ব্রিটেনের যুদ্ধ থেকে অপারেশন বারবারোসা: হিটলারের দুই সামরিক ভুল
সিরিজ: নাৎসি জার্মানির উত্থান ও পতন
দুই সিদ্ধান্তে বদলে গেল যুদ্ধের গতিপথ
১৯৪০ সালের জুনে ফ্রান্সের পতনের পর অ্যাডলফ হিটলার ইউরোপীয় মহাদেশের শীর্ষে অবস্থান করছিলেন। পোল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও ফ্রান্স অল্প সময়ের ব্যবধানে জার্মান বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়েছিল। পশ্চিম ইউরোপে ব্রিটেনই তখন একমাত্র প্রধান রাষ্ট্র, যা নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল। হিটলার আশা করেছিলেন, ফ্রান্সের পতন দেখে ব্রিটিশ সরকার আলোচনায় বসবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল আপস প্রত্যাখ্যান করলে জার্মানিকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। ব্রিটেনকে যুদ্ধ থেকে সরাতে না পেরে হিটলার শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করেন—এই দুটি সিদ্ধান্তই দ্রুত জয়ের যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী সংঘাতে পরিণত করে।
ব্রিটেন দখলের জন্য জার্মানি “অপারেশন সি লায়ন” নামে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে সৈন্য নামাতে হলে প্রথমে রয়্যাল এয়ার ফোর্সকে পরাজিত এবং আকাশে জার্মান আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে হতো। ব্রিটিশ নৌবাহিনী জার্মান নৌবাহিনীর তুলনায় অনেক শক্তিশালী ছিল। নরওয়ে অভিযানে জার্মানি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজও হারিয়েছিল। ফলে আকাশ থেকে ব্রিটিশ নৌ ও বিমানশক্তিকে নিয়ন্ত্রণ না করে সমুদ্রপথে আক্রমণ চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ব্রিটেনের যুদ্ধ তাই দ্বীপটি দখলের আগে আকাশের নিয়ন্ত্রণ অর্জনের লড়াই হয়ে ওঠে।
১৯৪০ সালের জুলাইয়ে লুফটওয়াফে ইংলিশ চ্যানেলে চলাচলকারী ব্রিটিশ জাহাজে হামলা বাড়ায়। এরপর আগস্টে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি, রাডারকেন্দ্র, বিমান কারখানা ও ফাইটার কমান্ডের স্থাপনাগুলো প্রধান লক্ষ্য হয়। জার্মানির হাতে বিপুলসংখ্যক অভিজ্ঞ বৈমানিক ও শক্তিশালী বোমারু বহর ছিল। মেসারশমিট বিএফ ১০৯ যুদ্ধবিমান ব্রিটিশ স্পিটফায়ারের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী এবং অনেক ক্ষেত্রে সমমানের ছিল। হিটলার ও লুফটওয়াফে প্রধান হারমান গ্যোরিং বিশ্বাস করতেন, কয়েক সপ্তাহের তীব্র আক্রমণেই ব্রিটিশ বিমান প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়বে।
কিন্তু ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা শুধু যুদ্ধবিমানের সংখ্যার ওপর নির্ভরশীল ছিল না। এয়ার চিফ মার্শাল হিউ ডাউডিংয়ের নেতৃত্বে ফাইটার কমান্ড রাডার, পর্যবেক্ষক দল, টেলিফোন যোগাযোগ ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষকে এক ব্যবস্থায় যুক্ত করেছিল। উপকূলীয় রাডার দূর থেকে জার্মান বিমানের আগমন শনাক্ত করত। সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট সেক্টরের বিমানঘাঁটি থেকে প্রয়োজনমতো যুদ্ধবিমান পাঠানো হতো। ফলে ব্রিটিশ বৈমানিকদের সারাক্ষণ আকাশে অপেক্ষা করতে হতো না এবং সীমিত সম্পদ তুলনামূলক দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
হারিকেন যুদ্ধবিমানগুলো সাধারণত জার্মান বোমারু বিমানের বিরুদ্ধে কার্যকর ছিল, আর স্পিটফায়ার প্রায়ই জার্মান যুদ্ধবিমানকে মোকাবিলা করত। ব্রিটিশ বিমান নিজ দেশের আকাশে ভূপাতিত হলে বেঁচে যাওয়া বৈমানিক দ্রুত নিজের ইউনিটে ফিরতে পারতেন। বিপরীতে জার্মান বৈমানিক ব্রিটিশ ভূখণ্ডে নামলে বন্দী হতেন। মেসারশমিট বিএফ ১০৯-এর সীমিত জ্বালানি ধারণক্ষমতার কারণে ইংল্যান্ডের ওপর যুদ্ধ করার সময় কম ছিল। জার্মান বোমারু বিমানগুলোকে দীর্ঘ সময় সুরক্ষা দেওয়াও তাই কঠিন হয়ে পড়ে।
আগস্টের শেষ ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে জার্মান আক্রমণে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ও ফাইটার কমান্ড গুরুতর চাপের মুখে পড়েছিল। তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যায়নি। এ সময় রাতের বোমাবর্ষণে লন্ডনে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পর ব্রিটিশ বিমানবাহিনী বার্লিনে হামলা চালায়। ক্ষুব্ধ হিটলার ও গ্যোরিং ৭ সেপ্টেম্বর থেকে লন্ডন ও অন্যান্য শহরকে প্রধান লক্ষ্য করার সিদ্ধান্ত নেন। এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং রয়্যাল এয়ার ফোর্সকে রাজধানী রক্ষায় খোলা যুদ্ধে টেনে এনে ধ্বংস করা।
শহরের ওপর হামলা বেসামরিক মানুষের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে এলেও এতে ফাইটার কমান্ডের বিমানঘাঁটি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ পায়। ১৫ সেপ্টেম্বর জার্মানি লন্ডনের বিরুদ্ধে বড় আক্রমণ চালালে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। জার্মান নেতৃত্ব উপলব্ধি করে, রয়্যাল এয়ার ফোর্স এখনো কার্যকর রয়েছে। কয়েক দিন পর হিটলার অপারেশন সি লায়নের প্রস্তুতি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন। রাতের বোমাবর্ষণ বা “ব্লিটজ” পরবর্তী মাসগুলোতে চললেও ব্রিটেনকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যায়নি।
ব্রিটেনের যুদ্ধ ছিল নাৎসি জার্মানির প্রথম বড় কৌশলগত ব্যর্থতা। জার্মানি ব্রিটিশ বিমান প্রতিরক্ষাকে ধ্বংস করতে পারেনি, আকাশের নিয়ন্ত্রণ পায়নি এবং ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে আক্রমণের প্রয়োজনীয় পরিবেশও তৈরি করতে পারেনি। ব্রিটেন যুদ্ধে টিকে থাকায় পশ্চিম ইউরোপের উপকূলে ভবিষ্যৎ মিত্র অভিযানের একটি নিরাপদ ঘাঁটি রয়ে যায়। একই সঙ্গে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সম্পদ, আটলান্টিকের নৌপথ এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা জার্মানির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
তবু হিটলার ব্রিটেনের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ না করেই পূর্বদিকে আক্রমণের প্রস্তুতি নেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ তার হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল না। নাৎসি মতাদর্শের শুরু থেকেই বলশেভিক রাষ্ট্র ধ্বংস, ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বাস্তবায়ন এবং পূর্ব ইউরোপে জার্মানদের জন্য তথাকথিত জীবনধারণের স্থান দখলের পরিকল্পনা ছিল। ইউক্রেনের কৃষিজমি, ককেশাসের তেল এবং সোভিয়েত ভূখণ্ডের অন্যান্য সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করলে জার্মানি দীর্ঘ যুদ্ধ চালানোর শক্তি পাবে—এমন ধারণাও হিটলারের ছিল।
হিটলার আরও বিশ্বাস করতেন, ব্রিটেন ভবিষ্যতে সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তার আশা করেই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। সোভিয়েত রাষ্ট্রকে দ্রুত পরাজিত করা গেলে ব্রিটেন একা হয়ে শান্তি চাইবে বলে তিনি ধারণা করেন। ১৯৩৯ সালের নাৎসি-সোভিয়েত অনাক্রমণ চুক্তিকে হিটলার কেবল সাময়িক কৌশল বলে দেখেছিলেন। পোল্যান্ড ভাগ এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা সত্ত্বেও বলকান ও পূর্ব ইউরোপে দুই শক্তির স্বার্থের সংঘাত বাড়ছিল। ১৯৪০ সালের ১৮ ডিসেম্বর হিটলার অপারেশন বারবারোসার নির্দেশে স্বাক্ষর করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সোভিয়েত ইউনিয়নকে একটি সংক্ষিপ্ত অভিযানে পরাজিত করার কথা ছিল। তিনটি প্রধান সেনাদল গঠন করা হয়। উত্তরের বাহিনী বাল্টিক অঞ্চল হয়ে লেনিনগ্রাদের দিকে, কেন্দ্রের বাহিনী মিনস্ক ও স্মোলেনস্ক হয়ে মস্কোর দিকে এবং দক্ষিণের বাহিনী ইউক্রেনের দিকে অগ্রসর হবে। জার্মান পরিকল্পনাকারীরা আশা করেছিলেন, সীমান্তের কাছে সোভিয়েত সেনাবাহিনীর মূল অংশকে ঘিরে ধ্বংস করার পর রাষ্ট্রটি ভেঙে পড়বে। অভিযান শেষ করার সময়কাল কয়েক মাস ধরে হিসাব করা হয়েছিল; দীর্ঘ শীতকালীন যুদ্ধের প্রস্তুতি যথেষ্ট ছিল না।
১৯৪১ সালের ২২ জুন প্রায় ত্রিশ লাখের বেশি জার্মান সেনা এবং তাদের মিত্রবাহিনী বিস্তৃত সীমান্তজুড়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করে। হাজার হাজার ট্যাংক, কামান ও বিমান অভিযানে অংশ নেয়। আক্রমণের প্রথম দিনগুলোতে লুফটওয়াফে বিমানঘাঁটিতে থাকা বিপুলসংখ্যক সোভিয়েত বিমান ধ্বংস করে। জার্মান প্যানজার বাহিনী দ্রুত প্রতিরক্ষা ভেদ করে গভীরে প্রবেশ করে এবং পদাতিক বাহিনী বিশাল সোভিয়েত সেনাদল ঘিরে ফেলে। বিয়ালিস্টক-মিনস্ক, স্মোলেনস্ক, উমান ও কিয়েভের ঘেরাও যুদ্ধে লাখ লাখ সোভিয়েত সেনা বন্দী হয়।
প্রাথমিক সাফল্য হিটলারের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, সোভিয়েত রাষ্ট্র পতনের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু মানচিত্রে দ্রুত অগ্রগতি যুদ্ধের বাস্তব সমস্যাগুলো আড়াল করেছিল। সোভিয়েত ভূখণ্ডের বিশালতা, দুর্বল সড়ক, ভিন্ন মাপের রেলপথ এবং দীর্ঘ সরবরাহলাইন জার্মান বাহিনীকে ধীর করে দেয়। অধিকাংশ জার্মান পদাতিক পায়ে হেঁটে চলত এবং বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ঘোড়ায় বহন করা হতো। ট্যাংক ও যানবাহনের যান্ত্রিক ক্ষয় বাড়তে থাকে। প্রতিটি অগ্রযাত্রার সঙ্গে জ্বালানি, গোলাবারুদ ও খাদ্য সামনে পৌঁছানো কঠিন হয়ে ওঠে।
সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি সেনা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। শিল্পকারখানার বড় অংশ উরাল পর্বতমালা ও পূর্বাঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া হয়। গুরুতর পরাজয় সত্ত্বেও নতুন বাহিনী গঠন চলতে থাকে। জার্মান আক্রমণের নৃশংস চরিত্রও প্রতিরোধকে আরও কঠোর করে। অপারেশন বারবারোসা সাধারণ সামরিক অভিযান ছিল না; এটি ছিল নাৎসি বর্ণবাদী ধ্বংসযুদ্ধ। রাজনৈতিক কর্মকর্তা হত্যার নির্দেশ, যুদ্ধবন্দীদের অমানবিক অবস্থায় রাখা, খাদ্য লুণ্ঠনের পরিকল্পনা এবং এসএস আইনজাটসগ্রুপেনের মাধ্যমে ইহুদি ও অন্যান্য বেসামরিক মানুষকে গণহত্যা শুরু থেকেই অভিযানের অংশ ছিল।
গ্রীষ্মের শেষে জার্মান নেতৃত্বের মধ্যে পরবর্তী লক্ষ্য নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। সেনাবাহিনীর অনেকে মস্কোর দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে চাইলেও হিটলার ইউক্রেনের সম্পদ ও দক্ষিণের সোভিয়েত বাহিনী ধ্বংসকে অগ্রাধিকার দেন। কিয়েভের ঘেরাও জার্মানিকে বিশাল সামরিক বিজয় দিলেও মস্কোর অভিযান বিলম্বিত হয়। তবে পরাজয়ের জন্য শুধু এই বিলম্বকে দায়ী করা যথেষ্ট নয়; সোভিয়েত প্রতিরোধ, জার্মান ক্ষয়ক্ষতি, দুর্বল সরবরাহব্যবস্থা এবং অভিযানের অবাস্তব লক্ষ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
অক্টোবরের শুরুতে অপারেশন টাইফুনের মাধ্যমে মস্কোর দিকে চূড়ান্ত অগ্রযাত্রা শুরু হয়। প্রথমদিকে আবারও বড় সোভিয়েত বাহিনী ঘেরাও হয়। কিন্তু শরতের বৃষ্টি সড়ককে গভীর কাদায় পরিণত করে এবং যানবাহন থেমে যেতে থাকে। পরে তীব্র শীত শুরু হলে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র ও প্রস্তুতির অভাবে জার্মান সেনারা বিপর্যস্ত হয়। ডিসেম্বরের শুরুতে তারা মস্কোর উপকণ্ঠে পৌঁছালেও শহর দখল করতে পারেনি। ৫ ডিসেম্বর সোভিয়েত বাহিনী নতুন সেনা ও শীতকালীন অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। জার্মান বাহিনীকে বহু স্থানে পিছিয়ে যেতে হয়।
অপারেশন বারবারোসার দ্রুত বিজয়ের লক্ষ্য ১৯৪১ সালের শেষেই ব্যর্থ হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ধ্বংস হয়নি; বরং জার্মানি এমন এক দীর্ঘ ক্ষয়যুদ্ধে আটকে যায়, যেখানে শত্রুর জনশক্তি, ভূখণ্ড ও শিল্পক্ষমতা তার পূর্বানুমানের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। একই বছরের ডিসেম্বরে জাপানের পার্ল হারবার আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে প্রবেশ করে এবং হিটলারও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। ফলে জার্মানিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত শক্তির মুখোমুখি হতে হয়।
ব্রিটেনকে পরাজিত না করেই সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করা হিটলারের যুদ্ধকে বাস্তবে দুই প্রধান রণাঙ্গনে ছড়িয়ে দিয়েছিল। ব্রিটেনের যুদ্ধ জার্মানিকে দেখিয়েছিল যে শুধু দ্রুত অভিযান ও বিমান হামলা দিয়ে প্রতিটি প্রতিপক্ষকে নত করা সম্ভব নয়। বারবারোসা প্রমাণ করে, আদর্শিক অহংকার ও শত্রুকে অবমূল্যায়নের ওপর নির্মিত পরিকল্পনা প্রাথমিক বিজয় সত্ত্বেও কৌশলগত বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে। এই দুই সিদ্ধান্তের পর নাৎসি জার্মানি তখনো বিপুল ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছিল, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ জয়ের সম্ভাবনা দ্রুত ক্ষয় হতে শুরু করেছিল।
রোমুলাস ও রেমাস: নেকড়ের দুধে বেঁচে যাওয়া দুই ভাই ও রোমের জন্ম
এনিয়াস থেকে আলবা লঙ্গা: রোমুলাস ও রেমাসের জন্মের পৌরাণিক ইতিহাস
এনিয়াসের কিংবদন্তি: ট্রয় থেকে ইতালিতে রোমের পূর্বপুরুষের অভিযাত্রা
রোমান পুরাণের উৎপত্তি: ইতালীয় বিশ্বাস ও গ্রিক প্রভাবে দেবদেবীর জগৎ
হলোকাস্ট ও ফাইনাল সলিউশন: ঘেটো, আইনজাটসগ্রুপেন ও গণহত্যার ইতিহাস