বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

অ্যাসিডিটি ও বুকজ্বালা কমাতে খাদ্যাভ্যাসে কী পরিবর্তন আনবেন?

অ্যাসিডিটি ও বুকজ্বালা কমাতে খাদ্যাভ্যাসে কী পরিবর্তন আনবেন?
খাবারের ধরন, পরিমাণ ও সময়—তিনটিই বুকজ্বালায় গুরুত্বপূর্ণ।

রাতের খাবার শেষে বিছানায় শুয়ে পড়লেন, কিছুক্ষণ পর বুকের মাঝখানে জ্বালা শুরু হলো। কখনো মুখে টক পানি উঠে আসে, কখনো গলার কাছে পোড়া অনুভূতি হয়। পরিচিত ভাষায় এসবকে আমরা ‘অ্যাসিডিটি’ বলি। কিন্তু এই শব্দ দিয়ে পেট ফাঁপা, ওপরের পেটে অস্বস্তি ও বুকজ্বালার মতো ভিন্ন সমস্যাও বোঝানো হয়। তাই খাদ্যাভ্যাস বদলানোর আগে কোন উপসর্গ হচ্ছে, সেটি বুঝতে হবে। বুকের মাঝখানে জ্বালা এবং মুখে টক স্বাদ ওঠা প্রায়ই পাকস্থলীর অম্ল খাদ্যনালিতে ফিরে আসার সঙ্গে সম্পর্কিত। এর নিয়ন্ত্রণে শুধু খাবারের নাম নয়, পরিমাণ ও খাওয়ার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ।

পাকস্থলীর অম্ল নিজে অপ্রয়োজনীয় কিছু নয়। খাবার হজমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এর ভূমিকা রয়েছে। পাকস্থলী ও খাদ্যনালির সংযোগস্থলে পেশির একটি বলয় থাকে, যা সাধারণভাবে পাকস্থলীর উপাদান ওপরে ফিরে আসা ঠেকাতে সাহায্য করে। এই ব্যবস্থা যথাযথভাবে কাজ না করলে খাবার ও অম্ল খাদ্যনালিতে উঠে আসতে পারে। খাদ্যনালির আবরণ পাকস্থলীর মতো অম্ল সহ্য করার জন্য তৈরি নয়, তাই জ্বালা হতে পারে। অর্থাৎ বুকজ্বালা হলেই পাকস্থলী অতিরিক্ত অম্ল তৈরি করছে, এমন নয়; অম্ল ভুল জায়গায় উঠে আসাও মূল সমস্যা হতে পারে।

মাঝেমধ্যে ভারী খাবারের পর বুকজ্বালা হওয়া এবং ঘন ঘন উপসর্গ হওয়া এক পরিস্থিতি নয়। বারবার অম্ল ফিরে আসলে খাদ্যনালিতে প্রদাহসহ জটিলতা তৈরি হতে পারে। আবার ওপরের পেটে ব্যথা, দ্রুত পেট ভরে যাওয়া বা বমিভাবের পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের সব অস্বস্তিকে একই ‘গ্যাসের সমস্যা’ ধরে শুধু খাবার বাদ দিতে থাকা ঠিক নয়। খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু সমস্যার কারণ নির্ণয়ের বিকল্প নয়।

প্রথম ব্যবহারিক পরিবর্তন হলো একবারে অতিরিক্ত না খাওয়া। বড় খাবারে পাকস্থলী বেশি প্রসারিত হয় এবং কিছু মানুষের অম্ল ফিরে আসার প্রবণতা বাড়ে। দুপুরে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে রাতে একসঙ্গে অনেক ভাত, মাংস ও ভাজা খাবার খেলে উপসর্গ হতে পারে। এর পরিবর্তে দিনের খাবার এমনভাবে ভাগ করুন, যাতে রাতে ক্ষুধায় অতিরিক্ত খেতে না হয়। ছোট পরিমাণে খাওয়ার মানে সারাদিন অবিরাম নাশতা করা নয়। লক্ষ্য হলো একই সময়ে পাকস্থলীর ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানো এবং মোট খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

ধীরে খাওয়াও এ কাজে সহায়ক অভ্যাস। খুব দ্রুত খেলে পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি বোঝার আগেই বেশি খাবার খাওয়া হয়ে যেতে পারে। খাবারের সময় অল্প বিরতি নেওয়া এবং যথেষ্ট চিবিয়ে খাওয়া নিজের ক্ষুধা বুঝতে সাহায্য করে। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যকবার চিবালেই বুকজ্বালা সেরে যাবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। বিশেষ করে অফিস থেকে ফিরে তাড়াহুড়া করে খাবার শেষ করার অভ্যাস থাকলে প্রথমে পরিমাণ কমিয়ে আরাম করে খাওয়ার ব্যবস্থা করা বেশি বাস্তবসম্মত পরিবর্তন।

রাতের খাবারের সময় বদলানো অনেকের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি। বিশেষত শোয়ার পর বুকজ্বালা হলে শেষ খাবার ও বিছানায় যাওয়ার মধ্যে অন্তত তিন ঘণ্টা বিরতি রাখার চেষ্টা করুন। আপনি রাত এগারোটায় শুয়ে পড়লে রাতের খাবার আটটার মধ্যে শেষ করা একটি ব্যবহারিক লক্ষ্য হতে পারে। শুধু রাতের প্রধান খাবার আগে খেয়ে পরে ঘুমানোর ঠিক আগে বড় নাশতা করলে একই সমস্যা থেকে যায়। দুধ, বিস্কুট বা অন্য খাবারও এই হিসাবের অংশ। শুয়ে পড়ার আগে পাকস্থলী ভরিয়ে না রাখাই এখানে উদ্দেশ্য।

খাওয়ার পরপর শুয়ে পড়া বা সামনে গভীরভাবে ঝুঁকে কাজ করা কিছু মানুষের উপসর্গ বাড়ায়। খাবারের পরে সোজা হয়ে বসা বা আরামদায়কভাবে অল্প হাঁটা ভালো অভ্যাস হতে পারে। তবে ভরা পেটে দৌড়ানো, পেটের ওপর চাপ পড়ে এমন ব্যায়াম বা ভারী কাজ করা দরকার নেই। দুপুরে খাওয়ার পর ঘুমানোর অভ্যাস থাকলেও খাবারের পরিমাণ ও শোয়ার ব্যবধান নিয়ে ভাবতে হবে। খাবার বদলানো সত্ত্বেও যদি প্রতিবার সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়েন, প্রত্যাশিত সুবিধা কম পাওয়া সম্ভব।

তেল ও চর্বির পরিমাণ খেয়াল করা দরকার। বেশি চর্বিযুক্ত খাবার কিছু মানুষের অম্ল ফিরে আসার উপসর্গ বাড়াতে পারে। বিরিয়ানি, পরোটা, পুরি, সিঙাড়া কিংবা তেলভাসা মাংসের ঝোলের ক্ষেত্রে খাবারের আকার ও চর্বি একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রতিদিনের রান্নায় কম তেল ব্যবহার করা, ভাজার বদলে সেদ্ধ বা হালকা রান্না বেছে নেওয়া এবং মাংসের দৃশ্যমান চর্বি কমানো কাজে আসতে পারে। তবে সব চর্বি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিমিত খাবার এবং ব্যক্তিগত সহ্যক্ষমতা এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ঝাল খাবার নিয়ে সবার অভিজ্ঞতা একই নয়। কারও মরিচযুক্ত খাবারে জ্বালা বাড়ে, আবার কেউ অল্প ঝাল সহজে সহ্য করেন। তাই বুকজ্বালা আছে মানেই চিরদিন সব মসলা বাদ দিতে হবে, এমন নয়। অনেক ঝাল খাবারে তেল, টমেটো, লেবু বা আচারও থাকে। ফলে কোন উপাদান সমস্যা করছে, তা বোঝা কঠিন হতে পারে। প্রথমে অতিরিক্ত মরিচ ও ঝাল সস কমিয়ে, রান্নার অন্য বৈশিষ্ট্য কাছাকাছি রেখে দেখুন। এতে একটি খাবার খাওয়ার পর অস্বস্তি হলেই তার সব উপাদানকে দোষ দেওয়ার প্রবণতা কমবে।

চা ও কফির ক্ষেত্রেও পরিমাণ এবং নিজের প্রতিক্রিয়া দেখতে হবে। কফি ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কিছু মানুষের বুকজ্বালা বাড়াতে পারে। দিনে বারবার ঘন চা, বড় কাপ কফি কিংবা রাতের খাবারের পরে এসব পান করার অভ্যাস থাকলে কমিয়ে দেখা যায়। দুধ-চায়ের সঙ্গে ভাজা নাশতা খেলে শুধু চাকে দোষ দিয়ে লাভ নাও হতে পারে। কারও জন্য ছোট কাপ সহনীয় হতে পারে, কারও ক্ষেত্রে বাদ দেওয়া দরকার হয়। সব মানুষের জন্য একই নিষেধের বদলে উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজে নেওয়া বেশি কার্যকর।

লেবু, কমলা, টমেটো ও টক আচার কিছু মানুষের খাদ্যনালির জ্বালা বাড়াতে পারে। কিন্তু টক স্বাদের প্রতিটি খাবার সবার জন্য ক্ষতিকর নয়। আবার মিষ্টি স্বাদের খাবারও নিশ্চিন্তে খাওয়া যাবে, এমন নয়; চকলেট বা বেশি চর্বিযুক্ত মিষ্টিতে সমস্যা হতে পারে। ফল খাওয়ার পরে জ্বালা হলে কোন ফল, কতটা এবং কখন খেয়েছেন, সেটি নোট করুন। অকারণে সব ফল বাদ দিলে খাদ্যতালিকার বৈচিত্র্য কমে যেতে পারে। সহনীয় ফল পরিমিত রাখা ভালো, আর ফলের রসের বড় গ্লাসের পরিবর্তে গোটা ফল বিবেচনা করা যায়।

কোমল পানীয়ের পর ঢেকুর ও পেট ফাঁপা বাড়লে সেটি কমিয়ে দেখা উচিত। তবে কার্বনেটযুক্ত পানীয় সবার অম্ল ফিরে আসার একমাত্র কারণ নয়। একইভাবে পুদিনা হজমের জন্য উপকারী বলে প্রচলিত হলেও কিছু মানুষের বুকজ্বালা বাড়াতে পারে। চকলেট ও মদ্যপ পানীয়ও পরিচিত উত্তেজক খাবারের মধ্যে রয়েছে। এসবের নাম জানার উদ্দেশ্য একটি দীর্ঘ নিষেধতালিকা তৈরি করা নয়। আপনার উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে পরিমাণ কমানো বা বাদ দেওয়া, আর সম্পর্ক না থাকলে অযথা খাদ্যতালিকা সংকুচিত না করাই লক্ষ্য।

নিজের সমস্যা বাড়ানো খাবার চিনতে এক থেকে দুই সপ্তাহের খাবার ও উপসর্গের নোট কাজে আসতে পারে। কখন খেয়েছেন, কী খেয়েছেন, আনুমানিক পরিমাণ কত ছিল, কতক্ষণ পরে জ্বালা হয়েছে এবং তখন শুয়ে ছিলেন কি না—এসব লিখুন। একসঙ্গে দশ ধরনের খাবার বাদ দিলে কোন পরিবর্তন কাজ করেছে, বোঝা কঠিন হয়। বরং একটি সম্ভাব্য কারণ কমিয়ে দেখুন। উপসর্গ নিয়ন্ত্রিত হলে এবং কোনো উদ্বেগজনক লক্ষণ না থাকলে অল্প পরিমাণে সেই খাবার আবার খেয়ে সম্পর্কটি বোঝা যেতে পারে। এটি রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা নয়, দৈনন্দিন অভ্যাস বোঝার পদ্ধতি।

তাহলে খাবারের তালিকায় কী রাখবেন? সাধারণভাবে পরিমিত ভাত বা রুটি, কম তেলে রান্না করা মাছ বা অন্য আমিষ, সহনীয় সবজি এবং ফল দিয়ে বৈচিত্র্যময় খাবার সাজানো যায়। সকালের নাশতায় ভাজা পরোটার পরিবর্তে কম তেলযুক্ত রুটি ও ডিম কারও জন্য আরামদায়ক হতে পারে। রাতে বড় বিরিয়ানির বদলে অল্প ভাত, মাছ ও সবজি বেছে নেওয়া যায়। কিন্তু এসব খাবারও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে সমস্যা হতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট খাবারকে অম্ল ‘শোষণ করে নেওয়া’ বা রোগ সারানোর উপাদান হিসেবে দেখা উচিত নয়।

আঁশযুক্ত খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো, তবে হঠাৎ অনেক আঁশ বাড়ানো দরকার নেই। ডাল, ছোলা, সবজি বা গোটা শস্য কিছু মানুষের পেট ফাঁপাতে পারে। পেট ফুলে গেলে অস্বস্তি বাড়তে পারে, যদিও পেট ফাঁপা ও অম্ল ফিরে আসা একই রোগ নয়। অল্প থেকে শুরু করে সহ্যক্ষমতা অনুযায়ী বাড়ান। ডাল খেলে অস্বস্তি হয় বলে সব ডাল বাদ দেওয়ার বদলে পরিমাণ, রান্না ও খাওয়ার সময় পরিবর্তন করে দেখা যায়। পর্যাপ্ত পুষ্টি বজায় রেখে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

দুধ, কলা বা ঠান্ডা পানি নিয়ে অনেক ঘরোয়া ধারণা রয়েছে। কোনোটি খেলে সাময়িক আরাম লাগতে পারে, কিন্তু সেগুলো সবার জন্য বুকজ্বালার চিকিৎসা নয়। বিশেষ করে বেশি চর্বিযুক্ত দুধ কারও উপসর্গ বাড়াতে পারে। কলা সহনীয় ফল হতে পারে, তবে তা খাদ্যনালির সমস্যার নিশ্চিত সমাধান নয়। তৃষ্ণা অনুযায়ী পানি পান করুন; খাবারের সঙ্গে পানি খেলেই হজম বন্ধ হয়ে যায়, এমন ধারণা ঠিক নয়। আবার একসঙ্গে খুব বেশি পানীয় খেয়ে পেট ভরিয়ে ফেললে নিজের অস্বস্তি হচ্ছে কি না খেয়াল করা ভালো।

অম্ল কমানোর জন্য লেবুপানি, ভিনেগার বা খাবার সোডা নিয়মিত গ্রহণ করা নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সমাধান হিসেবে ধরা উচিত নয়। টক পানীয় কারও জ্বালা বাড়াতে পারে। খাবার সোডা দিয়ে ঘরোয়াভাবে অম্ল নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা শরীরে অপ্রয়োজনীয় সোডিয়াম যোগ করতে পারে এবং ভুল ব্যবহারে সমস্যা ঘটাতে পারে। একইভাবে ভেষজ মিশ্রণ মানেই ঝুঁকিমুক্ত নয়। একটি খাবার খেয়ে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন অনুভব করার চেয়ে নিয়মিত খাবারের পরিমাণ, সময় ও ব্যক্তিগত উত্তেজক উপাদান সামলানো বেশি বাস্তবভিত্তিক পথ।

যাঁদের অতিরিক্ত ওজন রয়েছে, তাঁদের স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ওজন কমলে বুকজ্বালার উপসর্গ কমতে পারে। পেটের আশপাশের চাপ এ সমস্যায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে স্বাভাবিক ওজনের সবাইকে আরও ওজন কমাতে বলা ঠিক নয়। আবার দ্রুত ওজন কমানোর জন্য দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে রাতে অতিরিক্ত খেলে উপসর্গ উল্টো বাড়তে পারে। নিয়মিত পরিমিত খাবার ও শারীরিক কাজের মাধ্যমে ধীরে পরিবর্তন আনা ভালো। ধূমপানও অম্ল ফিরে আসা বাড়াতে পারে; খাবারের পরিবর্তনের পাশাপাশি এই অভ্যাস বন্ধ করার গুরুত্ব রয়েছে।

রাতে সমস্যা হলে খাবারের সময়ের সঙ্গে শোয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনা করা যায়। বিছানার মাথার দিক স্থিতিশীলভাবে উঁচু করা বা উপযুক্ত ঢালু সহায়ক ব্যবহার কিছু মানুষের উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে। শুধু কয়েকটি বালিশ দিয়ে ঘাড় উঁচু করা একই সুবিধা নাও দিতে পারে এবং শরীর অস্বস্তিকরভাবে বাঁকিয়ে দিতে পারে। কোমরের কাছে খুব আঁটসাঁট পোশাকও এড়ানো ভালো। এসব পরিবর্তনের উদ্দেশ্য পাকস্থলীর উপাদান ওপরে ওঠার সুযোগ কমানো; খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে এগুলো মিলিয়ে দেখা যায়।

খাবার বদলানোর পরও যদি সপ্তাহে বারবার বুকজ্বালা হয়, রাতে ঘুম ভেঙে যায় বা নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজন হয়, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কিছু ওষুধ উপসর্গ বাড়াতে পারে, কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে কোনো নির্ধারিত ওষুধ বন্ধ করবেন না। সাময়িক আরামের ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করে সমস্যার কারণ আড়াল করাও ঠিক নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসক অম্ল কমানোর চিকিৎসা, অন্য কারণের মূল্যায়ন বা পরীক্ষা বিবেচনা করবেন। খাদ্যাভ্যাস উন্নত করা ও চিকিৎসা নেওয়া পরস্পরের বিকল্প নয়; দুটো একসঙ্গে প্রয়োজন হতে পারে।

বুকের সব অস্বস্তিকে অ্যাসিডিটি ভাবা বিপজ্জনক। নতুন বা তীব্র বুকব্যথা, চাপধরা অনুভূতি, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম কিংবা হাত বা চোয়ালে ছড়ানো ব্যথা হলে জরুরি চিকিৎসা নিন। খাবার গিলতে কষ্ট, গিললে ব্যথা, রক্তবমি, কালো আলকাতরার মতো পায়খানা, বারবার বমি বা অকারণে ওজন কমলেও দ্রুত চিকিৎসা দরকার। এসব অবস্থায় খাবার বদলে ফল দেখার জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়।

খাদ্যাভ্যাসে প্রথম পরিবর্তন হিসেবে রাতের খাবার আগে শেষ করা, একবারে কম খাওয়া এবং খাওয়ার পর সোজা থাকা বেছে নেওয়া যায়। এরপর নোট রেখে নিজের উপসর্গ বাড়ানো খাবার চিহ্নিত করুন। প্রয়োজন হলে তেল, অতিরিক্ত ঝাল বা ক্যাফেইনের পরিমাণ ধাপে ধাপে কমান, কিন্তু পুষ্টিকর খাবারের পুরো দল অকারণে বাদ দেবেন না। বুকজ্বালা নিয়ন্ত্রণের ভালো পরিকল্পনা এমন হওয়া দরকার, যা আপনার দৈনন্দিন জীবনে মানা সম্ভব এবং পর্যাপ্ত পুষ্টিও বজায় রাখে। উপসর্গ না কমলে খাদ্যতালিকা আরও ছোট করতে থাকার বদলে চিকিৎসকের সঙ্গে কারণ ও চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করুন।


আপনার পছন্দ হতে পারে