মুঘল সাম্রাজ্যের সিংহাসনের ষড়যন্ত্র: শাহজাহানের চার পুত্রের রক্তাক্ত ক্ষমতার লড়াই
সিরিজ: ইতিহাসের আড়ালে ষড়যন্ত্রের রহস্য
শাহজাহানের চার পুত্রের রক্তাক্ত সিংহাসন-সংগ্রাম
১৬৫৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুঘল সম্রাট শাহজাহান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সাম্রাজ্যের ভেতরে এমন এক রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়, যা কয়েক বছরের মধ্যেই মুঘল রাজপরিবারকে রক্তাক্ত সংঘর্ষে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। তখন শাহজাহান জীবিত, তার সাম্রাজ্যও শক্তিশালী; কিন্তু মুঘলদের উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় এমন কোনো কঠোর নিয়ম ছিল না যে সম্রাটের জ্যেষ্ঠ পুত্রই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী সম্রাট হবেন। ফলে সম্রাটের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার চার জীবিত পুত্র—দারা শিকোহ, শাহ সুজা, আওরঙ্গজেব ও মুরাদ বখশ—বুঝতে পারেন যে সামনে শুধু উত্তরাধিকার নির্বাচন নয়, বরং অস্তিত্বের লড়াই অপেক্ষা করছে।
মুঘল সাম্রাজ্যে সিংহাসনের উত্তরাধিকার ছিল অত্যন্ত নির্মম রাজনৈতিক বাস্তবতার বিষয়। রাজপুত্রদের প্রত্যেকেই নিজেকে তৈমুরীয় রাজবংশের বৈধ উত্তরাধিকারী মনে করতে পারতেন। সম্রাট জীবিত অবস্থায় কোনো পুত্রকে বিশেষ মর্যাদা দিলেও অন্য রাজপুত্ররা তা মেনে নিতে বাধ্য ছিলেন না। সিংহাসন উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার চেয়ে শক্তি দিয়ে অর্জন করার প্রবণতাই ছিল বেশি কার্যকর। এই ব্যবস্থার ফলে একজন সম্রাটের মৃত্যু বা দুর্বলতার সময় রাজপরিবারের ভেতরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রায়ই গৃহযুদ্ধে রূপ নিত।
চার ভাইয়ের মধ্যে দারা শিকোহ ছিলেন শাহজাহানের সবচেয়ে প্রিয় পুত্র এবং কার্যত মনোনীত উত্তরাধিকারীর মতো অবস্থানে থাকা রাজপুত্র। তিনি দীর্ঘ সময় সম্রাটের কাছাকাছি ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় দরবারে তার প্রভাব ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। শাহজাহানের জ্যেষ্ঠ কন্যা জাহানারা বেগমও দারার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু এখানেই দারার একটি দুর্বলতা ছিল—তিনি রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনীতিতে শক্তিশালী হলেও তার ভাইদের মতো দীর্ঘদিন স্বাধীনভাবে প্রদেশ শাসন ও বড় সামরিক অভিযান পরিচালনার অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
অন্যদিকে আওরঙ্গজেব ছিলেন অত্যন্ত অভিজ্ঞ সেনাপতি ও প্রশাসক। দাক্ষিণাত্যসহ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং যুদ্ধক্ষেত্র, প্রশাসন ও রাজদরবারের জটিল রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। শাহ সুজা তখন বাংলার সুবাদার এবং পূর্বাঞ্চলে তার নিজস্ব ক্ষমতার ভিত্তি ছিল। কনিষ্ঠ মুরাদ বখশ গুজরাটে অবস্থান করছিলেন। অর্থাৎ চার ভাই শুধু রাজপুত্র ছিলেন না; তাদের হাতে অর্থ, সৈন্য, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার কাঠামোও ছিল।
শাহজাহানের অসুস্থতার প্রকৃত অবস্থা নিয়ে সাম্রাজ্যের দূরবর্তী অঞ্চলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এমনকি সম্রাট মারা গেছেন—এমন গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। দারা শিকোহ রাজধানীতে থাকার কারণে তথ্যপ্রবাহ ও দরবারের ওপর বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাইদের কাছে এই পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হয়। শাহজাহানের অসুস্থতা তাই চার ভাইয়ের বহুদিনের অবিশ্বাসকে প্রকাশ্য সিংহাসন-সংগ্রামে পরিণত করে।
শাহ সুজা দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তিনি বাংলায় নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেন। অন্যদিকে গুজরাটে মুরাদ বখশও নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করেন। কিন্তু সবচেয়ে হিসাবি পদক্ষেপ নেন আওরঙ্গজেব। তিনি সরাসরি এককভাবে সিংহাসন দাবি করে অগ্রসর না হয়ে প্রথমে মুরাদের সঙ্গে জোট গড়েন। দুই ভাইয়ের স্বার্থ তখন একই—দারাকে পরাজিত করা। এই জোটের ভেতরেই ভবিষ্যৎ বিশ্বাসঘাতকতার বীজ লুকিয়ে ছিল।
আওরঙ্গজেব মুরাদকে বোঝান যে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ দারা। দুই ভাইয়ের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতাও হয়। কিন্তু পরবর্তী ঘটনা দেখায়, আওরঙ্গজেবের কাছে মুরাদ ছিলেন স্থায়ী অংশীদারের চেয়ে সাময়িকভাবে প্রয়োজনীয় সামরিক সহযোগী। দারাকে সরিয়ে দেওয়ার পর একই সিংহাসনের দুই দাবিদারের দীর্ঘমেয়াদি সহাবস্থান বাস্তবে প্রায় অসম্ভব ছিল।
প্রথম বড় সংঘর্ষগুলোর একটি ঘটে শাহ সুজার বাহিনীর সঙ্গে। দারার পুত্র সুলায়মান শিকোহ এবং রাজা জয় সিংহের নেতৃত্বাধীন সম্রাটপন্থী বাহিনী ১৬৫৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাহাদুরপুরের যুদ্ধে সুজাকে পরাজিত করে। এতে সাময়িকভাবে পূর্ব দিকের বিপদ কমে আসে। কিন্তু পশ্চিম ও দক্ষিণ থেকে এগিয়ে আসা আওরঙ্গজেব-মুরাদ জোট আরও বড় হুমকি হয়ে উঠছিল।
দারার পক্ষে তাদের প্রতিরোধ করতে পাঠানো হয় যোধপুরের মহারাজা যশবন্ত সিংহের নেতৃত্বাধীন বাহিনী। ১৬৫৮ সালের এপ্রিলে উজ্জয়িনীর কাছে ধর্মতের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যশবন্ত সিংহের বাহিনীতে উল্লেখযোগ্য রাজপুত শক্তি থাকলেও আওরঙ্গজেব ও মুরাদের সংগঠিত বাহিনী এবং কার্যকর যুদ্ধকৌশলের সামনে তারা পরাজিত হয়। এই বিজয় আওরঙ্গজেবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রাজধানীর দিকে যাওয়ার পথ অনেকটাই খুলে যায় এবং দারাকে এবার নিজেই প্রধান প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়।
চূড়ান্ত মোড় আসে ২৯ মে ১৬৫৮ সালের সামুগড়ের যুদ্ধে, আগ্রার কাছাকাছি। একদিকে দারা শিকোহের বিশাল বাহিনী, অন্যদিকে আওরঙ্গজেব ও মুরাদের সম্মিলিত শক্তি। দারা যুদ্ধহাতির পিঠে থেকে সেনাবাহিনী পরিচালনা করছিলেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে তিনি হাতি থেকে নেমে আসেন। যুদ্ধক্ষেত্রে সম্রাট বা সেনাপতির হাতি দৃশ্যমান থাকা সৈন্যদের মনোবলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দারাকে আর হাতির ওপর দেখা না যাওয়ায় তার বাহিনীর একটি অংশের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। আওরঙ্গজেব সেই পরিস্থিতির সুবিধা নেন।
সামুগড়ে দারার পরাজয় ছিল মুঘল উত্তরাধিকার যুদ্ধের নির্ণায়ক মুহূর্ত। দারা আগ্রায় ফিরে আসেন, কিন্তু সেখানে অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হবে না বুঝে তিনি দিল্লির দিকে সরে যান। শাহজাহান তখন সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন এবং এখনও বৈধ সম্রাট ছিলেন। কিন্তু সামরিক বিজয় আওরঙ্গজেবকে এমন অবস্থানে নিয়ে যায়, যেখানে পিতার বৈধ কর্তৃত্বের চেয়ে তার নিজের বাহিনীর শক্তিই রাজনৈতিক বাস্তবতা নির্ধারণ করতে শুরু করে।
আওরঙ্গজেব আগ্রার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন এবং শাহজাহানকে আগ্রা দুর্গে কার্যত বন্দি করে রাখেন। যে সম্রাট তাজমহলসহ মুঘল স্থাপত্যের সর্বাধিক পরিচিত যুগের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন, জীবনের শেষ প্রায় আট বছর তাকে নিজের পুত্রের নিয়ন্ত্রণে কাটাতে হয়। জাহানারা বেগম তার সঙ্গে থাকেন। ১৬৬৬ সালে শাহজাহানের মৃত্যু পর্যন্ত তিনি আর সাম্রাজ্যের কার্যকর ক্ষমতায় ফিরতে পারেননি।
এরপর আসে মুরাদ বখশের পালা। দারার বিরুদ্ধে যুদ্ধে মুরাদ ছিলেন আওরঙ্গজেবের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। কিন্তু দারা পরাজিত হওয়ার পর মুরাদ নিজেই সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হন। আওরঙ্গজেব কৌশলে মুরাদকে গ্রেপ্তার করান। পরে তাকে গ্বালিয়র দুর্গে বন্দি রাখা হয় এবং অতীতের একটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় বিচার করা হয়। শেষ পর্যন্ত ১৬৬১ সালে মুরাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। যে ভাইয়ের সঙ্গে জোট বেঁধে আওরঙ্গজেব দিল্লির পথে এগিয়েছিলেন, তাকেই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সমীকরণ থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু দারা তখনও বেঁচে ছিলেন। সামুগড়ের পরাজয়ের পর তিনি উত্তর-পশ্চিম ভারতে সমর্থন সংগ্রহের চেষ্টা করেন। ১৬৫৯ সালের মার্চে দেওরাইয়ের যুদ্ধে আবারও আওরঙ্গজেবের বাহিনীর মুখোমুখি হয়ে তিনি পরাজিত হন। এরপর তার পরিস্থিতি দ্রুত ভেঙে পড়ে। তিনি সিন্ধু অঞ্চলের দিকে পালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত আফগান প্রধান মালিক জিওয়ানের আশ্রয় নেন—যাকে দারা অতীতে সাহায্য করেছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থ আনুগত্যকে পরাজিত করে। জিওয়ান দারাকে আওরঙ্গজেবের লোকদের হাতে তুলে দেন।
দারাকে বন্দি অবস্থায় দিল্লিতে আনা হয় এবং অপমানজনকভাবে শহরের মধ্য দিয়ে প্রদর্শন করা হয়। এটি শুধু একজন পরাজিত ভাইকে অপমান করা ছিল না; এর মধ্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা ছিল—সাম্রাজ্যের পুরোনো সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী এখন সম্পূর্ণ পরাজিত, আর ক্ষমতার কেন্দ্র বদলে গেছে। দারার বিরুদ্ধে ধর্মত্যাগ ও ইসলামী বিশ্বাস থেকে বিচ্যুতির অভিযোগও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়। ১৬৫৯ সালের আগস্টের শেষ দিকে তাকে হত্যা করা হয়। তার কাটা মাথা শাহজাহানের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে বহুল প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে—মুঘল উত্তরাধিকার যুদ্ধের নিষ্ঠুরতার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রতীকগুলোর একটি এটি।
শাহ সুজার ভাগ্যও ভালো হয়নি। তিনি আবার নিজের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন, কিন্তু ১৬৫৯ সালের জানুয়ারিতে খাজওয়ার যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের বাহিনীর কাছে পরাজিত হন। এরপর পূর্ব দিকে সরে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আরাকানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানে তার শেষ পরিণতি নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। সাধারণভাবে মনে করা হয়, আরাকানে স্থানীয় রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে ১৬৬১ সালের দিকে তিনি এবং তার পরিবারের অনেক সদস্য নিহত হন। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি দারা বা মুরাদের মতো স্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ নয়।
এই সংঘর্ষকে শুধু চার ভাইয়ের ব্যক্তিগত শত্রুতা হিসেবে দেখা ভুল হবে। এর পেছনে ছিল মুঘল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার মৌলিক দুর্বলতা। ইউরোপের অনেক রাজতন্ত্রে প্রচলিত জ্যেষ্ঠপুত্রের স্বয়ংক্রিয় উত্তরাধিকারের মতো কঠোর ব্যবস্থা মুঘলদের ছিল না। ফলে প্রতিটি শক্তিশালী রাজপুত্রই সিংহাসনের সম্ভাব্য দাবিদার হতে পারতেন। এর অর্থ ছিল, একজন সম্রাট দুর্বল বা মৃত হলে উত্তরাধিকার প্রশ্নটি আইনি নিয়মের চেয়ে সেনাবাহিনী, সম্পদ, দরবারি জোট এবং ব্যক্তিগত কৌশলের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার ঝুঁকি থাকত।
এখানেই “ষড়যন্ত্র” ও “উত্তরাধিকার যুদ্ধ”কে আলাদা করে বোঝা জরুরি। শাহজাহানের পুত্রদের সংঘর্ষ কোনো একক গোপন ষড়যন্ত্র ছিল না। এটি ছিল প্রকাশ্য গৃহযুদ্ধ, যার ভেতরে অসংখ্য গোপন সমঝোতা, রাজনৈতিক প্রচারণা, বিশ্বাসঘাতকতা ও ক্ষমতার কৌশল কাজ করেছিল। আওরঙ্গজেব ও মুরাদের সাময়িক জোট এবং পরে মুরাদের গ্রেপ্তার, দারার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অভিযোগের ব্যবহার, বিভিন্ন অভিজাত ও সেনাপতির পক্ষ পরিবর্তন—এসব ঘটনাই যুদ্ধটিকে ষড়যন্ত্রপূর্ণ রাজনৈতিক সংঘর্ষে পরিণত করেছিল।
আওরঙ্গজেব শেষ পর্যন্ত আলমগীর উপাধি নিয়ে সম্রাট হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রায় অর্ধশতাব্দী শাসন করেন। কিন্তু তার সিংহাসনে আরোহণের পথ তৈরি হয়েছিল পিতাকে ক্ষমতাহীন বন্দি করা, তিন ভাইকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং একের পর এক যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে। দারা নিহত, মুরাদ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং সুজা নির্বাসনের পথে হারিয়ে যাওয়ার পর আর কোনো ভাই তার সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল না।
শাহজাহানের পুত্রদের এই রক্তাক্ত লড়াই তাই মুঘল ইতিহাসের শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়। এটি দেখায়, যে সাম্রাজ্যের কেন্দ্রে ক্ষমতার উত্তরাধিকার নির্ধারণের স্থায়ী ও সর্বজনস্বীকৃত ব্যবস্থা নেই, সেখানে রাজপরিবারই কখনো কখনো রাষ্ট্রের সবচেয়ে বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে। ১৬৫৭ সালে একজন অসুস্থ পিতাকে ঘিরে যে সন্দেহ শুরু হয়েছিল, মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে তা চার ভাইয়ের ভাগ্য বদলে দেয়—একজন বন্দি সম্রাটের পাশে পড়ে থাকে ভেঙে যাওয়া পরিবার, তিন রাজপুত্র হারিয়ে যান মৃত্যু ও পরাজয়ের মধ্যে, আর আওরঙ্গজেব রক্তাক্ত উত্তরাধিকার যুদ্ধের একমাত্র বিজয়ী হিসেবে মুঘল সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত হন।
বিউমন্ট শিশুদের অন্তর্ধান: সমুদ্রসৈকত থেকে তিন ভাইবোন কীভাবে চিরতরে হারিয়ে গেল?
ওক আইল্যান্ডের রহস্য: শত শত বছর ধরে মানুষ এই দ্বীপে কোন গুপ্তধন খুঁজছে?
ইউনিভার্স ২৫: ইঁদুরের জন্য তৈরি ‘স্বর্গ’ কেন শেষ পর্যন্ত সামাজিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছিল?
চেঙ্গিস খানের সমাধি: পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী বিজেতার কবর আজও কেন খুঁজে পাওয়া যায়নি?
হেসডালেন লাইটস: নরওয়ের উপত্যকার আকাশে রহস্যময় আলো দেখা যায় কেন?
ব্ল্যাক ডালিয়া হত্যাকাণ্ড: এলিজাবেথ শর্টকে কে হত্যা করেছিল—হলিউডের অমীমাংসিত রহস্য