বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

ন্যাটো ও ওয়ারশ চুক্তি: স্নায়ুযুদ্ধের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক জোটের ইতিহাস

সিরিজ: স্নায়ুযুদ্ধ: দুই পরাশক্তির বিশ্বসংঘাত

ন্যাটো ও ওয়ারশ চুক্তি: স্নায়ুযুদ্ধের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক জোটের ইতিহাস
দুই সামরিক জোটে বিভক্ত স্নায়ুযুদ্ধের ইউরোপ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে যে বিভাজন শুরু হয়েছিল, তা প্রথমে ছিল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আদর্শিক। কিন্তু ১৯৪৮ সালের বার্লিন অবরোধ, পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত প্রভাব প্রতিষ্ঠা এবং পশ্চিম ইউরোপে সম্ভাব্য সামরিক আক্রমণের আশঙ্কা সেই বিভাজনকে দ্রুত নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত করে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো সম্মিলিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলে; অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোকে একটি কেন্দ্রীভূত সামরিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসে। ন্যাটো ও ওয়ারশ চুক্তির জন্মের মধ্য দিয়ে ইউরোপ কার্যত দুটি সশস্ত্র শিবিরে বিভক্ত হয় এবং কোনো একটি দেশে যুদ্ধ শুরু হলেই তা পরাশক্তিদের সংঘাতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

যুদ্ধশেষে পশ্চিম ইউরোপের সামরিক অবস্থা ছিল দুর্বল। ব্রিটেন ও ফ্রান্স যুদ্ধজয়ের পরও অর্থনৈতিকভাবে ক্লান্ত, জার্মানি বিভক্ত ও দখলাধীন এবং মহাদেশের বহু দেশের সেনাবাহিনী পুনর্গঠনের পর্যায়ে ছিল। বিপরীতে পূর্ব ও মধ্য ইউরোপে বিপুল সোভিয়েত সেনা মোতায়েন ছিল। পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও অন্যান্য দেশে মস্কোপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় পশ্চিমা নেতাদের আশঙ্কা বেড়ে যায়। ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে চেকোস্লোভাকিয়ায় কমিউনিস্টদের সম্পূর্ণ ক্ষমতা দখল এবং কয়েক মাস পর পশ্চিম বার্লিনে সোভিয়েত অবরোধ এই ভয়কে আরও তীব্র করে তোলে।

প্রথমে পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের উদ্যোগে নিরাপত্তা সহযোগিতা গড়ে তোলার চেষ্টা করে। ১৯৪৮ সালের মার্চে ব্রিটেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও লুক্সেমবার্গ ব্রাসেলস চুক্তি স্বাক্ষর করে। এতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতার পাশাপাশি কোনো সদস্য আক্রমণের শিকার হলে পারস্পরিক সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে ইউরোপীয় নেতারা বুঝতে পেরেছিলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলায় তাঁদের নিজস্ব শক্তি যথেষ্ট নয়। কার্যকর প্রতিরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষমতা, অর্থনীতি এবং পারমাণবিক প্রতিরোধ অপরিহার্য ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে শান্তিকালে ইউরোপীয় সামরিক জোটে স্থায়ীভাবে যুক্ত হতে অনিচ্ছুক ছিল। কিন্তু স্নায়ুযুদ্ধের নতুন বাস্তবতা সেই অবস্থান বদলে দেয়। ট্রুম্যান নীতি, মার্শাল পরিকল্পনা ও বার্লিন এয়ারলিফটের পর ওয়াশিংটন উপলব্ধি করে যে পশ্চিম ইউরোপের নিরাপত্তা মার্কিন নিরাপত্তা থেকেও বিচ্ছিন্ন নয়। ইউরোপের শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চল সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণে গেলে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য মস্কোর পক্ষে চলে যেতে পারত। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে একটি আটলান্টিকভিত্তিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের আলোচনায় অংশ নেয়।

১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ন্যাটো প্রতিষ্ঠিত হয়। এর বারো প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবার্গ, ডেনমার্ক, নরওয়ে, আইসল্যান্ড, ইতালি ও পর্তুগাল। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল পঞ্চম অনুচ্ছেদ—ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকায় কোনো একটি সদস্যরাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে; প্রতিটি সদস্য নিজের বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করেছিল। তবু পঞ্চম অনুচ্ছেদ পশ্চিম ইউরোপকে মার্কিন সামরিক শক্তি ও পারমাণবিক প্রতিরোধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে দেয়।

শুরুতে ন্যাটো ছিল মূলত একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার। কিন্তু ১৯৪৯ সালে সোভিয়েত পারমাণবিক পরীক্ষার সাফল্য এবং ১৯৫০ সালে কোরীয় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জোটের সামরিক কাঠামো দ্রুত শক্তিশালী করা হয়। কোরীয় যুদ্ধ পশ্চিমা নেতাদের মনে এই আশঙ্কা সৃষ্টি করে যে এশিয়ার মতো ইউরোপেও কমিউনিস্ট বাহিনী আকস্মিক আক্রমণ চালাতে পারে। একটি সমন্বিত সামরিক কমান্ড গঠিত হয় এবং ১৯৫১ সালে মার্কিন জেনারেল ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার ন্যাটোর প্রথম সর্বোচ্চ মিত্রবাহিনী অধিনায়ক হন। সদস্যরাষ্ট্রগুলোর বাহিনী, ঘাঁটি, যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা এক কাঠামোর মধ্যে আনা শুরু হয়।

ন্যাটোর অন্যতম কঠিন প্রশ্ন ছিল পশ্চিম জার্মানির পুনরায় অস্ত্রসজ্জা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি তখনো তীব্র থাকায় ফ্রান্সসহ বহু দেশ শক্তিশালী জার্মান সেনাবাহিনীর প্রত্যাবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। কিন্তু সোভিয়েত ও পূর্ব ইউরোপীয় বাহিনীর তুলনায় পশ্চিমা স্থলবাহিনী দুর্বল হওয়ায় পশ্চিম জার্মানির জনশক্তি ও শিল্পক্ষমতা বাদ দিয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা গড়া কঠিন ছিল। অবশেষে ১৯৫৫ সালের মে মাসে জার্মান ফেডারেল প্রজাতন্ত্র বা পশ্চিম জার্মানিকে ন্যাটোর সদস্য করা হয়। মস্কো এই পদক্ষেপকে জার্মান সামরিকবাদের পুনর্জন্ম এবং সোভিয়েত নিরাপত্তার সরাসরি হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে।

তবে পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত সামরিক প্রভাব ন্যাটোর বহু আগেই বিদ্যমান ছিল। যুদ্ধশেষে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিভিন্ন পূর্ব ইউরোপীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে পৃথক মৈত্রী ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি করেছিল এবং সেখানে সোভিয়েত বাহিনী মোতায়েন রেখেছিল। পূর্বাঞ্চলীয় সেনাবাহিনীগুলো অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও সামরিক নীতিতে ক্রমেই মস্কোনির্ভর হয়ে পড়ে। তবু ন্যাটোর মতো একটি প্রকাশ্য বহুপক্ষীয় জোট তখনো ছিল না। পশ্চিম জার্মানির ন্যাটোতে প্রবেশ সেই আনুষ্ঠানিক জোট প্রতিষ্ঠার তাৎক্ষণিক উপলক্ষ তৈরি করে।

১৯৫৫ সালের ১৪ মে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে আলবেনিয়া, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পূর্ব জার্মানি, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এটি ওয়ারশ চুক্তি নামে পরিচিত হয়। ন্যাটোর মতো এর ঘোষিত নীতিও ছিল—কোনো সদস্যের ওপর আক্রমণ হলে অন্যরা তাকে সহায়তা করবে। একটি যৌথ সামরিক কমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়, যার সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সব সময় সোভিয়েত কর্মকর্তাদের হাতে থাকত। রাজনৈতিক পরামর্শের জন্যও পৃথক কাঠামো রাখা হয়েছিল। বাহ্যিকভাবে এটি সমমর্যাদার সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষা জোট হলেও বাস্তবে এর সামরিক সিদ্ধান্ত ও কৌশলের ওপর মস্কোর নিয়ন্ত্রণ ছিল প্রায় সম্পূর্ণ।

দুই জোটের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য ছিল সদস্যদের স্বাধীনতার মাত্রা। ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্র ছিল নিঃসন্দেহে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ, কিন্তু অন্যান্য সদস্যের নিজস্ব সরকার, পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের উল্লেখযোগ্য সুযোগ ছিল। ফ্রান্স ১৯৬৬ সালে ন্যাটোর সমন্বিত সামরিক কমান্ড থেকে বেরিয়ে গেলেও রাজনৈতিক সদস্যপদ বজায় রাখতে পেরেছিল। বিপরীতে ওয়ারশ চুক্তি পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত কর্তৃত্ব রক্ষার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ১৯৫৬ সালে হাঙ্গেরির বিদ্রোহ দমন এবং ১৯৬৮ সালে চেকোস্লোভাকিয়ার সংস্কার আন্দোলন থামাতে ওয়ারশ চুক্তিভুক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। জোটটি বাইরের আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি সদস্যরাষ্ট্রের ভেতরে মস্কোবিরোধী পরিবর্তন প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে।

আলবেনিয়া সোভিয়েত-চীন বিরোধের প্রেক্ষাপটে ধীরে ধীরে জোটের কার্যক্রম থেকে দূরে সরে যায় এবং ১৯৬৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যায়। পূর্ব জার্মানি শুরুতে রাজনৈতিক সদস্য হলেও ১৯৫৬ সালে তার নতুন সেনাবাহিনী গঠনের পর যৌথ সামরিক কাঠামোতে পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। অন্যদিকে ন্যাটোও সম্প্রসারিত হয়েছিল—গ্রিস ও তুরস্ক ১৯৫২ সালে এবং পশ্চিম জার্মানি ১৯৫৫ সালে যোগ দেয়। ফলে উত্তর সাগর থেকে ভূমধ্যসাগর এবং মধ্য ইউরোপ পর্যন্ত দুই জোটের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিরক্ষা অঞ্চল মুখোমুখি দাঁড়ায়।

দুই পক্ষের সামরিক পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিল পারমাণবিক অস্ত্র। প্রচলিত স্থলবাহিনীতে সোভিয়েত জোট সংখ্যাগতভাবে শক্তিশালী বলে পশ্চিমা পরিকল্পনাকারীরা মনে করতেন। তাই ন্যাটো প্রথমদিকে সম্ভাব্য সোভিয়েত আক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিশোধের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ১৯৫০-এর দশকে ‘ব্যাপক প্রতিশোধ’ নীতি অনুযায়ী বড় ধরনের আক্রমণের জবাবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দেওয়া হতো। পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও শক্তিশালী পারমাণবিক ভান্ডার গড়ে তুললে উভয় পক্ষই পরস্পরকে ধ্বংস করার ক্ষমতা অর্জন করে। তখন সীমিত আক্রমণ থেকে পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক যুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও নমনীয় কৌশল তৈরি করা হয়।

ন্যাটো ও ওয়ারশ চুক্তির বাহিনী সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি, কিন্তু ইউরোপজুড়ে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি চলেছে চার দশক ধরে। বিপুল সেনা, ট্যাংক, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক অস্ত্র, রাডার ও সামরিক ঘাঁটি মোতায়েন করা হয়। বিভক্ত জার্মানি ছিল এই সংঘাতের সম্মুখসীমা; বিশেষত বার্লিনে দুই পক্ষের সেনা অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করত। নিয়মিত মহড়া, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ভুল সংকেত থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা ইউরোপীয় মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতার অংশ হয়ে ওঠে। দুই জোট শান্তি রক্ষা করেছিল প্রতিপক্ষকে ভয় দেখিয়ে—যে শান্তির ভিত্তি ছিল পারস্পরিক ধ্বংসের নিশ্চয়তা।

১৯৮৯ সালে পূর্ব ইউরোপের কমিউনিস্ট সরকারগুলোর পতন এবং ১৯৯০ সালে জার্মান পুনরেকত্রীকরণ ওয়ারশ চুক্তির ভিত্তি ভেঙে দেয়। ১৯৯১ সালের জুলাইয়ে জোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়; এর কয়েক মাস পর সোভিয়েত ইউনিয়নেরও পতন ঘটে। ন্যাটো বিলুপ্ত না হয়ে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয় এবং পরে পূর্ব ইউরোপের বহু সাবেক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে সদস্য হিসেবে গ্রহণ করে।

ন্যাটো ও ওয়ারশ চুক্তি শুধু দুটি সামরিক সংগঠন ছিল না; তারা স্নায়ুযুদ্ধের বিভক্ত পৃথিবীর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। ন্যাটো পশ্চিম ইউরোপকে মার্কিন নিরাপত্তা ও পারমাণবিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত করেছিল, আর ওয়ারশ চুক্তি পূর্ব ইউরোপের সেনাবাহিনীকে সোভিয়েত নেতৃত্বের অধীনে একত্র করেছিল। সম্মিলিত প্রতিরক্ষার নামে গড়া এই জোট দুটি সরাসরি বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে ভূমিকা রাখলেও অস্ত্র প্রতিযোগিতা, সামরিক উত্তেজনা এবং পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাকে স্থায়ী করেছিল। তাদের মুখোমুখি অবস্থানই প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ইউরোপের নিরাপত্তা, রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কাঠামো নির্ধারণ করেছে।


আপনার পছন্দ হতে পারে