিপূরণ, জনগোষ্ঠীর মধ্যে লেনদেন এবং সামাজিক সম্পর্ক নিয়েও বিধান ছিল। অর্থাৎ এটি শুধু যুদ্ধবিরতি নয়; পাশাপাশি বসবাসকারী দুটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক তৈরির প্রচেষ্টা।

এই সময়ের সঙ্গে ডেনল ধারণাটি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হলেও শব্দটির ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক থাকা দরকার। নবম শতকের মানুষ ৮৭৮ সালের পরপরই সমগ্র নর্স নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলকে আধুনিক অর্থে “ডেনল” নামে একটি একক রাষ্ট্র হিসেবে দেখত না। শব্দটি পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডের সেই উত্তর ও পূর্বাঞ্চল বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেখানে ডেনিশ বা বৃহত্তর নর্স আইন, বসতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিশেষভাবে শক্তিশালী ছিল

ডেনলের অন্তর্ভুক্ত এলাকায় ইস্ট অ্যাংলিয়া, নর্থাম্ব্রিয়ার বড় অংশ এবং পূর্ব মার্সিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ছিল। ইয়র্ক নর্স শক্তির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। অন্যদিকে লিংকন, ডার্বি, নটিংহাম, লেস্টার ও স্ট্যামফোর্ড পরবর্তী অ্যাংলো-স্যাক্সন অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ নর্স কেন্দ্র হিসেবে দেখা দেয়। এই অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক স্ক্যান্ডিনেভীয় বসতি স্থাপনকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে যায়।

এই স্থায়ী বসতির প্রভাব আজও ইংল্যান্ডের স্থাননামে দেখা যায়। “-by” দিয়ে শেষ হওয়া বহু নামের উৎস পুরোনো নর্স ভাষায় বসতি বা খামারের ধারণার সঙ্গে যুক্ত; “-thorpe”-ও নর্স উৎসের স্থাননামের পরিচিত উপাদান। ইংরেজি ভাষাতেও পুরোনো নর্সের গভীর প্রভাব পড়ে। ফলে আলফ্রেড ও গুথরুমের সংঘর্ষের ফল শুধু রাজনৈতিক মানচিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না; দীর্ঘমেয়াদে ইংল্যান্ডের ভাষা ও সমাজেও নর্স উপস্থিতি স্থায়ী ছাপ রেখে যায়।

এডিংটনের বিজয় আলফ্রেডকে আরেকটি শিক্ষা দিয়েছিল—ভাইকিংদের বিরুদ্ধে শুধু একটি বড় যুদ্ধ জিতে নিরাপদ থাকা সম্ভব নয়। দ্রুতগামী নর্স বাহিনী অন্য সময় অন্য পথে আবার আক্রমণ করতে পারে। তাই তিনি পরবর্তী বছরগুলোতে ওয়েসেক্সের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে গভীরভাবে পুনর্গঠন করেন। সুরক্ষিত burh বা বুর্হের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, সামরিক বাহিনীর সংগঠন উন্নত করা এবং নৌশক্তি বৃদ্ধির উদ্যোগ তাঁর প্রতিরক্ষা নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

বুর্হগুলো এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছিল যাতে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো দ্রুত সুরক্ষা পায় এবং ভাইকিং বাহিনীর জন্য সহজে দীর্ঘস্থায়ী লুণ্ঠন চালানো কঠিন হয়। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর এমন ব্যবস্থা করা হয় যাতে পুরো সামরিক শক্তি একসঙ্গে দীর্ঘ সময় মাঠে থাকায় কৃষি ও অর্থনীতি ভেঙে না পড়ে। আলফ্রেডের প্রকৃত গুরুত্ব শুধু এডিংটনে বিজয়ী যোদ্ধা হিসেবে নয়, বরং যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা শাসক হিসেবেও।

গুথরুমও এডিংটনের পর ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাননি। তিনি ইস্ট অ্যাংলিয়ায় শাসন করেন এবং মুদ্রা জারি করেন। তাঁর খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ ও স্থায়ী শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা ভাইকিং সম্প্রসারণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনকে প্রকাশ করে। যে ব্যক্তি একসময় ওয়েসেক্স ধ্বংস করার লক্ষ্যে নর্স বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনিই পরে ইংল্যান্ডের ভেতরে একটি স্থায়ী খ্রিস্টীয় নর্স রাজনীতির অংশে পরিণত হন।

আলফ্রেডের বিজয়ের অর্থ অবশ্য ইংল্যান্ড থেকে ভাইকিং শক্তির সমাপ্তি ছিল না। বরং ইংল্যান্ড কার্যত দুটি বৃহৎ রাজনৈতিক জগতের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যায়। পশ্চিম ও দক্ষিণে আলফ্রেডের শক্তি, আর উত্তর ও পূর্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নর্স কর্তৃত্ব ও বসতি। পরবর্তী প্রজন্মে আলফ্রেডের সন্তান ও উত্তরসূরিরাই এই বিভাজন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেবে।

বিশেষ করে তাঁর পুত্র এডওয়ার্ড দ্য এল্ডার এবং কন্যা এথেলফ্লেড, লেডি অব দ্য মার্সিয়ানস, ডেনলের বিভিন্ন নর্স শক্তির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করেন। বুর্হ নির্মাণ, সামরিক চাপ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক আনুগত্যের মাধ্যমে নর্স নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল ধীরে ধীরে পুনর্দখল করা হয়। পরবর্তী সময়ে আলফ্রেডের নাতি এথেলস্টানের অধীনে ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক একীকরণ আরও পূর্ণ রূপ পায়।

এই কারণেই ৮৭৮ সালের এডিংটনের যুদ্ধকে শুধু আলফ্রেড ও গুথরুমের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখা যায় না। যদি গুথরুম ওয়েসেক্সকে স্থায়ীভাবে ভেঙে দিতে পারতেন, ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক বিকাশ সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে যেতে পারত। এডিংটনে আলফ্রেডের বিজয় ওয়েসেক্সকে টিকিয়ে রেখেছিল—আর সেই ওয়েসেক্সই পরবর্তী একীভূত ইংরেজ রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক ভিত্তিতে পরিণত হয়।

একই সঙ্গে গুথরুমের সঙ্গে সমঝোতা দেখায় যে ভাইকিং যুগের ইতিহাস শুধু নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধের ইতিহাস নয়। যুদ্ধের পর ধর্মান্তর, সীমান্ত নির্ধারণ, বাণিজ্য, আইন এবং পাশাপাশি বসবাসের নতুন ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল। নর্স বসতি স্থাপনকারীরা ধীরে ধীরে ইংল্যান্ডের সামাজিক কাঠামোর অংশ হয়ে যায়। ফলে আলফ্রেড বনাম ভাইকিং সংঘর্ষ শেষ পর্যন্ত বিজয়ী ও পরাজিতের সরল গল্প নয়; এটি যুদ্ধ, সমঝোতা, সহাবস্থান এবং নতুন ইংল্যান্ড গঠনের ইতিহাস।

৮৭৮ সালের শুরুতে জলাভূমিতে আশ্রয় নেওয়া আলফ্রেডের রাজ্য প্রায় ধ্বংসের মুখে ছিল। কয়েক মাস পর এডিংটনে সেই একই রাজা গুথরুমের শক্তিশালী বাহিনীকে পরাজিত করেন। এরপর সামরিক বিজয়কে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রূপ দিয়ে তিনি ওয়েসেক্সকে শুধু রক্ষা করেননি, ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন পথও তৈরি করেছিলেন। এডিংটন তাই ভাইকিং যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড়—যেখানে নর্সদের সম্পূর্ণ ইংল্যান্ড জয়ের সম্ভাবনা থেমে যায় এবং একই সঙ্গে ডেনল ও অ্যাংলো-স্যাক্সন শক্তির সহাবস্থানের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।


আপনার পছন্দ হতে পারে