বার্লিন অবরোধ ও এয়ারলিফট: স্নায়ুযুদ্ধের প্রথম বড় সংঘাতের ইতিহাস
সিরিজ: স্নায়ুযুদ্ধ: দুই পরাশক্তির বিশ্বসংঘাত
আকাশপথে অবরুদ্ধ বার্লিনকে বাঁচানোর অভিযান
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ইউরোপ যখন পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিল, তখন জার্মানির রাজধানী বার্লিন হয়ে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বিরোধের সবচেয়ে বিপজ্জনক কেন্দ্র। ১৯৪৮ সালের জুন থেকে ১৯৪৯ সালের মে পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন পশ্চিম বার্লিনের সঙ্গে স্থল ও জলপথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। শহরের প্রায় বিশ লক্ষের বেশি বাসিন্দাকে খাদ্য, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে পশ্চিমা শক্তিগুলোকে বার্লিন ছাড়তে বাধ্য করাই ছিল এই চাপের প্রধান লক্ষ্য। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন যুদ্ধ শুরু না করে আকাশপথে পুরো শহরের সরবরাহ চালু রাখে। বার্লিন অবরোধ ও এয়ারলিফট ছিল স্নায়ুযুদ্ধের প্রথম বড় শক্তিপরীক্ষা, যেখানে গুলি না চললেও ইউরোপের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণের লড়াই চলেছিল।
১৯৪৫ সালে নাৎসি জার্মানির আত্মসমর্পণের পর দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়নের চারটি দখল অঞ্চলে ভাগ করা হয়। সোভিয়েত দখল অঞ্চলের প্রায় ১৬০ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত বার্লিনকেও একইভাবে চার ভাগে বিভক্ত করা হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স নিয়ন্ত্রিত পশ্চিম বার্লিন ছিল সোভিয়েত-নিয়ন্ত্রিত পূর্ব জার্মানির মাঝখানে একটি বিচ্ছিন্ন পশ্চিমা দ্বীপ। সেখানে পৌঁছাতে পশ্চিমা শক্তিগুলোকে সোভিয়েত অঞ্চল অতিক্রমকারী সড়ক, রেলপথ, খাল এবং পূর্বনির্ধারিত তিনটি বিমানপথ ব্যবহার করতে হতো। এই অস্বাভাবিক ভৌগোলিক ব্যবস্থা সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল ছিল; কিন্তু যুদ্ধকালীন মৈত্রী ভেঙে যাওয়ার পর সেটিই বিপজ্জনক সংঘাতের উৎস হয়ে ওঠে।
জার্মানির ভবিষ্যৎ নিয়ে চার দখলদার শক্তির ধারণা ছিল পরস্পরবিরোধী। সোভিয়েত ইউনিয়ন এমন একটি দুর্বল ও নিরপেক্ষ জার্মানি চেয়েছিল, যেখান থেকে আর কখনো রাশিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণ হবে না। পাশাপাশি মস্কো নিজের যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে সোভিয়েত অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ শিল্পযন্ত্র ও সম্পদ সরিয়ে নিচ্ছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন মনে করত, ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য জার্মান শিল্প ও উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করা অপরিহার্য। ১৯৪৭ সালে তারা নিজেদের দখল অঞ্চল একত্র করে ‘বাইজোনিয়া’ গঠন করে; পরে ফরাসি অঞ্চলও এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়। পশ্চিমা অঞ্চলগুলোকে একটি কার্যকর রাষ্ট্রে রূপান্তরের উদ্যোগ মস্কোর কাছে পশ্চিম জার্মানিকে সোভিয়েতবিরোধী ঘাঁটি বানানোর পরিকল্পনা বলে মনে হয়।
সংঘাতের তাৎক্ষণিক কারণ ছিল মুদ্রা সংস্কার। যুদ্ধোত্তর জার্মানিতে পুরোনো রাইখসমার্ক কার্যত মূল্যহীন হয়ে পড়েছিল, কালোবাজার বিস্তৃত হয়েছিল এবং স্বাভাবিক বাণিজ্য ভেঙে পড়েছিল। ১৯৪৮ সালের ২০ জুন পশ্চিমা শক্তিগুলো তাদের দখল অঞ্চলে নতুন ডয়েচমার্ক চালু করে। এর কয়েক দিন পর পশ্চিম বার্লিনেও নতুন মুদ্রা প্রবর্তন করা হয়। সোভিয়েত নেতৃত্বের আশঙ্কা ছিল, এই পদক্ষেপ পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক ঐক্য এবং পৃথক পশ্চিম জার্মান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে অনিবার্য করে তুলবে। মস্কো পূর্বাঞ্চলে নিজস্ব মুদ্রা চালু করে এবং পশ্চিম বার্লিনে পশ্চিমা মুদ্রার ব্যবহার ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
১৯৪৮ সালের ২৪ জুন সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ পশ্চিম জার্মানি থেকে পশ্চিম বার্লিনে যাওয়ার প্রধান রেল, সড়ক ও জলপথ বন্ধ করে দেয়। বিদ্যুৎ সরবরাহের বড় অংশও সীমিত করা হয়, কারণ শহরের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় কয়লার জন্য বাইরের ওপর নির্ভরশীল ছিল। সোভিয়েত পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রযুক্তিগত সমস্যা ও মুদ্রাজনিত বিশৃঙ্খলার কথা বললেও প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা। স্ট্যালিন ধারণা করেছিলেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো এত দূরের বিচ্ছিন্ন একটি শহরে দীর্ঘদিন অবস্থান বজায় রাখতে পারবে না। সরবরাহ বন্ধ হলে তারা হয় পশ্চিম বার্লিন ত্যাগ করবে, নয়তো নতুন মুদ্রা ও পৃথক পশ্চিম জার্মান রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামনে তখন তিনটি কঠিন পথ ছিল। প্রথমটি ছিল পশ্চিম বার্লিন ছেড়ে দেওয়া, যা ইউরোপে মার্কিন বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করত। দ্বিতীয়টি ছিল সশস্ত্র বহর দিয়ে স্থলপথের অবরোধ ভাঙা; কিন্তু সোভিয়েত বাহিনী বাধা দিলে সরাসরি যুদ্ধ, এমনকি বৃহত্তর ইউরোপীয় সংঘাত শুরু হতে পারত। তৃতীয় পথ ছিল আকাশপথে শহরের সরবরাহ বজায় রাখা। ১৯৪৫ সালের চুক্তিতে পশ্চিমা শক্তিগুলোর জন্য নির্ধারিত তিনটি বিমানপথের অধিকার স্পষ্ট থাকায় সোভিয়েত ইউনিয়ন সেগুলো বন্ধ করলে প্রকাশ্য সামরিক সংঘর্ষের দায় তার ওপর পড়ত। প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান পশ্চিম বার্লিনে অবস্থান বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেন এবং ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র বার্লিন ত্যাগ করবে না।
১৯৪৮ সালের ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ভিটলস’ নামে আকাশপথে সরবরাহ অভিযান শুরু করে। ব্রিটেন তাদের অংশের নাম দেয় ‘অপারেশন প্লেইনফেয়ার’। শুরুতে এটি ছিল সীমিত ও অনিশ্চিত প্রচেষ্টা। পশ্চিম বার্লিনের বাসিন্দাদের প্রতিদিন হাজার হাজার টন খাদ্য, কয়লা, ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী প্রয়োজন ছিল। ছোট বিমান এবং অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা দিয়ে এত বড় চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব মনে হচ্ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে অভিযানকে একটি বিশাল শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মতো সংগঠিত করা হয়। মার্কিন সি-৪৭-এর পরিবর্তে অধিক ধারণক্ষমতার সি-৫৪ স্কাইমাস্টার বিমান বাড়ানো হয় এবং ব্রিটিশ বাহিনী ডগলাস ডাকোটা, অ্যাভ্রো ইয়র্কসহ বিভিন্ন পরিবহন বিমান ব্যবহার করে।
বিমানগুলো নির্দিষ্ট উচ্চতা, গতি ও সময়সূচি মেনে তিনটি আকাশপথে চলাচল করত। দুটি পথ দিয়ে বিমান পশ্চিম বার্লিনে প্রবেশ করত এবং অন্যটি দিয়ে ফিরে যেত। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একটির পর একটি বিমান অবতরণ করায় আকাশে কার্যত অবিচ্ছিন্ন সরবরাহশৃঙ্খল তৈরি হয়। টেম্পেলহফ ও গ্যাটো বিমানবন্দর ছিল প্রধান কেন্দ্র; পরে ফরাসি অঞ্চলে অল্প সময়ের মধ্যে টেগেল বিমানবন্দর নির্মাণ করা হয়। বার্লিনের হাজার হাজার শ্রমিক, যাদের মধ্যে বহু নারীও ছিলেন, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মাত্র কয়েক মাসে নতুন রানওয়ে প্রস্তুত করেন। এই অভিযান শুধু বিমানচালকদের কৃতিত্ব ছিল না; মাটিতে কাজ করা প্রকৌশলী, আবহাওয়াবিদ, মালামাল ব্যবস্থাপক এবং সাধারণ বার্লিনবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একে সম্ভব করেছিল।
খাদ্যের তুলনায় কয়লা পরিবহন ছিল বেশি কঠিন। শীতের সময় বাড়িঘর উষ্ণ রাখা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সীমিত শিল্পকারখানা চালু রাখতে বিপুল পরিমাণ কয়লা দরকার ছিল। কয়লার ধুলা বিমানের ভেতর ছড়িয়ে যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত করত, আবার ভারী বস্তা দ্রুত ওঠানো-নামানোর ব্যবস্থাও করতে হতো। বার্লিনবাসী কঠোর রেশন মেনে চলত; বিদ্যুৎ সীমিত সময়ের জন্য পাওয়া যেত এবং অনেক পরিবার অন্ধকার ও ঠান্ডার মধ্যে দিন কাটাত। তবু অধিকাংশ মানুষ সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়ার বদলে কষ্ট সহ্য করে পশ্চিমা উপস্থিতিকে সমর্থন করে।
এয়ারলিফটের মানবিক প্রতীক হয়ে ওঠেন মার্কিন বৈমানিক গেইল হ্যালভারসেন। বিমানবন্দরের কাছে দাঁড়ানো শিশুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তিনি ছোট প্যারাসুটে চকোলেট ও চুইংগাম বেঁধে নিচে ফেলতে শুরু করেন। অবতরণের আগে বিমানের ডানা দুলিয়ে সংকেত দেওয়ায় তিনি ‘আঙ্কল উইগলি উইংস’ নামে পরিচিত হন। পরে এই উদ্যোগ বৃহত্তর কর্মসূচিতে পরিণত হয় এবং বিমানগুলো পরিচিতি পায় ‘রোজিনেনবোম্বার’ বা কিশমিশ বোমারু বিমান নামে। যুদ্ধের অল্প কয়েক বছর পর যে মার্কিন বিমানকে জার্মানরা শত্রুর বোমারু হিসেবে দেখেছিল, সেই বিমানই এবার খাদ্য ও আশার বাহক হয়ে ওঠে। এর ফলে পশ্চিম জার্মানদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটে।
সোভিয়েত বাহিনী পরিবহন বিমানগুলোকে সরাসরি গুলি করেনি, কারণ তাতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি ছিল। তবে মহড়া, আকাশে কাছাকাছি উড্ডয়ন, অনুসন্ধানী আলো এবং বেতার হস্তক্ষেপের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। একই সময়ে মস্কো পশ্চিম বার্লিনবাসীকে পূর্বাঞ্চলে এসে খাদ্য সংগ্রহের প্রস্তাব দেয়, কিন্তু খুব কম মানুষ তাতে সাড়া দেয়। সোভিয়েত নেতৃত্ব আশা করেছিল শীত, দুর্ঘটনা ও ব্যয় শেষ পর্যন্ত পশ্চিমা শক্তিকে নতি স্বীকারে বাধ্য করবে। বাস্তবে দক্ষ ব্যবস্থাপনায় বিমান পরিবহনের সক্ষমতা ক্রমাগত বেড়ে যায়। ১৯৪৯ সালের এপ্রিলে এক বিশেষ দিনে প্রায় তেরো হাজার টন পণ্য পৌঁছে দিয়ে প্রমাণ করা হয় যে এয়ারলিফট স্থলপথের সরবরাহকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অভিযানটি ছিল বিপজ্জনক। খারাপ আবহাওয়া, ঘন কুয়াশা, বরফ জমা, সংকীর্ণ সময়সূচি এবং অবিরাম উড্ডয়নের কারণে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে; মার্কিন, ব্রিটিশ ও জার্মানসহ বহু মানুষ প্রাণ হারান। তা সত্ত্বেও প্রায় এগারো মাসে দুই লাখের বেশি উড্ডয়নের মাধ্যমে পশ্চিম বার্লিনে প্রায় তেইশ লাখ টনেরও বেশি পণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়। বিমানগুলো শুধু খাদ্য ও কয়লা নিয়ে যেত না; ফেরার সময় পশ্চিম বার্লিনে উৎপাদিত পণ্য এবং প্রয়োজনে অসুস্থ মানুষ ও শিশুদেরও বহন করত। একটি আধুনিক মহানগরকে দীর্ঘ সময় শুধু আকাশপথে সচল রাখার এমন দৃষ্টান্ত আগে কখনো দেখা যায়নি।
অবরোধ কাঙ্ক্ষিত ফল না দেওয়ায় এবং পশ্চিমাদের ঐক্য আরও শক্তিশালী হওয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়ন আলোচনায় ফিরে আসে। ১৯৪৯ সালের ১২ মে স্থল ও জলপথের অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। তবে সম্ভাব্য নতুন বাধার আশঙ্কায় পশ্চিমা শক্তিগুলো সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এয়ারলিফট চালিয়ে মজুত গড়ে তোলে। কৌশলগতভাবে এটি পশ্চিমাদের বড় সাফল্য ছিল: তারা যুদ্ধ না করেই পশ্চিম বার্লিন রক্ষা করে এবং দেখিয়ে দেয় যে সোভিয়েত চাপের মুখে পিছিয়ে যাবে না। বিপরীতে স্ট্যালিন পশ্চিমা শক্তিগুলোকে শহর থেকে উৎখাত করতে ব্যর্থ হন।
বার্লিন সংকট ইউরোপের বিভাজন কমায়নি; বরং স্থায়ী করে তুলেছিল। অবরোধ চলাকালেই পশ্চিমা দেশগুলো যৌথ নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা দ্রুত করে এবং ১৯৪৯ সালের এপ্রিলে ন্যাটো প্রতিষ্ঠা করে। মে মাসে পশ্চিমাঞ্চলীয় দখলভূমি নিয়ে জার্মান ফেডারেল প্রজাতন্ত্র বা পশ্চিম জার্মানি এবং অক্টোবরে সোভিয়েত অঞ্চলে জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র বা পূর্ব জার্মানি প্রতিষ্ঠিত হয়। বার্লিনও কার্যত দুটি পৃথক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিভক্ত হয়ে যায়। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে শহরটি স্নায়ুযুদ্ধের সবচেয়ে দৃশ্যমান সীমান্ত হিসেবে টিকে থাকে।
বার্লিন অবরোধ ও এয়ারলিফট প্রমাণ করেছিল, স্নায়ুযুদ্ধ হবে চাপ, প্রতিরোধ, প্রচারণা ও সীমিত ঝুঁকি গ্রহণের সংঘাত—যেখানে উভয় পরাশক্তি প্রতিপক্ষকে পরাজিত করতে চাইবে, কিন্তু সরাসরি যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করবে। পশ্চিমা বিমানগুলো অবরুদ্ধ শহরকে বাঁচানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রতীক হয়ে ওঠে। অন্যদিকে সংকটটি পারস্পরিক সন্দেহকে আরও গভীর করে ইউরোপকে দুই শিবিরে ভাগ করে দেয়। ১৯৪৮–৪৯ সালের সেই আকাশপথের অভিযান তাই শুধু একটি শহরে খাদ্য পৌঁছানোর ইতিহাস নয়; এটি ছিল স্নায়ুযুদ্ধের নিয়ম, জোট ও বিভক্ত ইউরোপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী প্রথম বড় সংঘাত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা: যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন যেভাবে শত্রু পরাশক্তিতে পরিণত হয়
খে সান ও টেট অফেনসিভ: ১৯৬৮ সালের আক্রমণ যেভাবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়েছিল
এজেন্ট অরেঞ্জ ও ন্যাপাম: ভিয়েতনাম যুদ্ধে রাসায়নিক পদার্থ ও বেসামরিক বিপর্যয়
ইয়া দ্রাং থেকে সার্চ অ্যান্ড ডেস্ট্রয়: ভিয়েতনামের জঙ্গলযুদ্ধ ও গেরিলা কৌশল