বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

সাত বছরের যুদ্ধ ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্য: ফ্রান্সকে হারিয়ে উত্তর আমেরিকা ও ভারতে ব্রিটিশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

সিরিজ: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার

সাত বছরের যুদ্ধ ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্য: ফ্রান্সকে হারিয়ে উত্তর আমেরিকা ও ভারতে ব্রিটিশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
সাত বছরের যুদ্ধ—ব্রিটেনের বৈশ্বিক সাম্রাজ্যে পরিণত হওয়ার সংঘাত

১৭৫৬ থেকে ১৭৬৩ সাল পর্যন্ত সংঘটিত সাত বছরের যুদ্ধকে অনেক ইতিহাসবিদ প্রথম প্রকৃত বৈশ্বিক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করেন। ইউরোপে শুরু হওয়া সংঘাতটি উত্তর আমেরিকা, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ, পশ্চিম আফ্রিকা, ভারত, ফিলিপাইন এবং বিস্তৃত সমুদ্রপথে ছড়িয়ে পড়েছিল। ব্রিটেন ও ফ্রান্স এই যুদ্ধের প্রধান ঔপনিবেশিক প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও তাদের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রুশিয়া, অস্ট্রিয়া, রাশিয়া, স্পেনসহ আরও কয়েকটি শক্তি যুক্ত হয়। যুদ্ধের শেষে ফ্রান্সের বৈশ্বিক ঔপনিবেশিক অবস্থান মারাত্মকভাবে দুর্বল হয় এবং ব্রিটেন উত্তর আমেরিকা ও ভারতে প্রধান ইউরোপীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সাত বছরের যুদ্ধ ব্রিটেনকে শুধু নতুন ভূখণ্ড দেয়নি; এটি দেশটিকে সমুদ্রবাণিজ্যনির্ভর রাজ্য থেকে বৈশ্বিক সাম্রাজ্যের কেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিল।

সংঘাতের মূল কারণ ছিল ইউরোপীয় শক্তির ভারসাম্যের পাশাপাশি বিদেশি ভূখণ্ড, বাণিজ্যপথ ও মূল্যবান বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা। উত্তর আমেরিকায় ব্রিটিশ উপনিবেশগুলো আটলান্টিক উপকূল ধরে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছিল। অন্যদিকে ফরাসি উপনিবেশ নিউ ফ্রান্স সেন্ট লরেন্স নদী, গ্রেট লেকস এবং মিসিসিপি অববাহিকাকে দুর্গ ও বাণিজ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে যুক্ত করেছিল। ফরাসি বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও তারা বহু আদিবাসী জাতির সঙ্গে পশমবাণিজ্য ও সামরিক জোট গড়ে তুলেছিল। ব্রিটিশ উপনিবেশবাসীরা পশ্চিমের ওহাইও উপত্যকায় জমি ও বসতি বিস্তার করতে চাইলে দুই সাম্রাজ্যের স্বার্থ সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

১৭৫৪ সালে ওহাইও উপত্যকায় তরুণ জর্জ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন ভার্জিনিয়ার বাহিনী ও ফরাসিদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এর মাধ্যমে উত্তর আমেরিকায় যে যুদ্ধ শুরু হয়, সেটি সেখানে ফরাসি ও ভারতীয় যুদ্ধ নামে পরিচিত। নামটি ফরাসি বাহিনীর সঙ্গে মিত্র কিছু আদিবাসী গোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে নির্দেশ করলেও আদিবাসীরা একক পক্ষ ছিল না। ইরোকোয়েস কনফেডারেসিসহ বিভিন্ন জাতি নিজেদের রাজনৈতিক ও ভূখণ্ডগত স্বার্থ অনুযায়ী ব্রিটিশ, ফরাসি অথবা নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেছিল। তাদের কাছে যুদ্ধটি ছিল শুধু ইউরোপীয় সাম্রাজ্যের লড়াই নয়, নিজেদের ভূমি ও ভবিষ্যৎ রক্ষার সংগ্রামও।

যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে ব্রিটেন একের পর এক ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়। ১৭৫৫ সালে জেনারেল এডওয়ার্ড ব্র্যাডকের বাহিনী ফোর্ট ডুকেনের কাছে ফরাসি ও আদিবাসী যোদ্ধাদের আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়। সীমান্তবর্তী ব্রিটিশ বসতিগুলো আক্রমণের শিকার হয় এবং ফরাসি প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক অটুট থাকে। ব্রিটিশ সামরিক নেতৃত্বে সমন্বয়ের অভাব এবং উপনিবেশগুলোর পৃথক স্বার্থ যুদ্ধ পরিচালনাকে কঠিন করে তুলেছিল। একই সময়ে ইউরোপে ব্রিটেনের মিত্র প্রুশিয়া ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া ও রাশিয়ার মতো শক্তির বিরুদ্ধে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ছিল।

১৭৫৭ সালে উইলিয়াম পিট ব্রিটিশ যুদ্ধনীতি পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা নেওয়ার পর কৌশল বদলে যায়। তিনি প্রুশিয়াকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে ইউরোপে ফরাসি শক্তিকে ব্যস্ত রাখেন এবং ব্রিটিশ সম্পদ নৌবাহিনী ও উপনিবেশিক অভিযানে কেন্দ্রীভূত করেন। উত্তর আমেরিকায় নিয়মিত ব্রিটিশ সেনাদের পাশাপাশি উপনিবেশিক সৈন্যের সংখ্যা বাড়ানো হয়। রাজকীয় নৌবাহিনী ফরাসি বন্দর অবরোধ করে সৈন্য, অস্ত্র ও খাদ্য নিউ ফ্রান্সে পৌঁছানো কঠিন করে তোলে। সমুদ্রের নিয়ন্ত্রণ স্থলযুদ্ধে ব্রিটিশ সাফল্যের অন্যতম প্রধান শর্তে পরিণত হয়।

১৭৫৮ সালে ব্রিটিশ বাহিনী লুইসবুর্গ দুর্গ দখল করলে সেন্ট লরেন্স নদীপথে কুইবেক আক্রমণের দরজা খুলে যায়। একই বছর ফোর্ট ডুকেন ফরাসিরা পরিত্যাগ করলে ব্রিটিশরা সেখানে ফোর্ট পিট প্রতিষ্ঠা করে, যেখান থেকে পরে পিটসবার্গ শহরের বিকাশ ঘটে। ১৭৫৯ সাল ব্রিটিশ ইতিহাসে “বিজয়ের বছর” হিসেবে পরিচিত হয়। কুইবেরন উপসাগরের নৌযুদ্ধে ব্রিটিশ জয় ফ্রান্সের ব্রিটেন আক্রমণের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে এবং আটলান্টিকে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ আরও সুদৃঢ় করে।

১৭৫৯ সালের সেপ্টেম্বরে জেনারেল জেমস উলফের বাহিনী দুর্গপ্রাচীরঘেরা কুইবেকের কাছে অবতরণ করে। রাতে ব্রিটিশ সৈন্যরা দুর্গম পথ বেয়ে আব্রাহামের সমভূমিতে পৌঁছে যায়। পরদিন মার্কুই দ্য মন্টকামের নেতৃত্বাধীন ফরাসি বাহিনীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কিন্তু সিদ্ধান্তমূলক যুদ্ধ হয়। উলফ ও মন্টকাম উভয়েই মারাত্মক আহত হন, কিন্তু ব্রিটিশ বিজয়ের ফলে কুইবেক আত্মসমর্পণ করে। ১৭৬০ সালে মন্ট্রিয়লের পতনের পর কানাডায় ফরাসি রাজনৈতিক কর্তৃত্ব কার্যত শেষ হয়ে যায়।

উত্তর আমেরিকার পাশাপাশি ভারতেও ব্রিটিশ ও ফরাসি প্রতিযোগিতা চলছিল। উভয় দেশের বাণিজ্যিক কোম্পানি ভারতীয় শাসকদের উত্তরাধিকার ও আঞ্চলিক বিরোধে হস্তক্ষেপ করে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছিল। ফরাসিদের প্রধান ঘাঁটি ছিল পণ্ডিচেরি, আর ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দক্ষিণ ভারতীয় কেন্দ্র ছিল মাদ্রাজ। পূর্ববর্তী কর্ণাটক যুদ্ধগুলোতে ফরাসি কর্মকর্তা জোসেফ ফ্রাঁসোয়া দ্যুপ্লের উচ্চাকাঙ্ক্ষী কূটনীতি ফরাসি প্রভাব বাড়িয়েছিল। কিন্তু ফরাসি সরকার পর্যাপ্ত অর্থ ও নৌশক্তি দিয়ে এই উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করতে পারেনি।

সাত বছরের যুদ্ধ ভারতে তৃতীয় কর্ণাটক যুদ্ধ হিসেবে প্রকাশ পায়। ফরাসি সেনাপতি কাউন্ট দ্য লালি ১৭৫৮ সালে ভারতে এসে কিছু প্রাথমিক সাফল্য পেলেও মাদ্রাজ দখলে ব্যর্থ হন। ব্রিটিশ নৌবাহিনী সমুদ্রপথে ফরাসি ঘাঁটিগুলোকে বিচ্ছিন্ন করতে থাকে। একই সময়ে ১৭৫৭ সালের পলাশীর বিজয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলার বিপুল আর্থিক সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেয়। বাংলার অর্থ, ভারতীয় সিপাহি এবং ব্রিটিশ নৌশক্তির সমন্বয় কোম্পানিকে ফরাসিদের তুলনায় দীর্ঘ যুদ্ধ পরিচালনায় বড় সুবিধা দেয়।

১৭৬০ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ ভারতের ওয়ান্ডিওয়াশের যুদ্ধে স্যার আয়ার কুটের নেতৃত্বাধীন কোম্পানি বাহিনী ফরাসিদের সিদ্ধান্তমূলকভাবে পরাজিত করে। ফরাসি সেনাপতি বুসিকে বন্দী করা হয় এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রতা ভেঙে পড়ে। ১৭৬১ সালের জানুয়ারিতে পণ্ডিচেরি ব্রিটিশদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এর ফলে ভারতে ফরাসি সামরিক ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা কার্যত শেষ হয়। পরবর্তী শান্তিচুক্তিতে ফ্রান্স কিছু বাণিজ্যকেন্দ্র ফেরত পেলেও সেগুলোকে সামরিক ঘাঁটি বা ব্রিটিশবিরোধী আঞ্চলিক শক্তিকেন্দ্রে পরিণত করার সক্ষমতা হারায়। ভারতে ব্রিটিশ বিজয়ের মূল শক্তি ছিল নৌনিয়ন্ত্রণ, বাংলার রাজস্ব এবং সুসংগঠিত সিপাহি বাহিনীর সম্মিলন।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল চিনি উৎপাদনকারী মূল্যবান দ্বীপগুলো। ব্রিটিশ বাহিনী গুয়াদেলুপ, মার্টিনিকসহ কয়েকটি ফরাসি উপনিবেশ দখল করে। পশ্চিম আফ্রিকায় ফরাসি বাণিজ্যকেন্দ্র এবং দাসবাণিজ্যের পথেও আঘাত হানা হয়। ১৭৬২ সালে স্পেন ফ্রান্সের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিলে ব্রিটিশরা হাভানা ও ম্যানিলা দখল করে। এসব অভিযানে ব্রিটেন দেখিয়ে দেয় যে তার নৌবাহিনী শুধু যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করতে নয়, দূরবর্তী বন্দর অবরোধ, সেনা পরিবহন এবং শত্রুর বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা ভেঙে দিতে সক্ষম।

১৭৬৩ সালের প্যারিস চুক্তিতে যুদ্ধের ঔপনিবেশিক ফল নির্ধারিত হয়। ফ্রান্স কানাডা এবং মিসিসিপি নদীর পূর্বে তার অধিকাংশ উত্তর আমেরিকান দাবি ব্রিটেনের কাছে ছেড়ে দেয়। স্পেন ব্রিটেনকে ফ্লোরিডা দেয়; বিনিময়ে হাভানা ফেরত পায় এবং ফ্রান্সের কাছ থেকে মিসিসিপির পশ্চিমাঞ্চলীয় লুইজিয়ানা অর্জন করে। ব্রিটেন চিনিসমৃদ্ধ কিছু ফরাসি দ্বীপ ফেরত দেয়, কারণ আলোচনায় কানাডার দীর্ঘমেয়াদি ভূখণ্ডগত ও কৌশলগত মূল্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। ভারতে ফরাসি বাণিজ্যকেন্দ্র ফিরিয়ে দেওয়া হলেও সেগুলোর রাজনৈতিক ও সামরিক ভূমিকা কঠোরভাবে সীমিত হয়ে যায়।

যুদ্ধের পরে ব্রিটেন বিশ্বের প্রধান নৌশক্তি এবং সর্ববৃহৎ ঔপনিবেশিক শক্তিতে পরিণত হলেও বিজয়ের মূল্য ছিল অত্যন্ত বেশি। জাতীয় ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায় এবং নতুন ভূখণ্ড রক্ষায় স্থায়ী সেনাবাহিনী প্রয়োজন হয়। ব্রিটিশ সরকার মনে করেছিল, উত্তর আমেরিকার উপনিবেশবাসীদের নিরাপত্তার জন্য যুদ্ধ হওয়ায় তাদেরও করের মাধ্যমে ব্যয় বহন করা উচিত। কিন্তু স্ট্যাম্প আইনসহ নতুন কর ও বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ উপনিবেশবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে। এদিকে ১৭৬৩ সালের রাজকীয় ঘোষণায় অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালার পশ্চিমে বসতি সীমিত করার চেষ্টা ভূমির প্রত্যাশায় থাকা মানুষদের অসন্তুষ্ট করে।

ফরাসি হুমকি দূর হওয়ার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ফলও ছিল। এতদিন উত্তর আমেরিকার উপনিবেশগুলো নিরাপত্তার জন্য ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর ওপর নির্ভর করত। কানাডায় ফরাসি ক্ষমতা বিলুপ্ত হওয়ার পর সেই নির্ভরতা কমে যায়। যুদ্ধকালে বিভিন্ন উপনিবেশের সৈন্য ও কর্মকর্তা একসঙ্গে কাজ করে সামরিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। পরবর্তী করসংকট এবং প্রতিনিধিত্ব ছাড়া কর আরোপের বিরোধিতা তাদের ব্রিটিশ কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে সাহায্য করে। ফলে যে যুদ্ধ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে সর্বোচ্চ শক্তিতে উন্নীত করেছিল, সেটিই এক দশকের মধ্যে আমেরিকান বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি তৈরি করে।

ভারতে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সেখানে ফরাসি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুর্বল হওয়ার পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সামনে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভারতীয় আঞ্চলিক শক্তিগুলো। পলাশীর সম্পদ, বক্সারের পর দেওয়ানি অধিকার এবং ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সহায়তা কাজে লাগিয়ে কোম্পানি ক্রমে বাংলা থেকে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে বিস্তার ঘটায়। সাত বছরের যুদ্ধ তাই সরাসরি সমগ্র ভারত ব্রিটেনের হাতে তুলে দেয়নি; বরং প্রধান ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে কোম্পানির ভবিষ্যৎ সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ পরিষ্কার করেছিল।

সাত বছরের যুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এখানেই যে এর ফল একই সঙ্গে ব্রিটিশ শক্তির শিখর ও ভবিষ্যৎ সংকটের সূচনা ঘটায়। কুইবেকের পতন ব্রিটেনকে কানাডার অধিপতি করে, ওয়ান্ডিওয়াশ ও পণ্ডিচেরির পরাজয় ভারতে ফরাসি রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ভেঙে দেয় এবং রাজকীয় নৌবাহিনী বৈশ্বিক সমুদ্রপথে ব্রিটিশ শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু যুদ্ধের ঋণ আমেরিকায় করসংকট সৃষ্টি করে, আর ভারতের বিজয় কোম্পানিকে শোষণমূলক ভূখণ্ড শাসনের পথে নিয়ে যায়। ১৭৬৩ সালে ব্রিটেন একটি অতুলনীয় বৈশ্বিক সাম্রাজ্য লাভ করেছিল—কিন্তু সেই সাম্রাজ্যের সঙ্গেই জন্ম নিয়েছিল বিদ্রোহ, ঋণ, প্রশাসনিক সংকট এবং নতুন প্রতিরোধের বীজ।


আপনার পছন্দ হতে পারে