কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের পটভূমি: বে অব পিগস থেকে সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন
সিরিজ: কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট
বে অব পিগস থেকে পারমাণবিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে
১৯৬২ সালের অক্টোবরে মাত্র তেরো দিনের এক সংকট পৃথিবীকে পারমাণবিক যুদ্ধের এত কাছে নিয়ে গিয়েছিল, যতটা আগে বা পরে খুব কম সময়েই ঘটেছে। কিন্তু কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। এর শিকড় ছিল কিউবার বিপ্লব, যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুভাবাপন্ন নীতি, বে অব পিগসের ব্যর্থ অভিযান, সোভিয়েত ইউনিয়নের কৌশলগত দুর্বলতা এবং ফিদেল কাস্ত্রোর আরেকটি মার্কিন আক্রমণের আশঙ্কার মধ্যে। কিউবায় সোভিয়েত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বসানোর সিদ্ধান্ত ছিল এসব ঘটনা, ভয় ও রাজনৈতিক হিসাবের সম্মিলিত ফল।
১৯৫৯ সালের জানুয়ারিতে ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লবীরা ফুলহেনসিও বাতিস্তার সরকারকে উৎখাত করলে যুক্তরাষ্ট্রের খুব কাছেই একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তির জন্ম হয়। প্রাথমিকভাবে কাস্ত্রো নিজেকে প্রকাশ্যে সাম্যবাদী নেতা হিসেবে তুলে ধরেননি। তবে ভূমি সংস্কার, বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ এবং কিউবার অর্থনীতির ওপর মার্কিন প্রভাব কমানোর পদক্ষেপ দ্রুত ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বাড়ায়। যুক্তরাষ্ট্র যখন কিউবার চিনি আমদানি সীমিত করে এবং অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে, তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবার চিনি কেনা, তেল সরবরাহ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু করে। ফলে হাভানা ক্রমে মস্কোর দিকে ঝুঁকে পড়ে।
কিউবার ভৌগোলিক অবস্থান এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছিল। ফ্লোরিডা উপকূল থেকে কিউবার দূরত্ব মাত্র প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার। তাই যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে সোভিয়েতঘনিষ্ঠ একটি সরকার সেখানে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ছিল পশ্চিম গোলার্ধে তার দীর্ঘদিনের প্রভাবের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। ১৯৬০ সালের শেষ নাগাদ দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত অবনতি ঘটে এবং ১৯৬১ সালের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। তত দিনে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা কাস্ত্রোকে উৎখাতের গোপন পরিকল্পনা অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছিল।
ডোয়াইট আইজেনহাওয়ার প্রশাসনের সময় তৈরি পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব এসে পড়ে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির ওপর। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা কিউবা থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১,৪০০ নির্বাসিত ব্যক্তিকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়। পরিকল্পনা ছিল, তারা কিউবার দক্ষিণ উপকূলের বে অব পিগস বা বাহিয়া দে কোচিনোসে অবতরণ করে কাস্ত্রোবিরোধী গণবিদ্রোহ উসকে দেবে। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও আক্রমণকারীরা গোপনে মার্কিন অস্ত্র, অর্থ, প্রশিক্ষণ ও পরিবহন সহায়তা পাচ্ছিল।
১৯৬১ সালের ১৭ এপ্রিল অভিযান শুরু হয়। পরিকল্পনাকারীরা ধরে নিয়েছিলেন, আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়লে কিউবার সাধারণ মানুষ ও সেনাবাহিনীর একাংশ কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। বাস্তবে ঘটেছিল বিপরীত ঘটনা। কাস্ত্রোর বাহিনী দ্রুত আক্রমণস্থল ঘিরে ফেলে এবং প্রায় তিন দিনের মধ্যেই অভিযান ভেঙে পড়ে। বহু আক্রমণকারী নিহত হয় এবং এক হাজারের বেশি বন্দী হয়। কেনেডি প্রকাশ্য মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ ও ব্যাপক বিমান সহায়তা দিতে রাজি হননি। ফলে বে অব পিগস অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপমানজনক ব্যর্থতা এবং কাস্ত্রোর জন্য বিরাট রাজনৈতিক বিজয়ে পরিণত হয়।
এই ব্যর্থতার প্রভাব ছিল বহুমাত্রিক। কাস্ত্রো বুঝলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধু তাঁর সরকারের বিরোধিতা করছে না; সুযোগ পেলে সেটিকে সামরিকভাবে উৎখাতও করবে। একই বছরের শেষ দিকে তিনি প্রকাশ্যে নিজের বিপ্লবকে সমাজতান্ত্রিক ঘোষণা করেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও গভীর করেন। অন্যদিকে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ বে অব পিগসের ঘটনাকে তরুণ প্রেসিডেন্ট কেনেডির দুর্বলতা হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর ধারণা জন্মায়, প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হলে কেনেডি হয়তো সিদ্ধান্তহীন হয়ে পড়বেন অথবা শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে যাবেন।
বে অব পিগস ব্যর্থ হওয়ার পরও কাস্ত্রোকে উৎখাতের মার্কিন প্রচেষ্টা থামেনি। ১৯৬১ সালের শেষ দিকে অপারেশন মঙ্গুজ নামে নতুন গোপন অভিযান শুরু হয়। এর অধীনে কিউবার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অন্তর্ঘাত চালানো, সরকারবিরোধীদের সংগঠিত করা এবং কাস্ত্রো শাসনকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কাস্ত্রোকে হত্যার নানা অদ্ভুত ও অবাস্তব পরিকল্পনাও মার্কিন গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ হয়ে ওঠে। হাভানার কাছে এগুলো ছিল আসন্ন বৃহত্তর আক্রমণের পূর্বপ্রস্তুতি। তাই কিউবার নেতৃত্ব সোভিয়েত সামরিক সুরক্ষাকে অস্তিত্ব রক্ষার অপরিহার্য উপায় হিসেবে দেখতে শুরু করে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পারমাণবিক শক্তির ভারসাম্য প্রকৃতপক্ষে সমান ছিল না। আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার বোমারু বিমান এবং সাবমেরিনভিত্তিক অস্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সুবিধা ছিল। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র ইতালি ও তুরস্কে জুপিটার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছিল। তুরস্কে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সোভিয়েত ভূখণ্ডের খুব কাছে অবস্থান করছিল এবং অল্প সময়ের মধ্যে মস্কোসহ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারত। ক্রুশ্চেভের কাছে এটি শুধু সামরিক হুমকি নয়, রাজনৈতিক অপমানও ছিল।
১৯৬২ সালের বসন্তে ক্রুশ্চেভ কিউবায় সোভিয়েত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনের ধারণা সামনে আনেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে একাধিক লক্ষ্য ছিল। প্রথমত, কিউবাকে আরেকটি মার্কিন আক্রমণ থেকে রক্ষা করা। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বসিয়ে পারমাণবিক ভারসাম্যের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা। তৃতীয়ত, বার্লিনসহ ইউরোপের বিভিন্ন প্রশ্নে ওয়াশিংটনের ওপর দর-কষাকষির চাপ সৃষ্টি করা। যুক্তরাষ্ট্র যদি সোভিয়েত সীমান্তের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারে, তবে সোভিয়েত ইউনিয়ন কেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একই ব্যবস্থা নিতে পারবে না—ক্রুশ্চেভের যুক্তির কেন্দ্রে ছিল এই প্রশ্ন।
মে মাসের শেষ দিকে সোভিয়েত প্রতিনিধিদল গোপনে হাভানায় গিয়ে প্রস্তাবটি কাস্ত্রোর সামনে তুলে ধরে। কাস্ত্রো প্রথমে দ্বিধায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেন। তাঁর কাছে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের প্রধান কারণ ছিল কিউবার নিরাপত্তা ও সমাজতান্ত্রিক শিবিরের প্রতিরক্ষা। তবে তিনি চেয়েছিলেন চুক্তিটি প্রকাশ্য হোক, যাতে কিউবা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বৈধ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথা বলতে পারে। ক্রুশ্চেভ তা চাননি। তিনি পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ গোপন রেখে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কার্যকর করার পর বিশ্বকে নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন।
এই বিশাল গোপন অভিযানের সাংকেতিক নাম দেওয়া হয় অপারেশন আনাদির। নামটি ইচ্ছাকৃতভাবে সোভিয়েত দূরপ্রাচ্যের একটি নদী ও শীতল অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, যাতে নথি বা নির্দেশনা ধরা পড়লেও প্রকৃত গন্তব্য সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। সেনাদের শীতপ্রধান অঞ্চলের উপযোগী পোশাক দেওয়া হয়েছিল এবং অনেক সৈনিক যাত্রা শুরুর সময়ও জানতেন না তাঁরা কোথায় যাচ্ছেন। বন্ধ জাহাজে সৈন্য, ক্ষেপণাস্ত্র, উৎক্ষেপণযন্ত্র, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সরঞ্জাম গোপনে কিউবায় পাঠানো হতে থাকে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী কিউবায় আর-১২ মাঝারি পাল্লার এবং আর-১৪ মধ্যবর্তী পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনের কথা ছিল। এগুলোর আওতায় ওয়াশিংটন, নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল অংশ চলে আসত। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র এমন পারমাণবিক বিস্ফোরক বহন করতে পারত, যার ধ্বংসক্ষমতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত বোমার তুলনায় বহু গুণ বেশি। পাশাপাশি কিউবায় সোভিয়েত সেনা, এস-৭৫ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, মিগ যুদ্ধবিমান এবং স্বল্পপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রও পাঠানো হয়। সবচেয়ে বিপজ্জনক সত্য ছিল, কিউবায় পৌঁছানো সব পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে তখন যুক্তরাষ্ট্রের সঠিক ধারণা ছিল না।
গোপনীয়তা রক্ষায় সোভিয়েতরা রাতের অন্ধকারে জাহাজ খালাস করত, সরঞ্জাম ছদ্মবেশে ঢেকে রাখত এবং স্থানীয় চলাচল সীমিত করত। তবু এত বড় সামরিক স্থাপনা দীর্ঘদিন আড়াল করা কঠিন ছিল। যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি, কিউবায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণ এবং সোভিয়েত কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করতে শুরু করে। ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মস্কো প্রকাশ্যে দাবি করছিল, কিউবায় পাঠানো সামরিক সহায়তা সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। কেনেডি প্রশাসনও সতর্ক করে জানায়, আক্রমণাত্মক অস্ত্র মোতায়েন করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
কেনেডি অবশ্য কিউবার ওপর নজরদারি বাড়ালেও আবহাওয়া, রাজনৈতিক বিবেচনা এবং বিমান হারানোর আশঙ্কায় কিছু সময় উচ্চ-উচ্চতার গোয়েন্দা উড্ডয়ন সীমিত রেখেছিলেন। এই বিরতিই সোভিয়েতদের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেয়। কিন্তু ১৯৬২ সালের ১৪ অক্টোবর একটি মার্কিন ইউ-২ গোয়েন্দা বিমান কিউবার পশ্চিমাঞ্চলের সান ক্রিস্তোবাল এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির স্পষ্ট ছবি তোলে। দুই দিন পর ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেখানে সোভিয়েত মাঝারি পাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করা হচ্ছে।
এর মধ্য দিয়ে গোপন পরিকল্পনার পর্দা সরে যায় এবং শুরু হয় কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের প্রকাশ্য অধ্যায়। বে অব পিগস কাস্ত্রোকে সোভিয়েত নিরাপত্তার দিকে ঠেলে দিয়েছিল, অপারেশন মঙ্গুজ তাঁর আক্রমণের ভয়কে স্থায়ী করেছিল এবং তুরস্কে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ক্রুশ্চেভকে পাল্টা কৌশলের যুক্তি দিয়েছিল। তাই ১৯৬২ সালের অক্টোবরের সংকট শুধু কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আবিষ্কারের ঘটনা ছিল না; এটি ছিল বহু বছরের অবিশ্বাস, গোপন অভিযান, নিরাপত্তাহীনতা এবং পরাশক্তির অসম পারমাণবিক প্রতিযোগিতার বিস্ফোরক পরিণতি।
মহামন্দা ও নাৎসি পার্টির উত্থান: বেকারত্ব কীভাবে হিটলারের জনসমর্থন বাড়িয়েছিল?
অ্যাডলফ হিটলার ও নাৎসি পার্টির উত্থান: বিয়ার হল পুটশ থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রে
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি: ভার্সাই চুক্তি, অর্থনৈতিক সংকট ও নাৎসিবাদের উত্থান
হারাল্ড হার্ডরাডা ও স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের যুদ্ধ: ১০৬৬ সালে কীভাবে শেষ হয়েছিল ভাইকিং যুগ?
সোয়েন ফর্কবিয়ার্ড ও কনুট দ্য গ্রেট: ভাইকিংরা কীভাবে ইংল্যান্ড জয় করে উত্তর সাগরীয় সাম্রাজ্য গড়েছিল?
ভাইকিংদের খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ: নর্স দেবতাদের যুগ কীভাবে শেষ হয়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় নতুন রাজতন্ত্রের উত্থান ঘটেছিল?