নরওয়ের লংইয়ারবিয়েনে মৃতদেহ কবর দেওয়া কঠিন কেন? বরফের নিচে মৃত্যুর অদ্ভুত বাস্তবতা
চিরহিমায়িত মাটির শহর লংইয়ারবিয়েনে কবর দেওয়ার কঠিন বাস্তবতা
নরওয়ের মূল ভূখণ্ড থেকে বহু দূরে, উত্তর মহাসাগরের বরফশীতল অঞ্চলে অবস্থিত স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জের প্রধান জনবসতি লংইয়ারবিয়েন। পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তরের স্থায়ী জনবসতিগুলোর একটি হিসেবে এই ছোট শহর এমনিতেই ব্যতিক্রমী। বছরের দীর্ঘ সময় এখানে তুষার ও বরফে ঢাকা থাকে ভূমি, শীতকালে কয়েক মাস সূর্য দিগন্তের ওপরে ওঠে না, আবার গ্রীষ্মে কয়েক মাস সূর্য অস্ত যায় না। কিন্তু লংইয়ারবিয়েনকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো মৃত্যু ও কবর দেওয়া। বহু বছর ধরে এমন কথাও ছড়িয়েছে যে এখানে নাকি “মারা যাওয়া নিষিদ্ধ”। বাস্তবে বিষয়টি এতটা নাটকীয় নয়। লংইয়ারবিয়েনে মৃত্যু আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়নি; বরং এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে মৃতদেহ প্রচলিত পদ্ধতিতে কবর দেওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং স্থানীয় কবরস্থানের ব্যবহারও খুব সীমিত।
এই সমস্যার মূল কারণ লংইয়ারবিয়েনের মাটির নিচে থাকা চিরহিমায়িত স্তর। মেরু অঞ্চলের এমন মাটিকে বলা হয় চিরহিমায়িত মাটি—যে মাটি অন্তত টানা দুই বছর শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচের তাপমাত্রায় থাকে। স্বালবার্ডের মতো উচ্চ অক্ষাংশের অঞ্চলে এই জমাট স্তর মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। গ্রীষ্মে ভূমির একেবারে ওপরের কিছু অংশ সাময়িকভাবে গলে গেলেও নিচের বিশাল অংশ জমাটই থেকে যায়। ফলে সাধারণ অঞ্চলের মতো মাটি খুঁড়ে সহজে গভীর কবর তৈরি করা এখানে সম্ভব নয়।
সাধারণ কবরস্থানে মৃতদেহ মাটির যথেষ্ট গভীরে সমাহিত করা হয়। কিন্তু লংইয়ারবিয়েনের জমাট মাটিতে খনন করতে গেলে খুব দ্রুত শক্ত বরফমিশ্রিত স্তরের মুখোমুখি হতে হয়। এই স্তর অনেকটা প্রাকৃতিকভাবে জমাট বাঁধা শক্ত কাঠামোর মতো আচরণ করে। আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে এটি কাটা সম্ভব হলেও কাজটি সাধারণ কবর খোঁড়ার তুলনায় অনেক বেশি কঠিন। শুধু গর্ত তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। মাটি, বরফ, তাপমাত্রা, পানির প্রবাহ এবং মৌসুমি গলনের কারণে দীর্ঘমেয়াদে কবরের স্থিতিশীলতাও বিবেচনা করতে হয়।
আরও বড় সমস্যা হলো মৃতদেহের স্বাভাবিক পচনপ্রক্রিয়া। উষ্ণ বা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের মাটিতে সমাহিত মৃতদেহ ধীরে ধীরে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, ক্ষুদ্র জীব এবং রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে পচে যায়। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, অক্সিজেন এবং মাটির প্রকৃতি এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। কিন্তু অত্যন্ত ঠান্ডা পরিবেশে জীবাণুর কার্যকলাপ অনেক কমে যায়। ফলে চিরহিমায়িত মাটিতে থাকা জৈব পদার্থ বহু দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাভাবিকভাবে সংরক্ষিত থাকতে পারে।
এই বৈশিষ্ট্য লংইয়ারবিয়েনের পুরোনো কবরস্থানকে বিশেষভাবে আলোচিত করেছে। শহরটির ইতিহাস কয়লাখনির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এখানে স্থায়ী বসতি ও খনিশিল্পের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে একটি ছোট কবরস্থানও তৈরি হয়। কঠোর আবহাওয়া, খনির দুর্ঘটনা এবং রোগে মারা যাওয়া মানুষদের মধ্যে কয়েকজনকে সেখানে সমাহিত করা হয়েছিল। তুষারের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ সাদা ক্রুশগুলো আজও লংইয়ারবিয়েনের অতীতের নীরব সাক্ষী।
বিশেষভাবে আলোচিত হয় ১৯১৮ সালের ভয়াবহ মহামারির সময় স্বালবার্ডে মারা যাওয়া কয়েকজন মানুষের কবর। সেই বিশ্বব্যাপী মহামারিতে কোটি কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল। লংইয়ারবিয়েনের চিরহিমায়িত মাটিতে সমাহিত কিছু মানুষের দেহাবশেষ দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা পরে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ সৃষ্টি করে। বিজ্ঞানীরা আশা করেছিলেন, এসব দেহাবশেষ পরীক্ষা করে সেই সময়ের রোগজীবাণু সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এই ঘটনাই পরবর্তী সময়ে জনপ্রিয় সংবাদ ও গল্পে লংইয়ারবিয়েনের “মৃতদেহ পচে না” ধারণাকে আরও বিখ্যাত করে তোলে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বুঝতে হবে। চিরহিমায়িত মাটিতে পচন ধীর হওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি মৃতদেহ শত বছর ধরে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় থাকে। মৃতদেহের সংরক্ষণ নির্ভর করে কবরের গভীরতা, তাপমাত্রা, মাটির আর্দ্রতা, অক্সিজেনের উপস্থিতি, কফিনের অবস্থা এবং মৌসুমি গলনের মতো বহু বিষয়ের ওপর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পচন অত্যন্ত ধীর হতে পারে, আবার অন্য ক্ষেত্রে পরিবর্তন তুলনামূলক দ্রুত ঘটতে পারে। তাই লংইয়ারবিয়েনের মাটি মৃতদেহকে নিশ্চিতভাবে “চিরদিনের জন্য সংরক্ষণ করে”—এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে অতিরঞ্জিত।
লংইয়ারবিয়েন সম্পর্কে বহুল প্রচলিত আরেকটি দাবি হলো, শহরটিতে নাকি মারা যাওয়া বেআইনি। পর্যটনবিষয়ক লেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কৌতূহলোদ্দীপক তথ্যের তালিকায় প্রায়ই বলা হয়, “লংইয়ারবিয়েনে মৃত্যু নিষিদ্ধ।” কথাটি আকর্ষণীয় হলেও আক্ষরিক অর্থে সত্য নয়। কোনো মানুষ কখন মারা যাবেন, সেটি আইন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় এবং সেখানে স্বাভাবিকভাবেই দুর্ঘটনা বা আকস্মিক অসুস্থতায় মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। বাস্তব বিষয় হলো, গুরুতর অসুস্থ বা জীবনের শেষ পর্যায়ে থাকা মানুষদের সাধারণত নরওয়ের মূল ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং মৃত্যুর পরও অনেক ক্ষেত্রে মৃতদেহ মূল ভূখণ্ডে পাঠানো হয়।
এর পেছনে শুধু কবরের সমস্যা নয়, চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। লংইয়ারবিয়েন একটি ছোট ও বিচ্ছিন্ন জনবসতি। সেখানে প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও বড় শহরের মতো পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত হাসপাতাল নেই। জটিল অস্ত্রোপচার, দীর্ঘমেয়াদি নিবিড় পরিচর্যা কিংবা জীবনের শেষ পর্যায়ের বিস্তৃত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত। গুরুতর রোগীকে তাই প্রয়োজন অনুযায়ী মূল ভূখণ্ডের বড় চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। এর ফলে অনেক দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তি শেষ পর্যন্ত লংইয়ারবিয়েনে অবস্থান করেন না।
কেউ লংইয়ারবিয়েনে মারা গেলে মৃতদেহের ব্যবস্থাপনাও তাই মূল ভূখণ্ডের সাধারণ শহরের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ করার পর মৃতদেহ নরওয়ের মূল ভূখণ্ডে পাঠিয়ে সেখানে শেষকৃত্য বা সমাধির ব্যবস্থা করা হতে পারে। দ্বীপপুঞ্জটির ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে বিমান যোগাযোগ এই ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি ছোট মেরু শহরের জন্য এটি অস্বাভাবিক মনে হলেও বাস্তবে পরিবহননির্ভর জীবন লংইয়ারবিয়েনের দৈনন্দিন বাস্তবতারই অংশ।
পুরোনো কবরস্থানে নতুন মৃতদেহ সমাহিত করার সীমাবদ্ধতার আরেকটি কারণ হলো স্থান। শহরটির চারপাশের ভূমি সাধারণ নগর এলাকার মতো নয়। একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে উপত্যকা, তুষারধসের ঝুঁকি, চিরহিমায়িত মাটি এবং কঠিন আবহাওয়া—সব মিলিয়ে স্থাপনা বা কবরস্থান তৈরির উপযোগী জমি সীমিত। উপরন্তু, মাটির তাপমাত্রা পরিবর্তিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভূমির কাঠামোও পরিবর্তিত হতে পারে।
চিরহিমায়িত মাটির ওপর নির্মিত শহরগুলোর জন্য এই পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বরফসমৃদ্ধ জমাট মাটি গলতে শুরু করলে তার আয়তন ও দৃঢ়তা পরিবর্তিত হতে পারে। এর ফলে ভূমি বসে যেতে পারে, ঢাল অস্থিতিশীল হতে পারে এবং আগে শক্ত বলে মনে হওয়া জমি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। লংইয়ারবিয়েনের মতো অঞ্চলে তাই বাড়ি, রাস্তা, পাইপলাইন থেকে শুরু করে কবরস্থান পর্যন্ত সবকিছুর ক্ষেত্রেই মাটির আচরণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
জলবায়ু পরিবর্তন এই সমস্যাকে আরও জটিল করছে। উচ্চ উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলোতে উষ্ণায়নের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। চিরহিমায়িত মাটির ওপরের সক্রিয় স্তর আগের তুলনায় বেশি গভীর পর্যন্ত গললে মাটির স্থিতিশীলতা বদলে যেতে পারে। পুরোনো কবরগুলোর ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। অর্থাৎ যে চিরহিমায়িত পরিবেশ একসময় দেহাবশেষ ও মাটির কাঠামোকে দীর্ঘ সময় স্থির রেখেছিল, সেই পরিবেশ ভবিষ্যতে একই রকম থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
এই কারণেই লংইয়ারবিয়েনের কবর দেওয়ার সমস্যাকে শুধু “মাটি খুব শক্ত” বলে ব্যাখ্যা করলে পুরো বিষয়টি বোঝা যায় না। এখানে একই সঙ্গে কাজ করছে ভূতত্ত্ব, জীবাণুবিজ্ঞান, আবহাওয়া, চিকিৎসাব্যবস্থা, পরিবহন, নগর পরিকল্পনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন। একটি মৃতদেহ কোথায় সমাহিত হবে—অন্য শহরে যা তুলনামূলক সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, লংইয়ারবিয়েনে সেটিই হয়ে ওঠে ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বাস্তবতার প্রশ্ন।
চিরহিমায়িত মাটিতে সমাধির আরেকটি ব্যবহারিক সমস্যা হলো কবরের ওপরের মাটির আচরণ। সাধারণ মাটিতে কবর খোঁড়ার পর তুলে রাখা মাটি আবার গর্তে ভরে দেওয়া যায় এবং সময়ের সঙ্গে সেটি বসে যায়। কিন্তু বরফমিশ্রিত মাটিতে খননের ফলে জমাট স্তরের তাপীয় ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। গ্রীষ্মের গলন ও শীতের পুনরায় জমাট বাঁধার চক্র মাটিকে ওপরে ঠেলে দিতে বা অসমভাবে বসিয়ে দিতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে কবরের অবস্থান ও কাঠামো বজায় রাখাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
স্বালবার্ডের পরিবেশে মৃতদেহের বিষয়টি মানুষের বসতি স্থাপনের সীমাবদ্ধতাকেও প্রকাশ করে। আধুনিক প্রযুক্তি মানুষকে পৃথিবীর অত্যন্ত প্রতিকূল অঞ্চলেও শহর নির্মাণের সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু প্রকৃতির সব নিয়ম বদলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। লংইয়ারবিয়েনে ঘরবাড়ি বিশেষ ভিত্তির ওপর নির্মাণ করতে হয়, পানির ও বর্জ্যের ব্যবস্থা আলাদাভাবে ভাবতে হয়, বাইরে বের হলে মেরু ভালুকের ঝুঁকি বিবেচনা করতে হয় এবং এমনকি মৃত্যুর পর মানুষের দেহ কোথায় থাকবে, সেটিও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করতে হয়।
শহরটির পুরোনো কবরস্থান তাই শুধু মৃতদের বিশ্রামস্থল নয়; এটি লংইয়ারবিয়েনের ইতিহাসের একটি দৃশ্যমান দলিল। তুষারে ঘেরা সাদা ক্রুশগুলোর পেছনে রয়েছে কয়লাখনির যুগ, বিচ্ছিন্ন মেরু বসতির কঠোর জীবন, দুর্ঘটনা, রোগ এবং এমন এক ভূপ্রকৃতি যেখানে মানুষের জীবনযাত্রা প্রতিটি পর্যায়ে প্রকৃতির শর্ত মেনে চলে। আধুনিক লংইয়ারবিয়েন গবেষণা, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতির কারণে অনেক বদলে গেলেও এই কবরস্থান পুরোনো বসতির কঠিন বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দেয়।
এ কারণেই “লংইয়ারবিয়েনে মানুষকে কবর দেওয়া যায় না” কথাটিও পুরোপুরি সঠিক নয়। অধিক নির্ভুলভাবে বলা উচিত, সেখানে প্রচলিত কফিনে মৃতদেহ সমাহিত করার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত এবং পুরোনো কবরস্থানে সাধারণভাবে নতুন কফিন সমাধি দেওয়া হয় না। বিশেষ পরিস্থিতি ও স্থানীয় বিধিব্যবস্থার অধীনে দাহের পর ছাই সমাহিত করার মতো ব্যবস্থা আলাদা হতে পারে। অর্থাৎ বিষয়টি কোনো রহস্যময় নিষেধাজ্ঞা নয়; এটি মূলত স্থানীয় পরিবেশ, কবরস্থানের বিধি এবং বাস্তব ব্যবস্থাপনার ফল।
একইভাবে, লংইয়ারবিয়েনে কেউ মারা গেলেই তাঁর দেহ সঙ্গে সঙ্গে বরফের মধ্যে অক্ষত হয়ে যায়—এমন ধারণাও ভুল। মৃত্যু ঘটলে চিকিৎসক, কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। প্রয়োজনে মৃতদেহ সংরক্ষণ এবং পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়। পার্থক্য হলো, স্থানীয়ভাবে প্রচলিত কফিন সমাধি করার পরিবর্তে মৃত ব্যক্তিকে মূল ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
লংইয়ারবিয়েনের এই বাস্তবতা আমাদের সামনে একটি গভীর বৈপরীত্য তুলে ধরে। পৃথিবীর অধিকাংশ সমাজে কবরস্থানকে স্থায়ী জায়গা হিসেবে ভাবা হয়—মানুষ মারা গেলে নিজের শহর বা গ্রামের মাটিতে সমাহিত হবে। কিন্তু পৃথিবীর উচ্চ উত্তরাঞ্চলের এই ছোট শহরে মাটিই সেই পরিচিত নিয়মকে কঠিন করে তুলেছে। যে বরফ মানুষকে সেখানে বেঁচে থাকার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করে, মৃত্যুর পরও সেই বরফই শেষ আশ্রয়ের ধরন নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
তাই লংইয়ারবিয়েনের গল্প আসলে “যে শহরে মারা যাওয়া নিষিদ্ধ” এমন কোনো অদ্ভুত আইনের গল্প নয়। এটি এমন একটি মেরু জনপদের গল্প, যেখানে চিরহিমায়িত মাটি খনন কঠিন করে, প্রচণ্ড ঠান্ডা জৈব পচনকে ধীর করে, সীমিত চিকিৎসাসেবা গুরুতর রোগীদের মূল ভূখণ্ডে স্থানান্তরের প্রয়োজন সৃষ্টি করে এবং স্থানীয় পরিবেশ প্রচলিত কফিন সমাধিকে অত্যন্ত সীমিত করে দেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উষ্ণায়নের কারণে পরিবর্তিত হতে থাকা চিরহিমায়িত ভূমি। ফলে লংইয়ারবিয়েনে মৃত্যু নিষিদ্ধ নয়—কিন্তু মৃত্যুর পর মানুষের জন্য স্থায়ীভাবে সেই মাটির নিচে থেকে যাওয়া পৃথিবীর অধিকাংশ স্থানের তুলনায় অনেক বেশি জটিল।
একটি বজ্রপাতের তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠের চেয়েও বেশি হতে পারে কীভাবে? বজ্রবিদ্যুতের ভেতরের বিস্ময়কর বিজ্ঞান
বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো হোটেল: ১,৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কীভাবে চলছে জাপানের নিশিয়ামা ওনসেন কেইউনকান?
গ্রেট ব্লু হোল: সমুদ্রের মাঝখানে বিশাল নীল গর্ত কীভাবে তৈরি হলো?
লংস্টোন বাতিঘর ও গ্রেস ডার্লিং: এক তরুণীর অবিশ্বাস্য সমুদ্র উদ্ধার অভিযানের ইতিহাস
বিশপ রক বাতিঘর: আটলান্টিকের ক্ষুদ্র পাথুরে দ্বীপে নির্মিত ব্রিটিশ প্রকৌশলের বিস্ময়
ফাস্টনেট বাতিঘর: আয়ারল্যান্ডের ‘টিয়ারড্রপ’ পাথরে দাঁড়িয়ে থাকা আটলান্টিকের কিংবদন্তি প্রহরী