প্রথম ক্রুসেড (১০৯৬–১০৯৯): ইউরোপ থেকে জেরুজালেম জয়ের রক্তক্ষয়ী অভিযান
সিরিজ: ক্রুসেড: ধর্ম, সাম্রাজ্য ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইতিহাস
প্রথম ক্রুসেড (১০৯৬–১০৯৯)
১০৯৬ সালে পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যখন হাজার হাজার নাইট, অভিজাত, পদাতিক সৈনিক, ধর্মযাজক ও তীর্থযাত্রী পূর্বদিকে যাত্রা শুরু করেন, তখন তাদের সামনে ছিল প্রায় অকল্পনীয় এক লক্ষ্য—হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জেরুজালেমে পৌঁছে পবিত্র নগরী দখল করা। তাদের যাত্রাপথে ছিল অপরিচিত ভূখণ্ড, দুর্ভিক্ষ, রোগ, রাজনৈতিক সন্দেহ, শত্রু বাহিনী এবং নিজেদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তা সত্ত্বেও তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তারা আনাতোলিয়া ও সিরিয়া অতিক্রম করে জেরুজালেম দখল করতে সক্ষম হয়। এই অভিযানই ইতিহাসে পরিচিত প্রথম ক্রুসেড নামে।
প্রথম ক্রুসেডের পটভূমি তৈরি হয় ১০৯৫ সালে। বাইজেন্টাইন সম্রাট আলেক্সিওস প্রথম কোমনেনোস আনাতোলিয়ায় সেলজুক তুর্কিদের অগ্রগতির বিরুদ্ধে পশ্চিমা সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন। একই বছরের নভেম্বরে ক্লেরমঁর সভায় পোপ দ্বিতীয় আরবান পশ্চিম ইউরোপের খ্রিস্টানদের পূর্বাঞ্চলের খ্রিস্টানদের সাহায্য এবং পবিত্র ভূমির উদ্দেশে যাত্রার আহ্বান জানান। অভিযানে অংশ নেওয়াকে ধর্মীয় প্রায়শ্চিত্ত ও পুণ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হলে ইউরোপজুড়ে অসাধারণ সাড়া পড়ে।
পিপলস ক্রুসেডের বিপর্যয়ের পর ১০৯৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে অভিজাত ও নাইটদের নেতৃত্বে মূল ক্রুসেডার বাহিনী পূর্বদিকে অগ্রসর হতে শুরু করে। এটি কোনো একক জাতীয় সেনাবাহিনী ছিল না। বিভিন্ন অঞ্চলের শক্তিশালী অভিজাত নিজেদের অনুসারী নিয়ে আলাদা আলাদা পথে যাত্রা করেছিলেন। প্রধান নেতাদের মধ্যে ছিলেন গডফ্রে অব বুইয়ন, তাঁর ভাই বাল্ডউইন, রেমন্ড চতুর্থ অব তুলুজ, বোয়েমন্ড অব তারান্তো, ট্যানক্রেড এবং রবার্ট অব নরম্যান্ডি।
এই নেতাদের লক্ষ্যও পুরোপুরি এক ছিল না। অনেকেই আন্তরিক ধর্মীয় বিশ্বাসে ক্রুশ গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু একই সঙ্গে মর্যাদা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ ভূখণ্ডের আকর্ষণও কাজ করছিল। যাত্রা যত এগোয়, ধর্মীয় উদ্দেশ্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ক্রুসেডার নেতৃত্বের মধ্যে ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
বিভিন্ন বাহিনী ১০৯৬ সালের শেষ ভাগ থেকে কনস্টান্টিনোপলে পৌঁছাতে থাকে। বাইজেন্টাইন সম্রাট আলেক্সিওস তাদের নিয়ে সতর্ক ছিলেন। কয়েক বছর আগে নরম্যান যোদ্ধাদের সঙ্গেই বাইজেন্টাইনদের যুদ্ধ হয়েছিল। ফলে হাজার হাজার সশস্ত্র পশ্চিমা যোদ্ধা রাজধানীর কাছে উপস্থিত হওয়া তাঁর কাছে যেমন সামরিক সুযোগ, তেমনি সম্ভাব্য হুমকিও ছিল।
আলেক্সিওস ক্রুসেডার নেতাদের কাছ থেকে শপথ নেওয়ার চেষ্টা করেন যে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের যেসব অঞ্চল তারা তুর্কিদের কাছ থেকে পুনর্দখল করবে, সেগুলো সম্রাটের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এই শপথই পরে বাইজেন্টাইন ও ক্রুসেডারদের মধ্যে গুরুতর বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পশ্চিমা নেতারা নিজেদের স্বাধীন স্বার্থ অনুসরণ করতে শুরু করলে সহযোগিতার সম্পর্ক দ্রুত সন্দেহে পরিণত হয়।
কনস্টান্টিনোপল থেকে বসফরাস অতিক্রম করে ক্রুসেডাররা আনাতোলিয়ায় প্রবেশ করে। তাদের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল নিসিয়া, যা সেলজুক রুম সালতানাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। ১০৯৭ সালের মে মাসে শহরটি অবরোধ করা হয়। সুলতান কিলিজ আরসালান প্রথম প্রথমে ক্রুসেডারদের গুরুত্ব যথেষ্টভাবে উপলব্ধি করেননি, কারণ এর আগে তিনি দুর্বল পিপলস ক্রুসেডকে সহজেই ধ্বংস করেছিলেন।
কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। প্রশিক্ষিত পশ্চিমা নাইট এবং বড় পদাতিক বাহিনী নিসিয়া ঘিরে ফেলে। বাইজেন্টাইনরাও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে। জুনে শহরের তুর্কি রক্ষীরা গোপনে বাইজেন্টাইনদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। ক্রুসেডাররা আশা করেছিল শহরে প্রবেশ করে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ পাবে, কিন্তু বাইজেন্টাইনরা তাদের প্রবেশ সীমিত করায় অসন্তোষ তৈরি হয়। নিসিয়ার বিজয় থেকেই দুই পক্ষের অবিশ্বাস আরও গভীর হতে শুরু করে।
এরপর ক্রুসেডাররা আনাতোলিয়ার অভ্যন্তরে অগ্রসর হয়। ১ জুলাই ১০৯৭ ডোরাইলিয়ামের যুদ্ধে কিলিজ আরসালানের বাহিনী তাদের ওপর আকস্মিক আক্রমণ চালায়। সেলজুক অশ্বারোহী তীরন্দাজরা দ্রুতগতিতে আক্রমণ ও পশ্চাদপসরণের কৌশল ব্যবহার করছিল। শুরুতে বোয়েমন্ডের বাহিনী প্রবল চাপে পড়ে। কিন্তু অন্য ক্রুসেডার বাহিনী এসে যোগ দিলে যুদ্ধের ভারসাম্য বদলে যায় এবং সেলজুকরা পিছু হটে।
ডোরাইলিয়ামের বিজয়ের পরই শুরু হয় সম্ভবত আরও কঠিন শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ—প্রকৃতি ও ক্ষুধার বিরুদ্ধে সংগ্রাম। মধ্য আনাতোলিয়ার শুষ্ক ও কঠিন ভূখণ্ড অতিক্রম করতে গিয়ে মানুষ ও ঘোড়া পানির অভাবে মারা যেতে থাকে। ভারী অস্ত্র ও বর্ম নিয়ে দীর্ঘ পথ চলা ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। খাদ্যের অভাব, রোগ এবং ক্লান্তিতে বাহিনীর শক্তি ক্রমাগত কমতে থাকে।
এই সময় বাল্ডউইন মূল বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পূর্বদিকে যান এবং এডেসা অঞ্চলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১০৯৮ সালে তিনি সেখানে ক্ষমতা গ্রহণ করে এডেসা কাউন্টি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ক্রুসেডার রাষ্ট্র। ঘটনাটি দেখিয়ে দেয় যে জেরুজালেমে পৌঁছানোর আগেই কিছু নেতা পূর্বাঞ্চলে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি নির্মাণের চেষ্টা শুরু করেছিলেন।
মূল বাহিনীর সামনে তখন দাঁড়িয়ে ছিল বিশাল দুর্গনগরী অ্যান্টিওক। ১০৯৭ সালের অক্টোবর থেকে শহরটি অবরোধ করা হয়। অ্যান্টিওকের শক্তিশালী দেয়াল ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরাসরি আক্রমণকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছিল। ক্রুসেডারদের সংখ্যাও পুরো শহর সম্পূর্ণ ঘিরে রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
শীত নামার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। খাবারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বহু মানুষ অনাহারে মারা যায় বা সেনাবাহিনী ছেড়ে পালায়। ঘোড়ার সংখ্যা এত কমে যায় যে নাইটদের সামরিক কার্যকারিতাও হুমকির মুখে পড়ে। অ্যান্টিওকের অবরোধে শত্রুর তলোয়ারের চেয়ে ক্ষুধা ও রোগ অনেক সময় বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
অবশেষে বোয়েমন্ড শহরের এক রক্ষীর সঙ্গে গোপন যোগাযোগ স্থাপন করেন। ৩ জুন ১০৯৮ রাতে ক্রুসেডাররা একটি টাওয়ার দিয়ে শহরে প্রবেশ করে এবং অ্যান্টিওক দখল করে। কিন্তু বিজয়ের আনন্দ খুব অল্প সময় স্থায়ী হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই মসুলের শাসক কেরবোগার নেতৃত্বে বিশাল মুসলিম বাহিনী এসে উপস্থিত হয় এবং এবার ক্রুসেডাররাই শহরের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
তাদের খাদ্য প্রায় শেষ। মনোবল ভেঙে পড়ছিল। এই সংকটের মধ্যে এক ব্যক্তি দাবি করেন তিনি ধর্মীয় দর্শনের মাধ্যমে পবিত্র বর্শা—যে বর্শা দিয়ে ক্রুশবিদ্ধ যিশুর শরীরে আঘাত করা হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হতো—এর অবস্থান জানতে পেরেছেন। অ্যান্টিওকের একটি গির্জায় খনন করে একটি লোহার বস্তু পাওয়া হয়। এর সত্যতা নিয়ে তখনও সন্দেহ ছিল, কিন্তু ঘটনাটি ক্লান্ত ক্রুসেডারদের মধ্যে নতুন ধর্মীয় উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
২৮ জুন ১০৯৮ ক্রুসেডাররা অ্যান্টিওক থেকে বেরিয়ে কেরবোগার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে। মুসলিম জোটের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং ক্রুসেডারদের সংগঠিত আক্রমণের ফলে কেরবোগার বাহিনী ভেঙে পড়ে। এই বিজয়ের পর অ্যান্টিওক ক্রুসেডারদের হাতে থেকে যায়। বোয়েমন্ড এটিকে নিজের শাসনাধীন অঞ্চলে পরিণত করেন, যা বাইজেন্টাইন সম্রাটকে দেওয়া পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতির সরাসরি বিরোধী ছিল।
অ্যান্টিওকের পরও জেরুজালেমের দিকে যাত্রা সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়নি। নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ, ভূখণ্ড বণ্টন এবং রাজনৈতিক স্বার্থে বহু মাস নষ্ট হয়। সাধারণ ক্রুসেডারদের মধ্যে এতে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। তারা জেরুজালেমে পৌঁছানোর ধর্মীয় লক্ষ্য পূরণ করতে চেয়েছিল। চাপ বাড়তে থাকায় অবশেষে ১০৯৯ সালের শুরুতে মূল বাহিনী দক্ষিণদিকে অগ্রসর হয়।
সিরিয়া ও লেবাননের উপকূলীয় অঞ্চল অতিক্রম করে তারা প্যালেস্টাইনের দিকে এগিয়ে যায়। এ সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বদলে গিয়েছিল। জেরুজালেম তখন সেলজুকদের হাতে ছিল না; ফাতেমীয় মিশর ১০৯৮ সালে শহরটি পুনর্দখল করেছিল। ফলে ক্রুসেডাররা যখন জেরুজালেমের সামনে পৌঁছায়, তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ফাতেমীয় বাহিনী।
৭ জুন ১০৯৯ ক্রুসেডাররা প্রথমবার জেরুজালেমের দেয়াল দেখতে পায়। দীর্ঘ তিন বছরের যাত্রার পর পবিত্র নগরী চোখের সামনে দেখে অনেক তীর্থযাত্রী আবেগে কেঁদে ফেলেছিল বলে মধ্যযুগীয় বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু আবেগের পরপরই কঠিন বাস্তবতা সামনে আসে। তাদের কাছে পর্যাপ্ত অবরোধযন্ত্র ছিল না এবং আশপাশে পানির সংকট ছিল প্রবল।
জেনোয়িজ নাবিকদের সহায়তায় কাঠ ও কারিগরি দক্ষতা পাওয়ার পর ক্রুসেডাররা বিশাল অবরোধ টাওয়ার, মই এবং অন্যান্য যন্ত্র নির্মাণ করে। কয়েক সপ্তাহ প্রস্তুতির পর ১৩–১৪ জুলাই ব্যাপক আক্রমণ শুরু হয়। অবশেষে ১৫ জুলাই ১০৯৯ গডফ্রে অব বুইয়নের বাহিনী শহরের দেয়াল ভেদ করতে সক্ষম হয়। এরপর অন্যান্য ক্রুসেডাররাও প্রবেশ করে।
জেরুজালেম দখলের পর ঘটে প্রথম ক্রুসেডের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর একটি। মুসলিম ও ইহুদি অধিবাসীদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। মধ্যযুগীয় খ্রিস্টান সূত্রগুলো এই হত্যাযজ্ঞকে বিজয়ের ভাষায় বর্ণনা করলেও পরবর্তী ইতিহাসচর্চায় এটি ক্রুসেডের চরম সহিংসতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন এবং সমকালীন কিছু বিবরণে সংখ্যা ও রক্তপাতের মাত্রা অতিরঞ্জিত হয়েছে; কিন্তু শহর দখলের পর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড যে ঘটেছিল, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
জেরুজালেম দখলের পর কে শাসন করবে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গডফ্রে অব বুইয়নকে নেতৃত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি প্রচলিত অর্থে “জেরুজালেমের রাজা” উপাধি গ্রহণ করেননি। তিনি “পবিত্র সমাধির রক্ষক” ধরনের উপাধি গ্রহণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ভাই বাল্ডউইন প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জেরুজালেমের রাজা হন।
অভিযানের শেষ বড় সংঘর্ষ ঘটে ১২ আগস্ট ১০৯৯ আসকালনের যুদ্ধে, যেখানে ফাতেমীয় বাহিনী ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হয়। ক্রুসেডাররা তাদের পরাজিত করে এবং সদ্য দখল করা জেরুজালেমের ওপর তাৎক্ষণিক বড় সামরিক হুমকি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। এরপর প্রথম ক্রুসেডের বহু অংশগ্রহণকারী নিজেদের ধর্মীয় অঙ্গীকার পূর্ণ হয়েছে মনে করে ইউরোপে ফিরে যান।
প্রথম ক্রুসেডের ফলাফল ছিল বিস্ময়কর। যে বাহিনী ইউরোপ থেকে বেরিয়েছিল তার বিশাল অংশ পথেই মারা গিয়েছিল, পালিয়ে গিয়েছিল বা যাত্রা ত্যাগ করেছিল। তবু অবশিষ্ট যোদ্ধারা এডেসা, অ্যান্টিওক এবং জেরুজালেমে নতুন লাতিন রাজনৈতিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। পরে ত্রিপোলি কাউন্টিও গড়ে ওঠে। এসব অঞ্চল পরবর্তী ক্রুসেডের ইতিহাসের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়।
কিন্তু এই সাফল্যের ভেতরেই ভবিষ্যৎ সংঘাতের বীজ ছিল। বাইজেন্টাইনদের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, মুসলিম বিশ্বের ক্রমশ সংগঠিত প্রতিরোধ, স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে জটিল সম্পর্ক এবং ক্রুসেডার রাষ্ট্রগুলোর সীমিত জনবল তাদের অবস্থানকে অনিশ্চিত করে রাখে। প্রথম ক্রুসেড জেরুজালেম জয় করেছিল, কিন্তু পবিত্র ভূমির জন্য যুদ্ধ শেষ করেনি; বরং কয়েক প্রজন্মব্যাপী নতুন যুদ্ধের সূচনা করেছিল।
১০৯৬ থেকে ১০৯৯ সালের এই অভিযান তাই একই সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাস, অসাধারণ সামরিক সহনশীলতা, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নির্মম সহিংসতার ইতিহাস। পশ্চিম ইউরোপ থেকে যাত্রা করা মানুষদের অনেকেই হয়তো সত্যিই বিশ্বাস করেছিলেন তারা ঈশ্বরের উদ্দেশ্য পূরণ করছেন। কিন্তু সেই বিশ্বাসের পথ অ্যান্টিওকের অনাহার, আনাতোলিয়ার মৃত্যুযাত্রা এবং জেরুজালেমের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে গেছে। প্রথম ক্রুসেডের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক বৈপরীত্য এখানেই—যে অভিযান পবিত্রতার আদর্শ নিয়ে শুরু হয়েছিল, তার চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছিল অসাধারণ ত্যাগের পাশাপাশি প্রবল রক্তপাতের মাধ্যমে।
কম্বোডিয়া ও লাওসে ভিয়েতনাম যুদ্ধ: গোপন বোমাবর্ষণ, হো চি মিন ট্রেইল ও লাম সন ৭১৯
নিক্সনের ভিয়েতনামাইজেশন: সেনা প্রত্যাহার, হ্যামবার্গার হিল ও দক্ষিণের যুদ্ধ
আমেরিকায় যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন: টেট, কেন্ট স্টেট ও পেন্টাগন পেপারসের প্রভাব
হুয়ে যুদ্ধ ও মাই লাই গণহত্যা: ভিয়েতনাম যুদ্ধের অন্ধকার অধ্যায়
হিরোশিমা-নাগাসাকি বিতর্ক ও উত্তরাধিকার: কীভাবে শুরু হয়েছিল পারমাণবিক অস্ত্রের যুগ?
হিরোশিমা ও নাগাসাকির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব: তেজস্ক্রিয়তা, ক্যানসার ও পুনর্গঠনের ইতিহাস