বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

নিক্সনের ভিয়েতনামাইজেশন: সেনা প্রত্যাহার, হ্যামবার্গার হিল ও দক্ষিণের যুদ্ধ

সিরিজ: ভিয়েতনাম যুদ্ধ

নিক্সনের ভিয়েতনামাইজেশন: সেনা প্রত্যাহার, হ্যামবার্গার হিল ও দক্ষিণের যুদ্ধ
মার্কিন প্রত্যাহার ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের অসম যুদ্ধভার

রিচার্ড নিক্সন ১৯৬৯ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ভিয়েতনামে প্রায় পাঁচ লাখ মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। ১৯৬৮ সালের টেট অফেনসিভ যুদ্ধজয়ের সরকারি দাবি দুর্বল করে দিয়েছিল, দেশে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন বাড়ছিল এবং প্রতি সপ্তাহে নিহত সেনাদের সংখ্যা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছিল। নিক্সন একদিকে এমনভাবে যুদ্ধ থেকে বের হতে চেয়েছিলেন যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত মনে না হয়, অন্যদিকে দক্ষিণ ভিয়েতনামকে দ্রুত ভেঙে পড়া থেকেও রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। এই দ্বৈত লক্ষ্য থেকেই জন্ম নেয় ‘ভিয়েতনামাইজেশন’—মার্কিন স্থলসেনা ফিরিয়ে এনে যুদ্ধের প্রধান দায়িত্ব দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার নীতি।

ভিয়েতনামাইজেশনের ধারণা ছিল আপাতদৃষ্টিতে সহজ। দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেনাবাহিনী বা এআরভিএনকে সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত করা হবে। তারা ধীরে ধীরে মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধক্ষেত্রের দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করবে। তবে মার্কিন বিমানশক্তি, অর্থ, গোয়েন্দা তথ্য, সরঞ্জাম ও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ এটি যুদ্ধ অবিলম্বে শেষ করার পরিকল্পনা ছিল না; বরং কে সামনের সারিতে যুদ্ধ করবে এবং কারা বেশি প্রাণ হারাবে, সেই ভারসাম্য পরিবর্তনের পরিকল্পনা ছিল।

নিক্সনের কাছে নীতিটির গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও ছিল। মার্কিন সেনা দেশে ফিরতে শুরু করলে যুদ্ধবিরোধী চাপ কমবে, বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের প্রয়োজন হ্রাস পাবে এবং প্রশাসন শান্তি আলোচনায় সময় পাবে। একই সঙ্গে নিক্সন “সম্মানজনক শান্তি” অর্জনের কথা বলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, হঠাৎ প্রত্যাহার করলে দক্ষিণ ভিয়েতনাম দ্রুত পতিত হবে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা হারাবে এবং রাজনৈতিকভাবে তাঁকে পরাজয়ের জন্য দায়ী করা হবে।

কিন্তু ভিয়েতনামাইজেশন বাস্তবায়নের শুরুতেই মার্কিন যুদ্ধকৌশলের অসঙ্গতি প্রকাশ পায়। সেনা প্রত্যাহারের আলোচনা চললেও মার্কিন ইউনিটগুলো তখনো শত্রুকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করার আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা করছিল। এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ ছিল ১৯৬৯ সালের মে মাসে আ শাউ উপত্যকার হিল ৯৩৭ দখলের যুদ্ধ। লাওস সীমান্তের কাছে দুর্গম এই অঞ্চল উত্তর ভিয়েতনামের রসদ ও সেনা চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ ছিল।

১০ মে মার্কিন ১০১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সেনারা ডং আপ বিয়া নামের পাহাড়ে উত্তর ভিয়েতনামি অবস্থানের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে। পাহাড়টি খাড়া ঢাল, ঘন জঙ্গল এবং কাদায় ঢাকা ছিল। উত্তর ভিয়েতনামের সেনারা বাংকার, পরিখা, গোপন পথ ও সুসংগঠিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নির্মাণ করেছিল। আক্রমণকারীদের ওপরে উঠতে গিয়ে মেশিনগান, রকেটচালিত গ্রেনেড, মর্টার ও ছোট অস্ত্রের মুখে পড়তে হয়। প্রচণ্ড বৃষ্টি, পিছল মাটি এবং ঘন গাছপালা বিমান ও কামান সহায়তার কার্যকারিতাও সীমিত করে।

একই অবস্থানে বারবার আক্রমণ চালিয়েও মার্কিন ও দক্ষিণ ভিয়েতনামি সেনারা প্রথম দিকে সফল হতে পারেনি। বিমান হামলা ও কামানের গোলায় পাহাড়ের গাছপালা ছিন্নভিন্ন হলেও উত্তর ভিয়েতনামি সেনারা বাংকার থেকে বেরিয়ে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখে। কখনো ভুল নির্দেশনা বা বিভ্রান্তির কারণে মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টারের আঘাত নিজেদের সেনাদের কাছাকাছি এসে পড়ে। দশ দিন ধরে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের পর ২০ মে পাহাড়ের চূড়া দখল করা হয়।

ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে সাংবাদিকেরা পাহাড়টির নাম দেন ‘হ্যামবার্গার হিল’, যেন যুদ্ধ সেখানে সৈন্যদের মাংস পেষাইয়ের যন্ত্রে ঠেলে দিচ্ছিল। মার্কিন বাহিনীর ৭০ জনের বেশি নিহত এবং শত শত আহত হন; উত্তর ভিয়েতনামেরও বিপুলসংখ্যক যোদ্ধা নিহত হয়। সামরিক নেতৃত্ব বলেছিল, উদ্দেশ্য ভূখণ্ড ধরে রাখা নয়, শত্রুবাহিনীকে ধ্বংস করা। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই মার্কিন সেনারা পাহাড়টি ছেড়ে দিলে সাধারণ মানুষ ও কংগ্রেসের সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন—যে স্থান ধরে রাখার প্রয়োজন ছিল না, সেটি দখলের জন্য এত মানুষের জীবন কেন দেওয়া হলো?

হ্যামবার্গার হিল যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষয়ক্ষতি এবং রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান প্রকাশ করে। সামরিক হিসাবে শত্রুকে বেশি ক্ষতি করা সফলতা বলে বিবেচিত হলেও মার্কিন জনসাধারণ আর নিহতের অনুপাত দিয়ে যুদ্ধের অর্থ খুঁজে পাচ্ছিল না। এই বিতর্কের পর ওয়েস্টমোরল্যান্ডের ক্ষয়যুদ্ধভিত্তিক বড় আক্রমণের পরিবর্তে মার্কিন বাহিনী ধীরে ধীরে কম ঝুঁকিপূর্ণ ‘প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া’ নীতির দিকে অগ্রসর হয়। দক্ষিণ ভিয়েতনামি বাহিনীকে সামনের সারিতে আনার চাপও বৃদ্ধি পায়।

১৯৬৯ সালের জুনে নিক্সন প্রথম দফায় ২৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও সেনা দেশে ফিরতে থাকে। ১৯৬৯ সালের এপ্রিলে ভিয়েতনামে মার্কিন সেনার সংখ্যা সর্বোচ্চ প্রায় ৫ লাখ ৪৩ হাজারে পৌঁছেছিল। ১৯৭১ সালের শেষ নাগাদ তা প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজারে নেমে আসে এবং ১৯৭২ সালের শেষদিকে মাত্র কয়েক দশ হাজার সেনা অবশিষ্ট থাকে। প্রত্যাহারের দৃশ্য আমেরিকায় নিক্সনের প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রমাণ হিসেবে প্রচার করা হয়।

একই সঙ্গে দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেনাবাহিনীর আকার দ্রুত বাড়ানো হয়। তাদের বিপুলসংখ্যক এম-১৬ রাইফেল, কামান, সাঁজোয়া যান, যোগাযোগযন্ত্র, হেলিকপ্টার ও বিমান দেওয়া হয়। মার্কিন উপদেষ্টারা নেতৃত্ব, রসদ, রক্ষণাবেক্ষণ ও যৌথ অভিযানের প্রশিক্ষণ দেন। আঞ্চলিক ও স্থানীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীকেও শক্তিশালী করা হয়, যাতে গ্রাম ও যোগাযোগপথ পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দক্ষিণ ভিয়েতনামিরা নিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এআরভিএন ইউনিট দক্ষতা ও সাহসের সঙ্গে লড়াই করেছিল; তাদের সবাইকে দুর্বল বা যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক হিসেবে দেখানো ঐতিহাসিকভাবে ভুল।

তবে বাহিনীটির গভীর কাঠামোগত সমস্যা ছিল। পদোন্নতিতে দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্য গুরুত্ব পেত, কিছু কর্মকর্তা দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন এবং নেতৃত্বের মান এক ইউনিট থেকে অন্য ইউনিটে ব্যাপকভাবে ভিন্ন ছিল। বিপুল অস্ত্র পেলেও সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি, গোলাবারুদ ও আকাশ সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা রয়ে যায়। অনেক সৈনিক কম বেতন, পরিবারের নিরাপত্তা ও দীর্ঘ যুদ্ধের ক্লান্তিতে ভুগছিলেন। মার্কিন সরঞ্জাম হস্তান্তর করা সম্ভব ছিল, কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রসদব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও আকাশশক্তির সমতুল্য সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব ছিল না।

ভিয়েতনামাইজেশনের আরেকটি বৈপরীত্য ছিল—স্থলসেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে নিক্সন আকাশযুদ্ধ ও সীমান্তের বাইরের অভিযান বাড়ান। ১৯৬৯ সালের মার্চ থেকে কম্বোডিয়ায় উত্তর ভিয়েতনামের ঘাঁটি লক্ষ্য করে গোপন বি-৫২ বোমাবর্ষণ শুরু হয়। প্রশাসন মনে করেছিল, শত্রুর আশ্রয় ও রসদভান্ডারে আঘাত করে দক্ষিণ ভিয়েতনামকে প্রস্তুতির সময় দেওয়া যাবে। কিন্তু এই অভিযান কংগ্রেস ও জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখা হয় এবং যুদ্ধকে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে আরও বিস্তৃত করে।

১৯৭০ সালের এপ্রিলে মার্কিন ও দক্ষিণ ভিয়েতনামি বাহিনী কম্বোডিয়ায় প্রবেশ করে। তারা বিপুল অস্ত্র ও রসদ দখল করলেও উত্তর ভিয়েতনামের প্রধান বাহিনী আগেই গভীরে সরে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে অভিযানটি নতুন ক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং কেন্ট স্টেটসহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। নিক্সন দাবি করেন, এই পদক্ষেপ সেনা প্রত্যাহারকে নিরাপদ করবে; সমালোচকেরা বলেন, তিনি যুদ্ধ শেষ না করে ভৌগোলিকভাবে সম্প্রসারণ করছেন।

ভিয়েতনামাইজেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা আসে ১৯৭১ সালের অপারেশন লাম সন ৭১৯-এ। দক্ষিণ ভিয়েতনামি বাহিনী লাওসে প্রবেশ করে হো চি মিন ট্রেইলের রসদব্যবস্থা ধ্বংস করার চেষ্টা করে। মার্কিন স্থলসেনা সীমান্ত পার হতে পারেনি, তবে বিমান ও হেলিকপ্টার সহায়তা দিয়েছিল। প্রাথমিক অগ্রগতির পর এআরভিএন তীব্র উত্তর ভিয়েতনামি প্রতিরোধের মুখে পড়ে। সাঁজোয়া যান, বিমানবিধ্বংসী অস্ত্র ও কামানের আঘাতে তাদের যোগাযোগ ভেঙে যায় এবং প্রত্যাহার বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। হেলিকপ্টারে ঝুলে পালানো সৈনিকদের দৃশ্য অভিযানের সাফল্য নিয়ে সরকারি দাবিকে দুর্বল করে দেয়।

তবে ১৯৭২ সালের ইস্টার অফেনসিভ ভিয়েতনামাইজেশনের আরও জটিল চিত্র তুলে ধরে। উত্তর ভিয়েতনাম ট্যাংক ও কামানসহ প্রচলিত বাহিনী দিয়ে দক্ষিণে বৃহৎ আক্রমণ চালায়। প্রথম ধাক্কায় এআরভিএনের কিছু ইউনিট ভেঙে পড়লেও অন্যরা আন লক ও কনটুমের মতো স্থানে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মার্কিন উপদেষ্টা, ব্যাপক বিমান হামলা এবং বি-৫২ বোমাবর্ষণের সাহায্যে দক্ষিণ ভিয়েতনাম শেষ পর্যন্ত প্রধান অঞ্চলগুলো ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এতে বোঝা যায়, এআরভিএন যুদ্ধ করতে পারে, তবে মার্কিন আকাশ ও রসদ সহায়তা ছাড়া তার সক্ষমতা গুরুতরভাবে সীমিত।

সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বাধ্যতামূলক নিয়োগব্যবস্থার সংস্কারও করা হয়। লটারিভিত্তিক নিয়োগ চালু হওয়ায় কার যুদ্ধে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তা কিছুটা স্পষ্ট হয়। যুদ্ধফেরত সেনা ও বাধ্যতামূলক নিয়োগের সংখ্যা কমার ফলে অনেক পরিবারের ওপর সরাসরি চাপ হ্রাস পায় এবং যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের কিছু তীব্রতাও কমে। নিক্সনের রাজনৈতিক দৃষ্টিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ছিল—যুদ্ধ চলছিল, কিন্তু তার আমেরিকান মানবিক মূল্য ক্রমে জনদৃষ্টির বাইরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।

এই নীতির অর্থ দক্ষিণ ভিয়েতনামের জন্য শান্তি ছিল না। মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা কমলেও দক্ষিণ ভিয়েতনামি সেনা ও সাধারণ মানুষের মৃত্যু অব্যাহত থাকে। যুদ্ধের দায়িত্ব স্থানান্তরের সঙ্গে মৃত্যুর ভারও স্থানান্তরিত হয়। একই সময়ে নিক্সন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার প্যারিসে গোপন ও প্রকাশ্য আলোচনা চালিয়ে উত্তর ভিয়েতনামের ওপর সামরিক চাপ বজায় রাখেন। সেনা প্রত্যাহার, বোমাবর্ষণ ও কূটনীতি ছিল একই পরিকল্পনার পরস্পরসংযুক্ত অংশ।

ভিয়েতনামাইজেশন যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ দিয়েছিল, কিন্তু দক্ষিণ ভিয়েতনামকে স্বনির্ভর নিরাপত্তা দেয়নি। হ্যামবার্গার হিল ক্ষয়যুদ্ধের রাজনৈতিক অসারতা প্রকাশ করেছিল; লাম সন ৭১৯ দক্ষিণের বাহিনীর দুর্বলতা দেখিয়েছিল; আর ইস্টার অফেনসিভ প্রমাণ করেছিল যে মার্কিন বিমানশক্তি থাকলে তারা প্রতিরোধ করতে পারে। ফলে নীতিটি প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে কার্যকর হলেও স্থায়ী সামরিক ভারসাম্য তৈরিতে অসম্পূর্ণ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে নিজের সেনাদের ফিরিয়ে নেয়, কিন্তু এমন একটি রাষ্ট্র রেখে যায় যার বিশাল সেনাবাহিনী অস্ত্র, অর্থ, জ্বালানি ও আকাশ সহায়তার জন্য এখনো ওয়াশিংটনের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল ছিল।


আপনার পছন্দ হতে পারে