খে সান ও টেট অফেনসিভ: ১৯৬৮ সালের আক্রমণ যেভাবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়েছিল
সিরিজ: ভিয়েতনাম যুদ্ধ
টেটের আকস্মিক আক্রমণে বদলে যাওয়া ভিয়েতনাম যুদ্ধ
১৯৬৮ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্ব দাবি করছিল, ভিয়েতনাম যুদ্ধে অগ্রগতি অর্জিত হচ্ছে এবং শত্রুর পরাজয় ক্রমেই কাছে আসছে। মার্কিন জনসাধারণকে বলা হচ্ছিল যে উত্তর ভিয়েতনাম ও ভিয়েত কংয়ের ক্ষয়ক্ষতি তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাকে ভেঙে দিচ্ছে। কিন্তু জানুয়ারিতে খে সান সামরিক ঘাঁটির অবরোধ এবং কয়েক দিন পর দক্ষিণ ভিয়েতনামজুড়ে টেট অফেনসিভের আকস্মিক বিস্ফোরণ সেই আশাবাদী চিত্রকে ধ্বংস করে দেয়। যুদ্ধক্ষেত্রে কমিউনিস্ট বাহিনী শেষ পর্যন্ত বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে তারা অসাধারণ প্রভাব সৃষ্টি করেছিল। টেট অফেনসিভ প্রমাণ করে যে একটি অভিযান সামরিকভাবে ব্যর্থ হয়েও কৌশলগতভাবে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
খে সান ছিল দক্ষিণ ভিয়েতনামের উত্তর-পশ্চিমে, লাওস সীমান্তের কাছে পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা একটি বিচ্ছিন্ন মার্কিন মেরিন ঘাঁটি। ঘাঁটিটি অসামরিক অঞ্চল এবং হো চি মিন ট্রেইলের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর কাছাকাছি হওয়ায় গোয়েন্দা নজরদারি ও উত্তর ভিয়েতনামের চলাচল বাধাগ্রস্ত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হতো। তবে এর দুর্গম অবস্থান, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং সীমিত সড়ক যোগাযোগ এটিকে সহজেই বিচ্ছিন্ন করার সুযোগও সৃষ্টি করেছিল।
১৯৬৭ সালের শেষদিকে উত্তর ভিয়েতনামের নিয়মিত বাহিনীর কয়েকটি ডিভিশন খে সানের চারপাশে অবস্থান নিতে শুরু করে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছিল, বড় আক্রমণের প্রস্তুতি চলছে। প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন ও সামরিক কর্মকর্তাদের মনে দিয়েন বিয়েন ফুর স্মৃতি ফিরে আসে, যেখানে ১৯৫৪ সালে ভিয়েত মিন একটি বিচ্ছিন্ন ফরাসি ঘাঁটি অবরোধ করে ধ্বংস করেছিল। জনসন বারবার নিশ্চিত হতে চাইছিলেন যে খে সান আরেকটি দিয়েন বিয়েন ফুতে পরিণত হবে না। ঘাঁটিটির প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা হয় এবং আশপাশে ব্যাপক বোমাবর্ষণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
১৯৬৮ সালের ২১ জানুয়ারি উত্তর ভিয়েতনামি বাহিনী মর্টার, রকেট ও কামানের গোলায় খে সানে আঘাত করে। একটি গোলা প্রধান গোলাবারুদ গুদামে আঘাত করলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর ঘাঁটির চারপাশের পাহাড়ি অবস্থান ও যোগাযোগপথ নিয়ে তীব্র লড়াই শুরু হয়। প্রায় ছয় হাজার মেরিন ও সহযোগী সেনা ঘাঁটিতে অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়ে। খারাপ আবহাওয়া ও শত্রুর গোলাবর্ষণের মধ্যে আকাশপথে খাদ্য, গোলাবারুদ ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানো হতো। কখনো বিমান অবতরণ করত, আবার কখনো নিচু দিয়ে উড়ে প্যারাসুটে রসদ ফেলত।
খে সান রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র অপারেশন নায়াগ্রা নামে বিপুল আকাশ ও কামান সহায়তা ব্যবহার করে। সেন্সর, গোয়েন্দা তথ্য এবং পর্যবেক্ষণ বিমানের সাহায্যে উত্তর ভিয়েতনামি অবস্থান শনাক্ত করা হতো। বি-৫২ বোমারু বিমান ঘাঁটির চারপাশে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালায়। পাহাড় কেঁপে উঠত, জঙ্গল ছিন্নভিন্ন হয়ে যেত এবং উত্তর ভিয়েতনামের সমাবেশস্থল ও রসদপথে প্রচণ্ড ক্ষতি হতো। মার্কিন অগ্নিশক্তির কারণে আক্রমণকারীরা ফরাসিদের বিরুদ্ধে দিয়েন বিয়েন ফুর মতো ঘাঁটিটি সম্পূর্ণ দখল করতে পারেনি।
খে সানের অবরোধের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। এটি কি ঘাঁটি দখলের আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল, নাকি দক্ষিণ ভিয়েতনামের শহরগুলো থেকে মার্কিন সেনাদের দূরে টেনে নেওয়ার জন্য একটি বিভ্রান্তিমূলক অভিযান—এর নিশ্চিত উত্তর নেই। সম্ভবত উত্তর ভিয়েতনামের পরিকল্পনায় দুটি লক্ষ্যই ছিল। খে সানের দিকে বিপুল মনোযোগ ও বাহিনী কেন্দ্রীভূত থাকার সময় দেশের অন্যত্র অনেক বড় আক্রমণের প্রস্তুতি গোপনে চলছিল। বিশ্বের চোখ যখন পাহাড়ি একটি ঘাঁটির দিকে নিবদ্ধ, তখন ভিয়েত কং দক্ষিণ ভিয়েতনামের শহরগুলোর ভেতরে অস্ত্র, যোদ্ধা ও তথ্য সংগ্রহ করছিল।
ভিয়েতনামি চান্দ্র নববর্ষ বা “টেট” ছিল দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। ঐতিহ্যগতভাবে এ সময় যুদ্ধবিরতি পালনের প্রত্যাশা ছিল। বহু দক্ষিণ ভিয়েতনামি সেনাকে ছুটি দেওয়া হয়েছিল এবং শহরগুলো উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল। উত্তর ভিয়েতনাম ও জাতীয় মুক্তি ফ্রন্ট এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দেশব্যাপী সমন্বিত আক্রমণের পরিকল্পনা করে। কিছু এলাকায় সময়সূচির ভুলে ৩০ জানুয়ারি আক্রমণ শুরু হলেও প্রধান অভিযান শুরু হয় ৩১ জানুয়ারির ভোরে।
ভিয়েত কং ও উত্তর ভিয়েতনামের বাহিনী দক্ষিণ ভিয়েতনামের শতাধিক শহর, নগর, জেলা সদর, বিমানঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় একযোগে হামলা চালায়। সাইগন, হুয়ে, দা নাং, ক্যান থোসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ শহরে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। আক্রমণের ব্যাপ্তি মার্কিন ও দক্ষিণ ভিয়েতনামি নেতৃত্বকে হতবাক করে দেয়। এতদিন গেরিলা যুদ্ধকে প্রধানত গ্রাম ও জঙ্গলের সংঘাত হিসেবে দেখা হলেও এবার যুদ্ধ রাজধানীর সড়ক, সরকারি দপ্তর এবং সাধারণ মানুষের বাড়ির সামনে পৌঁছে যায়।
সাইগনে ভিয়েত কংয়ের ছোট একটি দল মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। তারা দূতাবাসের মূল ভবন দখল করতে পারেনি এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিহত বা বন্দী হয়। সামরিক দৃষ্টিতে হামলাটি ব্যর্থ ছিল। কিন্তু বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত বলে বিবেচিত মার্কিন স্থাপনায় শত্রু অনুপ্রবেশের দৃশ্য টেলিভিশনে প্রচারিত হলে এর প্রতীকী প্রভাব বিপুল হয়। দর্শকদের মনে প্রশ্ন জাগে—সরকার যদি বলে থাকে শত্রু পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে, তবে তারা কীভাবে সাইগনের কেন্দ্রস্থলে মার্কিন দূতাবাস পর্যন্ত পৌঁছে গেল?
সবচেয়ে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী নগরযুদ্ধ ঘটে প্রাচীন রাজধানী হুয়েতে। উত্তর ভিয়েতনামি ও ভিয়েত কং বাহিনী শহরের অধিকাংশ এবং ঐতিহাসিক দুর্গ এলাকা দখল করে প্রায় এক মাস প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বাড়ি থেকে বাড়ি ও রাস্তা থেকে রাস্তায় যুদ্ধ চলে। মার্কিন ও দক্ষিণ ভিয়েতনামি বাহিনী বিমান, কামান ও ট্যাংকের সহায়তায় ধীরে ধীরে শহর পুনর্দখল করে। সংঘর্ষে হুয়ের বহু ঐতিহাসিক ভবন ও আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয় এবং বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ নিহত বা বাস্তুচ্যুত হন।
হুয়ে দখলের সময় কমিউনিস্ট বাহিনী সরকারি কর্মকর্তা, সৈনিক, ধর্মীয় নেতা এবং তাদের সন্দেহভাজন বিরোধীদের আটক করে। শহর পুনর্দখলের পর বিভিন্ন স্থানে গণকবর আবিষ্কৃত হয়। নিহতদের সঠিক সংখ্যা ও মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বহু বন্দীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল—এ বিষয়ে শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে। একই সঙ্গে শহর পুনর্দখলে মার্কিন ও দক্ষিণ ভিয়েতনামি গোলাবর্ষণেও বিপুল বেসামরিক প্রাণহানি ঘটে। হুয়ের জনগণ দুই পক্ষের সামরিক উদ্দেশ্য, রাজনৈতিক প্রতিশোধ এবং নগরযুদ্ধের অগ্নিশক্তির মাঝখানে আটকা পড়েছিল।
উত্তর ভিয়েতনামের নেতৃত্ব আশা করেছিল, আক্রমণের ফলে দক্ষিণ ভিয়েতনামের জনগণ সাইগন সরকারের বিরুদ্ধে গণবিদ্রোহে যোগ দেবে এবং দক্ষিণের সেনাবাহিনী ভেঙে পড়বে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। অধিকাংশ শহরে সাধারণ মানুষ সংগঠিত বিদ্রোহে যোগ দেয়নি এবং দক্ষিণ ভিয়েতনামি সেনাবাহিনীও সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েনি। প্রাথমিক বিস্ময় কাটিয়ে মার্কিন ও দক্ষিণ ভিয়েতনামি বাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালায়। শহরে খোলা লড়াইয়ে নামার কারণে ভিয়েত কংয়ের অভিজ্ঞ যোদ্ধা ও গোপন রাজনৈতিক সংগঠকদের বিরাট অংশ নিহত হয়।
সামরিক বিচারে টেট অফেনসিভ ছিল কমিউনিস্ট পক্ষের ব্যয়বহুল ব্যর্থতা। তারা স্থায়ীভাবে কোনো প্রধান শহর ধরে রাখতে পারেনি, প্রত্যাশিত গণঅভ্যুত্থান ঘটেনি এবং তাদের বাহিনী মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে দক্ষিণের বিদ্রোহে ভিয়েত কংয়ের তুলনায় উত্তর ভিয়েতনামের নিয়মিত বাহিনীর ভূমিকা আরও বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের বাহিনী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ হারানো এলাকা পুনরুদ্ধার করে।
তবু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ফল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আক্রমণের আগে মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব জনসাধারণকে বোঝাচ্ছিল যে যুদ্ধের শেষ দেখা যাচ্ছে। টেট সেই সরকারি বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ভেঙে দেয়। টেলিভিশনের পর্দায় দূতাবাসে হামলা, সাইগনের সড়কে যুদ্ধ, হুয়ের ধ্বংস এবং আহত সেনাদের দৃশ্য দেখে বহু আমেরিকান বুঝতে পারেন, শত্রুর সক্ষমতা সম্পর্কে তাদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। টেটের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল মার্কিন বাহিনীকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত করা নয়; যুদ্ধ জয়ের সরকারি গল্পটিকে পরাজিত করা।
সংবাদমাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে সংশয় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বিশিষ্ট সংবাদ উপস্থাপক ওয়াল্টার ক্রনকাইট ভিয়েতনাম সফরের পর যুদ্ধটি অচলাবস্থায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য একা জনমত বদলে দেয়নি, তবে মূলধারার মার্কিন সমাজে সন্দেহ কতটা গভীর হয়েছে তার শক্তিশালী প্রতীক ছিল। যুদ্ধের ব্যয়, সেনা হতাহত এবং নতুন সৈন্যের সম্ভাব্য প্রয়োজন নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়। জেনারেল ওয়েস্টমোরল্যান্ডের অতিরিক্ত বাহিনীর চাহিদার খবর প্রকাশিত হলে জনগণের মনে যুদ্ধ আরও অনির্দিষ্টকাল চলার আশঙ্কা তৈরি হয়।
৩১ মার্চ ১৯৬৮ প্রেসিডেন্ট জনসন জাতির উদ্দেশে ভাষণে উত্তর ভিয়েতনামের ওপর বোমাবর্ষণ আংশিক সীমিত করার ঘোষণা দেন এবং শান্তি আলোচনার আহ্বান জানান। একই ভাষণের শেষে তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনে নিজের দলের প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন চাইবেন না। এই সিদ্ধান্তের পেছনে দেশীয় রাজনৈতিক বিভাজন, যুদ্ধের ব্যয় এবং বৃহত্তর প্রশাসনিক চাপ কাজ করলেও টেট অফেনসিভ সেই সংকটকে তীব্র ও প্রকাশ্য করে তুলেছিল।
খে সানের অবরোধ এপ্রিলে কার্যত ভেঙে যায়, যখন মার্কিন বাহিনী স্থলপথ খুলে ঘাঁটির সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করে। কিন্তু জুলাই মাসে ঘাঁটিটি পরিত্যাগ করা হয়, কারণ এর সামরিক গুরুত্ব আর আগের মতো ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, চলমান যুদ্ধক্ষেত্রে স্থির ঘাঁটি ধরে রাখার প্রয়োজন নেই। তবু সমালোচকেরা প্রশ্ন তোলেন—যে ঘাঁটি রক্ষায় এত প্রাণ ও সম্পদ ব্যয় করা হলো, সেটি কয়েক মাস পর ছেড়ে দেওয়া হলে সেই বিজয়ের অর্থ কী ছিল?
ন্যাটো ও ওয়ারশ চুক্তি: স্নায়ুযুদ্ধের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক জোটের ইতিহাস
বার্লিন অবরোধ ও এয়ারলিফট: স্নায়ুযুদ্ধের প্রথম বড় সংঘাতের ইতিহাস
ট্রুম্যান নীতি, মার্শাল পরিকল্পনা ও আয়রন কার্টেন: ইউরোপ বিভক্ত হওয়ার ইতিহাস
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা: যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন যেভাবে শত্রু পরাশক্তিতে পরিণত হয়
ইয়া দ্রাং থেকে সার্চ অ্যান্ড ডেস্ট্রয়: ভিয়েতনামের জঙ্গলযুদ্ধ ও গেরিলা কৌশল