নাৎসি সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ বিস্তার: ১৯৪২ সালে হিটলারের ইউরোপীয় আধিপত্য
সিরিজ: নাৎসি জার্মানির উত্থান ও পতন
নাৎসি আধিপত্যের সর্বোচ্চ বিস্তার
১৯৪২ সালের শেষভাগে ইউরোপের মানচিত্রে নাৎসি জার্মানির ক্ষমতা ছিল বিস্ময়করভাবে বিস্তৃত। পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগরের ফরাসি উপকূল থেকে পূর্বে সোভিয়েত ইউনিয়নের গভীর অঞ্চল, উত্তরে নরওয়ের বরফাচ্ছন্ন ফিয়র্ড থেকে দক্ষিণে গ্রিস ও উত্তর আফ্রিকার মরুভূমি পর্যন্ত জার্মান সেনা, প্রশাসন অথবা অক্ষশক্তির মিত্রদের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে এই বিশাল অঞ্চলকে একক ও অভিন্ন “নাৎসি সাম্রাজ্য” বলা পুরোপুরি সঠিক নয়। কোথাও জার্মানি সরাসরি ভূখণ্ড সংযুক্ত করেছিল, কোথাও সামরিক দখলদার সরকার বসিয়েছিল, আবার কোথাও সহযোগী শাসন বা মিত্ররাষ্ট্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। ১৯৪২ সালের নাৎসি আধিপত্য ছিল সামরিক জয়, রাজনৈতিক নির্ভরতা, অর্থনৈতিক লুণ্ঠন এবং বর্ণবাদী সন্ত্রাসের একটি বহুস্তরীয় ব্যবস্থা।
১৯৩৮ সালে অস্ট্রিয়া সংযুক্তি এবং ১৯৩৯ সালে চেক ভূখণ্ড দখলের মাধ্যমে হিটলারের সাম্রাজ্য বিস্তার শুরু হয়। পোল্যান্ড আক্রমণের পর তার পশ্চিমাংশের কিছু এলাকা সরাসরি জার্মানির সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং মধ্যাঞ্চলে জেনারেল গভর্নমেন্ট নামে একটি নিষ্ঠুর দখলদার প্রশাসন গড়ে ওঠে। সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব পোল্যান্ড দখল করলেও ১৯৪১ সালের জার্মান আক্রমণের পর সেই অঞ্চলগুলোর বড় অংশও নাৎসি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। পোল্যান্ডে নাৎসি নীতির লক্ষ্য সাধারণ সামরিক দখলের চেয়ে অনেক বিস্তৃত ছিল—পোলিশ রাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধ্বংস, জনগণকে অধীনস্থ করা এবং জার্মান বসতি স্থাপনের জন্য ভূমি প্রস্তুত করা।
১৯৪০ সালের অভিযানে ডেনমার্ক, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ ও ফ্রান্স জার্মানির কাছে পরাজিত হয়। আলসাস ও লোরেনকে কার্যত জার্মান প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, লুক্সেমবার্গকে জার্মানিকরণের পথে নেওয়া হয় এবং নেদারল্যান্ডস ও নরওয়েতে জার্মান বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। বেলজিয়াম ও উত্তর ফ্রান্স সামরিক শাসনের অধীনে থাকে। ফ্রান্সের উত্তর ও আটলান্টিক উপকূলীয় অঞ্চল সরাসরি জার্মান দখলে গেলেও দক্ষিণে মার্শাল ফিলিপ পেতাঁর ভিশি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বাধীনতা বজায় রাখে। বাস্তবে এই সরকার বার্লিনের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং নানা ক্ষেত্রে নাৎসি নীতির সঙ্গে সহযোগিতা করেছিল।
ব্রিটেন জার্মান দখলের বাইরে থেকে যাওয়ায় পশ্চিম ইউরোপে হিটলারের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ হয়নি। রয়্যাল এয়ার ফোর্স ব্রিটেনের যুদ্ধে লুফটওয়াফেকে আকাশের আধিপত্য অর্জন করতে দেয়নি। ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ মিত্রবাহিনীর ঘাঁটি, আটলান্টিকের নৌসংযোগের কেন্দ্র এবং ভবিষ্যৎ মুক্তি অভিযানের প্রস্তুতিস্থল হিসেবে টিকে থাকে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য উত্তর আফ্রিকা, ভূমধ্যসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। ফলে মানচিত্রে জার্মান আধিপত্য বিশাল হলেও তার পশ্চিম সীমান্ত কখনো পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না।
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপেও জার্মানি মিত্রতা ও সামরিক অভিযানের সমন্বয়ে প্রভাব বিস্তার করে। ইতালি, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া অক্ষশক্তির অংশ ছিল। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র এবং নিজস্ব সরকার ও সেনাবাহিনী বজায় রেখেছিল, কিন্তু জার্মান সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। রোমানিয়ার তেলক্ষেত্র জার্মান যুদ্ধযন্ত্রের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। স্লোভাকিয়া জার্মানির অধীনস্থ মিত্ররাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং ফিনল্যান্ড সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে জার্মানির সঙ্গে যুদ্ধ করলেও নিজেকে আলাদা স্বার্থসম্পন্ন সহযোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করত।
১৯৪১ সালের এপ্রিলে জার্মানি যুগোস্লাভিয়া ও গ্রিস আক্রমণ করে। যুগোস্লাভিয়াকে ভেঙে বিভিন্ন দখলাঞ্চল ও সহযোগী রাষ্ট্রে ভাগ করা হয়। ক্রোয়েশিয়ায় উস্তাশা নেতৃত্বাধীন স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও সেটি জার্মানি ও ইতালির প্রভাবাধীন ছিল। সার্বিয়ায় জার্মান সামরিক শাসনের অধীনে সহযোগী প্রশাসন বসানো হয়। গ্রিসকে জার্মান, ইতালীয় ও বুলগেরীয় দখলাঞ্চলে ভাগ করা হয়। খাদ্য ও সম্পদ লুণ্ঠন, নৌ অবরোধ এবং প্রশাসনিক বিপর্যয়ের কারণে গ্রিসে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। অধিকৃত বলকানে শক্তিশালী গেরিলা প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, যা দমনে দখলদার বাহিনী ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড চালায়।
উত্তর আফ্রিকায় জার্মানির উপস্থিতি ছিল ইতালিকে রক্ষা এবং ব্রিটিশ অবস্থান দুর্বল করার প্রচেষ্টা। ইতালীয় বাহিনী পরাজয়ের মুখে পড়লে ১৯৪১ সালে জেনারেল এরভিন রোমেলের নেতৃত্বে আফ্রিকা কোর লিবিয়ায় পাঠানো হয়। জার্মান ও ইতালীয় বাহিনী ব্রিটিশদের পিছু হটিয়ে ১৯৪২ সালের জুনে তোব্রুক দখল করে এবং মিসরের এল আলামেইন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কায়রো, সুয়েজ খাল ও মধ্যপ্রাচ্যের তেলক্ষেত্র হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে হচ্ছিল। তবে দীর্ঘ সমুদ্রপথ, সীমিত বন্দর, জ্বালানির ঘাটতি এবং ব্রিটিশ নৌ ও বিমান হামলা অক্ষশক্তির সরবরাহব্যবস্থাকে দুর্বল করে রেখেছিল।
নাৎসি শক্তির সবচেয়ে বড় বিস্তার ঘটে পূর্ব ইউরোপে। ১৯৪১ সালের জুনে অপারেশন বারবারোসার মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণের পর জার্মানি বাল্টিক রাষ্ট্র, বেলারুশ, ইউক্রেন এবং রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের বিরাট এলাকা দখল করে। লেনিনগ্রাদ অবরুদ্ধ হয়, জার্মান বাহিনী মস্কোর উপকণ্ঠে পৌঁছে এবং লাখ লাখ সোভিয়েত সেনা বন্দী হয়। কিন্তু মস্কো দখলের ব্যর্থতা ও সোভিয়েত পাল্টা আক্রমণের পরও হিটলার ১৯৪২ সালে নতুন অভিযান শুরু করেন। এবার মূল লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ রাশিয়ার শিল্পাঞ্চল ও ককেশাসের তেলক্ষেত্র।
অপারেশন ব্লাউয়ের অধীনে জার্মান বাহিনী ভলগা নদীর তীরের স্টালিনগ্রাদ এবং ককেশাসের দিকে অগ্রসর হয়। ১৯৪২ সালের গ্রীষ্মে তারা রোস্তভ অতিক্রম করে মাইকোপ দখল করে এবং ককেশাস পর্বতমালার গভীরে পৌঁছে যায়। একই সময়ে স্টালিনগ্রাদে প্রবল যুদ্ধ শুরু হয়। এই পর্যায়ে ইউরোপীয় রাশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা নাৎসি নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে বাহিনী দুটি দূরবর্তী লক্ষ্যের দিকে বিভক্ত হওয়ায় সরবরাহলাইন অত্যন্ত দীর্ঘ হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বভাগ অপেক্ষাকৃত দুর্বল রোমানীয়, হাঙ্গেরীয় ও ইতালীয় ইউনিটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
অধিকৃত অঞ্চলগুলো হিটলারের কাছে শুধু সামরিক মানচিত্রের অংশ ছিল না; এগুলোকে জার্মান যুদ্ধ অর্থনীতির সম্পদভান্ডার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। খাদ্য, কয়লা, তেল, ধাতু, শিল্পযন্ত্র ও পরিবহনসামগ্রী জার্মানিতে পাঠানো হয়। অধিকৃত দেশগুলোকে বিশাল দখল ব্যয় বহন করতে বাধ্য করা হয় এবং তাদের শিল্পকারখানা জার্মান সামরিক উৎপাদনে যুক্ত করা হয়। লাখ লাখ যুদ্ধবন্দী ও বেসামরিক মানুষকে জার্মান কারখানা, খনি ও কৃষিক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক শ্রমে নেওয়া হয়। জার্মান শ্রমিকদের সেনাবাহিনীতে পাঠানোর ফলে সৃষ্ট ঘাটতি পূরণে এই শ্রমিকদের অমানবিক পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হতো।
অধিকৃত পশ্চিম ইউরোপ ও পূর্ব ইউরোপে নাৎসি শাসনের প্রকৃতি এক ছিল না। পশ্চিমে জার্মানরা সাধারণত প্রশাসনিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক শোষণ ও রাজনৈতিক দমনের ওপর নির্ভর করলেও পূর্বে তাদের নীতি অনেক বেশি প্রকাশ্যভাবে বর্ণবাদী ও ধ্বংসাত্মক ছিল। নাৎসি পরিকল্পনায় পূর্ব ইউরোপের বিশাল অংশ থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বহিষ্কার, অনাহারে হত্যা অথবা দাসশ্রমে ব্যবহার করে সেখানে জার্মান বসতি স্থাপনের কল্পনা করা হয়েছিল। জেনারেলপ্লান অস্ট নামে পরিচিত এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত না হলেও দখলনীতি, খাদ্য লুণ্ঠন ও গণহত্যায় এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট ছিল।
১৯৪১ সালের সোভিয়েত আক্রমণের সঙ্গে এসএস আইনজাটসগ্রুপেন, পুলিশ ইউনিট ও স্থানীয় সহযোগীরা ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপক গণহত্যা শুরু করে। গ্রাম ও শহর থেকে মানুষকে সংগ্রহ করে গর্তের পাশে গুলি করে হত্যা করা হতো। বাবি ইয়ারসহ বহু হত্যাস্থল এই পর্যায়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে অধিকৃত পোল্যান্ডে গেটো, নির্বাসন ও হত্যাকেন্দ্রের ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হয়। ১৯৪২ সালে নাৎসি নেতৃত্ব ইউরোপের ইহুদিদের পরিকল্পিতভাবে হত্যার প্রশাসনিক সমন্বয় দ্রুততর করে। আউশভিৎস-বিরকেনাউ, ত্রেবলিঙ্কা, সোবিবোর, বেলজেকসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে শিল্পায়িত পদ্ধতিতে গণহত্যা চলতে থাকে।
নাৎসি সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ বিস্তার তাই কেবল সামরিক বিজয়ের গল্প নয়; এটি ইউরোপজুড়ে লুণ্ঠন, নির্বাসন, বাধ্যতামূলক শ্রম এবং গণহত্যার বিস্তারও ছিল। বিভিন্ন দেশের পুলিশ, প্রশাসক, ব্যবসায়ী ও সহযোগী সরকার কখনো চাপের মুখে, কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে দখলদারদের সহায়তা করে। একই সময়ে পোল্যান্ড, ফ্রান্স, যুগোস্লাভিয়া, গ্রিস, সোভিয়েত অঞ্চল এবং অন্যান্য দেশে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে ওঠে। তারা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নাশকতা, গোপন সংবাদপত্র প্রকাশ, নিপীড়িত মানুষকে আশ্রয় এবং সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে দখলদার শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
১৯৪২ সালে মানচিত্রে জার্মানির ক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও সাম্রাজ্যের ভিত তখনই দুর্বল হতে শুরু করেছিল। প্রতিটি নতুন ভূখণ্ড পাহারা দিতে সৈন্য প্রয়োজন হচ্ছিল, প্রতিরোধ দমনে সম্পদ ব্যয় হচ্ছিল এবং দীর্ঘ সরবরাহপথ রক্ষা কঠিন হয়ে উঠছিল। জার্মানি একদিকে ব্রিটেন ও আটলান্টিকে যুদ্ধ করছিল, অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশাল রণাঙ্গনে ক্ষয় হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে প্রবেশ করায় মিত্রশক্তির শিল্প ও সামরিক ক্ষমতা আরও বেড়ে যায়। জার্মান অর্থনীতি অধিকৃত অঞ্চল লুণ্ঠন করেও প্রতিপক্ষদের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে পাল্লা দেওয়ার অবস্থায় ছিল না।
১৯৪২ সালের শেষভাগেই পালাবদলের লক্ষণ স্পষ্ট হয়। অক্টোবরে এল আলামেইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনী রোমেলের সেনাদের পরাজিত করে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন মরক্কো ও আলজেরিয়ায় অবতরণ করলে উত্তর আফ্রিকায় অক্ষবাহিনী দুই দিক থেকে চাপের মুখে পড়ে। একই মাসে সোভিয়েত বাহিনী স্টালিনগ্রাদের চারপাশে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে জার্মান ষষ্ঠ সেনাবাহিনীকে ঘিরে ফেলে। যে মানচিত্র কয়েক মাস আগে হিটলারের সাফল্যের প্রতীক ছিল, সেটিই অতিরিক্ত বিস্তার ও দুর্বল সরবরাহব্যবস্থার প্রমাণে পরিণত হয়।
১৯৪২ সালের নাৎসি সাম্রাজ্য ছিল ভূখণ্ডে বিশাল কিন্তু স্থায়িত্বে ভঙ্গুর। দ্রুত সামরিক বিজয় হিটলারকে ইউরোপের অসংখ্য দেশ, কোটি কোটি মানুষ এবং বিপুল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ দিয়েছিল। কিন্তু সেই নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করছিল অবিরাম যুদ্ধ, সন্ত্রাস, সহযোগী সরকার ও লুণ্ঠনের ওপর। ব্রিটেনের প্রতিরোধ, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপুল জনশক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পক্ষমতা এবং অধিকৃত জনগণের প্রতিরোধ মিলিয়ে জার্মানির সামনে এমন এক যুদ্ধ দাঁড়ায়, যা দ্রুত জয় করা অসম্ভব ছিল। নাৎসি আধিপত্যের ভৌগোলিক শিখর তাই একই সঙ্গে তার আসন্ন পতনের সূচনাবিন্দুও হয়ে ওঠে।
রোমুলাস ও রেমাস: নেকড়ের দুধে বেঁচে যাওয়া দুই ভাই ও রোমের জন্ম
এনিয়াস থেকে আলবা লঙ্গা: রোমুলাস ও রেমাসের জন্মের পৌরাণিক ইতিহাস
এনিয়াসের কিংবদন্তি: ট্রয় থেকে ইতালিতে রোমের পূর্বপুরুষের অভিযাত্রা
রোমান পুরাণের উৎপত্তি: ইতালীয় বিশ্বাস ও গ্রিক প্রভাবে দেবদেবীর জগৎ