জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে প্রবেশ: পুসান প্রতিরক্ষা বলয় যেভাবে দক্ষিণ কোরিয়াকে রক্ষা করেছিল
সিরিজ: কোরীয় যুদ্ধ
পুসান বলয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার শেষ প্রতিরোধ
১৯৫০ সালের জুনের শেষ দিকে কোরীয় উপদ্বীপে দক্ষিণ কোরিয়ার অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। উত্তর কোরিয়ার সুপরিকল্পিত আক্রমণের মাত্র তিন দিনের মধ্যে রাজধানী সিউলের পতন ঘটে। সোভিয়েত নির্মিত টি-৩৪ ট্যাংক, ভারী কামান ও অভিজ্ঞ পদাতিক বাহিনীর সামনে দক্ষিণ কোরীয় সেনারা ক্রমাগত পিছু হটছিল। জুলাইয়ের শেষ নাগাদ উত্তর কোরিয়ার বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ার অধিকাংশ ভূখণ্ড দখল করে ফেলে। উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে পুসান বন্দরকে কেন্দ্র করে ছোট একটি এলাকা ছাড়া কার্যত আর কোথাও নিরাপদ প্রতিরক্ষা ছিল না। এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডটি হারিয়ে গেলে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার ও সেনাবাহিনীর টিকে থাকার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যেত।
উত্তর কোরিয়ার আক্রমণের খবর পৌঁছানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান দ্রুত তাঁর সামরিক ও কূটনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁর প্রশাসন আক্রমণটিকে শুধু দুই কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ হিসেবে দেখেনি। ইউরোপে সোভিয়েত সম্প্রসারণ, চীনে কমিউনিস্ট বিপ্লবের বিজয় এবং পূর্ব এশিয়ায় শক্তির পরিবর্তিত ভারসাম্যের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার পদক্ষেপকে একটি বৃহত্তর পরীক্ষার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মার্কিন নেতৃত্বের আশঙ্কা ছিল, দক্ষিণ কোরিয়াকে বিনা প্রতিরোধে দখল করতে দিলে মস্কো ও বেইজিং মনে করবে যে যুক্তরাষ্ট্র আরও আগ্রাসনের মুখেও নিষ্ক্রিয় থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র কোরিয়ায় নিজের সামরিক হস্তক্ষেপকে আন্তর্জাতিক বৈধতা দিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের শরণাপন্ন হয়। সে সময় চীনের আসন কমিউনিস্ট সরকারের পরিবর্তে তাইওয়ানে আশ্রয় নেওয়া জাতীয়তাবাদী সরকারের হাতে থাকার প্রতিবাদে সোভিয়েত প্রতিনিধি নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন বর্জন করছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতির কারণে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেটো প্রয়োগ করতে পারেনি। ২৫ জুন নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার আক্রমণকে শান্তিভঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং বাহিনীকে ৩৮তম সমান্তরালের উত্তরে ফিরে যাওয়ার দাবি জানায়। উত্তর কোরিয়া নির্দেশ অমান্য করলে ২৭ জুন সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে দক্ষিণ কোরিয়াকে প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
৭ জুলাই নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক কমান্ড প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। জাতিসংঘের পতাকার অধীনে পরিচালিত হলেও বাহিনীটির সেনা, অস্ত্র, বিমান, জাহাজ ও রসদের প্রধান অংশ সরবরাহ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন জেনারেল ডগলাস ম্যাকআর্থার জাতিসংঘ কমান্ডের সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হন। দক্ষিণ কোরিয়া নিজ বাহিনীর কার্যকর পরিচালনাও এই কমান্ডের অধীনে দেয়। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, তুরস্ক, ফ্রান্সসহ বহু দেশ যুদ্ধ বা সহায়তামূলক ইউনিট পাঠায়। তবে যুদ্ধের প্রথম সংকটপূর্ণ সপ্তাহগুলোতে উত্তর কোরীয় অগ্রযাত্রা থামানোর প্রধান দায়িত্ব পড়ে দক্ষিণ কোরীয় ও মার্কিন সেনাদের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে বিমান ও নৌবাহিনী ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিলেও দ্রুত বোঝা যায়, কেবল আকাশ ও সমুদ্র থেকে অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। জাপানে অবস্থানরত মার্কিন অষ্টম সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলোকে তাড়াহুড়ো করে কোরিয়ায় পাঠানো হয়। এগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মূলত দখলদারি দায়িত্ব পালন করছিল; অনেক সৈন্যের প্রশিক্ষণ সীমিত ছিল এবং তাদের অস্ত্র ও সরঞ্জামের একটি অংশ পুরোনো হয়ে পড়েছিল। উত্তর কোরিয়ার শক্তিশালী সাঁজোয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না।
কোরিয়ায় পাঠানো প্রথম মার্কিন স্থলবাহিনী ছিল লেফটেন্যান্ট কর্নেল চার্লস স্মিথের নেতৃত্বাধীন ছোট একটি দল, যা ইতিহাসে টাস্ক ফোর্স স্মিথ নামে পরিচিত। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ওসানের কাছে উত্তর কোরীয় অগ্রযাত্রা বিলম্বিত করা এবং পেছনে বৃহত্তর প্রতিরক্ষা সংগঠনের জন্য সময় তৈরি করা। ৫ জুলাই সংঘটিত যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের হালকা ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র টি-৩৪ ট্যাংকের বিরুদ্ধে প্রায় অকার্যকর প্রমাণিত হয়। উত্তর কোরীয় বাহিনী তাদের অবস্থান ভেঙে দক্ষিণে অগ্রসর হয়। এই পরাজয় দেখিয়ে দেয় যে উত্তর কোরিয়াকে দ্রুত থামানো যাবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত ছিল না।
এরপর মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় বাহিনী পিয়ংতায়েক, চোনান, চোচিওন ও তেজনের দিকে ধারাবাহিকভাবে পিছু হটে। প্রতিটি স্থানে তারা কিছু সময় প্রতিরোধ করে উত্তর কোরীয় বাহিনীর গতি কমানোর চেষ্টা করেছিল। তেজনের যুদ্ধে মার্কিন ২৪তম পদাতিক ডিভিশন কয়েক দিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও শহর রক্ষা করে। শেষ পর্যন্ত শহরটি হারালেও এই প্রতিরোধ অমূল্য সময় এনে দেয়। ডিভিশনের অধিনায়ক মেজর জেনারেল উইলিয়াম ডিন পশ্চাদপসরণের সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে উত্তর কোরীয়দের হাতে বন্দী হন। প্রথম দিকের এসব পরাজয় সামরিকভাবে কষ্টকর হলেও পুসান অঞ্চলে বৃহত্তর প্রতিরক্ষা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছিল।
জুলাইয়ের শেষভাগে জাতিসংঘ বাহিনীর কমান্ডাররা সিদ্ধান্ত নেন যে আর অব্যাহতভাবে পিছু হটা যাবে না। দক্ষিণ-পূর্ব কোরিয়ায় নাকতং নদী, উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চল এবং পূর্ব উপকূলকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রতিরক্ষাবলয় তৈরি করা হয়। এটি পরিচিত হয় পুসান প্রতিরক্ষা বলয় নামে। প্রায় ২৩০ কিলোমিটার বিস্তৃত এই অসম আকৃতির প্রতিরক্ষার পশ্চিমে ছিল নাকতং নদী, উত্তরে পাহাড়ি পথ এবং দক্ষিণ ও পূর্বে সমুদ্র। বলয়ের ভেতরে ছিল পুসান বন্দর, তেগু শহর ও গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি। পুসান ছিল এমন একটি গভীর সমুদ্রবন্দর, যেখানে জাপান থেকে নিয়মিতভাবে সেনা, ট্যাংক, কামান, খাদ্য, জ্বালানি ও গোলাবারুদ আনা সম্ভব ছিল।
ভৌগোলিক অবস্থান পুসান বলয়ের প্রতিরক্ষাকারীদের গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দেয়। নাকতং নদী উত্তর কোরীয় বাহিনীর জন্য প্রাকৃতিক বাধা সৃষ্টি করে এবং পাহাড়ি ভূখণ্ড বড় আকারের ট্যাংক অভিযান কঠিন করে তোলে। প্রতিরক্ষা অঞ্চল ছোট হওয়ায় জাতিসংঘ বাহিনী তুলনামূলক দ্রুত এক রণাঙ্গন থেকে অন্য রণাঙ্গনে সেনা সরাতে পারত। অন্যদিকে উত্তর কোরীয় বাহিনী সিউল থেকে বহু দূরে চলে আসায় তাদের সরবরাহপথ অত্যন্ত দীর্ঘ হয়ে পড়ে। মার্কিন ও জাতিসংঘের বিমানগুলো সেতু, রেলপথ, যানবাহন ও রসদবহরে আক্রমণ চালিয়ে সেই সরবরাহব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে দেয়।
মার্কিন অষ্টম সেনাবাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়ালটন ওয়াকার প্রতিরক্ষাকারীদের স্পষ্ট করে দেন যে আর পশ্চাদপসরণের জায়গা নেই। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরজুড়ে উত্তর কোরীয় বাহিনী বলয়ের বিভিন্ন অংশে বারবার আক্রমণ চালায়। তাদের কৌশল ছিল একাধিক স্থানে চাপ সৃষ্টি করে কোনো একটি দুর্বল অংশ ভেঙে পুসান অথবা তেগুর দিকে অগ্রসর হওয়া। নাকতং নদীর বিভিন্ন স্থানে তারা রাতে নদী পার হয়ে সেতুমুখ তৈরি করে। মাসান, নাকতং বাল্জ, তেগু, পোহাং ও কিয়ংজু অঞ্চলে সংঘটিত লড়াইগুলো বিশেষভাবে তীব্র ছিল।
নাকতং বাল্জ এলাকায় উত্তর কোরীয় সেনারা নদী অতিক্রম করে প্রতিরক্ষার গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল। তাদের সরিয়ে দিতে মার্কিন বাহিনীকে পদাতিক আক্রমণ, গোলন্দাজ গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলার সমন্বয় করতে হয়। উত্তরে দক্ষিণ কোরীয় বাহিনী পাহাড়ি পথ ও তেগুর প্রবেশদ্বারগুলো রক্ষা করে। পূর্ব উপকূলে পোহাংয়ের দিকে আক্রমণ প্রতিহত করতে দক্ষিণ কোরীয় ইউনিটগুলোর পাশাপাশি নতুন মার্কিন ইউনিটও মোতায়েন করা হয়। কোনো কোনো অবস্থান দিনে একাধিকবার হাতবদল হয়েছিল। পুসান বলয় কোনো অটুট দুর্গ ছিল না; এটি ছিল অসংখ্য দুর্বল অংশ জোড়া দিয়ে ধরে রাখা একটি চরম সংকটাপন্ন প্রতিরক্ষা।
আগস্টের শেষ এবং সেপ্টেম্বরের শুরুতে উত্তর কোরিয়া তার সবচেয়ে শক্তিশালী সমন্বিত আক্রমণ চালায়। কিছু এলাকায় প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয় এবং তেগু ও পুসানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। কিন্তু প্রতিবারই জাতিসংঘ বাহিনী সংরক্ষিত সেনা দ্রুত সরিয়ে, ব্যাপক গোলন্দাজ সহায়তা এবং আকাশশক্তি ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মার্কিন মেরিন ব্রিগেডকে একাধিকবার সংকটপূর্ণ স্থানে পাঠানো হয়। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী নতুন সৈন্য নিয়োগ ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে নিজের শক্তি বাড়াচ্ছিল।
পুসান বন্দর এই প্রতিরোধের প্রাণকেন্দ্র ছিল। জাপানের বন্দর ও ঘাঁটিগুলো থেকে অল্প সময়ে জাহাজে করে বিপুল রসদ আনা যেত। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও রেলপথের মাধ্যমে এসব সরঞ্জাম দ্রুত সম্মুখসারিতে পৌঁছানো হতো। নতুন ট্যাংক ও কার্যকর ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র আসায় টি-৩৪ ট্যাংকের প্রাথমিক আধিপত্য কমে যায়। অন্যদিকে উত্তর কোরীয় বাহিনী যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও সমমানের প্রশিক্ষিত সেনা ও সরঞ্জাম দিয়ে সেই ক্ষতি পূরণ করতে পারছিল না। বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ করা অনভিজ্ঞ সৈন্যের সংখ্যা বাড়ছিল এবং খাদ্য, গোলাবারুদ ও জ্বালানির ঘাটতি তীব্র হচ্ছিল।
জাতিসংঘ বাহিনীর আকাশ ও সমুদ্রের আধিপত্যও যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেয়। যুদ্ধবিমান উত্তর কোরীয় সেনা সমাবেশ, যানবাহন ও সরবরাহপথে আক্রমণ চালাত। নৌবাহিনীর জাহাজ উপকূলবর্তী উত্তর কোরীয় অবস্থানে গোলাবর্ষণ এবং পুসানের সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখত। ফলে প্রতিরক্ষাকারীরা নিয়মিত নতুন শক্তি পাচ্ছিল, অথচ আক্রমণকারীদের যুদ্ধক্ষমতা ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছিল। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ উত্তর কোরীয় বাহিনী পুসান বলয় দখলের সুযোগ অনেকটাই হারিয়ে ফেলে।
পুসান প্রতিরক্ষা বলয়ের সাফল্য কেবল ভূখণ্ড ধরে রাখার ঘটনা ছিল না। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার, সেনাবাহিনী ও আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছানোর শেষ নিরাপদ পথকে রক্ষা করেছিল। প্রতিরোধ ভেঙে পড়লে জাতিসংঘ বাহিনীকে উপদ্বীপ থেকে সরিয়ে নেওয়া ছাড়া বিকল্প নাও থাকতে পারত। কিন্তু প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে বলয় ধরে রাখার ফলে নতুন সেনা ও অস্ত্র পৌঁছায়, দক্ষিণ কোরীয় বাহিনী পুনর্গঠিত হয় এবং জেনারেল ম্যাকআর্থার পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেন। ১৯৫০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ইনচনে অবতরণের পর উত্তর কোরিয়ার পেছনের সরবরাহপথ হুমকির মুখে পড়ে এবং পুসান বলয় থেকেও জাতিসংঘ বাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করে।
পুসান প্রতিরক্ষা বলয় ছিল কোরীয় যুদ্ধের প্রথম বড় মোড়। জাতিসংঘের রাজনৈতিক অনুমোদন, যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত সামরিক মোতায়েন, দক্ষিণ কোরীয় সেনাদের দৃঢ় প্রতিরোধ, পুসান বন্দরের নিরবচ্ছিন্ন রসদ এবং আকাশ ও সমুদ্রের নিয়ন্ত্রণ সম্মিলিতভাবে উত্তর কোরিয়ার দ্রুত বিজয়ের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেয়। এখানে যুদ্ধ শেষ হয়নি, বরং নতুন ও আরও বিস্তৃত পর্যায়ে প্রবেশ করেছিল। তবু ১৯৫০ সালের সেই সংকটপূর্ণ গ্রীষ্মে নাকতং নদীর তীরে গড়ে ওঠা শেষ প্রতিরোধ টিকে না থাকলে দক্ষিণ কোরিয়া রাষ্ট্র হিসেবে হয়তো আর অস্তিত্ব ধরে রাখতে পারত না।
ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ ও দাসবাণিজ্য: চিনি ও দাসশ্রম যেভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে সমৃদ্ধ করেছিল
উত্তর আমেরিকায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার: জেমসটাউন থেকে তেরো উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূচনা: সমুদ্রবাণিজ্য, নৌবাহিনী ও উপনিবেশের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের বিশ্বশক্তি হয়ে ওঠার ইতিহাস
কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের অবসান: ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাহার, হটলাইন ও নতুন পারমাণবিক কূটনীতি
ব্ল্যাক স্যাটারডে: ইউ-২ ধ্বংস, তুরস্কের ক্ষেপণাস্ত্র ও কেনেডি-ক্রুশ্চেভ সমঝোতা
কেনেডির নৌ অবরোধ ও যুক্তরাষ্ট্র-সোভিয়েত মুখোমুখি অবস্থান: পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৃথিবী