শকুন প্রকৃতির জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? মৃত প্রাণী খেয়েই যেভাবে পরিবেশ রক্ষা করে
প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী শকুন
খোলা মাঠে একটি গরু মারা গেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার দেহের চারপাশের পরিবেশ বদলাতে শুরু করে। উষ্ণ আবহাওয়ায় পচন দ্রুত এগোয়, গন্ধ ছড়ায়, মাছি আসে এবং অন্য মৃতভোজী প্রাণী সেখানে ভিড় করতে পারে। এমন সময় আকাশ থেকে নেমে আসে শকুন। মানুষের চোখে দৃশ্যটি অস্বস্তিকর হলেও প্রকৃতিতে এটি অত্যন্ত দরকারি কাজ। শকুন মৃত প্রাণীর দেহ খেয়ে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলে। ফলে উন্মুক্ত স্থানে পচে থাকার মতো জৈব পদার্থের পরিমাণ ও সময় দুটোই কমে। যে পাখিকে অনেকেই অশুভ মনে করেন, সে আসলে প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শকুন মূলত মৃত প্রাণীর দেহ খেয়ে বেঁচে থাকে। জীবন্ত ও সুস্থ বড় প্রাণী শিকার করা তার সাধারণ খাদ্যসংগ্রহের পদ্ধতি নয়। আকাশে উড়তে উড়তে সে খোলা জায়গায় পড়ে থাকা মৃতদেহ খুঁজে পায় এবং উপযুক্ত হলে নেমে আসে। একাধিক শকুন একই মৃতদেহে জড়ো হতে পারে। বড় দেহে তাদের সম্মিলিত খাদ্যগ্রহণের ফলে অল্প সময়ে অনেক মাংস সরে যায়। এই দ্রুততা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একটি মৃতদেহ যত দীর্ঘ সময় খোলা স্থানে পড়ে থাকে, তত বেশি সময় সেখানে পচন, পোকামাকড় ও অন্য প্রাণীর আনাগোনা চলতে পারে।
প্রকৃতিতে মৃতদেহ শেষ পর্যন্ত অণুজীব, পোকামাকড় ও অন্য মৃতভোজী প্রাণীর সাহায্যে ভেঙে যায়। শকুন না থাকলে পচন বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নয়। শকুনের বিশেষ অবদান হলো প্রক্রিয়ার শুরুতেই বড় অংশের নরম কলা দ্রুত খেয়ে ফেলা। একটি বড় প্রাণীর দেহ নিজে নিজে ভাঙতে যে সময় লাগতে পারে, শকুনের উপস্থিতিতে তার অনেকটা অংশ আগেই সরে যায়। তাই শকুনকে একমাত্র পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলা যায় না, কিন্তু বহু পরিবেশে সে অত্যন্ত কার্যকর ও দ্রুত কাজ করা পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
শকুনের দেহও এই খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। অনেক প্রজাতির মাথা ও ঘাড়ে পালক কম থাকে। মৃতদেহের ভেতর থেকে খাবার নেওয়ার সময় ঘন পালক থাকলে সেখানে তরল ও মাংসের অংশ লেগে থাকার সম্ভাবনা বেশি হতো। তুলনামূলক অনাবৃত অংশ পরিষ্কার রাখা সহজ হতে পারে। বড় ডানা দীর্ঘ সময় আকাশে ভেসে মৃতদেহ খুঁজতে সাহায্য করে। ফলে খাবার খোঁজার জন্য তাকে অবিরাম দ্রুত ডানা ঝাপটাতে হয় না। আকাশের উষ্ণ ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহের সুবিধা নিয়ে সে বিস্তীর্ণ এলাকায় নজর দিতে পারে।
মৃত প্রাণীর দেহ খাওয়া যেকোনো প্রাণীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পচতে থাকা খাদ্যে নানা অণুজীব থাকতে পারে। শকুনের পরিপাকতন্ত্র এমন খাদ্য গ্রহণের সঙ্গে অভিযোজিত; পাকস্থলীর অত্যন্ত অম্লীয় পরিবেশ অনেক ক্ষতিকর অণুজীব নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে। তবে এখানেও একটি সীমা আছে। শকুনের পেটে ঢুকলেই পৃথিবীর সব রোগজীবাণু নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হয়—এমন দাবি করা ঠিক নয়। বিভিন্ন রোগজীবাণু, পরিবেশ ও শকুনের প্রজাতিভেদে ফল আলাদা হতে পারে। তার পরও মৃতদেহ দ্রুত খেয়ে সরিয়ে দেওয়া সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস কতক্ষণ খোলা স্থানে থাকবে, তা কমাতে পারে।
একটি মৃতদেহের কাছে শকুন ছাড়াও কুকুর, শেয়াল, কাক, ইঁদুর কিংবা পোকামাকড় আসতে পারে। খাদ্যের জন্য তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়। শকুন দ্রুত বড় অংশ খেয়ে ফেললে অন্য মৃতভোজী প্রাণীর জন্য সহজলভ্য খাবার কমে যেতে পারে। কিন্তু ‘শকুন থাকলে অন্য কোনো প্রাণী মৃতদেহে আসে না’—এমন নয়। প্রতিটি স্থানের খাদ্যজাল আলাদা। কোথাও প্রথমে শকুন আসে, কোথাও অন্য প্রাণী আগে পৌঁছে যায়। শকুনের গুরুত্ব বুঝতে এই প্রতিযোগিতাকে দেখতে হয়, কারণ মৃতদেহ কে খাচ্ছে এবং কতক্ষণ ধরে খাচ্ছে, তার ওপর আশপাশে মানুষের ও প্রাণীর সংস্পর্শের ধরন বদলাতে পারে।
মরা পশুর দেহ অনেক সময় জনবসতি, চারণভূমি বা জলাশয়ের কাছে পড়ে থাকে। সেটি দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনার মধ্যে থাকলে দুর্গন্ধ, মাছির বংশবৃদ্ধি এবং অন্য মৃতভোজী প্রাণীর উপস্থিতি মানুষের উদ্বেগ বাড়ায়। শকুন এই সমস্যার সবটুকু সমাধান করে না; নিরাপদ মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা মানুষেরই দায়িত্ব। তবে প্রকৃতিতে তাদের দ্রুত খাদ্যগ্রহণ পরিবেশের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করে। এখানে শকুনের কাজকে পৌরসভার আবর্জনা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পুরোপুরি এক করা যাবে না। মানুষ যেখানে সব ধরনের বর্জ্য সরায়, শকুন মূলত প্রাণীর মৃতদেহ থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে।
খাদ্যজালের দিক থেকেও শকুনের ভূমিকা গভীর। একটি প্রাণীর মৃত্যু মানে তার দেহে থাকা পুষ্টি উপাদান বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নয়। শকুন সেই দেহ খেয়ে শক্তি পায়, চলাফেরা করে, বংশবৃদ্ধি করে এবং পরে তার শরীর থেকে নানা পথে পুষ্টি আবার পরিবেশে ফেরে। মৃতদেহের অবশিষ্ট অংশও অন্য প্রাণী ও অণুজীব ব্যবহার করে। এভাবে জীবিত ও মৃত প্রাণীর মধ্যে পদার্থের চলাচল অব্যাহত থাকে। প্রকৃতিতে কোনো প্রাণী মারা যাওয়ার পর তার দেহ যে দীর্ঘ খাদ্যপ্রক্রিয়ার অংশ হয়ে যায়, শকুন সেই প্রক্রিয়ার প্রথম সারির অংশগ্রহণকারী।
দক্ষিণ এশিয়ায় শকুনের গুরুত্ব সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে তাদের সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়ার ঘটনায়। একসময় ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচুর শকুন দেখা যেত। পরে কয়েকটি প্রজাতির সংখ্যা বিপর্যয়করভাবে কমতে থাকে। দীর্ঘ অনুসন্ধানে দেখা যায়, গবাদিপশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডাইক্লোফেনাক নামের ব্যথানাশক ও প্রদাহনাশক ওষুধটি ছিল প্রধান কারণগুলোর একটি। চিকিৎসাপ্রাপ্ত পশু মারা যাওয়ার সময় তার দেহে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থাকলে সেই দেহ খেয়ে শকুন বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি শকুন প্রজাতির ক্ষেত্রে এই বিপদ মারাত্মক প্রমাণিত হয়েছে।
এখানে ক্ষতির পথটি একটু বোঝা দরকার। ওষুধটি শকুনকে সরাসরি দেওয়া হয়নি। পশু চিকিৎসার পর সেই পশুর মৃত্যু, দেহে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থাকা এবং পরে শকুনের সেই দেহ খাওয়া—এই ধাপগুলো পেরিয়ে বিষক্রিয়া ঘটেছে। ডাইক্লোফেনাক আক্রান্ত শকুনের বৃক্কের গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। ফলে মানুষের একটি চিকিৎসাগত সিদ্ধান্ত খাদ্যজাল হয়ে অন্য প্রজাতির জীবনে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এই ঘটনা দেখিয়েছে, পশুর জন্য ব্যবহৃত কোনো ওষুধের পরিবেশগত প্রভাব বিচার করতে হলে মৃতদেহ খাওয়া প্রাণীদের কথাও ভাবতে হয়।
শকুন কমে যাওয়ার পরিণতি নিয়ে গবেষণায় মৃতদেহ দীর্ঘ সময় পড়ে থাকা এবং কিছু এলাকায় কুকুরসহ অন্য মৃতভোজী প্রাণীর উপস্থিতি বাড়ার সম্ভাবনা আলোচিত হয়েছে। কুকুরের সংখ্যা বাড়লে মানুষের সঙ্গে তাদের সংস্পর্শ এবং জলাতঙ্কের মতো রোগ নিয়ে উদ্বেগও বাড়তে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার সব কুকুর বা সব রোগের বৃদ্ধির কারণ একা শকুনের অনুপস্থিতি—এমন সরল ব্যাখ্যা ঠিক নয়। আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, কুকুরের প্রজনন, টিকাদান এবং মানুষের বসতির ধরনও প্রভাব ফেলে। শকুন হারানোর স্বাস্থ্যগত প্রভাব বুঝতে এসব বিষয় একসঙ্গে বিচার করতে হয়।
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি দূরের কোনো দেশের গল্প নয়। এ অঞ্চলেও শকুন ছিল পরিচিত মৃতভোজী পাখি, আর তাদের সংখ্যা কমে যাওয়া সংরক্ষণকর্মীদের উদ্বেগের কারণ হয়েছে। বাংলাদেশের পরিবেশে পশুর মৃতদেহ কোথায় রাখা হচ্ছে, কোন ওষুধ পশু চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে এবং শকুন নিরাপদে খাবার পাচ্ছে কি না—সবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কোনো এলাকায় শকুন দেখা গেলেই ধরে নেওয়া যায় না যে পুরো প্রজাতি নিরাপদ। দীর্ঘজীবী এই পাখির সংখ্যা কমে গেলে আবার আগের অবস্থায় ফিরতে অনেক সময় লাগতে পারে।
শকুনের প্রজননও দ্রুত সংখ্যা ফিরে পাওয়ার পথে একটি সীমা তৈরি করে। অনেক প্রজাতি একবারে খুব অল্প ডিম পাড়ে এবং ছানাকে বড় করতে দীর্ঘ সময় লাগে। একটি প্রাপ্তবয়স্ক পাখি বিষক্রিয়া বা অন্য কারণে মারা গেলে শুধু একটি পাখিই হারায় না; ভবিষ্যতে তার বংশবৃদ্ধির সম্ভাবনাও কমে যায়। ছোট পাখির কোনো প্রজাতি অল্প সময়ে অনেক ছানা উৎপাদন করতে পারলেও শকুন সাধারণত সেই গতিতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে না। তাই বিপদ চিহ্নিত হওয়ার পর তা বন্ধ করতে দেরি হলে জনসংখ্যার ওপর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়।
ডাইক্লোফেনাক ছাড়াও শকুনের সামনে অন্য ঝুঁকি রয়েছে। বিষ মেশানো মৃতদেহ, খাদ্যের অভাব, বাসা বাঁধার স্থান নষ্ট হওয়া কিংবা মানুষের স্থাপনার সঙ্গে সংঘর্ষ বিভিন্ন অঞ্চলে সমস্যা তৈরি করতে পারে। সব দেশে সব শকুন একই হুমকির মুখে নেই। তাই সংরক্ষণের কাজও স্থানীয় পরিস্থিতি বুঝে করতে হয়। কোথাও পশুচিকিৎসায় শকুনের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ বন্ধ করা সবচেয়ে জরুরি, কোথাও নিরাপদ খাবার ও বাসা বাঁধার পরিবেশ রক্ষা করা বেশি দরকার। শুধু শকুনকে খাঁচায় পালন করে সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা যথেষ্ট হবে না, যদি প্রকৃতিতে ফিরেই সে আবার বিষযুক্ত মৃতদেহ খায়।
শকুন নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ। মৃত প্রাণীর দেহ খায় বলে অনেকেই পাখিটিকে অপরিষ্কার বা অশুভ ভাবেন। কিন্তু পাখিটি মৃতদেহ সৃষ্টি করে না; আগে থেকেই পড়ে থাকা দেহকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। তার উপস্থিতি অনেক সময় পরিবেশে একটি মৃতদেহের শেষ পরিণতিকে দ্রুততর করে। ফলে যে আচরণ দেখে আমরা মুখ ফিরিয়ে নিই, সেই আচরণই আমাদের বসতির আশপাশের পরিবেশের জন্য মূল্যবান হতে পারে। প্রকৃতির কাজের গুরুত্ব সব সময় সুন্দর দৃশ্যের মধ্যে প্রকাশ পায় না।
এ কথাও মনে রাখতে হবে, শকুন থাকা মানেই মৃত পশু যত্রতত্র ফেলে রাখার অনুমতি নয়। মৃতদেহে ক্ষতিকর ওষুধ বা বিষ থাকলে সেটি শকুনের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। জনবসতির কাছে অব্যবস্থাপিত মৃতদেহ মানুষ ও অন্য প্রাণীর জন্যও সমস্যা তৈরি করে। শকুন সংরক্ষণ এবং নিরাপদ মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা পরস্পরের সহায়ক কাজ। একটি সুস্থ পরিবেশে মানুষকে তার দায়িত্ব পালন করতে হয়, আর শকুন তার স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে খাদ্যজালের নিজের অংশটি সম্পন্ন করে।
শকুন প্রকৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সে বড় মৃত প্রাণীর দেহ দ্রুত খেয়ে পচনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় পড়ে থাকা জৈব পদার্থ কমায়, অন্য মৃতভোজীদের সঙ্গে খাদ্যের সম্পর্ক বদলায় এবং পুষ্টি উপাদানের পুনঃপ্রবাহে অংশ নেয়। দক্ষিণ এশিয়ায় তার বিপর্যয়কর পতন দেখিয়েছে, একটি পাখি হারালে প্রভাব শুধু আকাশে সীমাবদ্ধ থাকে না। পশুচিকিৎসা, মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা, অন্য প্রাণীর খাদ্য এবং মানুষের পরিবেশ—সবকিছুর সঙ্গে সেই অনুপস্থিতি জড়িয়ে যেতে পারে। তাই শকুনকে কেবল মৃত্যুর প্রতীক হিসেবে দেখলে প্রকৃতির জীবন্ত এক কর্মীকে আমরা চিনতেই পারব না।
বক্স জেলিফিশ কেন এত বিপজ্জনক? স্বচ্ছ শরীরের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রাণঘাতী অস্ত্র
বিড়াল কেন গরগর শব্দ করে? গরগর ধ্বনির পেছনের বিজ্ঞান, অনুভূতি ও রহস্য
আর্কটিক টার্ন কীভাবে বছরে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দেয়? পৃথিবীর বিস্ময়কর পরিযায়ী পাখির অবিশ্বাস্য যাত্রা
শিম্পাঞ্জি কতটা বুদ্ধিমান? মানুষের নিকটাত্মীয়ের হাতিয়ার ব্যবহার, শেখার ক্ষমতা ও সামাজিক জীবনের বিস্ময়
ইলেকট্রিক ইল কীভাবে বিদ্যুৎ তৈরি করে? জীবন্ত বৈদ্যুতিক অস্ত্রের বিস্ময়কর বিজ্ঞান
উটের কুঁজে কি সত্যিই পানি থাকে? মরুভূমিতে বেঁচে থাকার আসল রহস্য