পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও হাইড্রোজেন বোমা: ধ্বংসের মুখে স্নায়ুযুদ্ধের পৃথিবী
সিরিজ: স্নায়ুযুদ্ধ: দুই পরাশক্তির বিশ্বসংঘাত
পারমাণবিক ধ্বংসের ছায়ায় স্নায়ুযুদ্ধের পৃথিবী
১৯৪৫ সালের আগস্টে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে দুটি পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে মানবসভ্যতা এমন এক যুগে প্রবেশ করে, যখন একটি অস্ত্র দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে একটি শহর ধ্বংস করা সম্ভব হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলেও পারমাণবিক শক্তি শান্তির নিশ্চয়তা দেয়নি; বরং যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে আরও ভয়ংকর প্রতিযোগিতার সূচনা করেছিল। পরবর্তী দশকগুলোতে দুই পরাশক্তি শুধু বেশি বোমা বানায়নি—তারা এমন হাইড্রোজেন বোমা, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, বোমারু বিমান ও সাবমেরিন তৈরি করেছিল, যেগুলো পৃথিবীর প্রায় যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে পারত। এই প্রতিযোগিতার মূল বৈপরীত্য ছিল, উভয় পক্ষ নিরাপত্তা অর্জনের জন্য যত বেশি অস্ত্র বানিয়েছে, পুরো পৃথিবী তত বেশি অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ম্যানহাটন প্রকল্পের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ করে। ১৯৪৫ সালের জুলাইয়ে নিউ মেক্সিকোতে ‘ট্রিনিটি’ পরীক্ষার সাফল্যের পর আগস্টে জাপানের বিরুদ্ধে দুটি বোমা ব্যবহার করা হয়। ইউরেনিয়ামভিত্তিক ‘লিটল বয়’ এবং প্লুটোনিয়ামভিত্তিক ‘ফ্যাট ম্যান’ বিস্ফোরণের শক্তি প্রচলিত বিস্ফোরকের তুলনায় অকল্পনীয় হলেও পরবর্তী তাপ-পারমাণবিক অস্ত্রের তুলনায় সেগুলো ছিল অনেক ছোট। যুদ্ধশেষে কিছু সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তি ছিল। মার্কিন নেতাদের অনেকে মনে করেছিলেন, এই একচেটিয়া ক্ষমতা সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর কূটনৈতিক সুবিধা দেবে।
কিন্তু পারমাণবিক একচেটিয়াতা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সোভিয়েত গোয়েন্দারা ম্যানহাটন প্রকল্পের গোপন তথ্য সংগ্রহ করেছিল এবং মস্কো নিজস্ব বিজ্ঞানী ও বিপুল রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে দ্রুত কর্মসূচি এগিয়ে নেয়। ১৯৪৯ সালের ২৯ আগস্ট কাজাখস্তানের সেমিপালাতিনস্ক পরীক্ষাকেন্দ্রে সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘আরডিএস-১’ নামে প্রথম পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষা চালায়। মার্কিন পর্যবেক্ষণ বিমান বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ শনাক্ত করলে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত হয়। সোভিয়েত সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রকে বিস্মিত করে, কারণ ওয়াশিংটনের অনেকেই ধরে নিয়েছিল মস্কোর আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। চার বছরের মধ্যেই পারমাণবিক শক্তির একাধিপত্য শেষ হয়ে দুই পক্ষের অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
সোভিয়েত পরীক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামনে প্রশ্ন ওঠে—বিদ্যমান পরমাণু বোমা বাড়ানো হবে, নাকি আরও শক্তিশালী অস্ত্র তৈরি করা হবে। বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড টেলার দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি ‘সুপার বোমা’র ধারণা প্রচার করছিলেন, যাতে পরমাণু বিভাজনের বদলে হালকা পরমাণুর সংযোজন বা নিউক্লীয় সংযোজন থেকে বিপুল শক্তি উৎপন্ন হবে। পারমাণবিক শক্তি কমিশনের কিছু বিজ্ঞানী, বিশেষত জে. রবার্ট ওপেনহাইমার, অস্ত্রটির সামরিক প্রয়োজন ও নৈতিক পরিণতি নিয়ে আপত্তি জানান। কিন্তু সোভিয়েত অগ্রগতি, চীনা বিপ্লব এবং নিরাপত্তা-আতঙ্কের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান ১৯৫০ সালের জানুয়ারিতে হাইড্রোজেন বোমা তৈরির নির্দেশ দেন।
পরমাণু বা বিভাজন বোমায় ইউরেনিয়াম কিংবা প্লুটোনিয়ামের ভারী পরমাণু ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়। হাইড্রোজেন বা তাপ-পারমাণবিক বোমায় প্রথমে একটি বিভাজন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপ সৃষ্টি করা হয়; সেই শক্তিতে হাইড্রোজেনের সমস্থানিকগুলো সংযোজিত হয়ে আরও বিপুল শক্তি মুক্ত করে। এ ধরনের অস্ত্রের শক্তি কিলোটনের বদলে মেগাটন—অর্থাৎ দশ লক্ষ টন প্রচলিত বিস্ফোরকের সমতুল্য—হিসাবে মাপা হতে থাকে। এর ধ্বংসক্ষমতার তাত্ত্বিক ঊর্ধ্বসীমা কার্যত এত বড় ছিল যে একটি বোমাই বিস্তৃত নগরাঞ্চল নিশ্চিহ্ন করতে পারত।
১৯৫২ সালের ১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরের এনেওয়েটাক প্রবালপ্রাচীরের এলুগেলাব দ্বীপে ‘আইভি মাইক’ পরীক্ষা চালায়। প্রায় ১০ দশমিক ৪ মেগাটন শক্তির বিস্ফোরণে দ্বীপটি বিলীন হয়ে বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়। এটি ছিল প্রথম পূর্ণমাত্রার সফল তাপ-পারমাণবিক বিস্ফোরণ, তবে যন্ত্রটিতে তরল ডিউটেরিয়াম ব্যবহৃত হওয়ায় সেটি অত্যন্ত বড় ও ভারী ছিল; বিমানে বহনযোগ্য কার্যকর বোমা ছিল না। তবু পরীক্ষাটি প্রমাণ করে যে হাইড্রোজেন বোমা নির্মাণ সম্ভব এবং পরমাণু বোমার চেয়ে শত শত গুণ বেশি শক্তিশালী অস্ত্র বাস্তবে তৈরি করা যায়।
সোভিয়েত ইউনিয়নও পিছিয়ে ছিল না। আন্দ্রেই সাখারভসহ সোভিয়েত বিজ্ঞানীদের কাজের ভিত্তিতে ১৯৫৩ সালের আগস্টে ‘আরডিএস-৬এস’ পরীক্ষা করা হয়। এটি পূর্ণাঙ্গ দুই ধাপের আধুনিক তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র না হলেও তুলনামূলকভাবে বহনযোগ্য ছিল এবং সোভিয়েত অগ্রগতির স্পষ্ট প্রমাণ দেয়। ১৯৫৫ সালের নভেম্বরে ‘আরডিএস-৩৭’ পরীক্ষার মাধ্যমে সোভিয়েতরা পূর্ণাঙ্গ দুই ধাপের হাইড্রোজেন বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। ফলে হাইড্রোজেন বোমার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের অল্প সময়ের অগ্রগামিতা শেষ হয়।
১৯৫৪ সালের ১ মার্চ মার্কিন ‘ক্যাসল ব্রাভো’ পরীক্ষা অস্ত্রটির অনিয়ন্ত্রিত বিপদের বাস্তবতা প্রকাশ করে। বিজ্ঞানীরা প্রায় ছয় মেগাটন বিস্ফোরণ আশা করলেও প্রকৃত শক্তি ছিল প্রায় পনেরো মেগাটন। ভুল হিসাবের কারণে তেজস্ক্রিয় ধূলি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দূরে ছড়িয়ে পড়ে। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা আক্রান্ত হন এবং জাপানি মাছ ধরার নৌযান ‘লাকি ড্রাগন নম্বর ফাইভ’-এর নাবিকেরা তেজস্ক্রিয়তার শিকার হন; পরে একজনের মৃত্যু ঘটে। ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক পরীক্ষা ও তেজস্ক্রিয় দূষণের বিরুদ্ধে জনমত শক্তিশালী করে। পারমাণবিক বোমা শুধু লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে না—তার বিষাক্ত ধূলি সীমান্ত অতিক্রম করে দূরবর্তী জনগোষ্ঠীকেও আক্রান্ত করতে পারে।
প্রথমদিকে এসব বোমা শত্রুর ভূখণ্ডে পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম ছিল দূরপাল্লার বোমারু বিমান। যুক্তরাষ্ট্র বি-৩৬ এবং পরে বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করে; সোভিয়েত ইউনিয়ন টু-৯৫সহ নিজস্ব দূরপাল্লার বিমান তৈরি করে। উভয় পক্ষ আকাশে নিয়মিত টহল, অগ্রবর্তী ঘাঁটি ও দ্রুত প্রতিশোধের প্রস্তুতি বজায় রাখত। কিন্তু বিমানকে শনাক্ত ও বাধা দেওয়া সম্ভব ছিল। তাই প্রতিযোগিতা দ্রুত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দিকে এগোয়। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত আর-৭ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা এবং একই প্রযুক্তিতে স্পুতনিক উৎক্ষেপণ প্রমাণ করে যে মস্কো দূর মহাদেশে পারমাণবিক অস্ত্র পৌঁছে দিতে সক্ষম হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রও অ্যাটলাস, টাইটান ও মিনিউটম্যান ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে। ভূগর্ভস্থ উৎক্ষেপণকেন্দ্রে রাখা আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ছোড়া যেত এবং প্রায় আধঘণ্টার মধ্যে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারত। একই সঙ্গে উভয় পক্ষ সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ করে। গভীর সমুদ্রে লুকিয়ে থাকা পারমাণবিক সাবমেরিনকে প্রথম আঘাতে ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। বোমারু বিমান, ভূমিভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সাবমেরিনভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র—এই তিন ব্যবস্থার সমন্বয় ‘পারমাণবিক ত্রয়ী’ নামে পরিচিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল শত্রুর প্রথম হামলার পরও নিশ্চিত পাল্টা আঘাতের ক্ষমতা ধরে রাখা।
এই সক্ষমতা থেকে ‘পারস্পরিক নিশ্চিত ধ্বংস’ ধারণার জন্ম হয়। যুক্তি ছিল, কোনো পক্ষ প্রথমে আক্রমণ করলেও প্রতিপক্ষের সব অস্ত্র একযোগে ধ্বংস করতে পারবে না। বেঁচে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন ও বিমান পাল্টা হামলা চালিয়ে আক্রমণকারী দেশকেও ধ্বংস করবে। তাই বিজয়ের সম্ভাবনা না থাকায় কেউ যুদ্ধ শুরু করতে সাহস করবে না। এই ভয়ভিত্তিক প্রতিরোধ হয়তো সরাসরি মার্কিন-সোভিয়েত যুদ্ধ ঠেকাতে ভূমিকা রেখেছিল, কিন্তু শান্তির ভিত্তি ছিল অত্যন্ত ভঙ্গুর। একটি ভুল সতর্কসংকেত, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা সংকটের সময় তাড়াহুড়োর সিদ্ধান্তই মানবসভ্যতাকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারত।
অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুধু সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও তার ছায়া পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলশিক্ষার্থীদের ডেস্কের নিচে আশ্রয় নেওয়ার মহড়া শেখানো হতো, শহরে বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের চিহ্ন বসানো হয় এবং অনেক পরিবার ব্যক্তিগত ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কক্ষ নির্মাণ করে। সোভিয়েত ইউনিয়নেও নাগরিক প্রতিরক্ষা, সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ও আশ্রয়ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। বাস্তবে একটি বৃহৎ তাপ-পারমাণবিক হামলায় বিস্ফোরণ, অগ্নিঝড়, তেজস্ক্রিয়তা ও অবকাঠামো ধ্বংসের সম্মিলিত প্রভাব থেকে কোটি মানুষকে রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব ছিল। তবু এসব প্রস্তুতি জনগণকে বোঝাত যে পারমাণবিক যুদ্ধ যে কোনো সময় ঘটতে পারে।
১৯৬১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন নোভায়া জেমলিয়ায় ‘জার বোমা’ পরীক্ষা করে। প্রায় পঞ্চাশ মেগাটন শক্তির এই বিস্ফোরণ ইতিহাসের সর্ববৃহৎ মানবসৃষ্ট বিস্ফোরণ। মূল নকশাটি আরও শক্তিশালী হতে পারত, কিন্তু তেজস্ক্রিয়তা ও পরীক্ষাকারী বিমানের নিরাপত্তার জন্য শক্তি কমানো হয়। জার বোমা কার্যকর যুদ্ধাস্ত্রের চেয়ে সোভিয়েত প্রযুক্তি ও ক্ষমতার প্রদর্শন বেশি ছিল। তবু এটি দেখিয়ে দেয়, প্রতিযোগিতা কতটা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল—সামরিকভাবে প্রয়োজনীয় সীমার বাইরেও শুধু প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে অভূতপূর্ব বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছিল।
পারমাণবিক পরীক্ষার তেজস্ক্রিয় ধূলি, ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং ১৯৬২ সালের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট দুই পক্ষকে কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে। ১৯৬৩ সালের আংশিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি বায়ুমণ্ডল, মহাকাশ ও পানির নিচে পরীক্ষা নিষিদ্ধ করে, যদিও ভূগর্ভস্থ পরীক্ষা চলতে থাকে। পরবর্তী সময়ে অস্ত্র বিস্তার রোধ ও কৌশলগত অস্ত্র সীমিত করার আরও চুক্তি হয়। কিন্তু কোনো চুক্তিই অস্ত্রভান্ডার বিলুপ্ত করতে পারেনি। বরং ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক স্বতন্ত্র লক্ষ্যভেদী ওয়ারহেড, উন্নত সাবমেরিন ও আরও নির্ভুল নির্দেশনাব্যবস্থা যুক্ত হওয়ায় ধ্বংসক্ষমতা বাড়তেই থাকে।
পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ছিল এমন এক দৌড়, যেখানে জয় মানে নিরাপত্তা নয়, প্রতিপক্ষসহ নিজেকেও ধ্বংস করার নিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন পরস্পরের ভয়ে হাজার হাজার অস্ত্র তৈরি করে, কিন্তু প্রতিটি নতুন বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র উভয় দেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কমিয়ে দেয় এবং ভুলের পরিণতি আরও ভয়াবহ করে তোলে। হাইড্রোজেন বোমা মানবজাতিকে প্রথমবার নিজের সভ্যতা ধ্বংস করার বাস্তব ক্ষমতা দিয়েছিল। স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হলেও সেই অস্ত্র, প্রযুক্তি ও পারমাণবিক প্রতিরোধের যুক্তি আজও পৃথিবীকে মনে করিয়ে দেয়—মানুষের তৈরি সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রের সবচেয়ে বড় বিপদ তার ব্যবহারেই নয়, বরং সেই ব্যবহারের সম্ভাবনা চিরকাল বেঁচে থাকায়।
আরব বসন্তের আঞ্চলিক ঢেউ: মরক্কো, আলজেরিয়া, জর্ডান ও ওমানে কী বদলেছিল?
সিরিয়ার আরব বসন্ত: দারার বিক্ষোভ থেকে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের সূচনা
ইয়েমেনের আরব বসন্ত: সালেহর পতন থেকে রাজনৈতিক সংকট ও গৃহযুদ্ধ
বাহরাইনের পার্ল রাউন্ডঅ্যাবাউট আন্দোলন: শিয়া বিক্ষোভ, রাজতন্ত্রের দমন ও সৌদি হস্তক্ষেপ