এজেন্ট অরেঞ্জ ও ন্যাপাম: ভিয়েতনাম যুদ্ধে রাসায়নিক পদার্থ ও বেসামরিক বিপর্যয়
সিরিজ: ভিয়েতনাম যুদ্ধ
রাসায়নিক বিষ, আগুন ও বোমায় বিধ্বস্ত ভিয়েতনাম
ভিয়েতনাম যুদ্ধকে শুধু সৈন্য, গেরিলা, হেলিকপ্টার ও জঙ্গলযুদ্ধের ইতিহাস হিসেবে দেখলে এর সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বিপর্যয়ের একটি বড় অংশ অদৃশ্য থেকে যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুকে শনাক্ত করা, তার খাদ্য ও আশ্রয় নষ্ট করা এবং দুর্গম অঞ্চলে চলাচল বন্ধ করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ আগাছানাশক, আগুনসৃষ্টিকারী অস্ত্র ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বোমা ব্যবহার করেছিল। এগুলোর মধ্যে এজেন্ট অরেঞ্জ ও ন্যাপাম যুদ্ধের নিষ্ঠুরতার সবচেয়ে পরিচিত প্রতীকে পরিণত হয়। সামরিক দৃষ্টিতে এগুলো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের উপায় হলেও ভিয়েতনামের সাধারণ মানুষের কাছে এর অর্থ ছিল বন ও কৃষিজমি ধ্বংস, গ্রাম ছেড়ে পালানো, দগ্ধ শরীর, দীর্ঘস্থায়ী রোগ এবং পরবর্তী প্রজন্ম পর্যন্ত বিস্তৃত অনিশ্চয়তা।
দক্ষিণ ভিয়েতনামের ঘন জঙ্গল ভিয়েত কং ও উত্তর ভিয়েতনামের বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিত। গাছের আচ্ছাদনে তাদের চলাচল আকাশ থেকে দেখা কঠিন ছিল, গোপন ঘাঁটি ও রসদপথ লুকিয়ে রাখা যেত এবং মার্কিন বা দক্ষিণ ভিয়েতনামি বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলা চালিয়ে দ্রুত অদৃশ্য হওয়া সম্ভব হতো। গ্রামীণ ফসল বিদ্রোহীদের খাদ্য সরবরাহ করতে পারে—এই ধারণাও মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব পায়। ফলে জঙ্গলের পাতা ঝরিয়ে শত্রুকে দৃশ্যমান করা এবং নির্দিষ্ট অঞ্চলের ফসল ধ্বংস করার পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
১৯৬২ সালে যুক্তরাষ্ট্র অপারেশন র্যাঞ্চ হ্যান্ড নামে বৃহৎ আকারে আগাছানাশক ছড়ানোর অভিযান শুরু করে, যা ১৯৭১ সাল পর্যন্ত চলে। প্রধানত সি-১২৩ প্রোভাইডার বিমান থেকে দক্ষিণ ভিয়েতনামের বন, ম্যানগ্রোভ অঞ্চল, সীমান্তবর্তী পথ এবং কৃষিজমির ওপর বিভিন্ন ধরনের আগাছানাশক ছড়ানো হতো। রাসায়নিক মিশ্রণগুলো সংরক্ষণের পাত্রে আঁকা রঙিন দাগ অনুসারে এজেন্ট হোয়াইট, এজেন্ট ব্লু, এজেন্ট পার্পল ও এজেন্ট অরেঞ্জের মতো নামে পরিচিত হয়। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং পরবর্তীকালে সবচেয়ে কুখ্যাত হয়ে ওঠে এজেন্ট অরেঞ্জ।
এজেন্ট অরেঞ্জ ছিল দুটি কৃত্রিম আগাছানাশকের মিশ্রণ। উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কারণে এর একটি উপাদানের সঙ্গে অত্যন্ত বিষাক্ত টিসিডিডি ডাইঅক্সিন মিশে যেত। ডাইঅক্সিন পরিবেশে দীর্ঘদিন স্থায়ী হতে পারে এবং খাদ্যশৃঙ্খলে জমা হতে পারে। এটি কোনো তাৎক্ষণিক বিষাক্ত গ্যাসের মতো ব্যবহার করা হয়নি; বরং গাছপালা দ্রুত পাতাহীন করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো আগাছানাশকের দূষিত উপাদান ছিল। কিন্তু মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে এর সম্ভাব্য প্রভাব কয়েক বছর বা কয়েক দশক পরও প্রকাশ পেতে পারে। এই কারণেই যুদ্ধ শেষ হওয়ার বহু বছর পর এজেন্ট অরেঞ্জ একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য ও নৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসে।
র্যাঞ্চ হ্যান্ড অভিযানে ভিয়েতনামের ওপর প্রায় এক কোটি নয় লাখ গ্যালন এজেন্ট অরেঞ্জসহ মোট প্রায় এক কোটি নব্বই লাখ গ্যালন বিভিন্ন আগাছানাশক ছড়ানো হয়েছিল বলে বহুল স্বীকৃত হিসাব রয়েছে। দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল বারবার স্প্রে করা হয়। একবার পাতা ঝরে গেলেও গাছ পুনরায় জন্মাতে পারে বলে কিছু এলাকায় একাধিকবার রাসায়নিক ছড়ানো হতো। এর ফলে বনভূমির জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মাটির গুণমান বদলে যায় এবং অনেক অঞ্চলে প্রাকৃতিক পুনরুদ্ধার অত্যন্ত ধীর হয়ে পড়ে। উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
খাদ্যশস্য ধ্বংসের অভিযান আরও সরাসরি মানবিক সংকট সৃষ্টি করে। সামরিক পরিকল্পনায় কোনো এলাকার ফসলকে ভিয়েত কংয়ের সম্ভাব্য খাদ্য হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে একই ফসলের ওপর স্থানীয় কৃষক ও তাদের পরিবারও নির্ভর করত। ধানক্ষেত ও ফলবাগান নষ্ট হলে গ্রামের সাধারণ মানুষ খাদ্যাভাব, ঋণ ও বাস্তুচ্যুতির মুখে পড়ত। অনেককে সরকারি নিয়ন্ত্রিত শিবির বা শহরতলির ঘনবসতিতে আশ্রয় নিতে হয়। শত্রুকে খাদ্য থেকে বঞ্চিত করার কৌশল বহু ক্ষেত্রে সাধারণ কৃষককেও জীবিকা ও খাদ্য থেকে বঞ্চিত করেছিল।
রাসায়নিক স্প্রের সময় অনেক গ্রামবাসী জানতেন না তাদের ওপর কী ছড়ানো হচ্ছে। কেউ ভেজা পাতার সংস্পর্শে আসতেন, কেউ দূষিত পানি ব্যবহার করতেন, আবার কেউ রাসায়নিক পড়া জমিতে ফসল ফলাতেন। অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন ও মিত্র সেনারাও পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়াই রাসায়নিক পরিচালনা বা স্প্রে করা এলাকায় কাজ করেছিলেন। যুদ্ধের পর ভিয়েতনামি জনগণ এবং সাবেক সেনাদের মধ্যে নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসার, স্নায়বিক সমস্যা, চর্মরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ নানা অসুস্থতার সঙ্গে এজেন্ট অরেঞ্জের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা ও দাবি সামনে আসে।
জন্মগত ত্রুটি ও প্রজন্মান্তরের প্রভাব এজেন্ট অরেঞ্জ বিতর্কের সবচেয়ে আবেগঘন অংশ। ভিয়েতনামের কিছু অঞ্চলে শারীরিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের পরিবার এই বিষাক্ত উত্তরাধিকারের সঙ্গে নিজেদের দুর্ভোগকে যুক্ত করেছে। সব ব্যক্তিগত অসুস্থতার কারণ আলাদাভাবে নিশ্চিত করা কঠিন, কারণ অপুষ্টি, সংক্রমণ, অন্যান্য রাসায়নিক এবং যুদ্ধকালীন পরিবেশগত বিপর্যয়ও স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবু ডাইঅক্সিনের গুরুতর বিষাক্ততা এবং কিছু রোগের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ যথেষ্ট শক্তিশালী। অনিশ্চয়তা এখানে বিপর্যয়কে অস্বীকার করে না; বরং কার ক্ষতি কোন মাত্রায় ঘটেছে, তা নির্ধারণের জটিলতা প্রকাশ করে।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও সাবেক মার্কিন সেনাদের ক্ষতিপূরণ পেতে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়। প্রথমদিকে সরকার ও রাসায়নিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি স্বাস্থ্যসম্পর্ক স্বীকার করতে অনিচ্ছুক ছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট রোগকে এজেন্ট অরেঞ্জের সংস্পর্শের সঙ্গে অনুমানভিত্তিকভাবে যুক্ত করে যোগ্য সাবেক সেনাদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করে। ভিয়েতনামে দা নাং, বিয়েন হোয়া ও ফু ক্যাটের মতো সাবেক সামরিক ঘাঁটির কিছু এলাকায় উচ্চমাত্রার ডাইঅক্সিন দূষণ দীর্ঘদিন থেকে যায়। পরবর্তী দশকগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনাম যৌথভাবে কয়েকটি দূষিত স্থান পরিষ্কারের উদ্যোগ নিলেও সব ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল ও পরিবার এখনো সমান সহায়তা পায়নি।
ন্যাপামের প্রকৃতি এজেন্ট অরেঞ্জ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এটি বননাশক নয়, বরং জ্বালানিকে আঠালো জেলে পরিণত করে তৈরি একটি আগুনসৃষ্টিকারী অস্ত্র। বিস্ফোরণের পর জ্বলন্ত পদার্থ লক্ষ্যবস্তু ও মানুষের শরীরে লেগে থেকে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও কোরীয় যুদ্ধে ব্যবহারের পর ভিয়েতনামেও ন্যাপাম ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। জঙ্গল পরিষ্কার, শত্রুর অবস্থান ধ্বংস, অবতরণক্ষেত্র তৈরি এবং দুর্গ বা সুড়ঙ্গের মুখে আঘাত করার জন্য বিমান থেকে ন্যাপাম বোমা ফেলা হতো।
ন্যাপামের সামরিক আকর্ষণ ছিল এর বিস্তৃত এলাকায় তীব্র আগুন সৃষ্টি করার ক্ষমতা। ঘন গাছপালা, বাঁশের স্থাপনা ও খড়ের ছাউনি দ্রুত জ্বলে উঠত। আগুন শুধু সরাসরি দগ্ধ করত না; অক্সিজেন কমিয়ে শ্বাসরোধ, ধোঁয়ায় বিষক্রিয়া এবং ভয়াবহ মানসিক আতঙ্কও সৃষ্টি করত। যুদ্ধক্ষেত্র ও বেসামরিক বসতি প্রায়ই কাছাকাছি থাকায় ভুল লক্ষ্য নির্ধারণ, পাইলটের বিভ্রান্তি বা বন্ধুসেনার অবস্থান ভুল বোঝার ফলে সাধারণ মানুষ ও দক্ষিণ ভিয়েতনামি সেনারাও এর শিকার হতো।
১৯৭২ সালের জুনে ত্রাং বাংয়ের কাছে দক্ষিণ ভিয়েতনামি বিমান ভুলবশত নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার কাছে ন্যাপাম ফেলে। সেই হামলার পর পোড়া শরীরে রাস্তা দিয়ে দৌড়াতে থাকা নয় বছর বয়সি ফান থি কিম ফুকের আলোকচিত্র বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়। ছবিটি মার্কিন বিমান হামলার ছিল না—বোমা ফেলেছিল দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিমান—তবু এটি সমগ্র ভিয়েতনাম যুদ্ধে ন্যাপাম ও বেসামরিক দুর্ভোগের স্থায়ী প্রতীক হয়ে ওঠে। একটি শিশুর যন্ত্রণা সামরিক ভাষায় ব্যবহৃত ‘লক্ষ্য’, ‘অঞ্চল’ ও ‘ক্ষয়ক্ষতি’র আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানবিক বাস্তবতাকে বিশ্বের সামনে উন্মুক্ত করে দেয়।
ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়াজুড়ে প্রচলিত বোমাবর্ষণের পরিমাণও ছিল অসাধারণ। যুদ্ধবিমান ও বি-৫২ বোমারু বিমান সামরিক ঘাঁটি, পরিবহনপথ, সেতু, শিল্পকারখানা এবং সন্দেহভাজন গেরিলা অঞ্চলে বিপুল বোমা ফেলে। উত্তর ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে রোলিং থান্ডার, লাওসের হো চি মিন ট্রেইল লক্ষ্য করে অভিযান এবং দক্ষিণ ভিয়েতনামের যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত বোমাবর্ষণ ভূদৃশ্যকে বদলে দেয়। বিশাল বোমার গর্ত কৃষিজমি নষ্ট করে, সেচব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং গ্রামীণ জনজীবন অস্থিতিশীল করে তোলে।
অবিস্ফোরিত বোমা ও গুচ্ছবোমার ছোট বিস্ফোরক যুদ্ধের বহু দশক পরও মানুষকে হত্যা ও পঙ্গু করেছে। কৃষক জমি চাষ করতে গিয়ে, শিশু ধাতব বস্তু কুড়াতে গিয়ে কিংবা গ্রামবাসী নতুন বাড়ি নির্মাণের সময় মাটির নিচে থাকা বিস্ফোরকের মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে লাওস ও ভিয়েতনামের কিছু অঞ্চলে বিস্ফোরক অপসারণ এখনো সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল কাজ। যুদ্ধ শেষ হওয়ার অর্থ তাই সবার জন্য বিপদ শেষ হওয়া ছিল না; মাটির নিচে যুদ্ধের অস্ত্র সক্রিয় থেকে গেছে।
ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও রাসায়নিক ব্যবহারের পেছনে একটি মৌলিক সামরিক ধারণা ছিল—পর্যাপ্ত ধ্বংস ঘটালে শত্রুর রসদ, মনোবল ও যুদ্ধক্ষমতা ভেঙে পড়বে। কিন্তু উত্তর ভিয়েতনাম পরিবহনপথ মেরামত, রসদ ছড়িয়ে রাখা, ভূগর্ভস্থ আশ্রয় নির্মাণ এবং জনগণকে সংগঠিত করার মাধ্যমে অভিযোজন করে। ভিয়েত কংও ছোট ইউনিটে বিভক্ত হয়ে বেসামরিক জনবসতি ও জঙ্গলের মধ্যে চলাচল অব্যাহত রাখে। ফলে আগুন ও বোমা বিপুল ক্ষতি করলেও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ আনতে পারেনি।
বরং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি, জমি ও স্বজন হারানোর অভিজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ ভিয়েতনামি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ায়। গ্রামবাসীদের বিদ্রোহীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার সামরিক প্রচেষ্টা ধ্বংসের কারণে উল্টো ফল দিতে পারত। একই সঙ্গে টেলিভিশন ও সংবাদচিত্রে পোড়া গ্রাম, আহত শিশু এবং পরিবেশের ধ্বংস দৃশ্যমান হলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন শক্তিশালী হয়। যুদ্ধের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন সামরিক সাফল্যের সরকারি দাবিকে ক্রমে দুর্বল করে দেয়।
এজেন্ট অরেঞ্জ, ন্যাপাম ও বোমাবর্ষণের ইতিহাস দেখায় যে যুদ্ধের কোনো অস্ত্র শুধু তাৎক্ষণিক লক্ষ্যবস্তুতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এজেন্ট অরেঞ্জের ডাইঅক্সিন মাটি, খাদ্যশৃঙ্খল ও মানুষের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে গেছে; ন্যাপাম কয়েক মুহূর্তে গ্রাম ও শরীর পুড়িয়ে দিয়েছে; আর অবিস্ফোরিত বোমা শান্তিকালেও মৃত্যু বহন করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলোকে সামরিক প্রয়োজনের ভাষায় ব্যাখ্যা করা হলেও বেসামরিক মানুষের জীবনে তার মূল্য ছিল প্রজন্মব্যাপী। ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষ হয়েছে বহু আগে, কিন্তু বিষাক্ত ভূমি, ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিবেশ, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং অসমাপ্ত ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন আজও সেই যুদ্ধের অদৃশ্য সীমান্তকে বহন করে চলেছে।
ন্যাটো ও ওয়ারশ চুক্তি: স্নায়ুযুদ্ধের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক জোটের ইতিহাস
বার্লিন অবরোধ ও এয়ারলিফট: স্নায়ুযুদ্ধের প্রথম বড় সংঘাতের ইতিহাস
ট্রুম্যান নীতি, মার্শাল পরিকল্পনা ও আয়রন কার্টেন: ইউরোপ বিভক্ত হওয়ার ইতিহাস
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা: যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন যেভাবে শত্রু পরাশক্তিতে পরিণত হয়