বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

ইউ-২ গোয়েন্দা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির সন্ধান: যেভাবে শুরু হয় কিউবান সংকট

সিরিজ: কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট

ইউ-২ গোয়েন্দা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির সন্ধান: যেভাবে শুরু হয় কিউবান সংকট
আকাশ থেকে ধরা পড়া পারমাণবিক যুদ্ধের প্রস্তুতি

১৯৬২ সালের ১৪ অক্টোবর ভোরে মার্কিন বিমানবাহিনীর মেজর রিচার্ড হেইসার একটি ইউ-২ গোয়েন্দা বিমান নিয়ে কিউবার আকাশে প্রবেশ করেন। তাঁর বিমানটি এত উঁচুতে উড়ছিল যে নিচের মানুষ সেটিকে প্রায় দেখতেই পেত না। তিনি কোনো বোমা বহন করছিলেন না, তাঁর লক্ষ্যও ছিল না কোনো স্থাপনায় আক্রমণ চালানো। কিন্তু বিমানের শক্তিশালী ক্যামেরায় সেদিন ধারণ করা কয়েক হাজার আলোকচিত্র এমন এক সত্য প্রকাশ করেছিল, যা যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নকে সরাসরি পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। কিউবার মাটিতে গোপনে নির্মিত হচ্ছিল সোভিয়েত মাঝারি পাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি।

কিউবায় সোভিয়েত সামরিক তৎপরতার ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র এর আগেই পেয়েছিল। ১৯৬২ সালের গ্রীষ্ম থেকে সোভিয়েত জাহাজের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ও কর্মী দ্বীপটিতে পৌঁছাচ্ছিল। মার্কিন গোয়েন্দারা কিউবায় সোভিয়েত নির্মিত মিগ যুদ্ধবিমান এবং এস-৭৫ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতিও শনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু এসব অস্ত্রকে মূলত প্রতিরক্ষামূলক বলে বিবেচনা করা হচ্ছিল। সোভিয়েত সরকারও প্রকাশ্যে দাবি করছিল, কিউবাকে দেওয়া তাদের সব সামরিক সহায়তা প্রতিরক্ষার জন্য; সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম কোনো অস্ত্র পাঠানো হচ্ছে না।

তবে ওয়াশিংটনের সন্দেহ দূর হয়নি। কিউবায় কর্মরত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যদাতা, কিউবান শরণার্থী এবং সাধারণ পর্যবেক্ষকেরা রাতে ঢাকা সামরিক বহর চলাচলের খবর দিচ্ছিলেন। কেউ কেউ অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ ট্রেলার ও নলাকার বস্তু দেখার দাবি করেছিলেন। এসব প্রতিবেদনের সবগুলো নির্ভরযোগ্য ছিল না; নির্বাসিত কিউবানদের কাছ থেকে বহু অতিরঞ্জিত বা ভুল তথ্যও আসছিল। তবু বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করলে বোঝা যাচ্ছিল, দ্বীপটিতে শুধু প্রচলিত অস্ত্রের চেয়ে বড় কোনো সামরিক প্রস্তুতি চলছে।

কিউবার ওপর নজরদারির প্রধান মাধ্যম ছিল লকহিড ইউ-২ উচ্চ-উড্ডয়নকারী গোয়েন্দা বিমান। এটি প্রায় ২১ কিলোমিটার উচ্চতায় উড়ে বিশাল এলাকার অত্যন্ত স্পষ্ট ছবি তুলতে পারত। বিমানটির দীর্ঘ ও সরু ডানা এবং হালকা কাঠামো তাকে সাধারণ যুদ্ধবিমানের নাগালের অনেক ওপরে নিয়ে যেত। কিন্তু ইউ-২ পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না। ১৯৬০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ফ্রান্সিস গ্যারি পাওয়ার্সের একটি ইউ-২ বিমান ভূপাতিত হয়েছিল। সেই ঘটনা প্রমাণ করেছিল, সোভিয়েত এস-৭৫ ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে এত উচ্চতায় থাকা বিমানেও আঘাত করতে পারে।

কিউবায় একই ধরনের বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন হওয়ায় প্রতিটি ইউ-২ অভিযান বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। একটি বিমান ভূপাতিত হলে পাইলট নিহত বা বন্দী হতে পারতেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরবৃত্তি প্রকাশ্যে ধরা পড়ত। এমন ঘটনা সরাসরি সামরিক সংঘর্ষও সৃষ্টি করতে পারত। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে কে কিউবার ওপর দিয়ে ইউ-২ চালাবে, কোন পথে চালাবে এবং কত ঘন ঘন উড্ডয়ন হবে—এসব নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। ফলে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত দ্বীপটির গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমাঞ্চলের ওপর কার্যকর নজরদারিতে একটি বিপজ্জনক বিরতি সৃষ্টি হয়।

এদিকে কিউবায় সোভিয়েত সামরিক কর্মীরা দ্রুততার সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা নির্মাণ করছিলেন। তাঁরা রাতের অন্ধকারে সরঞ্জাম নামাতেন, যানবাহন ঢেকে রাখতেন এবং স্থানীয়দের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতেন। তবে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা সহজ ছিল না। একটি কার্যকর ঘাঁটির জন্য ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী দীর্ঘ যান, উৎক্ষেপণ মঞ্চ, জ্বালানি ও জারক পদার্থের ট্যাংকার, নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, বিদ্যুৎ সরঞ্জাম এবং পারমাণবিক বিস্ফোরক সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন হতো। নির্মাণ যত এগোচ্ছিল, আকাশ থেকে এর পরিচিত বিন্যাস শনাক্ত করার সম্ভাবনাও তত বাড়ছিল।

রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ১৯৬২ সালের ৯ অক্টোবর নতুন করে ইউ-২ উড্ডয়নের অনুমোদন দেওয়া হয়। মিশনের পথ এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, যাতে কিউবার পশ্চিমাঞ্চলের সন্দেহজনক এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করা যায়। আবহাওয়ার কারণে অভিযান কয়েক দিন পিছিয়ে যায়। অবশেষে ১৪ অক্টোবর মেজর রিচার্ড হেইসার ফ্লোরিডার ম্যাককয় বিমানঘাঁটি থেকে ইউ-২ নিয়ে যাত্রা করেন। তাঁর বিমান কিউবার ওপর দিয়ে প্রায় ছয় মিনিটের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ অতিক্রম করে। এই অল্প সময়েই বিশেষ ক্যামেরা দ্বীপের দীর্ঘ অংশের ধারাবাহিক ছবি ধারণ করে।

অভিযানের পর ছবির ফিল্ম দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৫ অক্টোবর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার জাতীয় আলোকচিত্র বিশ্লেষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা সেগুলো পরীক্ষা শুরু করেন। ছবিবিশ্লেষক ডিনো ব্রুজিওনি ও তাঁর সহকর্মীরা বড় আলোকিত টেবিল, বিবর্ধক যন্ত্র এবং সোভিয়েত অস্ত্রের পূর্বপরিচিত মাপ ব্যবহার করে ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। কিউবার সান ক্রিস্তোবাল এলাকার ছবিতে তাঁরা দীর্ঘ ক্যানভাসে ঢাকা বস্তু, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনের সরঞ্জাম এবং নির্মাণাধীন উৎক্ষেপণস্থল দেখতে পান। এগুলোর বিন্যাস সোভিয়েত ইউনিয়নের পরিচিত আর-১২ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির সঙ্গে মিলে যাচ্ছিল।

বিশ্লেষকেরা শুধু কোনো অজানা সামরিক স্থাপনা খুঁজে পাননি; তাঁরা এসএস-৪ নামে পরিচিত আর-১২ মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতির শক্ত প্রমাণ শনাক্ত করেছিলেন। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারত। কিউবা থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে ওয়াশিংটন, আটলান্টা, ডালাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের বহু শহর এর পাল্লার মধ্যে পড়ত। পারমাণবিক বিস্ফোরকসহ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কার্যকর হয়ে উঠলে হামলার সতর্কতা পাওয়া থেকে আঘাত আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে খুব অল্প সময় থাকত।

১৬ অক্টোবর সকাল প্রায় সাড়ে আটটার দিকে প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা ম্যাকজর্জ বান্ডি তাঁকে আলোকচিত্রে পাওয়া প্রমাণের কথা জানান। খবরটি শুনে কেনেডি বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন। সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভের সরকার ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য উভয় বার্তাতেই কিউবায় আক্রমণাত্মক অস্ত্র না পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছিল। অথচ গোয়েন্দা ছবিগুলো দেখাচ্ছিল, সেই আশ্বাসের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের নিকটবর্তী অঞ্চলে পারমাণবিক আক্রমণক্ষমতা স্থাপন করা হচ্ছে।

কেনেডি সঙ্গে সঙ্গে খবরটি জনগণকে জানাননি। কারণ তাড়াহুড়ো করে ঘোষণা দিলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তাঁর ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হতো এবং সোভিয়েতরা নির্মাণ দ্রুত শেষ করা বা অস্ত্র লুকিয়ে ফেলার সুযোগ পেত। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের একটি বিশেষ নির্বাহী কমিটি গঠন করেন, যা পরে এক্সকম নামে পরিচিত হয়। এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডিন রাস্ক, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট ম্যাকনামারা, অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট কেনেডি, জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা, সামরিক প্রধান ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

এক্সকমের প্রথম বৈঠকে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। কেউ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে আকস্মিক বিমান হামলার পক্ষে ছিলেন, কেউ পূর্ণমাত্রার কিউবা আক্রমণের কথা বলেন, আবার কেউ কূটনৈতিক চাপ বা নৌ অবরোধের প্রস্তাব দেন। সামরিক নেতাদের অনেকেই দ্রুত বিমান হামলা চালিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সব ক্ষেপণাস্ত্র এক আঘাতে নিশ্চিহ্ন করার নিশ্চয়তা ছিল না। কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বেঁচে গেলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারত। কিউবায় অবস্থানরত সোভিয়েত সেনা নিহত হলে মস্কো বার্লিন বা অন্য কোথাও পাল্টা আঘাতও চালাতে পারত।

সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা ছিল পারমাণবিক বিস্ফোরকগুলো ইতিমধ্যে কিউবায় পৌঁছেছে কি না এবং স্থানীয় সোভিয়েত কমান্ডারদের এগুলো ব্যবহারের কতটা ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তখনো জানত না যে কিউবায় শুধু মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নয়, আক্রমণকারী মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য স্বল্পপাল্লার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রও পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে কিউবা আক্রমণ করলে পরিস্থিতি কত দ্রুত পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারত, সে সম্পর্কে কেনেডি প্রশাসনের ধারণা ছিল অসম্পূর্ণ।

প্রথম ইউ-২ ছবির পর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়। ১৭ অক্টোবরের আলোকচিত্রে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সোভিয়েত আর-১৪ মধ্যবর্তী পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনের প্রস্তুতির প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সমগ্র মূল ভূখণ্ড আঘাতের আওতায় চলে আসত। নিচু দিয়ে ওড়া মার্কিন বিমানও পরে ঘাঁটিগুলোর বিস্তারিত ছবি তোলে। প্রতিদিনের ছবিতে দেখা যাচ্ছিল, সোভিয়েত কর্মীরা দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করছেন। কেনেডির হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ক্রমেই কমে আসছিল।

১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত হোয়াইট হাউস প্রকাশ্যে স্বাভাবিকতা বজায় রাখে। প্রেসিডেন্ট পূর্বনির্ধারিত কিছু কর্মসূচিতে অংশ নেন, আর প্রশাসন ঘটনাটি গোপন রাখে। কিন্তু পর্দার আড়ালে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছিল। সামরিক বিমান প্রস্তুত করা হয়, আক্রমণের পরিকল্পনা সংশোধন করা হয় এবং নৌবাহিনীকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থান নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে কেনেডি এমন একটি ব্যবস্থা খুঁজছিলেন, যা ক্ষেপণাস্ত্র অপসারণে চাপ সৃষ্টি করবে কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নকে তাৎক্ষণিক যুদ্ধ শুরু করতে বাধ্য করবে না।

শেষ পর্যন্ত তিনি কিউবার চারপাশে সীমিত নৌঘেরাও আরোপের দিকে অগ্রসর হন, যাকে আইনগত ও রাজনৈতিক কারণে “কোয়ারেন্টিন” বলা হয়। ২২ অক্টোবর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার আগে পর্যন্ত অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক জানতেনই না যে পৃথিবী এক অভূতপূর্ব সংকটের মধ্যে প্রবেশ করেছে। অথচ তার ছয় দিন আগে থেকেই হোয়াইট হাউসে যুদ্ধ ও শান্তির মধ্যে শ্বাসরুদ্ধকর হিসাব চলছিল।

১৪ অক্টোবরের ইউ-২ অভিযান তাই শুধু একটি সফল গোয়েন্দা উড্ডয়ন ছিল না; এটি ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেওয়া এক মুহূর্ত। কয়েকটি সাদাকালো আলোকচিত্র সোভিয়েত গোপন পরিকল্পনা উন্মোচন করেছিল, কেনেডিকে অসম্ভব কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড় করিয়েছিল এবং পৃথিবীকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে পরাশক্তির ভুল হিসাব কত দ্রুত মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে যেতে পারে। সেই ছবিগুলো না পাওয়া গেলে সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হয়তো গোপনেই কার্যকর হয়ে যেত, আর যুক্তরাষ্ট্র সত্য জানতে পারত এমন এক সময়ে, যখন শান্তিপূর্ণ প্রতিক্রিয়ার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়ে পড়ত।


আপনার পছন্দ হতে পারে