বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ ও গাদ্দাফির পতন: গণবিক্ষোভ থেকে ন্যাটো হস্তক্ষেপ

সিরিজ: আরব বসন্ত

লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ ও গাদ্দাফির পতন: গণবিক্ষোভ থেকে ন্যাটো হস্তক্ষেপ
গণবিক্ষোভ থেকে লিবিয়ার রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ

তিউনিসিয়া ও মিসরে স্বৈরশাসকের পতন আরব বসন্তকে একটি প্রবল আঞ্চলিক ঢেউয়ে পরিণত করেছিল; এবার সেই ঢেউ লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির দীর্ঘ শাসনের বিরুদ্ধে আঘাত হানতে চলেছিল। কিন্তু তিউনিসের হাবিব বুরগিবা অ্যাভিনিউ কিংবা কায়রোর তাহরির স্কয়ারে যে গণবিক্ষোভ শাসককে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছিল, লিবিয়ায় সেই পথ দ্রুত বদলে যায়। এখানে রাষ্ট্রীয় দমন, সেনাবাহিনীর বিভক্তি, বিরোধীদের অস্ত্রধারণ এবং বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ মিলে আন্দোলনকে রূপ দেয় পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধে। আরব বসন্তের শান্তিপূর্ণ গণজাগরণ লিবিয়ায় এসে প্রথমবারের মতো দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংঘাতে পরিণত হয়।

মুয়াম্মার গাদ্দাফি ১৯৬৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর তরুণ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে রাজা ইদ্রিসকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। আরব জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র এবং ঔপনিবেশিকতাবিরোধী আদর্শের কথা বলে তিনি রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করেন। তেলসম্পদ জাতীয়করণ এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন খাতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের কারণে প্রথম কয়েক দশকে লিবিয়ার জীবনমানের কিছু উন্নতি ঘটে। কিন্তু রাজনৈতিক দল, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম এবং সংগঠিত বিরোধিতার কোনো বাস্তব সুযোগ রাখা হয়নি। গাদ্দাফি নিজেকে আনুষ্ঠানিক প্রেসিডেন্ট না বলে বিপ্লবের নেতা হিসেবে উপস্থাপন করলেও রাষ্ট্রের সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র ছিলেন তিনিই।

১৯৭৭ সালে তিনি লিবিয়াকে “জনগণের রাষ্ট্র” বা জামাহিরিয়া ঘোষণা করেন। তাত্ত্বিকভাবে স্থানীয় গণকমিটি ও জনগণের কংগ্রেসের মাধ্যমে নাগরিকদের সরাসরি শাসন করার কথা ছিল। বাস্তবে বিপ্লবী কমিটি, গোয়েন্দা সংস্থা এবং গাদ্দাফির অনুগত নিরাপত্তা ইউনিটগুলো বিরোধীদের ওপর নজরদারি চালাত। রাজনৈতিক বন্দিত্ব, নির্যাতন, নির্বাসিত বিরোধীদের হত্যা এবং ১৯৯৬ সালে আবু সালিম কারাগারে বিপুলসংখ্যক বন্দীর মৃত্যুর অভিযোগ শাসনের নির্মম চরিত্র প্রকাশ করে। বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলীয় বেনগাজি ও সিরেনাইকা অঞ্চলে গাদ্দাফিবিরোধী ক্ষোভ গভীর ছিল।

তেলসমৃদ্ধ দেশ হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, আবাসনসংকট ও যুব বেকারত্ব লিবিয়ার সমাজে অসন্তোষ বাড়ায়। গাদ্দাফির সন্তান এবং ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা বিপুল সম্পদ ও প্রভাব অর্জন করেন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল রাখা হয়েছিল, যাতে কোনো সেনাপ্রধান, রাজনৈতিক দল বা আমলাতান্ত্রিক গোষ্ঠী শাসকের বিকল্প ক্ষমতাকেন্দ্র হয়ে উঠতে না পারে। এর ফলে গাদ্দাফির ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব শক্তিশালী হলেও সংকটের সময় দেশ পরিচালনার জন্য নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান প্রায় ছিল না। এই প্রাতিষ্ঠানিক শূন্যতাই পরবর্তী গৃহযুদ্ধ এবং রাষ্ট্রভাঙনের অন্যতম ভিত্তি তৈরি করেছিল।

২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনগাজিতে মানবাধিকার আইনজীবী ফাতহি তেরবিলকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মানুষ রাজপথে নামে। তিনি আবু সালিম কারাগারে নিহত বন্দীদের পরিবারগুলোর প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। পরিবারের সদস্য ও মানবাধিকারকর্মীরা তাঁর মুক্তির দাবিতে সমবেত হলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। তিউনিসিয়া ও মিসরের সাফল্যে অনুপ্রাণিত কর্মীরা ১৭ ফেব্রুয়ারিকে “ক্রোধের দিন” ঘোষণা করেন। বেনগাজি, আল-বায়দা, দারনা, জিনতান ও অন্যান্য শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

গাদ্দাফির বাহিনী বিক্ষোভ দমনে গুলি, ভারী অস্ত্র এবং অনুগত সশস্ত্র ইউনিট ব্যবহার করে। নিহতের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদকারীরা পুলিশ স্টেশন ও সামরিক স্থাপনা আক্রমণ করে অস্ত্র সংগ্রহ করতে শুরু করে। সেনাবাহিনীর কিছু ইউনিট বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দেয়, আবার গাদ্দাফির বিশেষ বাহিনী ও অনুগত ব্রিগেড সরকারের পক্ষে থাকে। কয়েক দিনের মধ্যেই বেনগাজিসহ পূর্ব লিবিয়ার বড় অংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জায়গায় দ্রুত দুটি সশস্ত্র শিবিরের সংঘর্ষ শুরু হয়।

২২ ফেব্রুয়ারি গাদ্দাফি টেলিভিশন ভাষণে নিজেকে বিপ্লবের অবিচল নেতা হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বিরোধীদের দেশদ্রোহী, সন্ত্রাসী ও বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ বলে অভিযুক্ত করেন। তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই করার সংকল্প জানান। তাঁর ছেলে সাইফ আল-ইসলাম সতর্ক করে বলেন, দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে এবং রক্তের নদী বয়ে যেতে পারে। সরকারের এই ভাষা বোঝায় যে তিউনিসিয়া বা মিসরের মতো শাসকের শান্তিপূর্ণ প্রস্থান এখানে সহজে ঘটবে না।

পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বিরোধীরা বেনগাজিতে জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠন করে। গাদ্দাফির সাবেক বিচারমন্ত্রী মুস্তাফা আবদুল জলিল এর নেতৃত্বে আসেন। পরিষদ নিজেকে লিবিয়ার জনগণের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরে এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চায়। গাদ্দাফি সরকারের মন্ত্রী, কূটনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের কেউ কেউ পক্ষত্যাগ করেন। কিন্তু বিদ্রোহীদের কোনো ঐক্যবদ্ধ পেশাদার সেনাবাহিনী ছিল না। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক সৈনিক, স্থানীয় যোদ্ধা, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন শহরের স্বতন্ত্র সশস্ত্র দল।

প্রাথমিক সাফল্যের পর বিদ্রোহীরা ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল ধরে পশ্চিমে অগ্রসর হয়। কিন্তু মার্চের শুরুতে গাদ্দাফির বাহিনী সংগঠিত পাল্টা আক্রমণ চালায়। ট্যাংক, কামান ও যুদ্ধবিমানের সুবিধা ব্যবহার করে তারা একের পর এক শহর পুনর্দখল করতে থাকে। পশ্চিমের মিসরাতা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং সেখানে ভয়াবহ নগরযুদ্ধ শুরু হয়। পূর্বে সরকারি বাহিনী আজদাবিয়া অতিক্রম করে বিদ্রোহীদের প্রধান ঘাঁটি বেনগাজির দিকে এগিয়ে যায়। গাদ্দাফির বক্তব্য ও বাহিনীর অগ্রযাত্রা দেখে আশঙ্কা তৈরি হয় যে বেনগাজিতে প্রবেশ করলে ব্যাপক প্রতিশোধ ও বেসামরিক হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও দ্রুত তীব্র হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গাদ্দাফি সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ, সম্পদ জব্দ এবং লিবিয়ার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আরব লীগ লিবিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করে এবং পরে আকাশে উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। তবে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে গভীর উদ্বেগও ছিল—বিশেষ করে ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর আরেকটি আরব দেশে পশ্চিমা সামরিক অভিযান সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছিল।

২০১১ সালের ১৭ মার্চ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ১৯৭৩ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণ করে। এতে লিবিয়ার বেসামরিক জনগণকে রক্ষার জন্য আকাশে উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকা এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে বিদেশি দখলদার বাহিনী মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়। রাশিয়া ও চীন প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট না দিয়ে বিরত থাকে। ১৯ মার্চ ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান শুরু হয়। লিবিয়ার বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, সামরিক ঘাঁটি এবং বেনগাজির দিকে অগ্রসরমান সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হয়।

পরে ন্যাটো অপারেশন ইউনিফায়েড প্রটেক্টর নামে অভিযানের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে। আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য ছিল অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা, উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকা বজায় রাখা এবং বেসামরিক নাগরিকদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা। ন্যাটোর বিমান হামলায় গাদ্দাফির বাহিনীর ভারী অস্ত্র, যোগাযোগব্যবস্থা এবং চলাচলক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। বেনগাজির পতন ঠেকানো সম্ভব হয়, কিন্তু অভিযান ধীরে ধীরে বিদ্রোহীদের সামরিক অগ্রযাত্রায় প্রত্যক্ষ সহায়তায় পরিণত হয়। এ কারণে সমালোচকেরা অভিযোগ করেন, বেসামরিক সুরক্ষার অনুমতিকে কার্যত শাসন পরিবর্তনের অভিযানে সম্প্রসারিত করা হয়েছিল।

যুদ্ধ কয়েক মাস ধরে অচলাবস্থায় থাকে। মিসরাতায় বিদ্রোহীরা অবরোধ ও গোলাবর্ষণের মধ্যেও প্রতিরোধ বজায় রাখে। পশ্চিমের নাফুসা পর্বতমালায় স্থানীয় বিদ্রোহীরা গাদ্দাফির বাহিনীর বিরুদ্ধে অগ্রগতি করে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, অর্থ ও অস্ত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদের অবস্থান শক্তিশালী হয়। তবে বিদ্রোহী শিবিরের ভেতরের বিভাজনও প্রকাশ পায়। ২০১১ সালের জুলাইয়ে তাদের সামরিক কমান্ডার আবদেল ফাত্তাহ ইউনিস রহস্যজনকভাবে নিহত হন, যা পারস্পরিক অবিশ্বাসের গভীরতা দেখিয়ে দেয়।

আগস্টে বিদ্রোহীরা পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক থেকে ত্রিপোলির দিকে অগ্রসর হয়। রাজধানীর ভেতরেও বিদ্রোহ শুরু হলে গাদ্দাফির নিয়ন্ত্রণ দ্রুত ভেঙে পড়ে। ২৩ আগস্ট তাঁর প্রধান ঘাঁটি বাব আল-আজিজিয়া কমপ্লেক্স বিদ্রোহীদের দখলে যায়। সেখানে গাদ্দাফির প্রতিকৃতি ও শাসনের প্রতীকগুলো ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু গাদ্দাফি নিজে পালিয়ে যান এবং তাঁর অবস্থান অজানা থাকে। রাজধানীর পতনের পরও বানি ওয়ালিদ ও গাদ্দাফির জন্মস্থান সির্তে অনুগত বাহিনী প্রতিরোধ চালিয়ে যায়।

২০১১ সালের ২০ অক্টোবর সির্তের শেষ প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়ে। গাদ্দাফি একটি গাড়িবহরে শহর ছাড়ার চেষ্টা করলে ন্যাটোর বিমান হামলায় বহরটি আক্রান্ত হয়। পরে তিনি বিদ্রোহীদের হাতে ধরা পড়েন এবং অল্প সময়ের মধ্যে নিহত হন। তাঁর মৃত্যু ঠিক কী পরিস্থিতিতে ঘটেছিল, তা নিয়ে বিতর্ক ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ রয়েছে। যে ব্যক্তি ৪২ বছর লিবিয়াকে নিজের ব্যক্তিগত বিপ্লবী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালনা করেছিলেন, তাঁর শাসনের সমাপ্তি ঘটল কোনো আদালত বা আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে নয়, যুদ্ধক্ষেত্রের বিশৃঙ্খলার মধ্যে।

২৩ অক্টোবর জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদ লিবিয়াকে মুক্ত ঘোষণা করে এবং ৩১ অক্টোবর ন্যাটো তার অভিযান শেষ করে। বহু লিবীয় গাদ্দাফির পতনকে স্বাধীনতার সূচনা হিসেবে উদ্‌যাপন করেছিল। কিন্তু দেশটির সামনে তখন ছিল ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী, বিপুল অস্ত্রভান্ডার, শক্তিশালী স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং দুর্বল কেন্দ্রীয় প্রশাসন। বিদ্রোহী যোদ্ধারা অস্ত্র সমর্পণ করেনি; বিভিন্ন শহর, গোত্র ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে চেয়েছিল। গাদ্দাফি এত দীর্ঘ সময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল রাখায় তাঁর পতনের পর ক্ষমতার শূন্যতা পূরণ করার মতো কার্যকর রাষ্ট্রীয় কাঠামো অবশিষ্ট ছিল না।

লিবিয়ার অভিজ্ঞতা আরব বসন্তের গতিপথে একটি মৌলিক পরিবর্তন আনে। তিউনিসিয়া ও মিসরে জনতার চাপ এবং সেনাবাহিনীর সিদ্ধান্ত শাসকের পতন ঘটিয়েছিল; লিবিয়ায় ফল নির্ধারিত হয়েছিল সশস্ত্র বিদ্রোহ ও আন্তর্জাতিক বিমানশক্তির সমন্বয়ে। হস্তক্ষেপের সমর্থকেরা বলেন, এতে বেনগাজিতে সম্ভাব্য হত্যাযজ্ঞ ঠেকানো হয়েছিল। সমালোচকেরা মনে করেন, রাজনৈতিক সমাধানের সুযোগ সংকুচিত করে রাষ্ট্রের পতন ত্বরান্বিত করা হয় এবং পরবর্তী বিশৃঙ্খলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। দুই অবস্থানের মাঝেও একটি সত্য স্পষ্ট—গাদ্দাফির পতন যুদ্ধ শেষ করেনি; বরং লিবিয়ার দীর্ঘ অস্থিতিশীলতার সূচনা করেছিল।

তিউনিস ও কায়রোর বিজয় যে আশাবাদ সৃষ্টি করেছিল, লিবিয়ার ধ্বংসস্তূপ সেই আশার সঙ্গে গৃহযুদ্ধের ভয়াবহ মূল্যও যুক্ত করল। আরব বিশ্বের অন্য শাসকেরা বুঝতে পারলেন, প্রতিবাদ উপেক্ষা বা নির্মমভাবে দমন করলে ফল শুধু ক্ষমতাচ্যুতি নয়, রাষ্ট্রের ভাঙনও হতে পারে। লিবিয়ার আকাশে ন্যাটোর অভিযান চলার সময় আরব বসন্তের আরেকটি দীর্ঘ সংগ্রাম বিস্তৃত হচ্ছিল ইয়েমেনে—যেখানে আলী আবদুল্লাহ সালেহর বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ, গোত্রীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সেনাবাহিনীর বিভক্তি দেশটিকে এক নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল।


আপনার পছন্দ হতে পারে