উত্তর আমেরিকায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার: জেমসটাউন থেকে তেরো উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
সিরিজ: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার
জেমসটাউন থেকে তেরো উপনিবেশ—উত্তর আমেরিকায় ব্রিটিশ শক্তির উত্থান
১৬০৭ সালের মে মাসে ইংরেজ বসতি স্থাপনকারীদের একটি দল ভার্জিনিয়ার জেমস নদীর তীরে কাঠের দুর্গ নির্মাণ শুরু করে। বসতিটির নাম রাখা হয় জেমসটাউন, ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমসের সম্মানে। এটি উত্তর আমেরিকায় ইংরেজদের প্রথম স্থায়ী উপনিবেশে পরিণত হলেও এর ভবিষ্যৎ শুরুতে মোটেই নিশ্চিত ছিল না। রোগ, পানির সংকট, খাদ্যাভাব, দুর্বল নেতৃত্ব এবং স্থানীয় পোহাটান জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রথম কয়েক বছরের মধ্যে অধিকাংশ বসতি স্থাপনকারী মারা যান। এই বিপর্যস্ত ছোট বসতিই পরে আটলান্টিক উপকূলে বিস্তৃত তেরোটি উপনিবেশ এবং উত্তর আমেরিকায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যিক আধিপত্যের ভিত্তিতে পরিণত হয়।
জেমসটাউন প্রতিষ্ঠার পেছনে সরাসরি কাজ করেছিল ভার্জিনিয়া কোম্পানি নামের একটি যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠান। ইংরেজ রাজমুকুট কোম্পানিটিকে উত্তর আমেরিকার একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসতি ও বাণিজ্য স্থাপনের অনুমতি দেয়। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল সোনা, মূল্যবান খনিজ, এশিয়ার দিকে নতুন পথ অথবা অন্য কোনো লাভজনক সম্পদ আবিষ্কার করা হবে। কিন্তু বসতি স্থাপনকারীদের অনেকেই কৃষিকাজের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তারা এমন একটি জলাভূমিময় স্থানে বসতি গড়েছিলেন যেখানে পানিবাহিত রোগ ছড়াত এবং নিরাপদ পানির অভাব ছিল। ১৬০৯–১০ সালের শীতে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয় যে সময়টি “স্টার্ভিং টাইম” বা অনাহারের কাল নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
জেমসটাউনের টিকে থাকার ক্ষেত্রে পোহাটান কনফেডারেশনের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে বহু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী রাজনৈতিক জোটটির নেতৃত্বে ছিলেন ওয়াহুনসেনাকও, যাকে ইংরেজরা প্রধান পোহাটান নামে উল্লেখ করত। প্রথমদিকে আদিবাসীদের সরবরাহ করা খাদ্য ও স্থানীয় পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান ইংরেজদের বাঁচতে সাহায্য করে। তবে ভূমি, খাদ্য ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্রুত উত্তেজনা বাড়ে। সম্পর্ক কখনো সহযোগিতাপূর্ণ, কখনো সংঘাতপূর্ণ ছিল। ইংরেজ জনসংখ্যা ও জমির চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পোহাটানদের কৃষিজমি দখল হতে থাকে এবং সংঘর্ষ দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেয়। ইংরেজ বসতির সাফল্য তাই একটি শূন্য ভূখণ্ড আবিষ্কারের ইতিহাস নয়; এটি ছিল আগে থেকেই জনবসতিপূর্ণ ভূমিতে বহিরাগত শক্তির সম্প্রসারণ।
ভার্জিনিয়ার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বদলে দেয় তামাক। জন রলফ স্থানীয় পরিবেশে বাজারযোগ্য এক ধরনের তামাক চাষ সফল করার পর ইউরোপে ভার্জিনিয়ার তামাকের চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যে তামাক উপনিবেশটির প্রধান রপ্তানিপণ্যে পরিণত হয়। কিন্তু এই লাভজনক ফসলের জন্য বিপুল জমি ও শ্রম দরকার ছিল। বসতি স্থাপনকারীরা নদীর তীর ধরে নতুন জমি দখল করতে থাকে, যা আদিবাসীদের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র করে। প্রথমদিকে ইংল্যান্ড থেকে আসা চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হলেও পরে দাসত্বে আবদ্ধ আফ্রিকানদের শ্রমের ওপর নির্ভরতা বাড়তে থাকে।
১৬১৯ সালে একটি জাহাজ ভার্জিনিয়ায় বন্দী আফ্রিকানদের নিয়ে আসে। এটি উত্তর আমেরিকার ইংরেজ উপনিবেশে আফ্রিকান উপস্থিতির সূচনা নয়, তবে ভবিষ্যৎ দাসব্যবস্থার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সপ্তদশ শতকের শেষভাগে ভার্জিনিয়া ও অন্যান্য দক্ষিণাঞ্চলীয় উপনিবেশে আইন করে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মানুষের দাসত্বকে স্থায়ী, বংশানুক্রমিক ও বর্ণভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপ দেওয়া হয়। ফলে তামাক, চাল ও নীলচাষনির্ভর উপনিবেশিক অর্থনীতি মানুষকে সম্পত্তিতে পরিণত করা এক নিষ্ঠুর শ্রমব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে যায়।
জেমসটাউন মূলত বাণিজ্যিক বিনিয়োগের ফল হলেও নিউ ইংল্যান্ডের কিছু বসতি প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় উদ্দেশ্য বেশি দৃশ্যমান ছিল। ১৬২০ সালে মেফ্লাওয়ার জাহাজে আসা পিলগ্রিমরা প্লাইমাউথ উপনিবেশ গড়ে তোলে। তারা ইংরেজ রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গির্জা থেকে পৃথক হয়ে নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপন করতে চেয়েছিল। ১৬৩০-এর দশকে পিউরিটানদের বৃহত্তর অভিবাসনের মাধ্যমে ম্যাসাচুসেটস বে উপনিবেশ দ্রুত বিকশিত হয়। বোস্টন বাণিজ্য, জাহাজ নির্মাণ ও ধর্মীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। তবে ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবি করা এসব সমাজও সব মতের প্রতি সহনশীল ছিল না; ভিন্নমতাবলম্বীরা অনেক সময় নির্বাসন বা শাস্তির মুখোমুখি হতেন।
ইংরেজরা উত্তর আমেরিকায় একই ধরনের উপনিবেশ স্থাপন করেনি। নিউ ইংল্যান্ডের পাথুরে মাটি ও শীতল জলবায়ু সেখানে ক্ষুদ্র কৃষি, মাছ ধরা, কাঠ, জাহাজ নির্মাণ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের বিকাশ ঘটায়। মধ্যাঞ্চলের নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া ও ডেলাওয়্যারে উর্বর কৃষিজমি, শস্য উৎপাদন এবং বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। দক্ষিণাঞ্চলের মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়ায় বৃহৎ বাগান, তামাক, চাল ও নীলচাষ প্রাধান্য পায়। এই আঞ্চলিক বৈচিত্র্য পরবর্তী সময়ে তেরো উপনিবেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক চরিত্রে গভীর প্রভাব ফেলে।
১৬৩৪ সালে মেরিল্যান্ড প্রতিষ্ঠিত হয় ইংরেজ ক্যাথলিকদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয় এবং একই সঙ্গে লাভজনক উপনিবেশ হিসেবে। রোড আইল্যান্ড ধর্মীয় সহনশীলতার একটি ব্যতিক্রমী কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ১৬৮১ সালে উইলিয়াম পেন পেনসিলভানিয়া প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে কোয়েকার নীতি, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফিলাডেলফিয়া দ্রুত আটলান্টিক বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরে পরিণত হয়। প্রতিটি উপনিবেশের প্রতিষ্ঠার পেছনে ধর্ম, ভূমি, ব্যক্তিগত সম্পদ ও সাম্রাজ্যিক প্রতিযোগিতার ভিন্ন সমন্বয় কাজ করেছিল।
ইংরেজ সম্প্রসারণের পথে ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বীরাও উপস্থিত ছিল। ডাচরা হাডসন নদীকেন্দ্রিক নিউ নেদারল্যান্ড উপনিবেশ এবং নিউ আমস্টারডাম বন্দর প্রতিষ্ঠা করেছিল। ১৬৬৪ সালে ইংরেজরা অঞ্চলটি দখল করে নিউ আমস্টারডামের নাম পরিবর্তন করে নিউইয়র্ক রাখে। এর ফলে নিউ ইংল্যান্ড ও দক্ষিণের ইংরেজ উপনিবেশগুলোর মধ্যবর্তী ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা অনেকটা দূর হয়। অন্যদিকে উত্তর ও পশ্চিমে ফরাসিরা কানাডা, গ্রেট লেকস ও মিসিসিপি অববাহিকায় দুর্গ, বাণিজ্যকেন্দ্র এবং আদিবাসী মিত্রতার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল। তাই উত্তর আমেরিকায় ব্রিটিশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা শুধু নতুন বসতি নির্মাণ নয়, ডাচ, ফরাসি ও স্প্যানিশ শক্তির সঙ্গে দীর্ঘ প্রতিযোগিতারও ফল।
বসতি বিস্তারের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় উত্তর আমেরিকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোকে। ইউরোপ থেকে আসা গুটিবসন্ত, হাম ও অন্যান্য রোগের বিরুদ্ধে তাদের স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা না থাকায় বহু জনপদ ধ্বংস হয়ে যায়। রোগের পাশাপাশি ভূমি দখল, বাণিজ্যিক নির্ভরতা এবং যুদ্ধ আদিবাসী সমাজকে বিপর্যস্ত করে। ১৬৩০-এর দশকের পিকোট যুদ্ধ এবং ১৬৭৫–৭৬ সালের কিং ফিলিপের যুদ্ধ নিউ ইংল্যান্ডে ঔপনিবেশিক সম্প্রসারণের সহিংস চরিত্র প্রকাশ করে। কিং ফিলিপের যুদ্ধ জনসংখ্যার অনুপাতে উত্তর আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম বিধ্বংসী সংঘর্ষ ছিল। এর পর নিউ ইংল্যান্ডে আদিবাসীদের সংগঠিত প্রতিরোধ মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।
আটলান্টিক মহাসাগর তেরো উপনিবেশকে ইংল্যান্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করেনি; বরং একটি বিস্তৃত বাণিজ্যিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্ত করেছিল। উপনিবেশ থেকে তামাক, চাল, নীল, কাঠ, মাছ, পশম ও জাহাজ নির্মাণের সামগ্রী ব্রিটেনে যেত। ব্রিটেন থেকে কাপড়, ধাতব সরঞ্জাম, অস্ত্র ও বিলাসপণ্য আমদানি করা হতো। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের চিনি ও মোলাসেসও উত্তর আমেরিকার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। নেভিগেশন আইন ব্যবহার করে ব্রিটিশ সরকার এই বাণিজ্যের বড় অংশ নিজেদের জাহাজ ও বন্দরের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছিল। উপনিবেশগুলোকে কাঁচামালের উৎস এবং ব্রিটিশ পণ্যের সুরক্ষিত বাজারে পরিণত করাই ছিল এই বাণিজ্যনীতির মূল লক্ষ্য।
উপনিবেশগুলোর প্রশাসনে রাজমুকুট, মালিকানাধীন কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় পরিষদের ভূমিকা একরকম ছিল না। ভার্জিনিয়ায় ১৬১৯ সালে গঠিত হাউস অব বার্জেস প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনের একটি প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান ছিল। নিউ ইংল্যান্ডের অনেক এলাকায় স্থানীয় সভার মাধ্যমে ভূমির মালিক পুরুষেরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতেন। তবে নারী, ভূমিহীন মানুষ, দাসত্বে আবদ্ধ আফ্রিকান ও অধিকাংশ আদিবাসী এই রাজনৈতিক অধিকার থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত ছিল। তারপরও স্থানীয় পরিষদ, নিজস্ব কর এবং দৈনন্দিন প্রশাসনের অভিজ্ঞতা উপনিবেশবাসীদের মধ্যে স্বশাসনের ধারণা শক্তিশালী করে।
১৭০৭ সালে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের একীকরণের পর এসব অঞ্চল আনুষ্ঠানিকভাবে বৃহত্তর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে ওঠে। অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি তেরোটি উপনিবেশ—নিউ হ্যাম্পশায়ার, ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, কানেকটিকাট, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, ডেলাওয়্যারের, মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, উত্তর ক্যারোলাইনা, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়া—আটলান্টিক উপকূলজুড়ে বিস্তৃত ছিল। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সমৃদ্ধ বন্দর, কৃষি উৎপাদন এবং অভ্যন্তরভাগে ক্রমাগত বসতি সম্প্রসারণ অঞ্চলটিকে ব্রিটেনের সবচেয়ে মূল্যবান সাম্রাজ্যিক সম্পদের একটিতে পরিণত করে।
উত্তর আমেরিকায় ইংরেজ ও পরে ব্রিটিশ আধিপত্যের উত্থান ছিল তাই একই সঙ্গে বসতি, বাণিজ্য, যুদ্ধ ও উচ্ছেদের ইতিহাস। জেমসটাউনের অনিশ্চিত কাঠের দুর্গ থেকে তেরোটি সমৃদ্ধ উপনিবেশের জন্মের পেছনে ছিল অভিবাসীদের শ্রম, বণিকদের পুঁজি, নৌবাহিনীর সুরক্ষা এবং উপনিবেশিক প্রশাসনের বিস্তার। একই সঙ্গে এর ভিত্তিতে ছিল আদিবাসীদের ভূমি দখল, আফ্রিকান দাসশ্রম এবং সাম্রাজ্যিক বাণিজ্যনিয়ন্ত্রণ। আটলান্টিকের ওপারে গড়ে ওঠা এই সমাজগুলো ব্রিটিশ শক্তিকে বিশ্বব্যাপী বিস্তারের সুযোগ দিয়েছিল; কিন্তু স্বশাসনে অভ্যস্ত উপনিবেশবাসীদের সঙ্গে সাম্রাজ্যিক কর্তৃত্বের যে দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে জন্ম নিচ্ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত আমেরিকান বিপ্লবের পথ প্রস্তুত করে।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও ভারতে ব্রিটিশ উত্থান: বাণিজ্য থেকে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের অবসান: ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাহার, হটলাইন ও নতুন পারমাণবিক কূটনীতি
ব্ল্যাক স্যাটারডে: ইউ-২ ধ্বংস, তুরস্কের ক্ষেপণাস্ত্র ও কেনেডি-ক্রুশ্চেভ সমঝোতা
কেনেডির নৌ অবরোধ ও যুক্তরাষ্ট্র-সোভিয়েত মুখোমুখি অবস্থান: পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৃথিবী