বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

উত্তর কোরিয়ার দক্ষিণ কোরিয়া আক্রমণ: ১৯৫০ সালে যেভাবে শুরু হয়েছিল কোরীয় যুদ্ধ

সিরিজ: কোরীয় যুদ্ধ

উত্তর কোরিয়ার দক্ষিণ কোরিয়া আক্রমণ: ১৯৫০ সালে যেভাবে শুরু হয়েছিল কোরীয় যুদ্ধ
২৫ জুন ১৯৫০: কোরীয় যুদ্ধের সূচনা

১৯৫০ সালের ২৫ জুন, রোববার ভোর। কোরীয় উপদ্বীপের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন, সীমান্তের অনেক এলাকায় পড়ছিল বর্ষার বৃষ্টি। ভোর প্রায় চারটার দিকে হঠাৎ ৩৮তম সমান্তরালজুড়ে উত্তর কোরিয়ার গোলন্দাজ বাহিনী প্রচণ্ড গোলাবর্ষণ শুরু করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই হাজার হাজার সেনা, সোভিয়েত নির্মিত ট্যাংক ও ভারী অস্ত্র নিয়ে উত্তর কোরিয়ার বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন সীমান্তসংঘর্ষ ছিল না; দক্ষিণ কোরিয়াকে দ্রুত পরাজিত করে সমগ্র উপদ্বীপকে কিম ইল-সুংয়ের সরকারের অধীনে একত্র করার জন্য পরিচালিত একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান ছিল। এই আক্রমণের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় কোরীয় যুদ্ধ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ৩৮তম সমান্তরাল বরাবর কোরিয়া বিভক্ত হলেও উত্তর ও দক্ষিণের কোনো সরকারই বিভাজনকে স্থায়ী বলে মেনে নেয়নি। ১৯৪৮ সালে উত্তরে কিম ইল-সুংয়ের নেতৃত্বে কোরীয় গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী এবং দক্ষিণে সিংমান রির নেতৃত্বে কোরিয়া প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। উভয় সরকারই নিজেদের সমগ্র কোরিয়ার একমাত্র বৈধ সরকার বলে দাবি করত। সীমান্তে নিয়মিত গুলিবিনিময়, অনুপ্রবেশ ও ছোট আকারের সংঘর্ষ ঘটছিল। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব ক্রমে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে সামরিক শক্তি ব্যবহার করেই দ্রুত পুনরেকত্রীকরণ সম্ভব।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম ইল-সুং ১৯৪৯ সাল থেকেই দক্ষিণে আক্রমণ চালানোর অনুমতি ও সহায়তা চেয়ে সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্তালিনের কাছে আবেদন করছিলেন। প্রথমদিকে স্তালিন সতর্ক ছিলেন। তিনি আশঙ্কা করতেন, আক্রমণ হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে এবং সংঘাত বৃহত্তর বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন তাঁর হিসাব বদলে দেয়। ১৯৪৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন সফলভাবে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালায় এবং চীনে মাও সে-তুংয়ের নেতৃত্বে কমিউনিস্ট বিপ্লব বিজয়ী হয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়া থেকে অধিকাংশ যুদ্ধসেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। এসব ঘটনায় স্তালিনের কাছে পূর্ব এশিয়ায় কমিউনিস্ট শক্তির অবস্থান তুলনামূলকভাবে নিরাপদ মনে হয়।

১৯৫০ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডিন অ্যাচিসন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাসীমা নিয়ে একটি বক্তব্য দেন। সেখানে জাপান ও ফিলিপাইনের কথা বলা হলেও দক্ষিণ কোরিয়ার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। কিম ইল-সুং ও স্তালিন এই বক্তব্যকে দক্ষিণ কোরিয়া রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের অনাগ্রহের সম্ভাব্য সংকেত হিসেবে দেখেছিলেন। তবে এর অর্থ এই ছিল না যে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়াকে পরিত্যাগ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব ধারণা করে, দ্রুত বিজয় অর্জিত হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।

দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৫০ সালের বসন্তে স্তালিন আক্রমণের পরিকল্পনায় শর্তসাপেক্ষ সম্মতি দেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে সোভিয়েত সেনারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না এবং প্রয়োজন হলে চীনের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। কিম ইল-সুং বেইজিংয়ে গিয়ে মাও সে-তুংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন। মাও দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলেও কোরীয় পুনরেকত্রীকরণের পরিকল্পনাকে সমর্থন করেন। এভাবে উত্তর কোরিয়ার অভিযানটি পিয়ংইয়ংয়ের নেতৃত্বে পরিকল্পিত হলেও এর পেছনে সোভিয়েত অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অনুমোদন এবং চীনের রাজনৈতিক সমর্থন ছিল।

যুদ্ধ শুরুর সময় উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনী দক্ষিণের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল। কোরিয়ান পিপলস আর্মিতে প্রায় দেড় লাখের কাছাকাছি প্রশিক্ষিত সেনা ছিল, যাদের একটি অংশ চীনের গৃহযুদ্ধে অংশ নেওয়া অভিজ্ঞ কোরীয় যোদ্ধা। তাদের কাছে সোভিয়েত নির্মিত টি-৩৪-৮৫ ট্যাংক, ভারী কামান, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও যুদ্ধবিমান ছিল। সোভিয়েত সামরিক উপদেষ্টারা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন এবং আক্রমণের পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে টি-৩৪ ট্যাংক কার্যকর সাঁজোয়া যান হিসেবে পরিচিত ছিল এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হাতে তখন এগুলো থামানোর মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ছিল না।

বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী মূলত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, বিদ্রোহ দমন ও সীমান্ত পাহারার জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল। তাদের সৈন্যসংখ্যা কম না হলেও ভারী অস্ত্র, ট্যাংক, যুদ্ধবিমান ও কার্যকর ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্রের গুরুতর অভাব ছিল। যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করেছিল, দক্ষিণ কোরিয়াকে ভারী আক্রমণাত্মক অস্ত্র দিলে সিংমান রি নিজেই উত্তর কোরিয়ায় অভিযান চালাতে পারেন। ফলে দক্ষিণের বাহিনীকে এমনভাবে সজ্জিত করা হয়নি যাতে তারা একটি সুপরিকল্পিত সাঁজোয়া আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে। আক্রমণের দিন অনেক দক্ষিণ কোরীয় সেনা ছুটিতে ছিল এবং গোয়েন্দা সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।

উত্তর কোরিয়া আক্রমণটিকে প্রচারের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার আগ্রাসনের জবাব হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। কিন্তু অভিযানের বিস্তৃতি, বিভিন্ন রণক্ষেত্রে বাহিনীর সমন্বিত অগ্রগতি এবং আগে থেকেই প্রস্তুত করা সামরিক পরিকল্পনা প্রমাণ করে যে এটি ছিল পরিকল্পিত আক্রমণ। প্রায় ৯০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা একাধিক পথে সীমান্ত অতিক্রম করে। প্রধান আঘাতটি আসে কায়েসং ও উইজংবু হয়ে সিউলের দিকে। পূর্ব উপকূলেও উত্তর কোরীয় বাহিনী অগ্রসর হয় এবং কিছু এলাকায় নৌপথে সেনা নামানোর চেষ্টা করা হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল দক্ষিণের প্রতিরক্ষা ভেঙে দ্রুত রাজধানী দখল করা, রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অকার্যকর করে দেওয়া এবং সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে ওঠার আগেই যুদ্ধের নিষ্পত্তি করা।

টি-৩৪ ট্যাংকগুলোর সামনে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিরক্ষা দ্রুত ভেঙে পড়তে থাকে। সৈন্যরা সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ করলেও তাদের ব্যবহৃত হালকা ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র অধিকাংশ ক্ষেত্রে উত্তর কোরীয় ট্যাংকের বর্ম ভেদ করতে পারছিল না। যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা ও বিভ্রান্তিকর নির্দেশের কারণে বিভিন্ন ইউনিট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অনেক সেনা বুঝতেই পারেনি উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ কতটা ব্যাপক। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে যুদ্ধের গতিপথ এমনভাবে বদলে যায় যে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সরাসরি পতনের মুখে পড়ে।

আক্রমণের খবর পাওয়ার পর সিংমান রির সরকার সিউল ত্যাগের প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু সাধারণ মানুষকে সময়মতো পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। হাজার হাজার মানুষ পরিবার ও সামান্য জিনিসপত্র নিয়ে দক্ষিণের দিকে পালাতে শুরু করে। ২৮ জুন উত্তর কোরীয় বাহিনী সিউলে প্রবেশ করে—আক্রমণ শুরুর মাত্র তিন দিন পর। এর আগে দক্ষিণ কোরীয় সামরিক কর্তৃপক্ষ হান নদীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু উড়িয়ে দেয়, যাতে শত্রুর অগ্রগতি ধীর করা যায়। কিন্তু তখনও সেতুর ওপর ও আশপাশে বহু বেসামরিক মানুষ ছিল এবং দক্ষিণ কোরীয় সেনাবাহিনীর উল্লেখযোগ্য অংশও নদীর উত্তরে আটকা পড়ে। বিস্ফোরণে বহু মানুষ নিহত হয় এবং সামরিক পশ্চাদপসরণ আরও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে।

সিউল দখল উত্তর কোরিয়ার জন্য বড় সাফল্য হলেও যুদ্ধ সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার দক্ষিণে সরে যায় এবং অবশিষ্ট সেনাবাহিনী পুনর্গঠনের চেষ্টা করে। উত্তর কোরীয় বাহিনী রাজধানীতে কিছু সময় ব্যয় করায় পশ্চাদপসরণকারী দক্ষিণ কোরীয় সেনাদের একটি অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়। তবু উত্তর কোরিয়ার অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে। তাদের বাহিনী দক্ষিণমুখী সড়ক ও রেলপথ ধরে দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার অধিকাংশ এলাকা হারানোর আশঙ্কা দেখা দেয়।

ওয়াশিংটনে আক্রমণের সংবাদ পৌঁছানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান এটিকে শুধু দুই কোরিয়ার গৃহসংঘাত হিসেবে দেখেননি। তাঁর প্রশাসনের কাছে এটি ছিল সোভিয়েত-সমর্থিত কমিউনিস্ট সম্প্রসারণের পরীক্ষা। ইউরোপে যদি আগ্রাসন প্রতিরোধ না করা হয়, তবে অন্যান্য অঞ্চলেও একই ধরনের হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কা মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে আগ্রাসী শক্তিকে প্রতিরোধ না করার অভিজ্ঞতাও তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। দক্ষিণ কোরিয়ার পতন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সামরিক হস্তক্ষেপের পথে এগিয়ে যায়।

সোভিয়েত প্রতিনিধি তখন চীনের জাতিসংঘের আসন নিয়ে বিরোধের কারণে নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন বর্জন করছিলেন। ফলে সোভিয়েত ইউনিয়ন উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাবে ভেটো দিতে পারেনি। ২৫ জুন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ বন্ধ এবং বাহিনীকে ৩৮তম সমান্তরালের উত্তরে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়। ২৭ জুন সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে দক্ষিণ কোরিয়াকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র বিমান ও নৌবাহিনী ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরে স্থলসেনাও পাঠায়। এভাবেই কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিভাজন থেকে জন্ম নেওয়া যুদ্ধ দ্রুত একটি আন্তর্জাতিক সংঘাতে পরিণত হয়।

প্রথমদিকে পাঠানো মার্কিন বাহিনীও উত্তর কোরীয় আক্রমণ থামাতে পারেনি। জাপান থেকে দ্রুত মোতায়েন করা সেনাদের অনেকেই পর্যাপ্ত প্রস্তুত ছিল না। জুলাইয়ের শুরুতে ওসানের যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর প্রথম বড় স্থলসংঘর্ষে উত্তর কোরীয় ট্যাংক ও সেনারা তাদের প্রতিরক্ষা ভেঙে দেয়। দক্ষিণ কোরীয় ও মার্কিন বাহিনী ধারাবাহিকভাবে পিছু হটতে হটতে শেষ পর্যন্ত উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে বুসান অঞ্চলের একটি সীমিত প্রতিরক্ষাবলয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে উত্তর কোরিয়া প্রায় পুরো দক্ষিণ কোরিয়া দখলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।

১৯৫০ সালের ২৫ জুনের আক্রমণ তাই শুধু একটি সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা ছিল না। এটি কোরিয়ার অসম্পূর্ণ স্বাধীনতা, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারের পুনরেকত্রীকরণের দাবি, সোভিয়েত ও মার্কিন প্রতিযোগিতা এবং পূর্ব এশিয়ায় কমিউনিজমের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত এক বিস্ফোরক পরিস্থিতির পরিণতি। কিম ইল-সুং ধারণা করেছিলেন, শক্তিশালী আক্রমণে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার দ্রুত ভেঙে পড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্র কার্যকরভাবে হস্তক্ষেপ করার আগেই বিজয় অর্জিত হবে। রাজধানী দ্রুত দখল করার ক্ষেত্রে তাঁর হিসাব সফল হলেও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। দ্রুত পুনরেকত্রীকরণের উদ্দেশ্যে শুরু করা অভিযান শেষ পর্যন্ত তিন বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধে পরিণত হয়—যে যুদ্ধ কোরিয়াকে একত্র করতে পারেনি, বরং তার বিভাজনকে আরও গভীর ও স্থায়ী করে দিয়েছে।


আপনার পছন্দ হতে পারে