বাংলায় জানার নতুন ঠিকানা

বুদা ক্যাসেল: হাঙ্গেরির রাজা, অটোমান দখল ও বিপ্লবের সাক্ষী রাজপ্রাসাদের ইতিহাস

সিরিজ: বিশ্বের কিংবদন্তি দুর্গ ও প্রাসাদ

বুদা ক্যাসেল: হাঙ্গেরির রাজা, অটোমান দখল ও বিপ্লবের সাক্ষী রাজপ্রাসাদের ইতিহাস
বুদা ক্যাসেল—রাজত্ব, দখল ও বিপ্লবের নীরব সাক্ষী

দানিয়ুব নদীর পশ্চিম তীরে বুদাপেস্টের ক্যাসেল হিলের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বুদা ক্যাসেলকে আজ দেখলে প্রথমেই চোখে পড়ে এর বিশাল রাজপ্রাসাদ, দীর্ঘ সম্মুখভাগ এবং শহরের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা অবস্থান। কিন্তু বর্তমান প্রাসাদের শান্ত সৌন্দর্যের আড়ালে রয়েছে বহুবার ধ্বংস, দখল, অবরোধ ও পুনর্নির্মাণের ইতিহাস। মধ্যযুগীয় হাঙ্গেরীয় রাজাদের রাজধানী থেকে অটোমান সাম্রাজ্যের দুর্গ, হ্যাবসবার্গ রাজপ্রাসাদ, ১৮৪৮–৪৯ সালের বিপ্লবের যুদ্ধক্ষেত্র এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ—বুদা ক্যাসেলের পরিচয় বারবার বদলেছে।

বুদা পাহাড়ে রাজকীয় দুর্গ গড়ে ওঠার ইতিহাস বিশেষভাবে যুক্ত ১২৪১–৪২ সালের মঙ্গোল আক্রমণের সঙ্গে। মঙ্গোল বাহিনীর হাতে হাঙ্গেরি বিপর্যস্ত হওয়ার পর রাজা চতুর্থ বেলা উপলব্ধি করেন যে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় শক্তিশালী পাথরের দুর্গ অত্যন্ত জরুরি। তাঁর শাসনামলে ত্রয়োদশ শতকের মাঝামাঝি বুদার পাহাড়ে একটি সুরক্ষিত বসতি ও রাজকীয় কেন্দ্র গড়ে উঠতে থাকে। পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে এটিই ক্রমে হাঙ্গেরীয় রাজশক্তির অন্যতম প্রধান আসনে পরিণত হয়।

বুদার ভৌগোলিক অবস্থান ছিল অসাধারণ। উঁচু পাহাড় থেকে দানিয়ুব নদী এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা যেত। নদী ছিল মধ্য ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও যোগাযোগপথ। ফলে বুদাকে নিয়ন্ত্রণ করা মানে শুধু একটি দুর্গ দখল করা নয়; হাঙ্গেরির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। এই কৌশলগত গুরুত্বই পরবর্তী কয়েক শতাব্দীতে দুর্গটিকে বারবার যুদ্ধের কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

চতুর্দশ শতকে হাঙ্গেরীয় রাজদরবারের গুরুত্ব বুদায় আরও বৃদ্ধি পায়। তবে দুর্গের স্থাপত্যিক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলোর একটি আসে লুক্সেমবার্গের রাজা সিগিসমুন্ডের সময়। তিনি হাঙ্গেরির রাজা হওয়ার পাশাপাশি পরে পবিত্র রোমান সম্রাটও হন। চতুর্দশ শতকের শেষভাগ ও পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগে তাঁর সময় বুদার রাজপ্রাসাদ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়। বিশাল হল, রাজকীয় কক্ষ, প্রাচীর, টাওয়ার এবং আনুষ্ঠানিক স্থাপনার মাধ্যমে এটি মধ্য ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ রাজপ্রাসাদগুলোর একটিতে পরিণত হয়।

এরপর বুদা ক্যাসেল প্রবেশ করে তার অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায়ে—রাজা ম্যাথিয়াস করভিনাসের শাসনামলে। ১৪৫৮ থেকে ১৪৯০ সাল পর্যন্ত শাসন করা ম্যাথিয়াস শুধু একজন শক্তিশালী রাজাই ছিলেন না; তিনি ইতালীয় রেনেসাঁ সংস্কৃতি, শিল্প ও মানবতাবাদী জ্ঞানচর্চারও বড় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁর সময় বুদার রাজদরবারে ইতালি থেকে শিল্পী, স্থপতি ও পণ্ডিতদের আগমন ঘটে এবং পুরোনো গথিক রাজপ্রাসাদের সঙ্গে রেনেসাঁ নকশা ও অলংকরণ যুক্ত হতে থাকে।

ম্যাথিয়াসের বিখ্যাত Bibliotheca Corviniana ছিল ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজকীয় গ্রন্থাগার। অসাধারণ অলংকৃত পাণ্ডুলিপি ও ধ্রুপদি জ্ঞানের সংগ্রহের কারণে এটি সমসাময়িক ইউরোপে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিল। বুদা তখন শুধু সামরিক বা প্রশাসনিক রাজধানী ছিল না; এটি মধ্য ইউরোপে রেনেসাঁ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। আজকের প্রাসাদ দেখে সেই রাজদরবারের মূল রূপ বোঝা কঠিন, কারণ পরবর্তী যুদ্ধগুলো মধ্যযুগীয় ও রেনেসাঁ প্রাসাদের বড় অংশই ধ্বংস করে দেয়।

হাঙ্গেরির ভাগ্য নাটকীয়ভাবে বদলে যায় ১৫২৬ সালের মোহাচের যুদ্ধে। অটোমান সুলতান প্রথম সুলেমানের বাহিনীর কাছে হাঙ্গেরীয় সেনাবাহিনী ভয়াবহভাবে পরাজিত হয় এবং রাজা দ্বিতীয় লুই নিহত হন। এই পরাজয়ের পর হাঙ্গেরীয় সিংহাসন নিয়ে সংঘাত শুরু হয় এবং দেশ রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বুদাও একাধিকবার হাতবদল হয়।

অবশেষে ১৫৪১ সালে অটোমানরা বুদা স্থায়ীভাবে দখল করে। ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অটোমান বাহিনী শহরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর বুদা প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে অটোমান শাসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সামরিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। পুরোনো রাজপ্রাসাদ আর হাঙ্গেরীয় রাজাদের জাঁকজমকপূর্ণ দরবার হিসেবে ব্যবহৃত হতো না। এর বিভিন্ন অংশ সামরিক কাজে, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতে থাকে।

অটোমান যুগে বুদা শহরের চরিত্রও বদলে যায়। মসজিদ, স্নানাগার এবং অটোমান নগরজীবনের অন্যান্য উপাদান গড়ে ওঠে। তবে পুরোনো রাজপ্রাসাদ যথাযথ রাজকীয় রক্ষণাবেক্ষণ হারায়। যে প্রাসাদ একসময় ম্যাথিয়াস করভিনাসের রেনেসাঁ রাজদরবারের প্রতীক ছিল, সেটি ধীরে ধীরে মূলত একটি সামরিক দুর্গে পরিণত হয়। যুদ্ধ, অবহেলা এবং বিস্ফোরণে এর বহু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সপ্তদশ শতকের শেষভাগে হ্যাবসবার্গ ও তাদের মিত্ররা অটোমানদের মধ্য ইউরোপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বড় সামরিক অভিযান শুরু করে। এর চূড়ান্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আসে ১৬৮৬ সালের বুদা অবরোধে। দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর খ্রিষ্টীয় জোটের বাহিনী অটোমানদের কাছ থেকে বুদা পুনর্দখল করে। কিন্তু বিজয়ের মূল্য ছিল বিশাল। গোলাবর্ষণ, আগুন, বিস্ফোরণ এবং সরাসরি যুদ্ধের কারণে মধ্যযুগীয় রাজপ্রাসাদ ও দুর্গের বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

এই ধ্বংসের কারণে বর্তমান বুদা ক্যাসেলকে সরাসরি ম্যাথিয়াস করভিনাসের প্রাসাদ মনে করা ভুল। আজ যে বিশাল রাজপ্রাসাদ দেখা যায়, তার বড় অংশই অটোমান যুগের পর হ্যাবসবার্গদের নির্মাণ ও পরবর্তী সম্প্রসারণের ফল। পুরোনো মধ্যযুগীয় স্থাপনার অনেক অংশ মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় বা নতুন ভবনের ভিত্তির মধ্যে হারিয়ে যায়।

অষ্টাদশ শতকে হ্যাবসবার্গ শাসকেরা বুদায় নতুন বারোক রাজপ্রাসাদ নির্মাণ শুরু করেন। বিশেষ করে সম্রাজ্ঞী মারিয়া তেরেসার সময় প্রাসাদটি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়। তবে ভিয়েনাই ছিল হ্যাবসবার্গ সাম্রাজ্যের প্রধান রাজদরবার, তাই বুদার নতুন প্রাসাদ সবসময় সম্রাটের নিয়মিত আবাস ছিল না। তবুও এর বিশালতা ও স্থাপত্য হাঙ্গেরির ওপর হ্যাবসবার্গ রাজশক্তির উপস্থিতির একটি শক্তিশালী প্রতীক হয়ে ওঠে।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি এই রাজশক্তির বিরুদ্ধে হাঙ্গেরীয় জাতীয়তাবাদ বিস্ফোরিত হয়। ১৮৪৮ সালের হাঙ্গেরীয় বিপ্লব স্বাধীনতা, সাংবিধানিক অধিকার এবং হ্যাবসবার্গ কর্তৃত্ব থেকে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে সামনে নিয়ে আসে। সংঘাত দ্রুত যুদ্ধে পরিণত হয়। ১৮৪৯ সালে হাঙ্গেরীয় বাহিনী হ্যাবসবার্গ নিয়ন্ত্রিত বুদা দুর্গ অবরোধ করে এবং তীব্র লড়াইয়ের পর তা দখল করে। গোলাবর্ষণে রাজপ্রাসাদ আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যদিও হাঙ্গেরীয় স্বাধীনতার সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত রুশ সামরিক সহায়তায় হ্যাবসবার্গদের হাতে দমন হয়, ১৮৪৮–৪৯ সালের ঘটনা হাঙ্গেরির জাতীয় স্মৃতিতে গভীর স্থান দখল করে। বুদা ক্যাসেলও তাই শুধু রাজাদের প্রাসাদ নয়; রাজতান্ত্রিক কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে হাঙ্গেরীয় রাজনৈতিক সংগ্রামেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।

১৮৬৭ সালের অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সমঝোতার পর পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি দ্বৈত রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের ভেতরে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন লাভ করে। বুদাপেস্ট দ্রুত আধুনিক ইউরোপীয় রাজধানীতে রূপ নিতে শুরু করে এবং বুদা রাজপ্রাসাদকে হাঙ্গেরীয় রাজতন্ত্রের মর্যাদার উপযোগী করে বিশালভাবে সম্প্রসারণ করা হয়।

ঊনবিংশ শতকের শেষভাগ ও বিংশ শতকের শুরুতে মিকলোশ ইবল এবং পরে আলাইওশ হাউসমানের মতো স্থপতিরা প্রাসাদের নতুন রূপ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশাল গম্বুজ, দীর্ঘ রাজকীয় সম্মুখভাগ, আনুষ্ঠানিক সিঁড়ি, জাঁকজমকপূর্ণ হল এবং সমৃদ্ধ অভ্যন্তরীণ সজ্জা বুদা ক্যাসেলকে আবার ইউরোপীয় রাজপ্রাসাদের মর্যাদা দেয়। শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধ্বংসের পর যেন রাজপ্রাসাদটি আবার তার হারানো জৌলুশ ফিরে পেয়েছিল।

কিন্তু সেই জৌলুশ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং হাঙ্গেরির রাজনৈতিক কাঠামো আমূল বদলে যায়। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বুদা ক্যাসেলের ইতিহাসে আরেকটি ভয়াবহ ধ্বংস নিয়ে আসে।

১৯৪৪ সালের শেষভাগ থেকে ১৯৪৫ সালের শুরু পর্যন্ত সংঘটিত বুদাপেস্টের যুদ্ধ ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম বিধ্বংসী নগরযুদ্ধ। জার্মান ও হাঙ্গেরীয় বাহিনীর একটি বড় অংশ ক্যাসেল হিল এলাকায় অবস্থান নেয় এবং সোভিয়েত বাহিনী শহর ঘিরে ফেলে। দীর্ঘ অবরোধ ও তীব্র যুদ্ধের সময় বুদা ক্যাসেল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছাদ ধসে পড়ে, অভ্যন্তর পুড়ে যায়, রাজকীয় কক্ষ ধ্বংস হয় এবং প্রাসাদের বহু মূল্যবান অলংকরণ হারিয়ে যায়।

বুদা ক্যাসেলের ইতিহাসে এটি ছিল আরেকটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুহূর্ত। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ধ্বংসই আবার প্রত্নতাত্ত্বিকদের সামনে পুরোনো মধ্যযুগীয় প্রাসাদের বহু চাপা পড়া অংশ উন্মুক্ত করে দেয়। যুদ্ধ-পরবর্তী খননে গথিক স্থাপত্যের অংশ, ভাস্কর্য, প্রাচীর এবং ম্যাথিয়াস করভিনাসের যুগের বিভিন্ন নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়।

কমিউনিস্ট শাসনামলে প্রাসাদ পুনর্নির্মাণ করা হলেও রাজকীয় যুগের অনেক অভ্যন্তরীণ অলংকরণ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়নি। পুনর্গঠনের সময় ভবনটিকে নতুন সাংস্কৃতিক ও জাদুঘরভিত্তিক ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। ফলে বর্তমান বুদা ক্যাসেলের বাইরের রাজকীয় রূপ এবং ভেতরের বিন্যাসের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। পরবর্তী সময়ে এর বিভিন্ন অংশে হাঙ্গেরিয়ান ন্যাশনাল গ্যালারি, বুদাপেস্ট হিস্ট্রি মিউজিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান স্থান পায়।

বুদা ক্যাসেলের বিশেষত্ব এখানেই—এটি কোনো একটি যুগের নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত প্রাসাদ নয়। বরং এর বর্তমান অস্তিত্বই বহুবার ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণের ফল। ত্রয়োদশ শতকের প্রতিরক্ষা প্রয়োজন, সিগিসমুন্ডের গথিক রাজপ্রাসাদ, ম্যাথিয়াসের রেনেসাঁ দরবার, অটোমান সামরিক দখল, হ্যাবসবার্গ বারোক পুনর্গঠন, হাঙ্গেরীয় বিপ্লব, অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় রাজকীয় সম্প্রসারণ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ—প্রতিটি যুগ এর ওপর নিজের ছাপ রেখে গেছে।

দানিয়ুবের ওপার থেকে রাতে আলোকিত বুদা ক্যাসেল দেখলে এই রক্তক্ষয়ী অতীত সহজে কল্পনা করা যায় না। কিন্তু এই শান্ত রাজপ্রাসাদের নিচে ও চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন শতাব্দীর দেয়াল, ধ্বংসাবশেষ ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্তর। একই পাহাড়ে রাজারা রাজত্ব করেছেন, অটোমান সৈন্যরা পাহারা দিয়েছে, বিপ্লবীরা যুদ্ধ করেছে এবং আধুনিক যুদ্ধের গোলাবর্ষণে প্রাসাদ ধ্বংস হয়েছে।

এই কারণেই বুদা ক্যাসেল শুধু হাঙ্গেরির সবচেয়ে পরিচিত রাজপ্রাসাদগুলোর একটি নয়; এটি দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বিশাল পাথুরে দলিল। রাজা ম্যাথিয়াস করভিনাসের রেনেসাঁ স্বর্ণযুগ থেকে ১৫৪১ সালের অটোমান দখল, ১৬৮৬ সালের পুনর্দখল, ১৮৪৮–৪৯ সালের বিপ্লব এবং ১৯৪৪–৪৫ সালের বুদাপেস্ট যুদ্ধ—হাঙ্গেরির ইতিহাসের অসংখ্য মোড় এই একই পাহাড়কে স্পর্শ করেছে। তাই বুদা ক্যাসেলের সবচেয়ে বিস্ময়কর গল্প তার রাজকীয় সৌন্দর্য নয়, বরং বারবার ধ্বংস হওয়ার পরও নতুন যুগের সঙ্গে নতুন রূপে ফিরে আসার অসাধারণ ইতিহাস।


আপনার পছন্দ হতে পারে