অপারেশন রোলিং থান্ডার ও মার্কিন সেনা মোতায়েন: ১৯৬৫ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিস্তার
সিরিজ: ভিয়েতনাম যুদ্ধ
বোমাবর্ষণ ও সেনা মোতায়েনে বিস্তৃত ভিয়েতনাম যুদ্ধ
১৯৬৫ সাল ভিয়েতনাম যুদ্ধের ইতিহাসে সেই নির্ণায়ক বছর, যখন যুক্তরাষ্ট্র সীমিত সামরিক সহায়তা ও উপদেষ্টা পাঠানোর নীতি থেকে সরে এসে সরাসরি বৃহৎ আকারের আকাশ ও স্থলযুদ্ধে প্রবেশ করে। বছরের শুরুতে দক্ষিণ ভিয়েতনামে প্রায় ২৩ হাজার মার্কিন সামরিক সদস্য অবস্থান করলেও বছরের শেষে সেই সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজারে পৌঁছায়। একই সময়ে উত্তর ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে শুরু হয় দীর্ঘস্থায়ী বিমান অভিযান অপারেশন রোলিং থান্ডার। এই দুটি সিদ্ধান্ত ভিয়েতনামের গৃহসংঘাতকে এমন এক আন্তর্জাতিক যুদ্ধে পরিণত করে, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক রাষ্ট্র বিপুল অস্ত্র, বিমান ও সেনা নিয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী বিপ্লবী যুদ্ধ দমনের চেষ্টা করেছিল।
১৯৬৪ সালের টঙ্কিন উপসাগরের ঘটনার পর মার্কিন কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসনকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় “প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা” গ্রহণের ব্যাপক ক্ষমতা দেয়। কিন্তু জনসন তখনই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করেননি। ১৯৬৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি নিজেকে তুলনামূলক সংযত প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে তাঁর প্রশাসন গোপনে উত্তর ভিয়েতনামের ওপর ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ এবং দক্ষিণে মার্কিন যুদ্ধসেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা প্রস্তুত করছিল। নির্বাচনের পর দক্ষিণ ভিয়েতনামের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়।
দক্ষিণ ভিয়েতনামের সরকার তখন ধারাবাহিক সামরিক অভ্যুত্থান, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও প্রশাসনিক দুর্বলতায় বিপর্যস্ত ছিল। নগো দিন দিয়েমের পতনের পর কোনো সরকারই স্থায়ী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। গ্রামাঞ্চলে ভিয়েত কংয়ের প্রভাব বাড়ছিল, দক্ষিণ ভিয়েতনামের সেনাবাহিনী বারবার পরাজিত হচ্ছিল এবং হো চি মিন ট্রেইলের মাধ্যমে উত্তর থেকে যোদ্ধা ও রসদ দক্ষিণে পৌঁছাচ্ছিল। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দক্ষিণ ভিয়েতনাম সামরিকভাবে ভেঙে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের সামনে তখন প্রশ্নটি আর দক্ষিণকে সাহায্য করা হবে কি না—এতটুকুতে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং দক্ষিণকে রক্ষার জন্য সরাসরি কত দূর যুদ্ধে যাওয়া হবে, সেটিই প্রধান প্রশ্ন হয়ে উঠেছিল।
১৯৬৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভিয়েত কং দক্ষিণ ভিয়েতনামের প্লেইকুতে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এতে আটজন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হন। প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর ভিয়েতনামের লক্ষ্যবস্তুতে অপারেশন ফ্লেমিং ডার্ট নামে বিমান হামলা চালায়। কয়েক দিন পর কুই ননে আরেকটি আক্রমণের পর দ্বিতীয় দফা প্রতিশোধমূলক বোমাবর্ষণ হয়। এসব হামলাকে পৃথক প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও জনসন প্রশাসন ইতিমধ্যে আরও নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
২ মার্চ ১৯৬৫ শুরু হয় অপারেশন রোলিং থান্ডার। প্রাথমিকভাবে এটি সীমিত ও ধাপে ধাপে চাপ বৃদ্ধির অভিযান হিসেবে পরিকল্পিত হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল উত্তর ভিয়েতনামকে ভিয়েত কংয়ের প্রতি সহায়তা বন্ধ করতে বাধ্য করা, দক্ষিণ ভিয়েতনামের মনোবল শক্ত করা এবং হ্যানয়কে বোঝানো যে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মূল্য ক্রমে অসহনীয় হয়ে উঠবে। বিমান হামলার মাধ্যমে সেতু, রেলপথ, সড়ক, সামরিক ঘাঁটি, গোলাবারুদের গুদাম, জ্বালানি সংরক্ষণাগার ও পরিবহনব্যবস্থা ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়।
কিন্তু রোলিং থান্ডারকে শুরু থেকেই কঠোর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে পরিচালনা করা হয়। প্রেসিডেন্ট জনসন ও তাঁর বেসামরিক উপদেষ্টারা ওয়াশিংটনে বসে অনেক লক্ষ্যবস্তু অনুমোদন করতেন। চীন বা সোভিয়েত ইউনিয়ন সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে—এই আশঙ্কায় চীনা সীমান্ত, বড় শহর এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর প্রথমদিকে কঠোর বিধিনিষেধ ছিল। বোমাবর্ষণ ধীরে ধীরে বাড়িয়ে হ্যানয়কে আলোচনায় বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এই ধীরগতির নীতি উত্তর ভিয়েতনামকে বিমান প্রতিরক্ষা গড়ে তোলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছড়িয়ে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবহনপথ দ্রুত মেরামতের সময় দেয়।
উত্তর ভিয়েতনাম সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের সহায়তায় বিমানবিধ্বংসী কামান, রাডার, মিগ যুদ্ধবিমান এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে। হাজার হাজার শ্রমিক ও স্বেচ্ছাসেবক বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও রেললাইন মেরামত করতেন। বড় গুদামের পরিবর্তে ছোট ছোট স্থানে রসদ ছড়িয়ে রাখা হতো। রাতের অন্ধকারে ট্রাক চলত এবং দিনের বেলা সেগুলো গাছপালা বা ছদ্মাবরণের নিচে লুকিয়ে রাখা হতো। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী সাইকেল, নৌকা ও মানুষের কাঁধে বহন করা হতো। শিল্পোন্নত রাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত শক্তির বিরুদ্ধে উত্তর ভিয়েতনাম বিকেন্দ্রীকরণ, শ্রমশক্তি এবং অসাধারণ সহনশীলতাকে অস্ত্রে পরিণত করেছিল।
বিশেষ সমস্যা ছিল হো চি মিন ট্রেইল। নামটি একটি মাত্র পথের ধারণা দিলেও বাস্তবে এটি ছিল লাওস ও কম্বোডিয়ার দুর্গম পাহাড় ও জঙ্গলের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত অসংখ্য সড়ক, পায়ে চলা পথ, নদীপথ, গুদাম ও বিশ্রামকেন্দ্রের বিশাল যোগাযোগব্যবস্থা। একটি পথ ধ্বংস হলে অন্য পথ ব্যবহার করা যেত। বোমাবর্ষণ পরিবহনকে ব্যয়বহুল ও বিপজ্জনক করলেও সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পারেনি। উত্তর ভিয়েতনাম দক্ষিণে ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় অস্ত্র, রসদ ও নিয়মিত সেনা পাঠাতে থাকে।
আকাশযুদ্ধ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই স্থলযুদ্ধের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। দা নাং বিমানঘাঁটিকে ভিয়েত কংয়ের সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য ৮ মার্চ ১৯৬৫ প্রায় ৩,৫০০ মার্কিন মেরিন দক্ষিণ ভিয়েতনামের সমুদ্রসৈকতে অবতরণ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো শত্রুপ্রতিরোধের মুখে তাদের নামতে হয়নি; দক্ষিণ ভিয়েতনামি কর্মকর্তা ও স্থানীয় মানুষ তাদের স্বাগত জানায়। তবু এই অবতরণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছিল গভীর—এরা ছিল ভিয়েতনামে প্রকাশ্যে মোতায়েন করা প্রথম উল্লেখযোগ্য মার্কিন স্থলযুদ্ধ ইউনিট।
প্রথমে মেরিনদের দায়িত্ব শুধু বিমানঘাঁটির প্রতিরক্ষা বলে নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ঘাঁটি রক্ষার জন্য আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার, আর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে গ্রামে টহল ও শত্রুর ঘাঁটিতে অভিযান চালাতে হবে—এই যুক্তিতে তাদের ভূমিকা দ্রুত বিস্তৃত হয়। জুনে মার্কিন সেনাদের আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। দক্ষিণ ভিয়েতনামের দুর্বল বাহিনীকে শুধু সহায়তা করার পরিবর্তে মার্কিন ইউনিটগুলো নিজস্ব অভিযান পরিকল্পনা ও পরিচালনা শুরু করে।
ভিয়েতনামে মার্কিন সামরিক কমান্ডার জেনারেল উইলিয়াম ওয়েস্টমোরল্যান্ড যুক্তি দেন, দক্ষিণ ভিয়েতনামের পতন ঠেকাতে বিপুলসংখ্যক সেনা প্রয়োজন। তাঁর কৌশলের কেন্দ্র ছিল ক্ষয়যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র ভূখণ্ড স্থায়ীভাবে দখল করার পরিবর্তে শত্রুবাহিনীকে খুঁজে বের করে এমন হারে হত্যা করতে চাইত, যা উত্তর ভিয়েতনাম ও ভিয়েত কং পূরণ করতে পারবে না। এই উদ্দেশ্যে “খুঁজে বের করো ও ধ্বংস করো” অভিযান, হেলিকপ্টারে দ্রুত সেনা পরিবহন, ব্যাপক কামান ও বিমান সহায়তা এবং নিহত শত্রুর সংখ্যা দিয়ে সাফল্য পরিমাপের পদ্ধতি চালু হয়।
কিন্তু এই কৌশলের মৌলিক দুর্বলতা ছিল। ভিয়েত কং স্থানীয় জনগণের মধ্যে মিশে যেতে পারত, সুবিধাজনক সময়ে যুদ্ধ করত এবং চাপ বাড়লে সীমান্ত বা দুর্গম জঙ্গলে সরে যেত। কোনো এলাকা থেকে গেরিলাদের বিতাড়িত করার পর মার্কিন বাহিনী চলে গেলে তারা আবার ফিরে আসত। নিহত শত্রুর সংখ্যা নির্ধারণেও অতিরঞ্জন ও বেসামরিক মানুষকে যোদ্ধা হিসেবে গণনার প্রবণতা দেখা দেয়। ভারী গোলাবর্ষণ, বিমান হামলা এবং গ্রাম খালি করার ফলে বহু কৃষক বাস্তুচ্যুত হন। এতে স্থানীয় জনগণকে সরকারের পক্ষে আনার রাজনৈতিক লক্ষ্য আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
১৯৬৫ সালের আগস্টে দা নাংয়ের দক্ষিণে অপারেশন স্টারলাইট পরিচালিত হয়। এটি ছিল ভিয়েত কংয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর প্রথম বড় স্বতন্ত্র স্থল অভিযানগুলোর একটি। মেরিনরা স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে সমন্বিত আক্রমণ চালিয়ে একটি ভিয়েত কং রেজিমেন্টকে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করে। অভিযানটি মার্কিন নেতৃত্বকে বিশ্বাস করায় যে উন্নত গতিশীলতা, বিমানশক্তি ও কামানের সহায়তায় গেরিলা বাহিনীকে পরাজিত করা সম্ভব। কিন্তু কয়েক মাস পর মধ্যাঞ্চলীয় উচ্চভূমিতে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়।
১৯৬৫ সালের নভেম্বরে ইয়া দ্রাং উপত্যকার যুদ্ধে মার্কিন সেনা প্রথমবারের মতো উত্তর ভিয়েতনামের নিয়মিত বাহিনীর সঙ্গে বৃহৎ সংঘর্ষে জড়ায়। হেলিকপ্টারে সেনা নামানো, ঘনিষ্ঠ বিমান সহায়তা এবং ব্যাপক কামান ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনী বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও অবস্থান ধরে রাখে। উভয় পক্ষই যুদ্ধ থেকে নিজেদের জন্য আশাব্যঞ্জক শিক্ষা নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র মনে করেছিল, প্রযুক্তি ও আগুনের শক্তি দিয়ে সংখ্যায় বড় শত্রুবাহিনীকে পরাজিত করা সম্ভব। উত্তর ভিয়েতনাম বুঝেছিল, মার্কিন সেনাদের খুব কাছে থেকে যুদ্ধ করলে তাদের বিমান ও কামানের সুবিধা সীমিত করা যায় এবং দীর্ঘ যুদ্ধ চালিয়ে তাদের রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ভেঙে দেওয়া সম্ভব।
মার্কিন সেনা বৃদ্ধির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের মতো মিত্র দেশের বাহিনী বা সহায়তাও যুক্ত হয়। অন্যদিকে উত্তর ভিয়েতনাম চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিক সহায়তা পায়। ফলে ভিয়েতনামের মাটিতে চলা যুদ্ধ আরও স্পষ্টভাবে স্নায়ুযুদ্ধের আন্তর্জাতিক সংঘাতে পরিণত হয়। তবু যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর ভিয়েতনাম উভয়েই এমন সীমা রক্ষা করতে চেয়েছিল, যাতে সংঘাত সরাসরি মার্কিন-চীন বা মার্কিন-সোভিয়েত যুদ্ধে পরিণত না হয়।
রোলিং থান্ডার শেষ পর্যন্ত ১৯৬৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চলে। বিপুল বোমা ফেলা এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি সত্ত্বেও অভিযান উত্তর ভিয়েতনামকে দক্ষিণের যুদ্ধ থেকে সরে আসতে বাধ্য করতে পারেনি। বরং বোমাবর্ষণ হ্যানয়ের দৃঢ়তা বাড়ায়, বিদেশি সহায়তা বৃদ্ধি করে এবং যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করে। একইভাবে মার্কিন স্থলবাহিনী বহু যুদ্ধে কৌশলগত বিজয় অর্জন করলেও ভিয়েত কং ও উত্তর ভিয়েতনামের রাজনৈতিক-সামরিক কাঠামো ধ্বংস করতে পারেনি।
১৯৬৫ সালের বিস্তার ছিল একটি সীমিত প্রতিশ্রুতি থেকে বৃহৎ যুদ্ধের দিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার ফল। জনসন প্রশাসন প্রতিটি নতুন পদক্ষেপকে আগের সিদ্ধান্ত রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করেছিল—বিমানঘাঁটি রক্ষায় মেরিন, মেরিন রক্ষায় বৃহত্তর এলাকা, এলাকা নিয়ন্ত্রণে আরও সেনা এবং সেনাদের সহায়তায় আরও বোমাবর্ষণ। কিন্তু প্রতিটি বৃদ্ধি নতুন সমস্যা ও নতুন দায় সৃষ্টি করে। বছরের শেষে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক যুদ্ধের গভীরে প্রবেশ করেছিল, যেখান থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসা যেমন কঠিন, সামরিক শক্তি দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করাও তেমনি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।
ন্যাটো ও ওয়ারশ চুক্তি: স্নায়ুযুদ্ধের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক জোটের ইতিহাস
বার্লিন অবরোধ ও এয়ারলিফট: স্নায়ুযুদ্ধের প্রথম বড় সংঘাতের ইতিহাস
ট্রুম্যান নীতি, মার্শাল পরিকল্পনা ও আয়রন কার্টেন: ইউরোপ বিভক্ত হওয়ার ইতিহাস
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা: যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন যেভাবে শত্রু পরাশক্তিতে পরিণত হয়
খে সান ও টেট অফেনসিভ: ১৯৬৮ সালের আক্রমণ যেভাবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়েছিল
এজেন্ট অরেঞ্জ ও ন্যাপাম: ভিয়েতনাম যুদ্ধে রাসায়নিক পদার্থ ও বেসামরিক বিপর্যয়