বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ: ২০১১ সালের গণবিক্ষোভ থেকে বর্তমান মানবিক সংকট

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ: ২০১১ সালের গণবিক্ষোভ থেকে বর্তমান মানবিক সংকট
যুদ্ধ থামলেও মানুষের সংকট রয়ে গেছে

সিরিয়ার কোনো পরিবারের জন্য গৃহযুদ্ধের ইতিহাস কেবল কোন বাহিনী কখন একটি শহর দখল করেছিল, সেই হিসাব নয়। এটি হয়তো সেই বাড়ির গল্প, যেখানে তারা আর ফিরতে পারেনি; সেই বিদ্যালয়ের গল্প, যেখানে সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ হয়েছে; অথবা সেই আত্মীয়ের অপেক্ষা, যিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। ২০১১ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দিয়ে যে সংকট শুরু হয়েছিল, তা বহু পক্ষের দীর্ঘ যুদ্ধে পরিণত হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল আসাদ সরকারের পতন যুদ্ধের একটি বড় অধ্যায় শেষ করে। কিন্তু সিরিয়ার মানুষের নিরাপত্তা, বাসস্থান, জীবিকা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন আজও পুরোপুরি মেটেনি।

গৃহযুদ্ধের আগে থেকেই সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিল। রাজনৈতিক বিরোধিতার সুযোগ সীমিত ছিল; গ্রেপ্তার, নজরদারি ও মতপ্রকাশের ওপর নিয়ন্ত্রণ সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলত। অর্থনৈতিক বৈষম্য, বেকারত্ব এবং গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘ খরার পর সৃষ্ট দুর্দশাও অসন্তোষ বাড়ায়। তবে এসব কারণ একাই যুদ্ধ শুরু করেনি। ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সময় সিরিয়ার মানুষও রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানাতে শুরু করে। সরকারের প্রতিক্রিয়াই পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে নির্ধারক হয়ে ওঠে।

দক্ষিণের দারা শহর সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনাস্থল। সরকারবিরোধী লেখা দেয়ালে আঁকার অভিযোগে কয়েকজন কিশোরকে আটক করার পর তাদের মুক্তির দাবি ওঠে। বিক্ষোভ ছড়ালে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন, গুলিবর্ষণ ও গ্রেপ্তার জনরোষ বাড়িয়ে দেয়। মৃত ব্যক্তিদের জানাজা থেকেও নতুন মিছিল বের হতে থাকে। শিগগিরই হোমস, হামা, দামেস্কের আশপাশ এবং অন্যান্য এলাকায় প্রতিবাদ দেখা যায়। অংশগ্রহণকারীদের দাবি এক রকম ছিল না, তবে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, দমন বন্ধ এবং সরকারের জবাবদিহি ছিল কেন্দ্রীয় বিষয়।

শুরুতে বহু বিক্ষোভ ছিল নিরস্ত্র। সহিংস দমন চলতে থাকায় পরিস্থিতি বদলে যায়। নিরাপত্তা বাহিনী থেকে কিছু সদস্য পক্ষ ত্যাগ করেন; বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র বিরোধী দল তৈরি হয়। সরকার তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে। ২০১২ সালের দিকে দেশের বহু অঞ্চলে সংঘর্ষ পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের রূপ নেয়। তখন আর একটি একক বিরোধী নেতৃত্ব ছিল না। ভিন্ন রাজনৈতিক লক্ষ্য, স্থানীয় স্বার্থ ও বাইরের সমর্থনের কারণে সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেও বিভাজন ছিল। ফলে ‘সরকার বনাম বিদ্রোহী’—এই সরল বর্ণনা দিয়ে যুদ্ধের পুরো চিত্র বোঝা সম্ভব নয়।

আলেপ্পো, হোমস এবং দামেস্কের উপকণ্ঠের মতো এলাকায় দীর্ঘ লড়াই সাধারণ মানুষের জীবন ভেঙে দেয়। আবাসিক এলাকায় গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়; সড়ক বন্ধ হলে খাবার ও ওষুধ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো শহর একাধিক পক্ষের নিয়ন্ত্রণে ভাগ হয়ে গেলে একই পরিবারের সদস্যরাও বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারতেন। অবরুদ্ধ এলাকায় খাদ্য ও চিকিৎসার ঘাটতি তীব্র হয়েছিল। যুদ্ধক্ষেত্রের মানচিত্রে একটি এলাকার রং বদলাতে কয়েক মাস লাগলেও, সেখানে বসবাসকারী শিশুর জন্য প্রতিটি দিন ছিল অনিশ্চয়তার।

২০১৩ সালে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করে। পরবর্তী বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক তদন্তে সিরিয়ার একাধিক ঘটনায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়; নির্দিষ্ট কিছু হামলার দায়ও শনাক্ত করা হয়। এ ধরনের অস্ত্রের ভয় সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বাইরে সাধারণ মানুষের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। তবে রাসায়নিক হামলাই সিরিয়ার সব মৃত্যুর কারণ ছিল না। দীর্ঘ বছর ধরে সাধারণ বিস্ফোরক, গোলাবর্ষণ, অবরোধ, নির্যাতন এবং চিকিৎসার অভাবও বিপুল সংখ্যক মানুষকে হত্যা বা আহত করেছে।

যুদ্ধের আরেকটি ভয়াবহ মোড় আসে তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের উত্থানে। ২০১৪ সালে গোষ্ঠীটি সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চরম সহিংস শাসন কায়েম করে। তারা সাধারণ মানুষকে হত্যা, অপহরণ ও নির্যাতন করে; ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপরও আক্রমণ চালায়। সিরিয়ার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে তাদের বিরুদ্ধে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীসহ বিভিন্ন স্থানীয় শক্তি লড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট বিমান হামলা ও অন্যান্য সহায়তা দেয়। গোষ্ঠীটির ভূখণ্ডভিত্তিক শাসন পরাজিত হলেও তার উত্থান যুদ্ধকে আরও জটিল করেছে এবং বহু নতুন মানুষকে ঘরছাড়া করেছে।

বাইরের শক্তিগুলোর ভূমিকা সিরিয়ার সংঘাত দীর্ঘায়িত ও জটিল করেছে। রাশিয়া ২০১৫ সালে আসাদ সরকারের পক্ষে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। ইরান এবং তার সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীও সরকারপক্ষকে সাহায্য করে। অন্যদিকে তুরস্ক বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠীকে সমর্থন করে এবং নিজ সীমান্তের কাছে সামরিক অভিযান চালায়; কুর্দি সশস্ত্র শক্তির উপস্থিতি তার নিরাপত্তানীতিতে বড় বিষয় ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসকে সহায়তা করে। প্রতিটি দেশের লক্ষ্য এক ছিল না। সিরীয় নাগরিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত তাই অনেক সময় দেশের বাইরের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ে।

এই দীর্ঘ যুদ্ধে শরণার্থী হওয়া সিরিয়ার পরিবারগুলোর বড় অংশ প্রতিবেশী তুরস্ক, লেবানন, জর্ডান ও অন্যান্য দেশে আশ্রয় নেয়। আবার বহু মানুষ দেশের ভেতরেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পালাতে বাধ্য হয়। সীমান্ত পার হওয়া শরণার্থী এবং দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত মানুষের অবস্থা আলাদা হলেও দুপক্ষকেই বাসস্থান, কাজ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সংকটে পড়তে হয়েছে। একজন মানুষ একবার ঘরছাড়া হয়েই নিরাপদে স্থায়ী বসতি পেয়েছেন—এমনও নয়। সংঘর্ষের রেখা বদলানোয় অনেকে বারবার স্থানান্তরিত হয়েছেন; প্রতিবার তাঁদের নতুন করে আশ্রয় ও জীবিকা খুঁজতে হয়েছে।

শিশুদের ওপর এর প্রভাব বিশেষভাবে গভীর। কোনো শিশুর জন্ম শরণার্থীশিবিরে, কারও শৈশব কেটেছে অস্থায়ী আশ্রয়ে, আবার কেউ বছরের পর বছর নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারেনি। অনেক স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা অন্য কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। শিক্ষক, পাঠ্যসামগ্রী ও নিরাপদ যাতায়াতের অভাবও পড়াশোনা ব্যাহত করেছে। শিক্ষা থেকে দূরে থাকার প্রভাব শুধু পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ থাকে না; ভবিষ্যতে কাজ পাওয়া, সামাজিক সম্পর্ক গড়া এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে জানা—সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে। যুদ্ধ শেষ করার ঘোষণা দিলেই হারানো শিক্ষাবর্ষ ফিরিয়ে দেওয়া যায় না।

চিকিৎসাব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়েছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, চিকিৎসাকর্মীদের দেশ ছাড়া এবং ওষুধের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ রোগের চিকিৎসাও কঠিন হয়ে পড়ে। গর্ভবতী নারী, নবজাতক, প্রবীণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য এই সংকট বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করে। বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নষ্ট হলে সংক্রামক রোগের আশঙ্কা বাড়ে। যুদ্ধের মানসিক ক্ষতও কম গুরুতর নয়। বিস্ফোরণের শব্দ, প্রিয়জন হারানো, বারবার পালিয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘ অনিশ্চয়তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে।

অর্থনীতির ক্ষতি যুদ্ধের পরও মানুষের ঘরে পৌঁছায়। কারখানা বন্ধ হয়েছে, কৃষিজমি চাষের বাইরে গেছে, বাজারে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। বাড়ি মেরামতের সামর্থ্য না থাকলে নিরাপদ এলাকায় ফিরেও পরিবার বসবাস শুরু করতে পারে না। বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ অনিয়মিত থাকলে দোকান, বিদ্যালয় বা চিকিৎসাকেন্দ্র চালানো কঠিন হয়। একটি শহর থেকে গোলাগুলির শব্দ থেমে যাওয়া তাই তার স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসার সমান নয়। পুনর্গঠনের জন্য নিরাপদ সড়ক, কার্যকর সরকারি সেবা, কাজের সুযোগ এবং বাসিন্দাদের আস্থা—সবই প্রয়োজন।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তুরস্ক ও উত্তর সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানলে যুদ্ধক্লান্ত মানুষের দুর্দশা আরও বাড়ে। আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ চলাচলের জটিলতা উদ্ধার ও সহায়তা পৌঁছানোর কাজ কঠিন করে তোলে। ভূমিকম্পটি গৃহযুদ্ধের অংশ ছিল না, কিন্তু দীর্ঘ সংঘর্ষ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতাকে কতটা দুর্বল করে দিয়েছিল, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

২০২৪ সালের শেষ দিকে যুদ্ধের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। বিদ্রোহী বাহিনীর অগ্রযাত্রায় একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ৮ ডিসেম্বর বাশার আল আসাদের শাসনের পতন ঘটে। কয়েক দশকের আসাদ পরিবারের শাসন শেষ হওয়ায় বহু সিরীয় দেশে ফেরার ও নতুন রাজনৈতিক জীবন গড়ার আশা পান। কারাগার ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে সত্য জানার দাবিও নতুন গুরুত্ব পায়। তবে একটি সরকারের পতন নিজে থেকেই সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে একীভূত করে না, সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না বা ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদ পুনর্নির্মাণ করে না।

পরবর্তী অন্তর্বর্তী সময়ে সিরিয়ার সামনে কঠিন প্রশ্ন দাঁড়ায়: নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থায় কারা অংশ নেবে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে এবং যুদ্ধকালীন অপরাধের বিচার কীভাবে হবে? বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। প্রতিশোধমূলক হামলা বা নির্বিচার গ্রেপ্তার নতুন করে মানুষের আস্থা নষ্ট করতে পারে। দীর্ঘ যুদ্ধের পর ন্যায়বিচার মানে কেবল একজন নেতার পতন নয়; নিখোঁজদের ভাগ্য জানা, অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে মর্যাদার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়াও এর অংশ।

অনেক শরণার্থী ইতিমধ্যে সিরিয়ায় ফিরেছেন, কিন্তু ফেরা সবার জন্য একই রকম সহজ নয়। কারও বাড়ি ধ্বংস হয়েছে, কারও জমির কাগজ হারিয়েছে, কারও এলাকায় কাজ বা বিদ্যালয় নেই। বিস্ফোরিত না হওয়া গোলা ও অন্যান্য যুদ্ধাবশেষও বিপদ তৈরি করে। তাই মানুষ ফিরছেন—এই তথ্যের পাশাপাশি তাঁরা নিরাপদে থাকতে পারছেন কি না, জীবিকা পাচ্ছেন কি না এবং আবার পালাতে হচ্ছে কি না, সেসব জানা জরুরি। স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে ঘরে ফেরার সুযোগ তৈরি হওয়াই টেকসই প্রত্যাবর্তনের ভিত্তি।

২০২৬ সালেও সিরিয়ার মানবিক সংকট বিরাট আকারে রয়ে গেছে। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর হিসাবে বছরের প্রথম ভাগে দেড় কোটির বেশি মানুষের সহায়তার প্রয়োজন ছিল এবং প্রায় পঞ্চান্ন লাখ মানুষ তখনো দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় ছিলেন। একই সময়ে বিদেশ থেকে শরণার্থী ও দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত বহু মানুষ ফিরে এসেছেন। প্রত্যাবর্তন আশা তৈরি করলেও এই দুই বাস্তবতা একসঙ্গে বুঝতে হয়: কেউ বাড়ি ফিরছেন, আবার বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য খাবার, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে তাই শুধু ২০১১ সালে শুরু হয়ে ২০২৪ সালে শেষ হওয়া একটি সামরিক কাহিনি বলা কঠিন। আসাদ সরকারের পতনে যুদ্ধের পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো ভেঙেছে, কিন্তু তার মানবিক উত্তরাধিকার বর্তমানেও সক্রিয়। দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে মানুষ নিরাপদে বাস করতে পারছে কি না, শিশুরা আবার পড়াশোনা শুরু করতে পারছে কি না, ঘরছাড়া পরিবার নিজের ইচ্ছায় ফিরতে পারছে কি না এবং অপরাধের বিচার রাজনৈতিক প্রতিশোধের বাইরে গিয়ে করা যাচ্ছে কি না—তার ওপর। সিরিয়ার সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসাব শেষ পর্যন্ত ভূখণ্ডের মানচিত্রে নয়, সেই মানুষগুলোর জীবনে লেখা রয়েছে।


আপনার পছন্দ হতে পারে