আমেরিকায় যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন: টেট, কেন্ট স্টেট ও পেন্টাগন পেপারসের প্রভাব
সিরিজ: ভিয়েতনাম যুদ্ধ
প্রতিবাদ, গুলিবর্ষণ ও ফাঁস হওয়া সত্যে বদলে যাওয়া আমেরিকা
ভিয়েতনাম যুদ্ধ শুধু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জঙ্গল, গ্রাম ও শহরে সংঘটিত হয়নি; এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, আদালত এবং রাজপথ। যুদ্ধের শুরুতে অধিকাংশ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ও সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্যকে বিশ্বাস করলেও ক্রমবর্ধমান সেনা হতাহত, বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ, টেলিভিশনে প্রচারিত ধ্বংসযজ্ঞ এবং সরকারি দাবির সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান জনমতকে বদলে দেয়। ১৯৬৮ সালের টেট অফেনসিভ, ১৯৭০ সালের কেন্ট স্টেট গুলিবর্ষণ এবং ১৯৭১ সালে পেন্টাগন পেপারস প্রকাশ এই পরিবর্তনের তিনটি শক্তিশালী মোড় ছিল। যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত শুধু যুদ্ধ থামানোর দাবি করেনি; এটি সরকারের সত্যবাদিতা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা এবং নাগরিকের নৈতিক দায়িত্বকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতনামবিরোধী প্রতিবাদ শুরু হয় টেট অফেনসিভেরও আগে। ১৯৬৫ সালে মার্কিন যুদ্ধসেনা মোতায়েন ও উত্তর ভিয়েতনামের ওপর নিয়মিত বোমাবর্ষণ শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে “টিচ-ইন” অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও যুদ্ধবিশেষজ্ঞরা রাতভর আলোচনায় মার্কিন নীতির ইতিহাস, ভিয়েতনামের জাতীয়তাবাদ এবং সামরিক হস্তক্ষেপের পরিণতি বিশ্লেষণ করতেন। স্টুডেন্টস ফর আ ডেমোক্রেটিক সোসাইটির মতো সংগঠন বড় মিছিল আয়োজন করে। প্রথম দিকে প্রতিবাদকারীরা সংখ্যালঘু ছিল এবং তাদের অনেককে দেশপ্রেমহীন বা সাম্যবাদীদের সহায়তাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হতো।
বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ তরুণদের কাছে যুদ্ধকে ব্যক্তিগত বাস্তবতায় পরিণত করে। কলেজে অধ্যয়নরত অনেক শিক্ষার্থী সাময়িক অব্যাহতি পেলেও দরিদ্র, শ্রমজীবী ও সংখ্যালঘু তরুণদের যুদ্ধে যাওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি ছিল। কেউ নিয়োগপত্র পুড়িয়েছিল, কেউ কানাডা বা অন্য দেশে চলে গিয়েছিল, আবার কেউ কারাবরণ করে সামরিক সেবায় অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এই অসমতা থেকে প্রচলিত হয়েছিল একটি তীব্র প্রশ্ন—কারা যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, আর কারা সেই সিদ্ধান্তের মূল্য রক্ত দিয়ে পরিশোধ করে?
নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কিছু নেতা যুদ্ধের বিরোধিতাকে বর্ণবৈষম্য ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে যুক্ত করেন। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ১৯৬৭ সালের এপ্রিলে প্রকাশ্যে ভিয়েতনাম যুদ্ধের নিন্দা করে বলেন, বিদেশে যুদ্ধের জন্য ব্যয় করা সম্পদ দেশে দারিদ্র্য দূরীকরণে ব্যবহার করা যেত। তাঁর অবস্থান নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মধ্যেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল, কারণ অনেকে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন। তবু কিং যুদ্ধ, বর্ণবাদ ও দারিদ্র্যকে একই সহিংস ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখতে শুরু করেন।
১৯৬৭ সালের অক্টোবরে হাজার হাজার প্রতিবাদকারী ওয়াশিংটনে সমবেত হয়ে পেন্টাগনের দিকে মিছিল করে। সেখানে শান্তিবাদী, শিক্ষার্থী, ধর্মীয় নেতা, উগ্র বামপন্থী, যুদ্ধফেরত সেনা এবং সাধারণ পরিবার—বিভিন্ন গোষ্ঠী অংশ নেয়। আন্দোলনটি একক নেতৃত্ব বা মতাদর্শের অধীন ছিল না। কেউ অবিলম্বে সেনা প্রত্যাহার চাইত, কেউ আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করতে চাইত, আবার কেউ মার্কিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বৃহত্তর পরিবর্তন দাবি করত। এই বৈচিত্র্য আন্দোলনকে বিস্তৃত করলেও অভ্যন্তরীণ বিরোধও সৃষ্টি করেছিল।
১৯৬৮ সালের টেট অফেনসিভ জনমতের পরিবর্তনকে নাটকীয়ভাবে ত্বরান্বিত করে। তার আগে জনসন প্রশাসন ও সামরিক নেতৃত্ব দাবি করছিল, শত্রু দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং যুদ্ধের শেষ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ভিয়েত কং ও উত্তর ভিয়েতনামের বাহিনী যখন সাইগন, হুয়েসহ দক্ষিণ ভিয়েতনামের শতাধিক স্থানে একযোগে আক্রমণ করে, তখন সেই আশাবাদী বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ভেঙে পড়ে। সামরিকভাবে কমিউনিস্ট বাহিনী বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও তারা প্রমাণ করে যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কাছাকাছি নয়।
টেলিভিশনে দূতাবাস প্রাঙ্গণে হামলা, সাইগনের রাস্তায় গুলিবিনিময়, হুয়ের ধ্বংসাবশেষ এবং আহত সেনাদের দৃশ্য সরাসরি আমেরিকার বসার ঘরে পৌঁছে যায়। দর্শকেরা সরকারি পরিসংখ্যান ও জেনারেলদের বক্তব্যের বদলে যুদ্ধের বিশৃঙ্খল বাস্তবতা দেখতে পান। জনসাধারণের মধ্যে যে ব্যবধানটি আগে থেকেই তৈরি হচ্ছিল, টেট সেটিকে ‘বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যবধান’ হিসেবে স্পষ্ট করে তোলে—সরকার যা বলছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে যা দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে গভীর পার্থক্য।
প্রখ্যাত সংবাদ উপস্থাপক ওয়াল্টার ক্রনকাইট ভিয়েতনাম সফরের পর যুদ্ধটি অচলাবস্থায় পৌঁছেছে এবং আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়ে আসাই যুক্তিসংগত বলে মন্তব্য করেন। একটি সংবাদ ভাষ্য একা জনমত বদলে দেয়নি, কিন্তু এটি মধ্যপন্থী আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান সন্দেহের প্রতীক হয়ে ওঠে। যুদ্ধের বিরোধিতা আর শুধু ছাত্র ও বামপন্থীদের বিষয় ছিল না; সাধারণ ভোটার, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় নেতা এবং প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিকদের মধ্যেও নীতি পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়।
১৯৬৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেও বিভাজন সৃষ্টি করে। ইউজিন ম্যাকার্থি যুদ্ধবিরোধী প্রার্থী হিসেবে তরুণদের সমর্থন পান এবং রবার্ট কেনেডিও জনসনের নীতির বিরুদ্ধে প্রার্থী হন। ৩১ মার্চ জনসন বোমাবর্ষণ সীমিত করা, আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া এবং পুনর্নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দেন। আগস্টে শিকাগোতে ডেমোক্র্যাটিক জাতীয় সম্মেলনের বাইরে প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে পুলিশের সহিংস সংঘর্ষ টেলিভিশনে প্রচারিত হলে মনে হয়, ভিয়েতনামের বিভাজন এবার আমেরিকার রাস্তায় এসে পৌঁছেছে।
রিচার্ড নিক্সন ১৯৬৮ সালের নির্বাচনে “সম্মানজনক শান্তি” ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় এসে যুদ্ধ অবিলম্বে শেষ করেননি। তিনি ধীরে ধীরে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে দক্ষিণ ভিয়েতনামি বাহিনীর হাতে যুদ্ধের দায়িত্ব দেওয়ার ভিয়েতনামাইজেশন নীতি গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে উত্তর ভিয়েতনামের ওপর চাপ বাড়াতে বোমাবর্ষণ ও গোপন সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখেন। ফলে একদিকে সেনা দেশে ফিরছিল, অন্যদিকে যুদ্ধ কম্বোডিয়া ও লাওসে বিস্তৃত হচ্ছিল।
১৯৬৯ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরোধী মোরাটোরিয়াম ও ওয়াশিংটনের বিশাল সমাবেশে লাখো মানুষ অংশ নেয়। এগুলো প্রমাণ করে যে আন্দোলন শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমাবদ্ধ নেই। ভিয়েতনামফেরত সাবেক সেনাদের উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছিল। যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানুষ যখন পদক ফিরিয়ে দেয় বা প্রকাশ্যে সামরিক নীতির সমালোচনা করে, তখন প্রতিবাদকারীদের দেশবিরোধী বলে প্রত্যাখ্যান করা কঠিন হয়ে পড়ে।
১৯৭০ সালের ৩০ এপ্রিল নিক্সন কম্বোডিয়ায় মার্কিন ও দক্ষিণ ভিয়েতনামি বাহিনীর অভিযান ঘোষণা করেন। প্রশাসন দাবি করে, সীমান্তের ওপারে কমিউনিস্ট ঘাঁটি ধ্বংস করে সেনা প্রত্যাহারকে নিরাপদ করাই এর লক্ষ্য। কিন্তু বহু আমেরিকানের কাছে এটি যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতির বিপরীতে সংঘাতকে আরেক দেশে বিস্তৃত করার প্রমাণ ছিল। সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট ও প্রতিবাদ শুরু হয়।
ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কেন্ট স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক দিনের উত্তেজনা, শহরে ভাঙচুর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামরিক প্রশিক্ষণ ভবনে অগ্নিসংযোগের পর জাতীয় রক্ষীবাহিনী মোতায়েন করা হয়। ৪ মে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে রক্ষীবাহিনীর সদস্যরা হঠাৎ গুলি চালায়। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ৬৭টি গুলি ছোড়া হয়। চার শিক্ষার্থী—অ্যালিসন ক্রাউস, জেফরি মিলার, স্যান্ড্রা শুয়ার ও উইলিয়াম শ্রোডার—নিহত হন এবং নয়জন আহত হন। নিহতদের দুজন প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছিলেন না; তারা ক্লাসের পথে বা ঘটনাটি দেখছিলেন।
একজন আহত ছাত্রের পাশে হাঁটু গেড়ে কাঁদতে থাকা তরুণীর আলোকচিত্র কেন্ট স্টেটের প্রতীকে পরিণত হয়। নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সরকারি বাহিনীর গুলিতে শিক্ষার্থী নিহত হওয়া আমেরিকাকে স্তম্ভিত করে। শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং লাখো শিক্ষার্থী ধর্মঘটে অংশ নেয়। যে সরকার বিদেশে স্বাধীনতা রক্ষার কথা বলছিল, সেই সরকারের অস্ত্র দেশে প্রতিবাদকারী তরুণদের দিকে ঘুরে যাওয়ার দৃশ্য যুদ্ধের নৈতিক বৈধতাকে আরও দুর্বল করে দেয়।
কেন্ট স্টেটের মাত্র দশ দিন পর মিসিসিপির জ্যাকসন স্টেট কলেজে পুলিশ গুলি চালিয়ে দুই কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীকে হত্যা করে এবং আরও অনেকে আহত হয়। ঘটনাটি কেন্ট স্টেটের তুলনায় কম জাতীয় মনোযোগ পেয়েছিল, যা সংবাদমাধ্যম ও জনসহানুভূতিতে বর্ণগত বৈষম্যের প্রশ্ন উত্থাপন করে। দুটি ঘটনা মিলিয়ে দেখায় যে যুদ্ধবিরোধী অস্থিরতা, রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগ এবং আমেরিকার পুরোনো বর্ণসংকট পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল।
১৯৭১ সালে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আরও বড় আঘাত আসে পেন্টাগন পেপারস প্রকাশের মাধ্যমে। প্রতিরক্ষা সচিব রবার্ট ম্যাকনামারার নির্দেশে তৈরি গোপন এই গবেষণায় ১৯৪৫ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইতিহাস বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। গবেষণায় দেখা যায়, ধারাবাহিক কয়েকটি প্রশাসন প্রকাশ্য বক্তব্যের আড়ালে যুদ্ধের সম্ভাবনা, ব্যর্থতা ও সামরিক বিস্তারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জনগণকে অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিল।
গবেষণায় কাজ করা সামরিক বিশ্লেষক ড্যানিয়েল এলসবার্গ যুদ্ধের বিরোধী হয়ে নথিগুলোর অনুলিপি সংবাদমাধ্যমকে দেন। ১৯৭১ সালের জুনে নিউইয়র্ক টাইমস নথির অংশ প্রকাশ শুরু করলে নিক্সন প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে প্রকাশনা বন্ধ করতে আদালতের আশ্রয় নেয়। পরে ওয়াশিংটন পোস্টসহ অন্যান্য পত্রিকাও নথি প্রকাশ করে। সর্বোচ্চ আদালত সরকারের আগাম নিষেধাজ্ঞার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে সংবাদপত্রগুলোর প্রকাশনা অব্যাহত রাখার অধিকার নিশ্চিত করে।
পেন্টাগন পেপারস যুদ্ধের সব গোপন তথ্য প্রকাশ করেনি এবং নিক্সন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোও মূল গবেষণার আওতায় ছিল না। তবু এটি নিশ্চিত করে যে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে জনগণের সন্দেহ ভিত্তিহীন ছিল না। বহু বছর ধরে নেতারা নিজেদের ব্যক্তিগত সংশয় ও গোপন পরিকল্পনার চেয়ে জনসাধারণের সামনে অধিক আশাবাদী চিত্র তুলে ধরেছিলেন। নথিগুলো প্রমাণ করে, বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যবধান কেবল যুদ্ধের বিভ্রান্তি থেকে জন্মায়নি; কিছু ক্ষেত্রে তা ছিল সচেতন রাজনৈতিক গোপনীয়তা ও প্রতারণার ফল।
যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন একা যুক্তরাষ্ট্রকে ভিয়েতনাম থেকে প্রত্যাহার করেনি। যুদ্ধক্ষেত্রের ব্যয়, সেনা হতাহত, দক্ষিণ ভিয়েতনামের দুর্বলতা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, নির্বাচনী রাজনীতি এবং নিক্সনের কৌশল—সবই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। আন্দোলনের মধ্যেও সহিংসতা, অতিরিক্ত উগ্র বক্তব্য এবং মার্কিন সেনাদের প্রতি অন্যায় আচরণের ঘটনা ছিল, যা জনসমর্থন ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। অধিকাংশ প্রতিবাদকারী অবশ্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে নীতি পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিল এবং বহু মানুষ যুদ্ধের বিরোধিতা করেও সেখানে কর্মরত সাধারণ সেনাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল।
টেট অফেনসিভ দেখিয়েছিল সরকারি বিজয়ের দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়, কেন্ট স্টেট দেখিয়েছিল যুদ্ধের বিভাজন আমেরিকার ভেতরেও প্রাণ নিতে পারে, আর পেন্টাগন পেপারস প্রকাশ করেছিল সেই অবিশ্বাসের পেছনে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই তিন ঘটনার সম্মিলিত প্রভাবে যুদ্ধের প্রশ্নটি সামরিক কৌশল থেকে গণতান্ত্রিক জবাবদিহির প্রশ্নে পরিণত হয়। জনসাধারণ জানতে চেয়েছিল—রাষ্ট্র কখন যুদ্ধ শুরু করতে পারে, কত দিন সত্য গোপন রাখতে পারে এবং ভুল নীতির জন্য কে জবাব দেবে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষ হলেও সরকার, সংবাদমাধ্যম ও নাগরিকের সম্পর্ক নিয়ে সেই প্রশ্নগুলো আমেরিকার রাজনীতিতে আজও গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।
কম্বোডিয়া ও লাওসে ভিয়েতনাম যুদ্ধ: গোপন বোমাবর্ষণ, হো চি মিন ট্রেইল ও লাম সন ৭১৯
হিরোশিমা-নাগাসাকি বিতর্ক ও উত্তরাধিকার: কীভাবে শুরু হয়েছিল পারমাণবিক অস্ত্রের যুগ?
হিরোশিমা ও নাগাসাকির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব: তেজস্ক্রিয়তা, ক্যানসার ও পুনর্গঠনের ইতিহাস
সোভিয়েত আক্রমণ ও জাপানের আত্মসমর্পণ: পারমাণবিক বোমা কতটা প্রভাব ফেলেছিল?