বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

বাহরাইনের পার্ল রাউন্ডঅ্যাবাউট আন্দোলন: শিয়া বিক্ষোভ, রাজতন্ত্রের দমন ও সৌদি হস্তক্ষেপ

সিরিজ: আরব বসন্ত

বাহরাইনের পার্ল রাউন্ডঅ্যাবাউট আন্দোলন: শিয়া বিক্ষোভ, রাজতন্ত্রের দমন ও সৌদি হস্তক্ষেপ
পার্ল রাউন্ডঅ্যাবাউটে গণবিক্ষোভ ও রাজতন্ত্রের দমন

লিবিয়ায় গণবিক্ষোভ যখন গৃহযুদ্ধে রূপ নিচ্ছিল এবং ইয়েমেনে আলী আবদুল্লাহ সালেহর বিরুদ্ধে আন্দোলন ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছিল, তখন পারস্য উপসাগরের ছোট দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনেও আরব বসন্তের ঢেউ পৌঁছে যায়। কিন্তু এখানকার সংঘাতের চরিত্র ছিল স্বতন্ত্র। বাহরাইনে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ করে আসছিল, অথচ রাষ্ট্রক্ষমতা ছিল সুন্নি আল খলিফা রাজপরিবারের হাতে। ফলে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি দ্রুত সাম্প্রদায়িক সন্দেহ, রাজতন্ত্রের নিরাপত্তাভীতি এবং সৌদি আরব ও ইরানের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। পার্ল রাউন্ডঅ্যাবাউট তাই শুধু একটি প্রতিবাদের স্থান নয়, বাহরাইনের অসম ক্ষমতাকাঠামোর বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল।

আল খলিফা পরিবার অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগ থেকে বাহরাইন শাসন করে আসছে। ১৯৭১ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ঈসা বিন সালমান আল খলিফা আমির হন। ১৯৭৩ সালে সংবিধান ও নির্বাচিত জাতীয় পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হলেও মাত্র দুই বছর পর পরিষদ ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর কয়েক দশক দেশটি জরুরি নিরাপত্তা আইন ও সীমিত রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে পরিচালিত হয়। ১৯৯০-এর দশকে নির্বাচিত সংসদ ও সাংবিধানিক শাসনের দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলন হয়, যাতে শিয়া ও সুন্নি—উভয় সম্প্রদায়ের বিরোধীরা অংশ নিয়েছিল।

১৯৯৯ সালে হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, নির্বাসিত বিরোধীদের প্রত্যাবর্তন এবং সাংবিধানিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। ২০০১ সালের জাতীয় কর্মসনদ বিপুল সমর্থনে অনুমোদিত হলে নতুন আশার সৃষ্টি হয়। পরের বছর দেশটিকে রাজতন্ত্র ঘোষণা করা হয় এবং হামাদ রাজা হন। কিন্তু নতুন সংবিধানে নির্বাচিত নিম্নকক্ষের পাশাপাশি রাজা-নিযুক্ত উচ্চকক্ষকে সমান আইন প্রণয়নক্ষমতা দেওয়া হয়। বিরোধীরা অভিযোগ করে, এর মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতা সীমিত এবং রাজপরিবারের কর্তৃত্ব সুরক্ষিত করা হয়েছে।

বাহরাইনের শিয়া নাগরিকদের অভিযোগ ছিল, সরকারি চাকরি, নিরাপত্তা বাহিনী, আবাসন, নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ ও উচ্চ প্রশাসনিক পদে তারা পদ্ধতিগত বৈষম্যের শিকার। সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার বা অতিরঞ্জিত বলে দাবি করলেও অসন্তোষ ক্রমেই গভীর হয়। শিয়া অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের হার তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। অন্যদিকে সরকার বিদেশি সুন্নিদের নাগরিকত্ব দিয়ে জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বদলানোর চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগও বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন তাই সামাজিক মর্যাদা ও সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের সঙ্গে মিশে যায়।

২০১০ সালের নির্বাচনে প্রধান শিয়া রাজনৈতিক সংগঠন আল-ওয়েফাক নির্বাচিত নিম্নকক্ষের ৪০টি আসনের মধ্যে ১৮টি লাভ করে। কিন্তু ক্ষমতার মূল কেন্দ্র রাজা, রাজপরিবার ও নিযুক্ত মন্ত্রিসভার হাতেই থেকে যায়। প্রধানমন্ত্রী খলিফা বিন সালমান আল খলিফা ১৯৭১ সাল থেকে একই পদে ছিলেন এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রীদের একজন হয়ে উঠেছিলেন। সংস্কারপন্থীরা নির্বাচিত সরকার, কার্যকর সংসদ, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিল।

তিউনিসিয়া ও মিসরে শাসকের পতনের পর বাহরাইনের তরুণ কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০১১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদের ডাক দেন। দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছিল ২০০১ সালের জাতীয় কর্মসনদের দশম বার্ষিকী হিসেবে। আন্দোলনের প্রাথমিক দাবির মধ্যে ছিল নতুন সংবিধান, নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, দুর্নীতি বন্ধ এবং শিয়া নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যের অবসান। শুরুতে অধিকাংশ আন্দোলনকারী রাজতন্ত্র উৎখাতের পরিবর্তে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল।

১৪ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন শিয়া গ্রাম ও শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আলী মুশাইমা নামে এক তরুণ নিহত হন। পরদিন তাঁর জানাজায় অংশ নেওয়া আরেক বিক্ষোভকারী ফাদেল আল-মাত্রুক পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এই মৃত্যুগুলো আন্দোলনকে আরও তীব্র করে। হাজারো মানুষ রাজধানী মানামার পার্ল রাউন্ডঅ্যাবাউটে সমবেত হয়ে তাঁবু স্থাপন করে। কায়রোর তাহরির স্কয়ারের অনুপ্রেরণায় তারা এলাকাটিকে দীর্ঘস্থায়ী শান্তিপূর্ণ অবস্থানের কেন্দ্রে রূপ দেয়।

পার্ল রাউন্ডঅ্যাবাউটের কেন্দ্রে ছিল ছয়টি বাঁকানো সাদা স্তম্ভের ওপর স্থাপিত একটি বিশাল মুক্তা। স্তম্ভগুলো উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয় সদস্যরাষ্ট্র এবং মুক্তাটি এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক মুক্তা আহরণশিল্পের প্রতীক ছিল। কিন্তু আন্দোলনের সময় স্থাপনাটি নতুন অর্থ লাভ করে। সেখানে পরিবার, চিকিৎসক, শিক্ষক, শ্রমিক, ধর্মীয় নেতা ও রাজনৈতিক কর্মীরা একত্রিত হন। পার্ল মনুমেন্ট রাজপরিবারের তৈরি রাষ্ট্রীয় প্রতীক থেকে জনগণের রাজনৈতিক অধিকারের প্রতীকে বদলে যায়।

১৭ ফেব্রুয়ারির ভোররাতে, যখন বহু বিক্ষোভকারী তাঁবুতে ঘুমাচ্ছিলেন, নিরাপত্তা বাহিনী হঠাৎ রাউন্ডঅ্যাবাউট খালি করার অভিযান চালায়। কাঁদানে গ্যাস, ছররা গুলি, লাঠি ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। কয়েকজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। ঘটনাটি পরে “রক্তাক্ত বৃহস্পতিবার” নামে পরিচিত হয়। সরকার দাবি করে, বিক্ষোভকারীদের কাছে অস্ত্র ছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনী আক্রান্ত হয়েছিল; কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী ও পরবর্তী তদন্তে ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহারের গুরুতর প্রমাণ উঠে আসে।

দমন অভিযানের প্রতিবাদে আল-ওয়েফাকের সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ করেন। রাজধানীর হাসপাতালে আহতদের ভিড় বাড়ে এবং সালমানিয়া মেডিকেল কমপ্লেক্স আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। চিকিৎসকেরা আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি পুলিশের আচরণ সম্পর্কে সাক্ষ্য দেন। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়া এবং আহতদের হাসপাতালে পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। রাজপরিবারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকে।

ক্রাউন প্রিন্স সালমান বিন হামাদ আল খলিফা জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানান এবং সেনাবাহিনীকে রাজধানীর কিছু এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভকারীরা আবার পার্ল রাউন্ডঅ্যাবাউটে ফিরে আসে। কয়েক দিনের মধ্যে সেখানে আরও বড় জনসমাবেশ গড়ে ওঠে। শিয়া নেতৃত্বাধীন হলেও আন্দোলনে কিছু সুন্নি উদারপন্থী ও বামপন্থী কর্মীও অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের স্লোগান ছিল—শিয়া বা সুন্নি নয়, আমরা সবাই বাহরাইনি। তবে সরকারপন্থী প্রচারমাধ্যম আন্দোলনকে ক্রমশ ইরান-সমর্থিত শিয়া ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরতে থাকে।

বিরোধী শিবিরের মধ্যেও কৌশলগত বিভাজন ছিল। আল-ওয়েফাক ও অন্যান্য মধ্যপন্থী সংগঠন সাংবিধানিক রাজতন্ত্র এবং আলোচনার মাধ্যমে সংস্কার চাইছিল। অপেক্ষাকৃত কঠোরপন্থী গোষ্ঠীগুলো সম্পূর্ণ রাজতন্ত্র বিলোপের দাবি তোলে। একই সময়ে সরকারপন্থী সুন্নিরা জাতীয় ঐক্য সমাবেশ গঠন করে রাজপরিবারের পক্ষে বড় সমাবেশ করে। রাজনৈতিক সংকট ধীরে ধীরে সংস্কার বনাম স্বৈরশাসনের প্রশ্ন থেকে শিয়া বনাম সুন্নি পরিচয়ের সংঘাতে রূপ দেওয়া হচ্ছিল।

মার্চের শুরুতে বিক্ষোভকারীরা সরকারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক এলাকা এবং প্রধান সড়কের দিকে আন্দোলন সম্প্রসারণ করে। শ্রমিক ধর্মঘট, সড়ক অবরোধ ও রাজপ্রাসাদের দিকে মিছিল শাসক পরিবারের উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। সৌদি আরবের কাছে বাহরাইনের অস্থিরতা বিশেষভাবে বিপজ্জনক মনে হয়েছিল। বাহরাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের কাছে অবস্থিত, যেখানে উল্লেখযোগ্য শিয়া জনগোষ্ঠী রয়েছে। রিয়াদ আশঙ্কা করেছিল, বাহরাইনে শিয়া নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সাফল্য সৌদি শিয়াদেরও উৎসাহিত করবে এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়াবে।

২০১১ সালের ১৪ মার্চ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের পেনিনসুলা শিল্ড বাহিনীর অংশ হিসেবে প্রায় এক হাজার সৌদি সৈন্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েক শ পুলিশ কিং ফাহদ কজওয়ে অতিক্রম করে বাহরাইনে প্রবেশ করে। বাহরাইন সরকার জানায়, বিদেশি বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামো রক্ষার জন্য এসেছে। বিরোধীরা একে বিদেশি দখল ও রাজতন্ত্র রক্ষার অভিযান হিসেবে দেখেছিল। বাহরাইনের সংকটের আঞ্চলিকীকরণ তখন প্রকাশ্য রূপ পায়।

পরদিন রাজা তিন মাসের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা অবস্থা ঘোষণা করেন। ১৬ মার্চ বাহরাইনি নিরাপত্তা বাহিনী ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, কাঁদানে গ্যাস ও অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে পার্ল রাউন্ডঅ্যাবাউট খালি করে দেয়। তাঁবুগুলো সরিয়ে ফেলা হয়, বিক্ষোভকারীদের তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং সালমানিয়া মেডিকেল কমপ্লেক্স নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। বহু চিকিৎসক, নার্স, রাজনৈতিক কর্মী ও মানবাধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিয়া অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে রাতের অভিযান এবং ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়।

১৮ মার্চ সরকার পার্ল মনুমেন্টটি ভেঙে ফেলে। আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়, যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং “খারাপ স্মৃতি” মুছে ফেলাই এর উদ্দেশ্য। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের কাছে এটি ছিল আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রতীক ধ্বংস করে ইতিহাস মুছে দেওয়ার চেষ্টা। রাউন্ডঅ্যাবাউটের নাম পরিবর্তন করে আল-ফারুক জংশন রাখা হয়। রাজতন্ত্র শুধু সমাবেশ ভেঙে দেয়নি; যে স্থাপনা জনগণের ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল, সেটিও মানচিত্র থেকে সরিয়ে দিয়েছিল।

দমন অভিযানের পর সামরিক আদালতে বিরোধী নেতা, কর্মী ও চিকিৎসকদের বিচার হয়। চাকরি থেকে বরখাস্ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার এবং উপাসনালয় ধ্বংসের অভিযোগও ওঠে। রাজা পরে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করেন। কমিশনের প্রতিবেদনে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি, নির্যাতন, জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি এবং বিচারপ্রক্রিয়ার গুরুতর ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়। একই সঙ্গে আন্দোলন পরিচালনায় ইরানের প্রত্যক্ষ ভূমিকার সরকারি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সরকার কিছু সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও বিরোধীরা সেগুলোকে অসম্পূর্ণ বলে প্রত্যাখ্যান করে।

বাহরাইনের বিদ্রোহ রাজা হামাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারেনি। এর একটি বড় কারণ ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর আনুগত্য, উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর অর্থনৈতিক ও সামরিক সমর্থন এবং পশ্চিমা শক্তির সতর্ক অবস্থান। বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর থাকায় দেশটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমা সরকারগুলো সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও রাজতন্ত্রের ওপর এমন চাপ সৃষ্টি করেনি, যা ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারত।

পরবর্তী বছরগুলোতে আল-ওয়েফাকসহ প্রধান বিরোধী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ হয়, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম সংকুচিত হয় এবং বহু কর্মী কারাবন্দী বা নির্বাসিত হন। ফলে ২০১১ সালের আন্দোলন সামরিকভাবে দমন করা সম্ভব হলেও বৈষম্য, প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহির মূল প্রশ্নগুলোর সমাধান হয়নি। বাহরাইন দেখিয়ে দিয়েছিল, আরব বসন্তে সব রাজতন্ত্র একইভাবে দুর্বল ছিল না; আঞ্চলিক মিত্র, তেলসম্পদ ও নিরাপত্তা জোট কোনো শাসকগোষ্ঠীকে গণবিক্ষোভের মুখেও টিকিয়ে রাখতে পারে।

পার্ল রাউন্ডঅ্যাবাউটের ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে আরব বসন্তের একটি ভিন্ন বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিউনিসিয়া ও মিসরে সেনাবাহিনী শাসককে ত্যাগ করেছিল, লিবিয়ায় বিদেশি বিমানশক্তি বিদ্রোহীদের জয় নিশ্চিত করেছিল, আর বাহরাইনে প্রতিবেশী রাজতন্ত্রের সৈন্য এসে ক্ষমতাসীন পরিবারকে রক্ষা করেছিল। মানামায় আন্দোলন যখন কঠোরভাবে স্তব্ধ করা হচ্ছিল, তখন ইয়েমেনে গণবিক্ষোভ, সেনাবাহিনীর বিভক্তি ও গোত্রীয় সংঘাত প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর দীর্ঘ শাসনকে পতনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছিল।


আপনার পছন্দ হতে পারে