বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা: যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন যেভাবে শত্রু পরাশক্তিতে পরিণত হয়

সিরিজ: স্নায়ুযুদ্ধ: দুই পরাশক্তির বিশ্বসংঘাত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা: যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন যেভাবে শত্রু পরাশক্তিতে পরিণত হয়
যুদ্ধের মিত্র থেকে স্নায়ুযুদ্ধের প্রতিদ্বন্দ্বী

১৯৪৫ সালের মে মাসে নাৎসি জার্মানির পতন এবং সেপ্টেম্বরে জাপানের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে পৃথিবীর সামনে শান্তির এক নতুন যুগ শুরু হওয়ার কথা ছিল। যুদ্ধকালে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন একই জোটে থেকে অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে লড়েছিল। মার্কিন অস্ত্র, অর্থ ও শিল্পোৎপাদন এবং সোভিয়েত জনগণের বিপুল আত্মত্যাগ নাৎসি জার্মানিকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু এই সহযোগিতার ভিত্তি ছিল কোনো গভীর রাজনৈতিক বন্ধুত্ব নয়; ছিল হিটলারের বিরুদ্ধে সাময়িক অভিন্ন প্রয়োজন। সেই শত্রুর পতনের সঙ্গে সঙ্গেই জোটের ভেতরে দীর্ঘদিন চাপা পড়ে থাকা আদর্শিক বিরোধ, নিরাপত্তা নিয়ে ভয় এবং পারস্পরিক সন্দেহ প্রকাশ্যে চলে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দাঁড়িয়েছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র, ব্যক্তিগত মালিকানা এবং বাজারভিত্তিক পুঁজিবাদের ওপর। অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল কমিউনিস্ট পার্টি পরিচালিত একদলীয় রাষ্ট্র, যেখানে অর্থনীতি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত হতো। মস্কো বিশ্বপুঁজিবাদকে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য হুমকি মনে করত, আর ওয়াশিংটন আশঙ্কা করত যে সোভিয়েত নেতৃত্ব সুযোগ পেলেই অন্যান্য দেশে কমিউনিস্ট প্রভাব বিস্তার করবে। ফলে যুদ্ধকালীন হাসিমুখের বৈঠকগুলোর আড়ালেও দুই পক্ষ একে অন্যের ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্য নিয়ে গভীরভাবে সন্দিহান ছিল।

এই অবিশ্বাসের পেছনে পুরোনো ইতিহাসও কাজ করেছিল। ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের পর পশ্চিমা শক্তিগুলো রাশিয়ার গৃহযুদ্ধে বলশেভিকবিরোধীদের সহায়তা করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দেয়নি। আবার সোভিয়েত নেতৃত্ব মনে করত, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে পশ্চিম ইউরোপে দ্বিতীয় রণাঙ্গন খুলতে বিলম্ব করেছে, যাতে নাৎসি জার্মানি ও সোভিয়েত ইউনিয়ন পরস্পরকে দুর্বল করে ফেলে। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলো ১৯৩৯ সালের নাৎসি-সোভিয়েত অনাক্রমণ চুক্তিকে স্ট্যালিনের অবিশ্বাসযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে দেখেছিল। অতএব ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সালের সামরিক সহযোগিতা কখনোই পুরোনো ক্ষত মুছে দিতে পারেনি।

১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইয়াল্টা সম্মেলনে ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট, উইনস্টন চার্চিল ও জোসেফ স্ট্যালিন যুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপের কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা জার্মানিকে দখল অঞ্চলে ভাগ করা, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা এবং মুক্ত ইউরোপে নির্বাচনের মতো বিষয়ে মোটামুটি একমত হন। কিন্তু ‘মুক্ত নির্বাচন’ কিংবা ‘গণতান্ত্রিক সরকার’ বলতে কে কী বোঝাচ্ছিল, তা স্পষ্ট ছিল না। স্ট্যালিন পূর্ব ইউরোপে এমন সরকার চেয়েছিলেন, যেগুলো মস্কোর প্রতি অনুগত থাকবে এবং ভবিষ্যতে সোভিয়েত ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে আক্রমণের পথ বন্ধ করবে। রুজভেল্ট ও চার্চিল সেখানে স্বাধীন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা প্রত্যাশা করেছিলেন। একই সমঝোতার ভিন্ন ব্যাখ্যাই পরবর্তী বিরোধের বীজ বপন করেছিল।

সোভিয়েত নিরাপত্তা-আতঙ্ক সম্পূর্ণ কাল্পনিক ছিল না। রাশিয়া ও সোভিয়েত ভূখণ্ড পশ্চিম দিক থেকে একাধিকবার আক্রমণের শিকার হয়েছিল, আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের আনুমানিক দুই কোটিরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। স্ট্যালিন তাই পোল্যান্ড, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি ও অন্যান্য পূর্ব ইউরোপীয় রাষ্ট্রকে নিরাপত্তাবলয় হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই প্রচেষ্টা বাস্তবে সেসব দেশে বিরোধী দল দমন, নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ এবং মস্কোপন্থী কমিউনিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠায় রূপ নেয়। পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টিতে এটি আত্মরক্ষা নয়, বরং সোভিয়েত সাম্রাজ্য বিস্তারের সূচনা বলে মনে হয়।

১৯৪৫ সালের এপ্রিলে রুজভেল্টের মৃত্যুর পর হ্যারি এস. ট্রুম্যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট হন। সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি রুজভেল্টের তুলনামূলকভাবে সমঝোতামুখী দৃষ্টিভঙ্গির বদলে ট্রুম্যান কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। জুলাই মাসের পটসডাম সম্মেলনে ট্রুম্যান, স্ট্যালিন এবং প্রথমে চার্চিল ও পরে ক্লেমেন্ট অ্যাটলি জার্মানির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন। তত দিনে যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে প্রথম পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা করেছিল। ট্রুম্যান স্ট্যালিনকে নতুন এক শক্তিশালী অস্ত্রের কথা অস্পষ্টভাবে জানালেও সোভিয়েত গোয়েন্দাদের মাধ্যমে স্ট্যালিন আগেই বিষয়টি জানতেন। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ শুধু জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করেনি; এটি সোভিয়েত নেতৃত্বকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে বিশ্বশক্তির ভারসাম্যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন ও ভয়ংকর সুবিধা অর্জন করেছে।

যুদ্ধশেষে ইউরোপের বিশাল অংশ অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে পড়েছিল। খাদ্যসংকট, বেকারত্ব, শিল্পোৎপাদনের পতন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ফ্রান্স, ইতালি এবং অন্যান্য দেশে কমিউনিস্ট দলগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে তুলছিল। একই সময়ে ইরান থেকে সোভিয়েত সেনা প্রত্যাহার নিয়ে বিরোধ এবং তুরস্কের ওপর মস্কোর চাপ পশ্চিমা উদ্বেগ আরও বাড়ায়। ১৯৪৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কোতে কর্মরত মার্কিন কূটনীতিক জর্জ কেনান তাঁর বিখ্যাত দীর্ঘ বার্তায় যুক্তি দেন যে সোভিয়েত ক্ষমতা মূলত সম্প্রসারণপ্রবণ, তবে দৃঢ় ও ধারাবাহিক প্রতিরোধের মাধ্যমে তাকে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব। এই ধারণাই পরে ‘নিয়ন্ত্রণনীতি’ বা সোভিয়েত বিস্তার ঠেকানোর মার্কিন কৌশলের ভিত্তি হয়ে ওঠে।

১৯৪৬ সালের মার্চে উইনস্টন চার্চিল যুক্তরাষ্ট্রের ফুলটনে ঘোষণা করেন যে ইউরোপের ওপর একটি ‘লৌহ পর্দা’ নেমে এসেছে। বাল্টিক সাগরের স্টেটিন থেকে অ্যাড্রিয়াটিকের ত্রিয়েস্তে পর্যন্ত পূর্ব ইউরোপ মস্কোর প্রভাবাধীন হয়ে পড়েছে—এই বক্তব্য পশ্চিমা জনমনে নতুন বিভাজনকে স্পষ্ট করে তোলে। স্ট্যালিন চার্চিলের বক্তব্যকে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে নিন্দা করেন। ভাষণের পর থেকে ‘লৌহ পর্দা’ পূর্ব ও পশ্চিম ইউরোপের রাজনৈতিক, সামরিক এবং আদর্শিক বিচ্ছেদের প্রতীক হয়ে ওঠে।

সংঘাত আনুষ্ঠানিক নীতিতে রূপ নেয় ১৯৪৭ সালে। গ্রিসে রাজতন্ত্রী সরকার ও কমিউনিস্ট নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছিল, আর অর্থনৈতিক সংকটে পড়া ব্রিটেন গ্রিস ও তুরস্ককে সহায়তা দেওয়ার সামর্থ্য হারিয়েছিল। মার্চে ট্রুম্যান কংগ্রেসে ঘোষণা করেন, সশস্ত্র সংখ্যালঘু বা বাইরের চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকারী স্বাধীন জনগণকে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে। ট্রুম্যান নীতি স্নায়ুযুদ্ধকে বিচ্ছিন্ন কূটনৈতিক বিরোধ থেকে বিশ্বব্যাপী মার্কিন প্রতিরোধনীতিতে পরিণত করে। গ্রিস ও তুরস্কের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে ওয়াশিংটন বোঝায় যে সোভিয়েত প্রভাব ঠেকাতে সে ইউরোপের রাজনীতি ও নিরাপত্তায় স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকবে।

একই বছরের জুনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ মার্শাল ইউরোপ পুনর্গঠনের জন্য বিস্তৃত অর্থনৈতিক সাহায্যের প্রস্তাব দেন। মার্শাল পরিকল্পনার প্রকাশ্য উদ্দেশ্য ছিল ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বাণিজ্য সচল করা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। কিন্তু এর কৌশলগত লক্ষ্যও ছিল—দারিদ্র্য ও বিশৃঙ্খলাকে কাজে লাগিয়ে কমিউনিস্ট দলগুলোর ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা কমানো। সোভিয়েত ইউনিয়ন এই পরিকল্পনাকে ইউরোপে মার্কিন অর্থনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার মনে করে এবং পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোকে এতে অংশ নিতে বাধা দেয়। প্রতিক্রিয়ায় মস্কো কমিনফর্ম গঠন করে এবং পরে পূর্বাঞ্চলীয় অর্থনীতিগুলোর সমন্বয়ের জন্য কমেকন প্রতিষ্ঠা করে। ইউরোপের অর্থনৈতিক বিভাজন এবার রাজনৈতিক বিভাজনকেও স্থায়ী করে তোলে।

জার্মানিকে কেন্দ্র করে এই দ্বন্দ্ব দ্রুত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স তাদের দখল অঞ্চলগুলোকে ধীরে ধীরে একত্রিত করে পশ্চিম জার্মান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে এগোয় এবং ১৯৪৮ সালে সেখানে নতুন মুদ্রা চালু করে। এর জবাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন পশ্চিম বার্লিনে স্থল ও জলপথে প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। সোভিয়েত দখল অঞ্চলের গভীরে অবস্থিত পশ্চিম বার্লিনকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করাই ছিল অবরোধের উদ্দেশ্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন প্রায় এক বছর ধরে আকাশপথে খাদ্য, কয়লা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করে শহরটিকে সচল রাখে। বার্লিন বিমানসেতু দেখিয়ে দেয় যে পশ্চিমা শক্তিগুলো চাপের মুখে শহরটি ছেড়ে যাবে না, আবার সরাসরি যুদ্ধও শুরু করবে না। ১৯৪৯ সালের মে মাসে সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ অবরোধ প্রত্যাহার করে।

বার্লিন সংকটের পর জার্মানি দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়—পশ্চিমে জার্মান ফেডারেল প্রজাতন্ত্র এবং পূর্বে জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। ১৯৪৯ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা বা ন্যাটো প্রতিষ্ঠা করে। কোনো সদস্যের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার অঙ্গীকারের মাধ্যমে পশ্চিমা দেশগুলো প্রথমবার স্থায়ী সামরিক জোটে আবদ্ধ হয়। একই বছরের আগস্টে সোভিয়েত ইউনিয়ন সফলভাবে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের একক পারমাণবিক আধিপত্যও শেষ হয়ে যায়। পৃথিবী প্রবেশ করে এমন এক যুগে, যেখানে দুই পক্ষের যুদ্ধ মানেই পারমাণবিক ধ্বংসের আশঙ্কা।

এই দ্বন্দ্বকে ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ বলা হয় কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে মুখোমুখি হয়নি। তার পরিবর্তে তারা সামরিক জোট, অস্ত্র প্রতিযোগিতা, গোয়েন্দা তৎপরতা, প্রচারণা, অর্থনৈতিক সহায়তা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং তৃতীয় বিশ্বের আঞ্চলিক যুদ্ধের মাধ্যমে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়েছে। এর সূচনার জন্য শুধু একটি দেশকে দায়ী করলে ইতিহাসের জটিলতা হারিয়ে যায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব ইউরোপে দমনমূলক প্রভাববলয় প্রতিষ্ঠা করেছিল; একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও নিজের নিরাপত্তা, বাজার ও রাজনৈতিক আদর্শ রক্ষায় বিশ্বব্যাপী শক্তি প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করেছিল। উভয় পক্ষই নিজেদের পদক্ষেপকে আত্মরক্ষা এবং প্রতিপক্ষের পদক্ষেপকে আগ্রাসন হিসেবে দেখেছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় তাই স্থায়ী ঐক্য সৃষ্টি করেনি; বরং পুরোনো ইউরোপীয় শক্তিগুলোর পতনের মধ্যে দুটি নতুন পরাশক্তিকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যে পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণ, ট্রুম্যান নীতি, মার্শাল পরিকল্পনা, বার্লিন অবরোধ, ন্যাটোর প্রতিষ্ঠা এবং সোভিয়েত পারমাণবিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে সেই বিরোধ একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক ব্যবস্থায় রূপ নেয়। যুদ্ধক্ষেত্রের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন এভাবেই এমন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের নেতৃত্বে চলে যায়, যাদের সংঘাত পরবর্তী চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের রাজনীতি, যুদ্ধ, বিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং মানুষের নিরাপত্তাবোধকে নিয়ন্ত্রণ করেছে।


আপনার পছন্দ হতে পারে