ট্রুম্যান নীতি, মার্শাল পরিকল্পনা ও আয়রন কার্টেন: ইউরোপ বিভক্ত হওয়ার ইতিহাস
সিরিজ: স্নায়ুযুদ্ধ: দুই পরাশক্তির বিশ্বসংঘাত
আয়রন কার্টেনে বিভক্ত ইউরোপ
১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইউরোপের মানচিত্রে সীমান্তগুলো মোটামুটি দৃশ্যমান থাকলেও মহাদেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ছিল গভীরভাবে অনিশ্চিত। অসংখ্য শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, শিল্পকারখানা ও রেলপথ বিধ্বস্ত ছিল, খাদ্য ও জ্বালানির সংকটে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। জার্মানি পরাজিত, ফ্রান্স দুর্বল এবং ব্রিটেন বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত ছিল। ইউরোপের পুরোনো শক্তিগুলোর এই পতনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রধান পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। তারা নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে মিত্র হিসেবে যুদ্ধ করলেও শান্তিকালীন ইউরোপ কেমন হবে, সেই প্রশ্নে তাদের লক্ষ্য ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। ইউরোপের পুনর্গঠন তাই শুধু অর্থনৈতিক প্রয়োজন ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল দুটি আদর্শের মধ্যে ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা।
সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অকল্পনীয় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছিল। পশ্চিম দিক থেকে ভবিষ্যৎ আক্রমণ ঠেকাতে জোসেফ স্ট্যালিন পূর্ব ইউরোপে মস্কোর প্রতি অনুগত রাষ্ট্রগুলোর একটি নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে লাল সেনা পোল্যান্ড, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, পূর্ব জার্মানি ও চেকোস্লোভাকিয়ায় প্রবেশ করেছিল। নাৎসি দখলদারদের বিতাড়িত করার পরও এসব অঞ্চলে সোভিয়েত সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়ে যায়। প্রথম দিকে কমিউনিস্টরা অন্যান্য দলের সঙ্গে জোট সরকারে অংশ নিলেও ধীরে ধীরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার, ভয় দেখানো, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দল ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে পূর্ব ইউরোপে একদলীয় কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে।
পশ্চিমা নেতারা এই পরিবর্তনকে সোভিয়েত নিরাপত্তার ব্যবস্থা হিসেবে নয়, পরিকল্পিত সম্প্রসারণ হিসেবে দেখতে শুরু করেন। ১৯৪৬ সালের ৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ফুলটনে ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ঘোষণা করেন, বাল্টিক সাগরের স্টেটিন থেকে অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের ত্রিয়েস্তে পর্যন্ত ইউরোপের ওপর একটি “আয়রন কার্টেন” বা “লৌহ পর্দা” নেমে এসেছে। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, পূর্ব ইউরোপের রাজধানীগুলো সোভিয়েত প্রভাবাধীন একটি অঞ্চলের মধ্যে বন্দী হয়ে পড়েছে এবং সেখানে মস্কোর নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। এটি কোনো বাস্তব ধাতব পর্দা ছিল না; ছিল রাজনৈতিক দমন, সীমিত যোগাযোগ, সামরিক উপস্থিতি এবং আদর্শিক বিচ্ছিন্নতার প্রতীক।
চার্চিলের ভাষণ বিভাজন সৃষ্টি করেনি, কিন্তু ইতিমধ্যে চলমান বিভাজনকে একটি শক্তিশালী নাম দিয়েছিল। স্ট্যালিন এটিকে সোভিয়েতবিরোধী উসকানি এবং নতুন যুদ্ধের আহ্বান হিসেবে নিন্দা করেন। তবে পশ্চিম ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ভাষণটি ব্যাপক প্রভাব ফেলে। যুদ্ধকালীন মিত্র সোভিয়েত ইউনিয়নকে এখন আর সহযোগী শক্তি হিসেবে নয়, সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা শুরু হয়। একই সময়ে মার্কিন কূটনীতিক জর্জ কেনান যুক্তি দেন, সোভিয়েত নেতৃত্ব দীর্ঘমেয়াদে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে চাইবে এবং তাকে সরাসরি যুদ্ধের বদলে দৃঢ় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিরোধের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এখান থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ‘কনটেইনমেন্ট’ বা সোভিয়েত প্রভাব নিয়ন্ত্রণের নীতি সুস্পষ্ট রূপ পেতে থাকে।
এই নীতির প্রথম বড় পরীক্ষা আসে গ্রিস ও তুরস্ককে কেন্দ্র করে। গ্রিসে রাজতন্ত্রী সরকারের সঙ্গে কমিউনিস্ট নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীদের গৃহযুদ্ধ চলছিল। ব্রিটেন এত দিন গ্রিক সরকার এবং তুরস্ককে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিলেও যুদ্ধোত্তর অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে ১৯৪৭ সালে সেই দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব বলে জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা আশঙ্কা করেন, গ্রিসে কমিউনিস্ট বিজয় হলে পূর্ব ভূমধ্যসাগর, তুরস্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে সোভিয়েত প্রভাব বেড়ে যেতে পারে। যদিও গ্রিক বিদ্রোহীরা সরাসরি মস্কোর নিয়ন্ত্রণে ছিল না, ওয়াশিংটন সংকটটিকে বৃহত্তর কমিউনিস্ট সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
১৯৪৭ সালের ১২ মার্চ প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান মার্কিন কংগ্রেসে গ্রিস ও তুরস্কের জন্য চল্লিশ কোটি ডলারের সহায়তা চান। তাঁর বক্তব্য ছিল, সশস্ত্র সংখ্যালঘু কিংবা বাইরের চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকারী স্বাধীন জনগণকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা করা উচিত। এই ঘোষণাই ট্রুম্যান নীতি নামে পরিচিত হয়। ভাষায় এটি স্বাধীন জনগণকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি হলেও বাস্তবে এর অর্থ ছিল—বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কোনো অঞ্চলে কমিউনিস্ট প্রভাব বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত থাকবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের মার্কিন বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতা দুর্বল হয়ে যায় এবং দেশটি ইউরোপের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার স্থায়ী দায়িত্ব গ্রহণ করে।
ট্রুম্যান নীতি ছিল মূলত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক ঘোষণা; কিন্তু ইউরোপের সংকটের গভীরে ছিল অর্থনৈতিক ধ্বংস। ১৯৪৬–৪৭ সালের কঠোর শীত, কয়লার ঘাটতি, কৃষি উৎপাদনের পতন, মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার অভাব পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করছিল। ক্ষুধা, বেকারত্ব ও হতাশা ইতালি ও ফ্রান্সের মতো দেশে শক্তিশালী কমিউনিস্ট দলগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছিল। মার্কিন নেতৃত্ব উপলব্ধি করে, শুধু অস্ত্র বা সামরিক সহায়তা দিয়ে কমিউনিজমের বিস্তার ঠেকানো সম্ভব নয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রথমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা জরুরি ছিল।
১৯৪৭ সালের ৫ জুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ সি. মার্শাল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া ভাষণে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সমন্বিত পুনর্গঠন পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানান। আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় পুনরুদ্ধার কর্মসূচি নামে পরিচিত এই উদ্যোগ পরে মার্শাল পরিকল্পনা হিসেবে বিখ্যাত হয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোকে তৎকালীন হিসাবে প্রায় তেরো বিলিয়ন ডলারের অনুদান, ঋণ, খাদ্য, কাঁচামাল, জ্বালানি ও যন্ত্রপাতি দেয়। এই সহায়তা কৃষি ও শিল্পোৎপাদন বাড়ানো, পরিবহনব্যবস্থা পুনর্নির্মাণ, মুদ্রা স্থিতিশীল করা এবং ইউরোপের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যবহৃত হয়।
মার্শাল পরিকল্পনা কেবল মানবিক সাহায্যের কর্মসূচি ছিল না। পুনরুজ্জীবিত পশ্চিম ইউরোপ মার্কিন পণ্যের জন্য শক্তিশালী বাজার সৃষ্টি করবে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করবে এবং রাজনৈতিক উগ্রবাদ দুর্বল করবে—এগুলোও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল। সাহায্য গ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলোকে অর্থনৈতিক তথ্য বিনিময়, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং পুনর্গঠনের সমন্বিত পরিকল্পনা করতে হয়েছিল। এর ফলে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়, যা পরবর্তী ইউরোপীয় একীকরণের ভিত্তি তৈরিতে সহায়তা করে। অর্থনৈতিক সাহায্য এভাবে একই সঙ্গে পুনর্গঠন, বাজার সম্প্রসারণ ও আদর্শিক প্রতিরোধের অস্ত্রে পরিণত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোকেও পরিকল্পনায় যোগ দেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু স্ট্যালিন মনে করেন, সহায়তার শর্ত মেনে অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ করলে পূর্ব ইউরোপে মার্কিন প্রভাব প্রবেশ করবে এবং সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হবে। সোভিয়েত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্যাচেস্লাভ মলোটভ আলোচনা থেকে সরে যান। চেকোস্লোভাকিয়া ও পোল্যান্ড প্রথমে অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখালেও মস্কোর চাপে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ফলে ইউরোপের দেশগুলো কে মার্শাল পরিকল্পনা গ্রহণ করবে আর কে প্রত্যাখ্যান করবে—এই সিদ্ধান্তই মহাদেশটির দুই অর্থনৈতিক শিবিরে বিভক্ত হওয়ার সুস্পষ্ট সীমারেখা টেনে দেয়।
মার্কিন পদক্ষেপের জবাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৪৭ সালে কমিনফর্ম প্রতিষ্ঠা করে, যার উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপের কমিউনিস্ট দলগুলোর কার্যক্রম সমন্বয় এবং মস্কোর রাজনৈতিক নির্দেশনা কার্যকর করা। পরে ১৯৪৯ সালে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহায়তা পরিষদ বা কমেকন গঠনের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিগুলোকে একটি পৃথক কাঠামোর মধ্যে আনা হয়। পশ্চিমে যেখানে বাজার, ব্যক্তিগত মালিকানা ও মার্কিন সহায়তানির্ভর পুনর্গঠন এগিয়ে চলছিল, পূর্বে সেখানে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়ন, কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা এবং সোভিয়েত বাণিজ্যব্যবস্থা শক্তিশালী হচ্ছিল।
পূর্ব-পশ্চিম বিভাজনের সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ঘটে চেকোস্লোভাকিয়ায়। দেশটিতে বহুদলীয় সরকার ও উল্লেখযোগ্য গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য থাকলেও ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কমিউনিস্ট পার্টি পুলিশ ও শ্রমিক সংগঠনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে কার্যত সম্পূর্ণ ক্ষমতা দখল করে। পশ্চিমা বিশ্ব ঘটনাটিকে সোভিয়েত সম্প্রসারণের স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে দেখে। এর ফলে মার্কিন কংগ্রেসে মার্শাল পরিকল্পনার অনুমোদন দ্রুত হয় এবং পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলো যৌথ নিরাপত্তাব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যায়। একই সময়ে জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও নতুন মুদ্রা চালুর উদ্যোগ মস্কোর সঙ্গে সংঘাত বাড়িয়ে দেয়, যার পরিণতি ছিল ১৯৪৮ সালের বার্লিন অবরোধ।
১৯৪৯ সালের মধ্যে ইউরোপের বিভাজন প্রায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। পশ্চিম ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সাহায্য, উদার গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদী বাজারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়; পূর্ব ইউরোপ সোভিয়েত নিরাপত্তাবলয়, একদলীয় কমিউনিস্ট শাসন ও কেন্দ্রীয় পরিকল্পিত অর্থনীতির অধীনে চলে যায়। একই বছরে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জার্মানি দুটি পৃথক রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়। পরে পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক জোট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই বিভাজন আরও কঠোর হয়ে উঠলেও তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
ট্রুম্যান নীতি, মার্শাল পরিকল্পনা ও আয়রন কার্টেন তাই তিনটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। আয়রন কার্টেন ইউরোপের পরিবর্তিত বাস্তবতাকে ভাষা দিয়েছিল, ট্রুম্যান নীতি সেই বাস্তবতার বিরুদ্ধে মার্কিন রাজনৈতিক প্রতিরোধ ঘোষণা করেছিল এবং মার্শাল পরিকল্পনা পশ্চিমা শিবিরকে অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল ও ঐক্যবদ্ধ করেছিল। বিপরীতে সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব ইউরোপে নিজের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো সুসংহত করে। এভাবেই যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি মহাদেশের পুনর্গঠন দুই পরাশক্তির আদর্শিক প্রতিযোগিতায় পরিণত হয় এবং ইউরোপ পুঁজিবাদী পশ্চিম ও সমাজতান্ত্রিক পূর্ব—এই দুই বিরোধী শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
ন্যাটো ও ওয়ারশ চুক্তি: স্নায়ুযুদ্ধের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক জোটের ইতিহাস
খে সান ও টেট অফেনসিভ: ১৯৬৮ সালের আক্রমণ যেভাবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়েছিল
এজেন্ট অরেঞ্জ ও ন্যাপাম: ভিয়েতনাম যুদ্ধে রাসায়নিক পদার্থ ও বেসামরিক বিপর্যয়
ইয়া দ্রাং থেকে সার্চ অ্যান্ড ডেস্ট্রয়: ভিয়েতনামের জঙ্গলযুদ্ধ ও গেরিলা কৌশল