নাগাসাকিতে ‘ফ্যাট ম্যান’: কোকুরার বদলে কেন দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমার লক্ষ্য হয়েছিল নাগাসাকি?
সিরিজ: হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা
কোকুরা বেঁচেছিল, ধ্বংস হয়েছিল নাগাসাকি
১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট সকালে জাপানের নাগাসাকি শহর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল না। “ফ্যাট ম্যান” বহনকারী মার্কিন বি-২৯ বোমারু বিমান প্রথমে কোকুরার দিকে গিয়েছিল। কিন্তু মেঘ, ধোঁয়া, ক্রমশ খারাপ হয়ে আসা পরিস্থিতি এবং বিমানের জ্বালানিসংকট অভিযানের গতিপথ বদলে দেয়। কয়েক ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহে কোকুরা ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়, আর বিকল্প লক্ষ্য নাগাসাকি মানব ইতিহাসের দ্বিতীয় এবং এখন পর্যন্ত শেষ পারমাণবিক হামলার শিকার হয়। একটি শহরের বেঁচে যাওয়া এবং অন্যটির ধ্বংসের মধ্যে ব্যবধান তৈরি করেছিল আবহাওয়া, ধোঁয়া, সামরিক নিয়ম এবং কয়েক মিনিটের সিদ্ধান্ত।
হিরোশিমায় “লিটল বয়” বিস্ফোরণের মাত্র তিন দিন পর দ্বিতীয় হামলাটি চালানো হয়। প্রথম হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র জাপানকে আবার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায়, কিন্তু জাপানি সরকারের ভেতরে সিদ্ধান্তহীনতা অব্যাহত ছিল। সামরিক নেতাদের একটি শক্তিশালী অংশ তখনও আত্মসমর্পণের বিরোধিতা করছিল। এদিকে ৮ আগস্ট রাতে সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং ৯ আগস্ট ভোরে মাঞ্চুরিয়ায় জাপানের কোয়ান্তুং বাহিনীর ওপর ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে। ফলে জাপান একই দিনে দুটি ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়ে—এশিয়া মহাদেশে সোভিয়েত আক্রমণ এবং আকাশে আরেকটি পারমাণবিক বোমা।
দ্বিতীয় বোমাটি হিরোশিমায় ব্যবহৃত অস্ত্রের অনুরূপ ছিল না। “লিটল বয়” ছিল ইউরেনিয়াম-২৩৫ নির্ভর গান-টাইপ বোমা, আর “ফ্যাট ম্যান” ছিল প্লুটোনিয়াম-২৩৯ ব্যবহারকারী ইমপ্লোশন বোমা। এর গোলাকার প্লুটোনিয়াম কেন্দ্রের চারপাশে বিশেষভাবে সাজানো বিস্ফোরক লেন্স বসানো ছিল। সেগুলো একই মুহূর্তে বিস্ফোরিত হয়ে কেন্দ্রটিকে সব দিক থেকে সংকুচিত করত এবং অতিসংকটমাত্রায় পৌঁছে দিত। নিউ মেক্সিকোর ট্রিনিটি পরীক্ষায় এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছিল। প্রায় ৪ দশমিক ৭ টন ওজনের মোটা, গোলাকার বোমাটির আকৃতির কারণেই এর নাম রাখা হয় “ফ্যাট ম্যান”।
অভিযানে বোমাটি বহন করছিল “বকস্কার” নামের একটি বিশেষভাবে পরিবর্তিত বি-২৯ বিমান। এর পাইলট ছিলেন মেজর চার্লস সুইনি। তবে অভিযান শুরুর আগেই একটি গুরুতর সমস্যা ধরা পড়ে। বিমানের অতিরিক্ত জ্বালানি ট্যাংকের একটি পাম্প কাজ করছিল না। ফলে ট্যাংকে থাকা প্রায় ৬০০ গ্যালন জ্বালানি ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। বোমাটি ইতিমধ্যে বিমানে তোলা এবং প্রস্তুত হওয়ায় অভিযান বাতিল করা হয়নি। বকস্কার আকাশে ওঠার আগেই তার নিরাপদ ফিরে আসার সুযোগ সীমিত হয়ে গিয়েছিল।
৯ আগস্ট রাত পেরিয়ে ভোরের দিকে বকস্কার টিনিয়ান দ্বীপ থেকে যাত্রা শুরু করে। এর সঙ্গে পরিমাপ ও আলোকচিত্র গ্রহণের জন্য আরও দুটি বিমান অংশ নেওয়ার কথা ছিল। ইয়াকুশিমা দ্বীপের আকাশে নির্ধারিত মিলনস্থলে পৌঁছে বকস্কার সহযোগী বিমানগুলোর জন্য অপেক্ষা করে। একটি বিমান এসে পৌঁছালেও আলোকচিত্র গ্রহণকারী আরেকটি বিমানকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সুইনি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি অপেক্ষা করেন। এতে মূল্যবান জ্বালানি নষ্ট হয় এবং কোকুরার আকাশে পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটে। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা বন্ধ করে বকস্কার প্রাথমিক লক্ষ্য কোকুরার দিকে এগিয়ে যায়।
কোকুরা ছিল গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও শিল্পকেন্দ্র। সেখানে অস্ত্রাগার, গোলাবারুদ উৎপাদনব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জামের বড় স্থাপনা ছিল। হিরোশিমা অভিযানের দিন আবহাওয়া প্রতিকূল হলে কোকুরাই ছিল বিকল্প লক্ষ্য। ৯ আগস্টের অভিযানে সেটি প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারিত হয় এবং নাগাসাকিকে রাখা হয় দ্বিতীয় স্থানে। বোমা নিক্ষেপের নির্দেশ ছিল দৃশ্যমান লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে; শুধু মেঘ ভেদকারী রাডারের ওপর নির্ভর করে বোমা ফেলার অনুমতি মূল পরিকল্পনায় ছিল না। এর উদ্দেশ্য ছিল নির্ধারিত লক্ষ্যবিন্দুতে আঘাত নিশ্চিত করা এবং অস্ত্রটির প্রভাব যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
বকস্কার কোকুরার আকাশে পৌঁছানোর পর নিচের লক্ষ্য পরিষ্কারভাবে দেখা গেল না। শহরের ওপর মেঘ ও ধোঁয়ার স্তর ছড়িয়ে ছিল। আগের দিন কাছাকাছি ইয়াওয়াতা শিল্পাঞ্চলে মার্কিন বোমাবর্ষণ হয়েছিল; সেখানকার আগুনের ধোঁয়া কোকুরার আকাশে এসে থাকতে পারে। স্থানীয় কারখানা থেকেও ইচ্ছাকৃতভাবে ধোঁয়া সৃষ্টি করা হয়েছিল—এমন বিবরণ পাওয়া যায়, যদিও ঠিক কতটা ধোঁয়া কোন উৎস থেকে এসেছিল তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়। আবহাওয়ার মেঘ, শিল্পাঞ্চলের ধোঁয়া ও বাতাসে জমে থাকা কুয়াশা মিলিয়ে কোকুরা আংশিকভাবে আড়াল হয়ে যায়।
বকস্কার একবার নয়, তিনবার কোকুরার ওপর দিয়ে বোমা নিক্ষেপের উপযুক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করে। প্রতিবারই বোমা লক্ষ্যকারী কর্মকর্তা মেজর কারমিট বিহান কোকুরা আর্সেনালের নির্ধারিত লক্ষ্যবিন্দু পরিষ্কারভাবে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন। এতক্ষণ একই এলাকায় চক্কর দেওয়ায় জাপানি বিমানবিধ্বংসী প্রতিরক্ষা সক্রিয় হয়ে ওঠে। আকাশে গোলার বিস্ফোরণের কালো ধোঁয়া দেখা যায় এবং জাপানি যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের আশঙ্কাও বাড়ছিল। একই সঙ্গে বকস্কারের জ্বালানি দ্রুত কমে আসছিল। আর অপেক্ষা করলে বিমানটি বোমাসহ সমুদ্রে পড়তে পারে অথবা শত্রু অঞ্চলে জরুরি অবতরণে বাধ্য হতে পারে।
এই অবস্থায় সুইনি কোকুরা ত্যাগ করে বিকল্প লক্ষ্য নাগাসাকির দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তী সময়ে কোনো শহর আকস্মিকভাবে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার ঘটনাকে বোঝাতে জাপানে “কোকুরার ভাগ্য” কথাটি প্রচলিত হয়। কিন্তু এই “ভাগ্য” ছিল নাগাসাকির জন্য মৃত্যুদণ্ডের সমান। দুটি শহরের কেউই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করেনি; আকাশের দৃশ্যমানতা এবং একটি বিমানের জ্বালানির হিসাবই তাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছিল।
নাগাসাকি ছিল পাহাড় ও সংকীর্ণ উপত্যকায় ঘেরা গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও শিল্পনগরী। সেখানে মিতসুবিশির জাহাজ নির্মাণকেন্দ্র, অস্ত্র কারখানা, ইস্পাত ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনব্যবস্থা ছিল। একই সঙ্গে শহরটি ঘনবসতিপূর্ণ নাগরিক অঞ্চল এবং জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের আবাসস্থল ছিল। নাগাসাকি মূল লক্ষ্যতালিকায় প্রথম সারিতে ছিল না, কারণ এর অসম ভূপ্রকৃতি বিস্ফোরণের প্রভাবকে সীমিত করতে পারে এবং বোমার ফল পরিমাপ কঠিন করতে পারে। তবু কোকুরা আচ্ছন্ন থাকায় শহরটি সেদিন বিকল্প লক্ষ্য হিসেবে সামনে আসে।
বকস্কার নাগাসাকির কাছে পৌঁছালে সেখানকার আকাশও মেঘে ঢাকা ছিল। জ্বালানি তখন এত কমে গিয়েছিল যে আরেকটি শহরে যাওয়া বা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। ক্রুরা রাডারের সাহায্যে লক্ষ্যভেদ বিবেচনা করতে শুরু করেন। ঠিক সেই সময় মেঘের মধ্যে সাময়িক একটি ফাঁক দেখা যায়। মেজর বিহান নিচের নগরাঞ্চলের একটি অংশ দেখতে পেয়ে দৃশ্যমানভাবে বোমা নিক্ষেপের সুযোগ পান। মেঘের সেই ক্ষণস্থায়ী ফাঁকই নাগাসাকির ইতিহাস চিরতরে বদলে দেয়।
স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২ মিনিটে ফ্যাট ম্যান নাগাসাকির উরাকামি উপত্যকার প্রায় ৫০০ মিটার ওপরে বিস্ফোরিত হয়। বোমাটি মূল লক্ষ্যবিন্দু থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে বিস্ফোরিত হয়েছিল। এর শক্তি ছিল প্রায় ২১ কিলোটন টিএনটির সমতুল্য—হিরোশিমার লিটল বয়ের চেয়েও বেশি। বিস্ফোরণের মুহূর্তে তীব্র আলোর ঝলক, আগুনের গোলক এবং প্রচণ্ড অভিঘাত তরঙ্গ উরাকামি উপত্যকাকে গ্রাস করে। ঘরবাড়ি, বিদ্যালয়, হাসপাতাল, কারখানা ও ধর্মীয় স্থাপনা মুহূর্তে ধসে পড়ে বা আগুনে জ্বলে ওঠে।
বিস্ফোরণকেন্দ্রের কাছেই ছিল উরাকামি গির্জা, যা তখন পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ ক্যাথলিক গির্জাগুলোর একটি। ভবনটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা উপাসকদের অনেকে নিহত হন। কাছের নাগাসাকি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অসংখ্য চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও রোগী মারা যান বা আহত হন। ফলে হিরোশিমার মতো নাগাসাকিতেও চিকিৎসার প্রয়োজন যখন সর্বাধিক, ঠিক তখনই চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। আহত মানুষ পানি, আশ্রয় এবং স্বজনের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ঘুরতে থাকেন।
তবে নাগাসাকির পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি বিস্ফোরণের প্রভাবকে কিছুটা সীমাবদ্ধ করেছিল। উরাকামি উপত্যকার চারপাশের পাহাড় শহরের অন্য অংশকে অভিঘাত ও তাপের সরাসরি প্রভাব থেকে আংশিকভাবে রক্ষা করে। বোমাটি যদি পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলের কেন্দ্রে কিংবা বিস্তৃত সমতল নগরীর ওপর বিস্ফোরিত হতো, ক্ষয়ক্ষতি আরও ব্যাপক হতে পারত। তারপরও উপত্যকার ভেতরের অঞ্চল প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ভূপ্রকৃতি শহরের কিছু অংশকে বাঁচালেও বিস্ফোরণকেন্দ্রের মানুষের জন্য কোনো কার্যকর আশ্রয় তৈরি করতে পারেনি।
হামলার তাৎক্ষণিক পর্যায়ে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে সাধারণভাবে অনুমান করা হয়। দগ্ধ ক্ষত, আঘাত এবং তেজস্ক্রিয়তার কারণে ১৯৪৫ সালের শেষ নাগাদ মৃতের সংখ্যা আনুমানিক ৭০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছায়, যদিও বিভিন্ন হিসাবে পার্থক্য আছে। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক মানুষ। তাঁদের মধ্যে নারী, শিশু, বৃদ্ধ, হাসপাতালের রোগী, কারখানার শ্রমিক, কোরীয় বাধ্যতামূলক শ্রমিক এবং যুদ্ধবন্দীও ছিলেন। পরবর্তী বছরগুলোতে বেঁচে যাওয়া হিবাকুশাদের মধ্যে লিউকেমিয়া, কিছু ক্যানসার, দগ্ধ ক্ষতের জটিলতা ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাত দেখা দেয়।
বোমা ফেলার পর বকস্কারের জ্বালানি প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। টিনিয়ানে ফিরে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় সুইনি বিমানটিকে ওকিনাওয়ার ইয়োনতান বিমানঘাঁটির দিকে নিয়ে যান। অবতরণের সময় বিমানটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। জরুরি সংকেত দেওয়ার পর বকস্কার দ্রুত অবতরণ করে; অবশিষ্ট জ্বালানি ছিল অত্যন্ত সামান্য। অভিযানটি সামরিক দৃষ্টিতে সফল হলেও এর পুরো পথজুড়ে সমন্বয়হীনতা, অতিরিক্ত অপেক্ষা, ত্রুটিপূর্ণ জ্বালানি পাম্প এবং অনিশ্চিত আবহাওয়া ছিল। এসবের যেকোনো একটি ভিন্ন হলে ফ্যাট ম্যান হয়তো কোকুরায় বিস্ফোরিত হতো, অন্য স্থানে পড়ত অথবা বোমাটি ব্যবহার না করেই ফিরে আসতে হতো।
নাগাসাকি হামলার সময় জাপানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সোভিয়েত আক্রমণ ও আত্মসমর্পণের প্রশ্ন নিয়ে বৈঠক করছিল। হিরোশিমা, সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধে প্রবেশ এবং নাগাসাকি—এই তিনটি আঘাত জাপানের কৌশলগত অবস্থান ভেঙে দেয়। তবু আত্মসমর্পণের শর্ত নিয়ে সর্বোচ্চ যুদ্ধ পরিষদে সমান বিভাজন দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত সম্রাট হিরোহিতোর হস্তক্ষেপে পটসডাম ঘোষণার শর্ত গ্রহণের পথ তৈরি হয়। তাই জাপানের আত্মসমর্পণকে শুধু নাগাসাকির বোমা অথবা শুধু সোভিয়েত আক্রমণের ফল বলা যথেষ্ট নয়; উভয় ঘটনাই সংকটকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।
নাগাসাকির হামলা দেখায়, আধুনিক যুদ্ধে কৌশলগত পরিকল্পনার পাশাপাশি আকস্মিক ঘটনাও লক্ষ মানুষের জীবন নির্ধারণ করতে পারে। ফ্যাট ম্যান কোকুরার জন্য প্রস্তুত ছিল, কিন্তু ধোঁয়া ও মেঘ শহরটিকে আড়াল করেছিল। নাগাসাকির মেঘ কয়েক মুহূর্তের জন্য সরে গিয়েছিল। সেই সামান্য পার্থক্যে একটি শহর “কোকুরার ভাগ্য” লাভ করে, আর অন্যটি পারমাণবিক ধ্বংসের প্রতীকে পরিণত হয়। ৯ আগস্ট ১৯৪৫ তাই শুধু দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের দিন নয়; এটি এমন এক ইতিহাস, যেখানে প্রযুক্তি, সামরিক নির্দেশ, আবহাওয়া, জ্বালানি এবং আকস্মিকতা মিলিত হয়ে সাধারণ মানুষের ওপর অকল্পনীয় বিপর্যয় নামিয়ে এনেছিল।
কম্বোডিয়া ও লাওসে ভিয়েতনাম যুদ্ধ: গোপন বোমাবর্ষণ, হো চি মিন ট্রেইল ও লাম সন ৭১৯
নিক্সনের ভিয়েতনামাইজেশন: সেনা প্রত্যাহার, হ্যামবার্গার হিল ও দক্ষিণের যুদ্ধ
আমেরিকায় যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন: টেট, কেন্ট স্টেট ও পেন্টাগন পেপারসের প্রভাব
হুয়ে যুদ্ধ ও মাই লাই গণহত্যা: ভিয়েতনাম যুদ্ধের অন্ধকার অধ্যায়
হিরোশিমা-নাগাসাকি বিতর্ক ও উত্তরাধিকার: কীভাবে শুরু হয়েছিল পারমাণবিক অস্ত্রের যুগ?
হিরোশিমা ও নাগাসাকির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব: তেজস্ক্রিয়তা, ক্যানসার ও পুনর্গঠনের ইতিহাস