অচলাবস্থা থেকে পানমুনজম শান্তি আলোচনা: কোরীয় যুদ্ধ থামাতে কেন দুই বছর লেগেছিল?
সিরিজ: কোরীয় যুদ্ধ
পানমুনজমে দীর্ঘ যুদ্ধবিরতি আলোচনা
১৯৫১ সালের মাঝামাঝি কোরীয় যুদ্ধ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যেখানে কোনো পক্ষই সহজে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারছিল না। উত্তর কোরিয়ার প্রাথমিক আক্রমণ, ইনচনে জাতিসংঘ বাহিনীর পাল্টা আঘাত, ইয়ালু নদীর দিকে অগ্রযাত্রা এবং চীনের হস্তক্ষেপের পর রণাঙ্গন আবার ৩৮তম সমান্তরালের আশপাশে ফিরে আসে। জাতিসংঘ বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়াকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিল, কিন্তু চীন ও উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ পরাজিত করে উপদ্বীপ একত্র করার চেষ্টা বিপজ্জনক ও ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়। অন্যদিকে চীন ও উত্তর কোরিয়াও জাতিসংঘ বাহিনীকে উপদ্বীপ থেকে বিতাড়িত করতে পারেনি। সামরিক অচলাবস্থা তৈরি হলেও যুদ্ধ থামানো সহজ ছিল না, কারণ যুদ্ধবিরতির প্রতিটি শর্তের পেছনে ভূখণ্ড, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও লাখো মানুষের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে ছিল।
১৯৫১ সালের মে মাসে চীনের বসন্তকালীন অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর জাতিসংঘ বাহিনী পাল্টা অগ্রসর হয়ে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষারেখা স্থাপন করে। তখন উভয় পক্ষই বুঝতে শুরু করে যে বড় আকারের আক্রমণ চালিয়ে স্থায়ী বিজয় অর্জন করতে গেলে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হবে। সোভিয়েত কূটনীতিক ইয়াকভ মালিক জুন মাসে যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরুর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন। গোপন ও প্রকাশ্য যোগাযোগের পর সিদ্ধান্ত হয়, উত্তর কোরিয়ার কায়েসং শহরে দুই পক্ষের সামরিক প্রতিনিধিরা বৈঠক করবে। ১৯৫১ সালের ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়।
কায়েসং উত্তর কোরিয়া ও চীনের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় বৈঠকের পরিবেশ নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক দেখা দেয়। জাতিসংঘ প্রতিনিধিরা মনে করতেন, স্থানটির নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় প্রতিপক্ষ তাদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রাধান্য দেখানোর চেষ্টা করছে। বৈঠকের কক্ষে আসনবিন্যাস, পতাকার আকার, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ এবং প্রতিনিধি দলের যানবাহন—এমন ছোট বিষয়ও মর্যাদার প্রশ্নে পরিণত হয়। আলোচনাস্থলের কাছে গোলাগুলি ও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে বৈঠক কয়েকবার স্থগিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯৫১ সালের অক্টোবরে আলোচনা কায়েসং থেকে পানমুনজমে স্থানান্তরিত হয়, যা সম্মুখসারির কাছে তুলনামূলক নিরপেক্ষ একটি গ্রাম ছিল।
প্রথম বড় বিরোধ ছিল যুদ্ধবিরতির পর সামরিক বিভাজনরেখা কোথায় নির্ধারণ করা হবে। উত্তর কোরিয়া ও চীন চাইছিল ৩৮তম সমান্তরালকে পুনরায় সীমারেখা করা হোক। কিন্তু জাতিসংঘ কমান্ডের যুক্তি ছিল, যুদ্ধ থামার সময় যে বাহিনী যেখানে অবস্থান করবে, সেই প্রকৃত সম্মুখসারিকেই ভিত্তি করতে হবে। কারণ জাতিসংঘ বাহিনী কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ৩৮তম সমান্তরালের উত্তরে ভূখণ্ড দখল করেছিল। দীর্ঘ দর-কষাকষির পর ১৯৫১ সালের নভেম্বরে বর্তমান যুদ্ধরেখাকে অস্থায়ী বিভাজনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। রেখাটির দুই পাশে দুই কিলোমিটার করে মোট চার কিলোমিটার প্রশস্ত একটি অসামরিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ধারণাও গৃহীত হয়।
তবে এই সমঝোতার একটি অপ্রত্যাশিত প্রভাব পড়ে। আলোচনার সময় রণাঙ্গন স্থির রাখার কোনো পূর্ণাঙ্গ চুক্তি তখনও হয়নি। ফলে উভয় পক্ষই ভবিষ্যৎ সীমারেখায় সুবিধাজনক পাহাড় ও উচ্চভূমি দখলের চেষ্টা করতে থাকে। যুদ্ধ দ্রুত অগ্রসরমান বাহিনীর সংঘর্ষ থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মতো পরিখা, বাংকার, কাঁটাতার ও কামাননির্ভর লড়াইয়ে রূপ নেয়। ব্লাডি রিজ, হার্টব্রেক রিজ, ওল্ড বাল্ডি এবং পরবর্তীকালে পোর্ক চপ হিলের মতো স্থানে অল্প ভূখণ্ডের জন্য শত শত কিংবা হাজারো সেনা হতাহত হন। আলোচনার টেবিলে যুদ্ধ থামানোর কথা চললেও পাহাড়ি সম্মুখসারিতে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছিল।
দ্বিতীয় বিরোধ ছিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর তা পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি। কোনো পক্ষই চাইছিল না যে অন্য পক্ষ বিরতির সুযোগ নিয়ে নতুন সেনা ও অস্ত্র এনে হঠাৎ আক্রমণ শুরু করুক। বিদেশি সেনা প্রত্যাহার, বন্দর ও বিমানঘাঁটি পরিদর্শন, নতুন সামরিক সরঞ্জাম আনা এবং নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের ক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি তদারকের জন্য একটি সামরিক কমিশন এবং নিরপেক্ষ দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে পর্যবেক্ষণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নীতিতে সমঝোতা হয়। তবে ‘নিরপেক্ষ’ রাষ্ট্র হিসেবে কাদের গ্রহণ করা হবে, সেটিও বিতর্কিত ছিল।
সবচেয়ে কঠিন ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা ছিল যুদ্ধবন্দিদের প্রত্যাবাসন। প্রচলিতভাবে যুদ্ধ শেষে বন্দিদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হতো। উত্তর কোরিয়া ও চীন দাবি করেছিল, সব বন্দিকে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ফেরত পাঠাতে হবে। কিন্তু জাতিসংঘ কমান্ড বন্দিদের সাক্ষাৎকার নিয়ে দেখতে পায়, তাদের হেফাজতে থাকা বহু উত্তর কোরীয় ও চীনা বন্দি ফিরে যেতে রাজি নয়। কেউ কমিউনিস্ট সরকারের শাস্তির ভয় করছিল, কেউ দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকতে চাইছিল এবং চীনা বন্দিদের একটি অংশ তাইওয়ানে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের নীতি গ্রহণ করে। তাদের যুক্তি ছিল, কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এমন রাষ্ট্রে পাঠানো মানবিকভাবে অগ্রহণযোগ্য, যেখানে সে নিপীড়ন বা মৃত্যুর আশঙ্কা করছে। উত্তর কোরিয়া ও চীনের কাছে এটি ছিল রাজনৈতিকভাবে অপমানজনক। বিপুলসংখ্যক বন্দি ফিরে যেতে অস্বীকার করলে তা কমিউনিস্ট ব্যবস্থার জনপ্রিয়তা সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা দিত। তারা অভিযোগ করে, বন্দিদের ভয় দেখিয়ে বা বলপ্রয়োগ করে প্রত্যাবাসন প্রত্যাখ্যান করানো হচ্ছে। অন্যদিকে জাতিসংঘ কমান্ড অভিযোগ করে, বন্দিশিবিরের কমিউনিস্ট সংগঠনগুলো বন্দিদের ওপর চাপ ও সহিংসতা চালাচ্ছে।
কোজে দ্বীপের বিশাল বন্দিশিবিরে পরিস্থিতি বিশেষভাবে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। কমিউনিস্টপন্থী ও কমিউনিস্টবিরোধী বন্দিদের মধ্যে সংঘর্ষ, বিক্ষোভ, হত্যাকাণ্ড ও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সহিংসতা ঘটে। ১৯৫২ সালের মে মাসে বন্দিরা মার্কিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফ্রান্সিস ডডকে অপহরণ করে এবং নিজেদের দাবি স্বীকার করানোর চেষ্টা করে। তাঁকে মুক্ত করা হলেও ঘটনাটি বন্দিশিবির ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও বন্দিদের রাজনৈতিক বিভাজন বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করে। বন্দিদের পরিচয় যাচাই এবং প্রকৃত ইচ্ছা নির্ধারণের প্রক্রিয়াও দীর্ঘ ও জটিল হয়ে ওঠে।
যুদ্ধবন্দি বিতর্কে আলোচনা মাসের পর মাস অচল থাকে। ১৯৫২ সালের মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের কৌশলগত হিসাব এবং কোরিয়ার দুই সরকারের রাজনৈতিক লক্ষ্যও সমঝোতাকে প্রভাবিত করছিল। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম ইল-সুং যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের কারণে বিরতিতে আগ্রহী হলেও চীনের সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি সিংমান রি আবার যুদ্ধবিরতির তীব্র বিরোধী ছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ চালিয়ে উত্তর কোরিয়াকে দখল করা এবং নিজের সরকারের অধীনে সমগ্র কোরিয়াকে একত্র করা।
আলোচনা চলাকালে আকাশযুদ্ধ ও বোমাবর্ষণও বন্ধ হয়নি। জাতিসংঘ বিমানবাহিনী উত্তর কোরিয়ার রেলপথ, সেতু, সরবরাহকেন্দ্র, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনায় আক্রমণ চালায়। ইয়ালু নদীর কাছে ‘মিগ অ্যালি’ নামে পরিচিত আকাশসীমায় সোভিয়েত নির্মিত মিগ-১৫ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে মার্কিন এফ-৮৬ স্যাবরের সংঘর্ষ ঘটে। সোভিয়েত বৈমানিকেরা গোপনে চীনা বা উত্তর কোরীয় পরিচয়ে অভিযানে অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা এড়িয়ে চলে। এই অঘোষিত সংযমই সংঘাতকে বৈশ্বিক যুদ্ধে রূপ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করে।
১৯৫৩ সালের জানুয়ারিতে ডোয়াইট আইজেনহাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনের আগে তিনি কোরিয়া সফরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে সেখানে যান। তাঁর প্রশাসন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে ১৯৫৩ সালের মার্চে সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্তালিনের মৃত্যু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। নতুন সোভিয়েত নেতৃত্ব কোরীয় যুদ্ধের ব্যয় ও বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এর পরপরই অসুস্থ ও আহত যুদ্ধবন্দিদের বিনিময় নিয়ে অগ্রগতি হয়।
১৯৫৩ সালের এপ্রিল ও মে মাসে অপারেশন লিটল সুইচ-এর মাধ্যমে অসুস্থ ও আহত বন্দিদের বিনিময় করা হয়। বৃহত্তর সমস্যার সমাধানে সিদ্ধান্ত হয়, যারা প্রত্যাবাসনে অস্বীকৃতি জানাবে তাদের একটি নিরপেক্ষ কমিশনের হেফাজতে রাখা হবে। ভারতকে প্রধান ভূমিকা দিয়ে নিরপেক্ষ দেশগুলোর প্রত্যাবাসন কমিশন গঠন করার পরিকল্পনা করা হয়। বন্দিদের নিজ নিজ পক্ষের প্রতিনিধিদের ব্যাখ্যা শোনার সুযোগ দেওয়া হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ফেরত পাঠানো হবে না। এই ব্যবস্থাই দীর্ঘ অচলাবস্থা ভাঙার পথ তৈরি করে।
তবু শেষ মুহূর্তে সিংমান রি চুক্তিকে বিপদের মুখে ফেলেন। ১৯৫৩ সালের জুনে তাঁর সরকারের নির্দেশে দক্ষিণ কোরিয়ার শিবির থেকে প্রায় ২৫ হাজার কমিউনিস্টবিরোধী উত্তর কোরীয় বন্দিকে মুক্ত করে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ করা অথবা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য শক্তিশালী প্রতিশ্রুতি আদায় করা। উত্তর কোরিয়া ও চীন তীব্র প্রতিবাদ জানালেও আলোচনা পুরোপুরি ভেঙে দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়াকে প্রতিরক্ষা চুক্তি, সামরিক সহায়তা ও পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রিকে অন্তত প্রকাশ্য বাধা দেওয়া থেকে বিরত রাখে। তবে দক্ষিণ কোরিয়া নিজে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।
আলোচনার শেষ সপ্তাহগুলোতেও সম্মুখসারিতে তীব্র যুদ্ধ চলছিল। চীনা বাহিনী দক্ষিণ কোরীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে বড় আক্রমণ চালিয়ে শেষ মুহূর্তে সামরিক সুবিধা ও আলোচনায় প্রভাব অর্জনের চেষ্টা করে। উভয় পক্ষই জানত যুদ্ধ শিগগির শেষ হতে পারে, তবু ভবিষ্যৎ বিভাজনরেখার কাছে কয়েক কিলোমিটার ভূখণ্ডের জন্য বহু সৈন্য প্রাণ হারায়। অবশেষে সামরিক বিভাজনরেখা, অসামরিক অঞ্চল, যুদ্ধবন্দি ব্যবস্থা এবং যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের শর্ত চূড়ান্ত হয়।
দুই বছর সময় লেগেছিল কারণ পানমুনজমে শুধু গোলাগুলি বন্ধ করার সময় নির্ধারণ করা হচ্ছিল না; নির্ধারিত হচ্ছিল যুদ্ধের পর কোরিয়ায় কোন বাহিনী কোথায় থাকবে, বন্দিদের ভাগ্য কী হবে এবং নতুন আক্রমণ কীভাবে ঠেকানো হবে। পারস্পরিক অবিশ্বাস, সামরিক মর্যাদার প্রতিযোগিতা, যুদ্ধবন্দিদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত, কোরিয়ার দুই সরকারের বিপরীত লক্ষ্য এবং পরাশক্তিগুলোর কৌশলগত হিসাব প্রতিটি সমঝোতাকে বিলম্বিত করেছিল। ১৯৫৩ সালে অবশেষে যুদ্ধবিরতির পথ খুললেও এটি কোনো শান্তিচুক্তি ছিল না। তাই পানমুনজমের আলোচনা যুদ্ধ থামিয়েছিল, কিন্তু কোরিয়ার মূল রাজনৈতিক সংঘাতের স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি।
চীনের কোরীয় যুদ্ধে প্রবেশ: ইয়ালু নদী থেকে চোসিন জলাধারের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ
টঙ্কিন উপসাগরের ঘটনা: বিতর্কিত সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ভিয়েতনাম যুদ্ধে জড়াল?
নগো দিন দিয়েম, ভিয়েত কং ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের সংকট: গৃহসংঘাত থেকে বড় যুদ্ধ
জেনেভা চুক্তি ও ভিয়েতনামের বিভাজন: ১৭তম সমান্তরালে উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের জন্ম