বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

হুয়ে যুদ্ধ ও মাই লাই গণহত্যা: ভিয়েতনাম যুদ্ধের অন্ধকার অধ্যায়

সিরিজ: ভিয়েতনাম যুদ্ধ

হুয়ে যুদ্ধ ও মাই লাই গণহত্যা: ভিয়েতনাম যুদ্ধের অন্ধকার অধ্যায়
হুয়ে ও মাই লাইয়ে যুদ্ধের নির্মম মানবিক বিপর্যয়

১৯৬৮ সাল ভিয়েতনাম যুদ্ধকে শুধু সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে বদলে দেয়নি; এটি যুদ্ধের নৈতিক অন্ধকারও বিশ্বের সামনে উন্মুক্ত করেছিল। টেট অফেনসিভের সময় হুয়ে শহরে প্রায় এক মাসের রক্তক্ষয়ী নগরযুদ্ধ, কমিউনিস্ট বাহিনীর হাতে বন্দী ও সন্দেহভাজন বিরোধীদের হত্যা, শহর পুনর্দখলে ব্যাপক গোলাবর্ষণ এবং কয়েক সপ্তাহ পর মাই লাইয়ে মার্কিন সেনাদের হাতে নিরস্ত্র গ্রামবাসীদের গণহত্যা—সব মিলিয়ে যুদ্ধটি কত গভীরভাবে মানবিক সীমা অতিক্রম করেছিল, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। হুয়ে ও মাই লাই ভিন্ন পরিস্থিতিতে সংঘটিত দুটি ঘটনা হলেও উভয়ই দেখিয়েছিল, শত্রুকে অমানুষ হিসেবে দেখার মানসিকতা শেষ পর্যন্ত বেসামরিক মানুষকেই সবচেয়ে অসহায় লক্ষ্যে পরিণত করে।

১৯৬৮ সালের ৩১ জানুয়ারি টেট অফেনসিভ শুরু হলে উত্তর ভিয়েতনামের সেনা ও ভিয়েত কং দক্ষিণ ভিয়েতনামের প্রাচীন রাজধানী হুয়েতে আকস্মিক আক্রমণ চালায়। ঐতিহাসিক দুর্গ, রাজপ্রাসাদ, বৌদ্ধ মন্দির ও পুরোনো বসতিতে সমৃদ্ধ শহরটি দক্ষিণ ভিয়েতনামের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। আক্রমণকারীরা দ্রুত পারফিউম নদীর উত্তর তীরের পুরোনো দুর্গাঞ্চল এবং শহরের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়। কেবল কয়েকটি মার্কিন ও দক্ষিণ ভিয়েতনামি সামরিক অবস্থান তাদের দখলের বাইরে থেকে যায়।

মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব প্রথমে আক্রমণের ব্যাপ্তি বুঝতে পারেনি। হুয়েতে অল্পসংখ্যক শত্রু অনুপ্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। বাস্তবে সেখানে উত্তর ভিয়েতনামের নিয়মিত বাহিনী ও ভিয়েত কংয়ের হাজার হাজার যোদ্ধা পরিকল্পিত প্রতিরক্ষা গড়ে তুলেছিল। তারা পাথরের প্রাচীর, ঘরবাড়ি, মন্দির, সরু রাস্তা ও দুর্গের পুরোনো স্থাপনা ব্যবহার করে শক্ত অবস্থান তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের বাহিনীকে বাড়ি থেকে বাড়ি, কক্ষ থেকে কক্ষ এবং রাস্তা থেকে রাস্তায় লড়াই করতে হয়।

ভিয়েতনামে যুদ্ধরত অনেক মার্কিন সেনার জন্য এটি ছিল একেবারে নতুন ধরনের লড়াই। জঙ্গলযুদ্ধে বিমান ও কামানের সাহায্যে দূর থেকে আঘাত করা গেলেও ঘনবসতিপূর্ণ শহরে একই শক্তি ব্যবহার করলে বিপুল বেসামরিক প্রাণহানি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংসের আশঙ্কা ছিল। প্রথমদিকে গোলাবর্ষণে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কিন্তু প্রতিরোধ তীব্র হওয়ায় ধীরে ধীরে ট্যাংক, কামান, নৌবাহিনীর গোলা ও বিমান হামলার ব্যবহার বাড়ে। হুয়ে পুনর্দখলের সামরিক প্রয়োজন দ্রুত শহরটিকে রক্ষা করার রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দক্ষিণাংশে মার্কিন মেরিন ও দক্ষিণ ভিয়েতনামি সেনারা ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়। পারফিউম নদীর উত্তরের দুর্গাঞ্চলে লড়াই আরও কঠিন ছিল। মোটা প্রাচীর, গোপন অবস্থান এবং সংকীর্ণ প্রবেশপথ আক্রমণকারীদের গতি কমিয়ে দেয়। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে দক্ষিণ ভিয়েতনামের পতাকা আবার দুর্গের ওপর উত্তোলিত হয় এবং কমিউনিস্ট বাহিনী শহর ছেড়ে সরে যায়। প্রায় এক মাসের যুদ্ধে উভয় পক্ষের বিপুলসংখ্যক সেনা নিহত হয়; হাজার হাজার বেসামরিক মানুষও প্রাণ হারায় বা আহত হয়। শহরের বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং অসংখ্য পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে।

হুয়ে পুনর্দখলের পর শহর ও আশপাশে একের পর এক গণকবর আবিষ্কৃত হয়। টেট আক্রমণের সময় কমিউনিস্ট বাহিনী দক্ষিণ ভিয়েতনামি সরকারি কর্মকর্তা, সৈনিক, পুলিশ, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, বিদেশি নাগরিক এবং সন্দেহভাজন রাজনৈতিক বিরোধীদের তালিকা ধরে আটক করেছিল। কারও বিরুদ্ধে সাইগন সরকার বা যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার অভিযোগ ছিল; আবার অনেককে তাদের পেশা, পারিবারিক সম্পর্ক বা সামাজিক অবস্থানের কারণেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কমিউনিস্ট বাহিনী প্রত্যাহারের আগে বহু বন্দীকে হত্যা করা হয়।

হুয়ের মৃত্যুসংখ্যা ও প্রত্যেক ব্যক্তির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কেউ পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ডের শিকার হয়েছিলেন, কেউ বন্দী অবস্থায় মার্কিন ও দক্ষিণ ভিয়েতনামি গোলাবর্ষণে মারা যান এবং কাউকে পশ্চাদপসরণের সময় হত্যা করা হয়। বিভিন্ন হিসাবে নিখোঁজ ও নিহতের সংখ্যা ভিন্ন হলেও হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ ও বন্দীর মৃত্যু ঘটেছিল এবং তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছিল—এ বিষয়ে ঐতিহাসিক প্রমাণ শক্তিশালী। হুয়ের গণকবর কমিউনিস্ট পক্ষের রাজনৈতিক সহিংসতার সবচেয়ে আলোচিত প্রমাণগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

তবে হুয়ের বেসামরিক বিপর্যয়ের জন্য শুধু বন্দী হত্যাই দায়ী ছিল না। শহর পুনর্দখলের সময় ভারী অস্ত্র ব্যবহারে বসতবাড়ি, হাসপাতাল, বাজার ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুদ্ধরত পক্ষগুলো বেসামরিক এলাকায় অবস্থান নেওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কেউ কমিউনিস্ট বাহিনীর প্রতিশোধের ভয়ে, কেউ গোলাবর্ষণে, আবার কেউ খাবার ও চিকিৎসার অভাবে মারা যায়। হুয়েতে কোনো একক সহিংসতা নয়, বরং দখল, রাজনৈতিক প্রতিশোধ ও নগরযুদ্ধের সম্মিলিত আঘাত সাধারণ মানুষকে বিপর্যস্ত করেছিল।

হুয়ের যুদ্ধ শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর দক্ষিণ ভিয়েতনামের কুয়াং নগাই প্রদেশে আরও একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। অঞ্চলটি ভিয়েত কংয়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। মার্কিন সেনারা সেখানে মাইন, ফাঁদ ও অতর্কিত হামলায় সহযোদ্ধাদের হারিয়েছিল, কিন্তু প্রায়ই দৃশ্যমান শত্রুর মুখোমুখি হতে পারত না। দীর্ঘদিনের ভয়, ক্ষোভ, হতাশা এবং যোদ্ধা ও সাধারণ কৃষকের মধ্যে পার্থক্য করতে না পারার প্রবণতা সেনাদের মনোভাবকে ক্রমে নিষ্ঠুর করে তুলেছিল।

১৯৬৮ সালের ১৬ মার্চ মার্কিন সেনাবাহিনীর চার্লি কোম্পানি সন মি গ্রামের মাই লাই নামে পরিচিত একটি অংশে অভিযান চালায়। তাদের বলা হয়েছিল, সেখানে ভিয়েত কংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট অবস্থান করছে এবং সাধারণ বাসিন্দারা বাজারে চলে যাবে। বাস্তবে সেনারা প্রবেশ করে প্রধানত নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষকে দেখতে পায়। উল্লেখযোগ্য সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখোমুখি না হওয়া সত্ত্বেও সৈন্যরা গ্রামবাসীদের ঘর থেকে বের করে জড়ো করতে শুরু করে।

এরপর শুরু হয় নির্বিচার হত্যা। নিরস্ত্র মানুষকে কাছ থেকে গুলি করা হয়, দলবদ্ধভাবে খাদ বা সেচখালে নিয়ে হত্যা করা হয় এবং ঘরবাড়ি ও খাদ্যশস্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নারী ও কিশোরীদের যৌন নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে। গবাদিপশু হত্যা এবং পানীয় জলের উৎস নষ্ট করা হয়। নিহতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে হিসাবভেদ আছে; মার্কিন তদন্তে ৩৪৭ এবং ভিয়েতনামি স্মারকে ৫০৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই ছিল নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। সেখানে প্রত্যাশিত ভিয়েত কং বাহিনী কিংবা বড় অস্ত্রভান্ডার পাওয়া যায়নি।

সব সেনা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়নি। কেউ গুলি করতে অস্বীকার করেছিলেন, কেউ সরাসরি হত্যায় যুক্ত না থেকেও তা থামানোর চেষ্টা করেননি। কিন্তু হেলিকপ্টার পাইলট হিউ থম্পসন জুনিয়র এবং তাঁর দুই ক্রু সদস্য গ্লেন আন্দ্রেওটা ও লরেন্স কলবার্ন সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করেন। ওপর থেকে আহত ও নিহত গ্রামবাসী দেখে থম্পসন বুঝতে পারেন, এটি শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ নয়। তিনি নিজের হেলিকপ্টারটি মার্কিন সেনা ও পালিয়ে থাকা গ্রামবাসীদের মাঝখানে নামান এবং প্রয়োজনে নিজের দেশের সেনাদের বিরুদ্ধেও অস্ত্র ব্যবহার করার জন্য ক্রুদের প্রস্তুত থাকতে বলেন।

থম্পসন কয়েকজন বেসামরিক মানুষকে আশ্রয় থেকে বের করে অন্য হেলিকপ্টারে নিরাপদ স্থানে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। আন্দ্রেওটা একটি খাদ থেকে জীবিত শিশুকে উদ্ধার করেন। থম্পসন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে হত্যার খবর জানালে অভিযান থামানোর নির্দেশ আসে। তাঁদের হস্তক্ষেপ কিছু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছিল, কিন্তু ততক্ষণে গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা নিহত হয়েছিলেন। মাই লাইয়ের নির্মমতার মধ্যেও থম্পসন ও তাঁর সহকর্মীরা দেখিয়েছিলেন যে সামরিক আদেশ, দলীয় আনুগত্য ও নৈতিক দায়িত্ব এক বিষয় নয়।

গণহত্যার পর সেনাবাহিনীর প্রাথমিক প্রতিবেদনে অভিযানটিকে সফল লড়াই হিসেবে দেখানো হয়। বহু ভিয়েত কং নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয় এবং বেসামরিক মৃত্যুর প্রকৃত তথ্য গোপন রাখা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা সেনা ও কর্মকর্তাদের একটি অংশ মিথ্যা প্রতিবেদন বা নীরবতার মাধ্যমে এই আড়াল বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে হেলিকপ্টারের অস্ত্রচালক রোনাল্ড রাইডেনআওয়ার পরে বিভিন্ন সাক্ষীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কংগ্রেস, প্রতিরক্ষা বিভাগ ও কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠান। তাঁর প্রচেষ্টায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।

১৯৬৯ সালে অনুসন্ধানী সাংবাদিক সিমোর হার্শ ঘটনাটি প্রকাশ করলে মাই লাই বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেনাবাহিনীর আলোকচিত্রী রোনাল্ড হেবার্লের তোলা ছবি প্রকাশিত হলে সরকারি ভাষার আড়ালে লুকিয়ে থাকা হত্যাকাণ্ড অস্বীকার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। মৃত নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দৃশ্য মার্কিন জনগণকে যুদ্ধের নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন করতে বাধ্য করে। যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের কাছে মাই লাই ছিল বিচ্ছিন্ন অপরাধের চেয়েও বড় কিছু—এটি এমন এক যুদ্ধনীতির প্রতীক, যেখানে সন্দেহভাজন গ্রাম, নিহতের হিসাব এবং শত্রুর সংখ্যা মানুষের ব্যক্তিগত পরিচয়কে মুছে দিয়েছিল।

বহু সেনা ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বিবেচিত হলেও শেষ পর্যন্ত প্লাটুন নেতা লেফটেন্যান্ট উইলিয়াম ক্যালি একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত হন। ১৯৭১ সালে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের হস্তক্ষেপে তিনি কারাগারের বদলে গৃহবন্দী থাকেন। ধারাবাহিকভাবে সাজা কমানো হয় এবং কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি মুক্তি পান। এত বড় হত্যাকাণ্ডের পর মাত্র একজনের সীমিত শাস্তি বিচার ও সামরিক জবাবদিহি নিয়ে গভীর প্রশ্ন সৃষ্টি করে।

মাই লাইকে শুধু কয়েকজন নিয়ন্ত্রণহীন সৈন্যের বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে ব্যাখ্যা করলে বৃহত্তর প্রেক্ষাপট হারিয়ে যায়। সার্চ অ্যান্ড ডেস্ট্রয় অভিযান, নিহত শত্রুর সংখ্যা দিয়ে সাফল্য পরিমাপ, “মুক্ত গোলাবর্ষণ এলাকা”, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং গ্রামবাসীদের সম্ভাব্য শত্রু হিসেবে দেখার সংস্কৃতি এমন অপরাধের পরিবেশ তৈরি করেছিল। তবে এই প্রেক্ষাপট কোনো ব্যক্তির দায় কমায় না। বরং দেখায়, অমানবিক নীতি ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত একত্রিত হলে সামরিক সংগঠনের ভেতরে গণহত্যা কীভাবে সম্ভব হয়ে ওঠে।

হুয়ে ও মাই লাইকে একই ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না। হুয়েতে দীর্ঘ নগরযুদ্ধের মধ্যে কমিউনিস্ট বাহিনী রাজনৈতিক বিরোধী ও বন্দীদের হত্যা করেছিল; মাই লাইয়ে মার্কিন সেনারা সামরিক প্রতিরোধ ছাড়াই একটি গ্রামের নিরস্ত্র বাসিন্দাদের পরিকল্পিতভাবে একত্র করে হত্যা করেছিল। দায়ী পক্ষ, পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্য আলাদা হলেও দুই ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক বা সামরিক শ্রেণিতে ফেলে তাদের ব্যক্তিমানবিক অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়েছিল।

হুয়ে ও মাই লাইয়ের ইতিহাস ভিয়েতনাম যুদ্ধের কোনো পক্ষকে সহজ নৈতিক বিজয়ীর আসনে বসতে দেয় না। হুয়ের গণকবর কমিউনিস্ট বিপ্লবী সহিংসতার নির্মমতা প্রকাশ করে, আর মাই লাই প্রমাণ করে উন্নত সামরিক শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দাবিও যুদ্ধাপরাধ ঠেকানোর নিশ্চয়তা নয়। একই সঙ্গে হিউ থম্পসনের ভূমিকা মনে করিয়ে দেয়, ভয়াবহ ব্যবস্থার মধ্যেও ব্যক্তি অন্যায় আদেশ প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। এই ঘটনাগুলোর স্থায়ী শিক্ষা হলো—যুদ্ধক্ষেত্রে সত্য গোপন করা সম্ভব হলেও নিহত মানুষের স্মৃতি, সাক্ষ্য ও নৈতিক দায় শেষ পর্যন্ত মুছে ফেলা যায় না।


আপনার পছন্দ হতে পারে