সোভিয়েত আক্রমণ ও জাপানের আত্মসমর্পণ: পারমাণবিক বোমা কতটা প্রভাব ফেলেছিল?
সিরিজ: হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা
পারমাণবিক হামলা, সোভিয়েত আক্রমণ ও জাপানের পরাজয়
১৯৪৫ সালের আগস্টে জাপানের আত্মসমর্পণ আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনাগুলোর একটি। প্রচলিত একটি ব্যাখ্যায় বলা হয়, হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের পর জাপান বুঝতে পারে প্রতিরোধ অর্থহীন, তাই আত্মসমর্পণ করে। আরেকটি ব্যাখ্যায় সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধে প্রবেশকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ এর ফলে মস্কোর মধ্যস্থতায় শর্তসাপেক্ষ শান্তি অর্জনের জাপানি পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে এবং দেশটির সামনে দুই দিক থেকে আক্রমণের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। বাস্তবে জাপানের আত্মসমর্পণ কোনো একক ঘটনার ফল ছিল না; পারমাণবিক হামলা, সোভিয়েত আক্রমণ, অর্থনৈতিক অবরোধ, প্রচলিত বোমাবর্ষণ এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা একসঙ্গে চূড়ান্ত সংকট তৈরি করেছিল।
১৯৪৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে জাপানের সামরিক পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। নৌবহরের অধিকাংশ কার্যক্ষমতা হারিয়েছিল, বিমানবাহিনী দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং মার্কিন সাবমেরিন ও বিমান অবরোধে খাদ্য, জ্বালানি ও কাঁচামাল আমদানি বিপর্যস্ত হয়েছিল। টোকিওসহ বহু শহর অগ্নিবোমায় ধ্বংস হয়। ওকিনাওয়া দখলের পর মার্কিন বাহিনী জাপানের মূল দ্বীপপুঞ্জের খুব কাছে পৌঁছে যায়। তবু জাপানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পরাজয় স্বীকার করলেও কী শর্তে যুদ্ধ শেষ করা হবে, তা নিয়ে বিভক্ত ছিল।
রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিত ছয় সদস্যের সর্বোচ্চ যুদ্ধ পরিচালনা পরিষদ, যাকে প্রায়ই “বিগ সিক্স” বলা হয়। প্রধানমন্ত্রী কান্তারো সুজুকি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিগেনোরি তোগো এবং নৌমন্ত্রী মিতসুমাসা ইয়োনাই যুদ্ধ শেষ করার প্রয়োজন উপলব্ধি করেছিলেন। অন্যদিকে যুদ্ধমন্ত্রী কোরেচিকা আনামি এবং সেনা ও নৌবাহিনীর প্রধানেরা কঠোর শর্ত ছাড়া আত্মসমর্পণের বিরোধিতা করছিলেন। সামরিক পক্ষ আশা করছিল, জাপানের মূল ভূখণ্ডে আক্রমণের সময় মিত্রশক্তিকে এত বেশি ক্ষতি করা যাবে যে তারা সমঝোতায় বাধ্য হবে। এই পরিকল্পনার মূল কথা ছিল—চূড়ান্ত যুদ্ধে রক্তক্ষয় ঘটিয়ে ভালো রাজনৈতিক শর্ত আদায় করা।
শান্তির পক্ষে থাকা জাপানি নেতারাও প্রথম দিকে পটসডাম ঘোষণার নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না। তাঁরা অন্তত সম্রাটের প্রতিষ্ঠান রক্ষা, জাপানের নিজস্ব বাহিনীর নিরস্ত্রীকরণ, বিদেশি দখল সীমিত রাখা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জাপানের হাতে রাখার মতো শর্ত চাইছিলেন। তাঁদের প্রধান কূটনৈতিক আশা ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। ১৯৪১ সালের সোভিয়েত-জাপান নিরপেক্ষতা চুক্তির ভিত্তিতে টোকিও মনে করেছিল, মস্কো হয়তো যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনায় মধ্যস্থতা করবে।
কিন্তু এই আশা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। সোভিয়েত সরকার ১৯৪৫ সালের এপ্রিলে জানিয়ে দিয়েছিল যে নিরপেক্ষতা চুক্তিটি নবায়ন করা হবে না। তারও আগে ইয়াল্টা সম্মেলনে জোসেফ স্ট্যালিন ইউরোপে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রবেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মস্কো জাপানি দূতদের শান্তি-অনুরোধ গ্রহণের ভান করলেও একই সময়ে দূরপ্রাচ্যে বিপুল সেনা, ট্যাংক ও বিমান মোতায়েন করছিল। জাপানি নেতৃত্ব এই বিপদের কিছু লক্ষণ দেখেছিল, কিন্তু মস্কোর মধ্যস্থতার আশা পুরোপুরি ত্যাগ করেনি।
৬ আগস্ট হিরোশিমায় প্রথম পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরিত হয়। টোকিও প্রথমে ঠিক কী ঘটেছে তা বুঝতে পারেনি। যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং স্থানীয় প্রতিবেদন ছিল অসম্পূর্ণ। পরে বিজ্ঞানী ও সামরিক পর্যবেক্ষকেরা নিশ্চিত হন যে শহরটি একটি পারমাণবিক অস্ত্রের আঘাত পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সুজুকি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোগোর কাছে এটি আত্মসমর্পণের পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ হয়ে ওঠে। কিন্তু সামরিক নেতৃত্বের সবাই সঙ্গে সঙ্গে অবস্থান বদলাননি। কেউ সন্দেহ করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন আরও কতটি বোমা আছে; কেউ মনে করছিলেন একটি শহরের ধ্বংস যুদ্ধনীতি বদলানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
৮ আগস্ট মস্কোর সময় রাতে সোভিয়েত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিয়াচেস্লাভ মলোটভ জাপানি রাষ্ট্রদূতকে জানান, সোভিয়েত ইউনিয়ন পরদিন থেকে জাপানের সঙ্গে যুদ্ধে থাকবে। সময়ের ব্যবধান অনুযায়ী পূর্ব এশিয়ায় তখন ৯ আগস্ট শুরু হয়ে গেছে। বিশাল সোভিয়েত বাহিনী মাঞ্চুরিয়ায় জাপান-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ চালায়। পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব দিক থেকে দ্রুত অগ্রসর হয়ে তারা কোয়ান্তুং বাহিনীর প্রতিরক্ষা ভেঙে দেয়। একই সময়ে দক্ষিণ সাখালিন, কোরিয়ার উত্তরাঞ্চল এবং পরে কুরিল দ্বীপপুঞ্জের দিকেও অভিযান বিস্তৃত হয়।
সোভিয়েত আক্রমণ জাপানের কৌশলগত হিসাবকে এক মুহূর্তে ভেঙে দেয়। যে রাষ্ট্রকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করার আশা করা হচ্ছিল, সেই রাষ্ট্রই এখন শত্রু। জাপান শুধু মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সম্ভাব্য দক্ষিণাঞ্চলীয় আক্রমণের মুখে ছিল না; উত্তর ও এশীয় মূল ভূখণ্ড থেকেও নতুন আক্রমণের সম্মুখীন হয়। মাঞ্চুরিয়া জাপানের শিল্প, সম্পদ ও সামরিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল। সেখানে অবস্থানরত কোয়ান্তুং বাহিনী একসময় জাপানের গর্ব হলেও ১৯৪৫ সালে তার সেরা ইউনিটগুলোর অনেককে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সোভিয়েত যান্ত্রিক বাহিনীর দ্রুত অগ্রগতি প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তার ছিল না।
৯ আগস্ট সকালে জাপানের সর্বোচ্চ যুদ্ধ পরিষদ সোভিয়েত আক্রমণ ও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈঠকে বসে। বৈঠক চলার সময় নাগাসাকিতে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরিত হয়। একই দিনে দুটি বিপর্যয়কর সংবাদ জাপানি নেতৃত্বের সামনে আসে। একটি দেখায় যুক্তরাষ্ট্র একাধিক শহরের বিরুদ্ধে নতুন অস্ত্র ব্যবহার করতে সক্ষম; অন্যটি দেখায় কূটনৈতিক সমঝোতার শেষ সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেছে। তবু পরিষদ অবিলম্বে একমত হতে পারেনি।
শান্তির পক্ষের তিন সদস্য পটসডাম ঘোষণা গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন এই শর্তে যে সম্রাটের সার্বভৌম অবস্থান রক্ষা করা হবে। সামরিক পক্ষের তিন সদস্য আরও কয়েকটি শর্ত দাবি করেন—জাপান নিজেই তার সেনাবাহিনীকে নিরস্ত্র করবে, যুদ্ধাপরাধের বিচার করবে এবং মিত্রবাহিনীর দখল সীমিত থাকবে। মতামত তিন বনাম তিনে আটকে যায়। এটি প্রমাণ করে যে দুটি পারমাণবিক হামলা এবং সোভিয়েত আক্রমণের পরও সামরিক নেতৃত্বের একটি অংশ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত ছিল।
অচলাবস্থা কাটাতে ৯ আগস্ট গভীর রাতে সম্রাট হিরোহিতোর উপস্থিতিতে এক অভূতপূর্ব সাম্রাজ্যিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত সম্রাট সরাসরি বিতর্কে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতেন না। কিন্তু এবার তিনি শান্তির পক্ষের প্রস্তাব সমর্থন করেন। হিরোহিতো দেশের ধ্বংস, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং শত্রুর নতুন ও নিষ্ঠুর বোমার কথা উল্লেখ করে যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে মত দেন। তাঁর সিদ্ধান্তের পর জাপান মিত্রশক্তির কাছে বার্তা পাঠায় যে সম্রাটের সার্বভৌম ক্ষমতা ক্ষুণ্ন না করার শর্তে পটসডাম ঘোষণা গ্রহণ করা হবে।
মিত্রশক্তির ১১ আগস্টের উত্তরে সম্রাটের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি। বলা হয়, আত্মসমর্পণের পর সম্রাট ও জাপানি সরকারের কর্তৃত্ব মিত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়কের অধীন থাকবে এবং ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা জাপানি জনগণের স্বাধীনভাবে প্রকাশিত ইচ্ছা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। এই ভাষা নিয়ে জাপানি নেতৃত্বে আবার বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সামরিকপন্থীরা এটিকে সম্রাটের সার্বভৌমত্ব বিলুপ্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন। ১৪ আগস্ট সম্রাট দ্বিতীয়বার হস্তক্ষেপ করে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।
সেদিন সম্রাটের ভাষণ গ্রামোফোন রেকর্ডে ধারণ করা হয়, যাতে পরদিন বেতারে প্রচার করা যায়। কিন্তু সামরিক বাহিনীর কিছু তরুণ কর্মকর্তা আত্মসমর্পণ ঠেকাতে প্রাসাদ দখল, রেকর্ড খুঁজে ধ্বংস এবং সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। “কিউজো ঘটনা” নামে পরিচিত এই অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ১৫ আগস্ট দুপুরে জাপানের মানুষ প্রথমবার সম্রাটের কণ্ঠস্বর বেতারে শোনে। প্রাচীন ও আনুষ্ঠানিক ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে “আত্মসমর্পণ” শব্দটি সরাসরি উচ্চারিত না হলেও জনগণকে অসহনীয় পরিস্থিতি সহ্য করে যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বলা হয়। ২ সেপ্টেম্বর টোকিও উপসাগরে ইউএসএস মিসৌরি যুদ্ধজাহাজে আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণপত্রে স্বাক্ষর করা হয়।
তাহলে পারমাণবিক হামলা কতটা প্রভাব ফেলেছিল? মার্কিন সরকারি ব্যাখ্যায় বোমাগুলোকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা এবং জাপানের মূল ভূখণ্ডে রক্তক্ষয়ী আক্রমণ এড়ানোর প্রধান উপায় হিসেবে দেখা হয়। হিরোশিমা ও নাগাসাকি জাপানি নেতৃত্বকে বুঝিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক শহর ধ্বংস করতে পারে এবং প্রচলিত প্রতিরক্ষা দিয়ে এই হামলা ঠেকানো সম্ভব নয়। বোমাগুলো সম্রাটকে আত্মসমর্পণের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি দেয়। বিশেষ করে তাঁর আত্মসমর্পণ ভাষণে “নতুন ও অত্যন্ত নিষ্ঠুর বোমা”র উল্লেখ পারমাণবিক হামলার গুরুত্ব স্পষ্ট করে।
তবে কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধে প্রবেশ ছিল জাপানের কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য আরও তাৎক্ষণিক ও গভীর আঘাত। একটি শহর ধ্বংস হওয়ার পরও জাপানি সামরিক নেতারা যুদ্ধ চালানোর কথা বলেছিলেন, কিন্তু সোভিয়েত আক্রমণে তাঁদের শান্তি-মধ্যস্থতার পরিকল্পনা, মাঞ্চুরিয়ার সামরিক ভিত্তি এবং এক ফ্রন্টে চূড়ান্ত যুদ্ধের ধারণা একই সঙ্গে ভেঙে পড়ে। সোভিয়েত বাহিনী জাপানের দ্বীপে পৌঁছে গেলে দেশটি বিভক্ত দখলের শিকার হতে পারত এবং সম্রাটব্যবস্থার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠত। তাই দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ সোভিয়েত অগ্রগতি ঠেকানোর উপায়ও হয়ে ওঠে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য ছিল জাপানি নেতৃত্বের প্রকাশ্য ব্যাখ্যা ও অভ্যন্তরীণ হিসাবের মধ্যে। জনগণের কাছে আত্মসমর্পণ ব্যাখ্যা করতে পারমাণবিক বোমা একটি গ্রহণযোগ্য যুক্তি দিয়েছিল—শত্রু এমন এক অতিমানবীয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার বিরুদ্ধে সাহস বা আত্মত্যাগও যথেষ্ট নয়। এই ব্যাখ্যা সামরিক নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্তের দায় আংশিকভাবে আড়াল করত। বিপরীতে সোভিয়েত আক্রমণের ওপর বেশি জোর দিলে সরকারের ব্যর্থ কূটনীতি এবং মাঞ্চুরিয়ার প্রতিরক্ষা দুর্বলতা প্রকাশ পেত। ফলে যুদ্ধোত্তর স্মৃতিতে পারমাণবিক বোমা তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
পারমাণবিক বোমা ছাড়াই জাপান ঠিক কখন আত্মসমর্পণ করত, অথবা শুধু সোভিয়েত আক্রমণই যথেষ্ট হতো কি না—এর নিশ্চিত উত্তর দেওয়া অসম্ভব। একইভাবে সোভিয়েত প্রবেশ ছাড়া কেবল হিরোশিমা ও নাগাসাকি জাপানকে কত দ্রুত আত্মসমর্পণে বাধ্য করত, তাও জানা যায় না। ইতিহাসে যে বিকল্প ঘটনাগুলো ঘটেনি, সেগুলোকে পরীক্ষাগারে যাচাই করা যায় না। তবে নথিপত্র থেকে বোঝা যায়, হিরোশিমা একা তাৎক্ষণিক ঐকমত্য তৈরি করেনি; সোভিয়েত আক্রমণ ও নাগাসাকির দ্বিতীয় বোমা একসঙ্গে সংকটকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায়।
জাপানের আত্মসমর্পণে পারমাণবিক হামলা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একমাত্র কারণ নয়। হিরোশিমা নতুন অস্ত্রের অকল্পনীয় ক্ষমতা দেখিয়েছিল, সোভিয়েত আক্রমণ জাপানের কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল ধ্বংস করেছিল, আর নাগাসাকি প্রমাণ করেছিল প্রথম বোমাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল দীর্ঘ অবরোধ, শহরগুলোর ধ্বংস, অর্থনৈতিক পতন এবং সম্রাটের সিদ্ধান্তমূলক হস্তক্ষেপ। তাই আগস্ট ১৯৪৫-এর সমাপ্তিকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে “বোমা না সোভিয়েত আক্রমণ”—এই সরল দ্বন্দ্বের বদলে দেখতে হবে, কীভাবে উভয় আঘাত একই সময়ে জাপানি নেতৃত্বকে এমন একটি অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল, যেখানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া রাষ্ট্রের অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তুলেছিল।
কম্বোডিয়া ও লাওসে ভিয়েতনাম যুদ্ধ: গোপন বোমাবর্ষণ, হো চি মিন ট্রেইল ও লাম সন ৭১৯
নিক্সনের ভিয়েতনামাইজেশন: সেনা প্রত্যাহার, হ্যামবার্গার হিল ও দক্ষিণের যুদ্ধ
আমেরিকায় যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন: টেট, কেন্ট স্টেট ও পেন্টাগন পেপারসের প্রভাব
হুয়ে যুদ্ধ ও মাই লাই গণহত্যা: ভিয়েতনাম যুদ্ধের অন্ধকার অধ্যায়
হিরোশিমা-নাগাসাকি বিতর্ক ও উত্তরাধিকার: কীভাবে শুরু হয়েছিল পারমাণবিক অস্ত্রের যুগ?