সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ১৯৯১: বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তির ভাঙন ও একটি সাম্রাজ্যের অবসান
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও একটি পরাশক্তির অবসান
১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মস্কোর ক্রেমলিনের ওপর থেকে লাল সোভিয়েত পতাকা নামিয়ে তার পরিবর্তে রাশিয়ার ত্রিবর্ণ পতাকা উত্তোলন করা হয়। একই দিনে মিখাইল গর্বাচেভ সোভিয়েত ইউনিয়নের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। পরদিন, ২৬ ডিসেম্বর, সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বোচ্চ সোভিয়েতের প্রজাতন্ত্র পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্তিত্ব শেষ হয়েছে। পৃথিবীর প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ ভূখণ্ডজুড়ে বিস্তৃত, বিপুল পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের অধিকারী এবং কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রটি পনেরোটি স্বাধীন রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে গেল।
কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ১৯৯১ সালের কয়েকটি নাটকীয় ঘটনার আকস্মিক ফল ছিল না। এর শিকড় ছড়িয়ে ছিল বহু দশকের অর্থনৈতিক দুর্বলতা, কেন্দ্রীয় পরিকল্পিত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক অনমনীয়তা, জাতিগত ও জাতীয় পরিচয়ের সংঘাত, সামরিক ব্যয়ের বিশাল বোঝা এবং রাষ্ট্রের ঘোষিত আদর্শ ও নাগরিকদের দৈনন্দিন বাস্তবতার ক্রমবর্ধমান ব্যবধানের মধ্যে। গর্বাচেভ যখন এই সমস্যাগুলো সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান করতে চাইলেন, তখন তাঁর পদক্ষেপগুলো অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করার বদলে এমন সব রাজনৈতিক শক্তিকে মুক্ত করে দেয়, যেগুলো শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
১৯২২ সালে প্রতিষ্ঠিত সোভিয়েত ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে ছিল বিভিন্ন প্রজাতন্ত্রের একটি সংঘ। রাশিয়া ছিল এর বৃহত্তম ও সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ, কিন্তু এর সঙ্গে ইউক্রেন, বেলারুশ, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, লিথুয়ানিয়া, লাতভিয়া, এস্তোনিয়া এবং আরও কয়েকটি প্রজাতন্ত্র যুক্ত ছিল। সংবিধানে তাদের স্বতন্ত্র প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃতি থাকলেও বাস্তবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত মস্কো এবং সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন পৃথিবীর দুই প্রধান পরাশক্তির একটিতে পরিণত হয়। পূর্ব ইউরোপে তার প্রভাবাধীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর একটি বিশাল বলয় তৈরি হয়। পারমাণবিক অস্ত্র, মহাকাশ কর্মসূচি, বিশাল সেনাবাহিনী এবং দ্রুত ভারী শিল্পায়ন সোভিয়েত শক্তির দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে ওঠে। ১৯৫৭ সালে স্পুতনিক উৎক্ষেপণ এবং ১৯৬১ সালে ইউরি গ্যাগারিনের মহাকাশযাত্রা এমন ধারণা সৃষ্টি করেছিল যে সোভিয়েত ব্যবস্থা প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সমানে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।
এই সাফল্যের নিচে অবশ্য গুরুতর কাঠামোগত দুর্বলতা ছিল। সোভিয়েত অর্থনীতি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার ওপর নির্ভরশীল ছিল। কোন কারখানা কত পণ্য উৎপাদন করবে, কোথায় কত বিনিয়োগ হবে, কোন পণ্যের দাম কত হবে—এসবের বড় অংশ বাজারের চাহিদার পরিবর্তে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হতো। ভারী শিল্প, প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ কর্মসূচিতে এই ব্যবস্থা বিপুল সম্পদ কেন্দ্রীভূত করতে পারলেও সাধারণ ভোক্তা পণ্য, কৃষি, পরিষেবাখাত, উৎপাদনের গুণমান এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ক্রমশ পিছিয়ে পড়তে থাকে।
লিওনিদ ব্রেজনেভের দীর্ঘ শাসনামলে এই দুর্বলতা বিশেষভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ষাটের দশকের শেষভাগ থেকে আশির দশকের শুরু পর্যন্ত সোভিয়েত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমতে থাকে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করাই অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল; পণ্যের মান বা প্রকৃত চাহিদা ছিল গৌণ। আমলাতন্ত্রের বিভিন্ন স্তরে ভুল তথ্য দেওয়া, অপচয়, দুর্নীতি এবং উৎপাদন পরিসংখ্যানকে সুন্দর করে দেখানোর প্রবণতা সমস্যাকে আরও গভীর করেছিল। সরকারি মূল্যে অনেক মৌলিক পণ্য সস্তা থাকলেও সেগুলো সব সময় দোকানে পাওয়া যেত না। ফলে অর্থ থাকা এবং পণ্য পাওয়া একই বিষয় ছিল না।
সোভিয়েত নেতৃত্বকে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যয়বহুল সামরিক প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে হচ্ছিল। পারমাণবিক অস্ত্র, আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন, বিমানবাহিনী, স্থলবাহিনী এবং পূর্ব ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতো। ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত সামরিক হস্তক্ষেপ আরও একটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বোঝায় পরিণত হয়। প্রায় এক দশকের যুদ্ধ সোভিয়েত সেনাবাহিনীর প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রের মর্যাদা, অর্থনীতি এবং জনগণের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
১৯৮৫ সালের মার্চে মিখাইল গর্বাচেভ সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সময় নেতৃত্ব বুঝতে শুরু করেছিল যে পুরোনো পদ্ধতিতে রাষ্ট্রকে দীর্ঘকাল চালানো কঠিন হবে। তুলনামূলকভাবে তরুণ গর্বাচেভ সোভিয়েত ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চাননি; তাঁর লক্ষ্য ছিল সংস্কারের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর এবং টেকসই করা। কিন্তু তাঁর দুটি বিখ্যাত নীতি—পেরেস্ত্রোইকা বা পুনর্গঠন এবং গ্লাসনস্ত বা উন্মুক্ততা—শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত রাজনীতির ভিত্তিই বদলে দেয়।
পেরেস্ত্রোইকার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সীমিত বিকেন্দ্রীকরণ, প্রতিষ্ঠানের অধিক স্বাধীনতা এবং কিছু বাজারভিত্তিক উপাদান আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পুরোনো কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হয়নি, আবার কার্যকর বাজারব্যবস্থাও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এই মধ্যবর্তী অবস্থায় সরবরাহব্যবস্থা আরও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। উৎপাদন কমে যাওয়া, বাজেট ঘাটতি, পণ্যের সংকট এবং বাজারে অস্থিরতা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ক্রমশ দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
গ্লাসনস্তের রাজনৈতিক প্রভাব ছিল আরও বিস্ফোরক। সংবাদমাধ্যম ও জনপরিসরে এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যেগুলো আগে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। স্তালিনের দমন-পীড়ন, গুলাগ বন্দিশিবির, সরকারি দুর্নীতি, আফগানিস্তানের যুদ্ধ, পরিবেশগত বিপর্যয় এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যর্থতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন উঠতে থাকে। ১৯৮৬ সালের চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনা এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্য গোপন করার সরকারি প্রচেষ্টা মানুষের কাছে পুরোনো গোপনীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার বিপজ্জনক দিককে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
যে রাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে ইতিহাসের একটি নিয়ন্ত্রিত সংস্করণ নাগরিকদের সামনে উপস্থাপন করেছিল, সেই রাষ্ট্রের জনগণ হঠাৎ নিজেদের অতীত সম্পর্কে বহু অস্বস্তিকর সত্য জানতে শুরু করে। এর ফলে শুধু নির্দিষ্ট নেতাদের নয়, পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। গর্বাচেভ আশা করেছিলেন উন্মুক্ত আলোচনা সমাজতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে; বাস্তবে তা কমিউনিস্ট পার্টির তথ্য নিয়ন্ত্রণের একচেটিয়া ক্ষমতা ভেঙে দেয়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় জাতীয়তাবাদের পুনরুত্থান। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রজাতন্ত্রের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং জাতীয় পরিচয় ছিল। বিশেষ করে লিথুয়ানিয়া, লাতভিয়া ও এস্তোনিয়ায় সোভিয়েত শাসনের বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। এই তিনটি বাল্টিক রাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং সেখানে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে অতীতের স্মৃতি শক্তিশালী ছিল।
১৯৮৯ সালের আগস্টে লিথুয়ানিয়া, লাতভিয়া ও এস্তোনিয়ার প্রায় ছয়শ কিলোমিটারজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ হাতে হাত ধরে একটি মানবশৃঙ্খল তৈরি করে। ‘বাল্টিক পথ’ নামে পরিচিত এই কর্মসূচি দেখিয়ে দেয় যে জাতীয় স্বাধীনতার দাবি আর ছোট কোনো ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠীর আন্দোলন নয়। ১৯৯০ সালের মার্চে লিথুয়ানিয়া সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলোর মধ্যে প্রথম স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। মস্কো তা মেনে নেয়নি, কিন্তু আগের যুগের মতো ব্যাপক সামরিক দমন চালিয়ে আন্দোলন সম্পূর্ণ স্তব্ধ করতেও পারেনি।
ককেশাসেও জাতিগত ও ভূখণ্ডগত বিরোধ তীব্র হচ্ছিল। আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে সংঘাত সোভিয়েত কেন্দ্রীয় সরকারের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে। জর্জিয়াতেও স্বাধীনতার দাবি জোরদার হয়। ১৯৮৯ সালে তিবিলিসিতে সোভিয়েত বাহিনীর অভিযানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যু কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও বাড়ায়। বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রমশ এমন ধারণা শক্তিশালী হচ্ছিল যে মস্কো আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম নয়।
একই সময়ে পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত আধিপত্য দ্রুত ভেঙে পড়ছিল। গর্বাচেভ আগের সোভিয়েত নেতাদের মতো সামরিক শক্তি ব্যবহার করে পূর্ব ইউরোপের কমিউনিস্ট সরকারগুলোকে রক্ষা করতে আগ্রহী ছিলেন না। ১৯৮৯ সালে পোল্যান্ডে কমিউনিস্ট শাসনের অবসান শুরু হয়, হাঙ্গেরি সীমান্ত খুলে দেয়, পূর্ব জার্মানিতে গণবিক্ষোভ বৃদ্ধি পায় এবং ৯ নভেম্বর বার্লিন প্রাচীর খুলে দেওয়া হয়। এরপর চেকোস্লোভাকিয়া, বুলগেরিয়া ও রোমানিয়াসহ পূর্ব ইউরোপের একের পর এক কমিউনিস্ট সরকার পতন ঘটে।
পূর্ব ইউরোপের এই পরিবর্তনের তাৎপর্য ছিল গভীর। সোভিয়েত জনগণ দেখল, কয়েক দশক ধরে অপরিবর্তনীয় বলে মনে হওয়া রাজনৈতিক ব্যবস্থা কয়েক মাসের মধ্যে বিলুপ্ত হতে পারে। একই সঙ্গে মস্কো তার সাম্রাজ্যিক প্রভাববলয়ের একটি বিশাল অংশ হারাল। ১৯৯০ সালে জার্মান পুনরেকত্রীকরণ সম্পন্ন হওয়ার পর স্নায়ুযুদ্ধের ইউরোপীয় কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়ে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের অভ্যন্তরে আরও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটছিল রাশিয়াতেই। রুশ সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র ছিল পুরো ইউনিয়নের বৃহত্তম অংশ। বরিস ইয়েলৎসিন ধীরে ধীরে গর্বাচেভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির পুরোনো কাঠামোর বিরুদ্ধে আরও দ্রুত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের দাবি করেন। ১৯৯০ সালের জুনে রুশ প্রজাতন্ত্র তার আইনের সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করলে একটি মৌলিক বিরোধ সৃষ্টি হয়—যে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় শক্তির প্রধান ভিত্তিই ছিল রাশিয়া, সেই রাশিয়াই এখন কেন্দ্রীয় সোভিয়েত কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করছিল।
গর্বাচেভ তখন সোভিয়েত ইউনিয়নকে নতুন একটি শিথিল সংঘ হিসেবে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। ১৯৯১ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত গণভোটে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ ভোটার সংস্কারকৃত একটি ইউনিয়ন বজায় রাখার পক্ষে ভোট দেয়। কিন্তু বাল্টিক প্রজাতন্ত্র, আর্মেনিয়া, জর্জিয়া ও মলদোভাসহ কয়েকটি প্রজাতন্ত্র সেই ভোটে অংশ নেয়নি। ফলে ফলাফল দেখিয়েছিল যে বহু মানুষ ইউনিয়ন বজায় রাখতে চাইলেও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে গভীর বিভাজন ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে।
নতুন ইউনিয়ন চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা সোভিয়েত ব্যবস্থার রক্ষণশীল অংশকে আতঙ্কিত করে। তাদের আশঙ্কা ছিল, গর্বাচেভের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা কার্যত বিলীন হয়ে যাবে। ১৯৯১ সালের ১৯ আগস্ট গর্বাচেভ যখন ক্রিমিয়ায় অবকাশযাপন করছিলেন, তখন উচ্চপদস্থ কয়েকজন সরকারি, সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা একটি জরুরি কমিটি গঠন করে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দেন। গর্বাচেভকে তাঁর বাসভবনে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় এবং মস্কোর রাস্তায় ট্যাংক প্রবেশ করে।
অভ্যুত্থানকারীরা ভেবেছিল রাষ্ট্রযন্ত্র, সেনাবাহিনী এবং জনগণ তাদের নির্দেশ মেনে নেবে। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বরিস ইয়েলৎসিন মস্কোর রুশ সংসদ ভবনের সামনে প্রতিরোধের কেন্দ্রীয় মুখ হয়ে ওঠেন। একটি ট্যাংকের ওপর দাঁড়িয়ে তাঁর অভ্যুত্থানবিরোধী বক্তব্য সেই সংকটের সবচেয়ে বিখ্যাত দৃশ্য হয়ে ওঠে। হাজার হাজার মানুষ সংসদ ভবনের চারপাশে জড়ো হয়। সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ অভ্যুত্থানকারীদের পক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
মাত্র তিন দিনের মধ্যে অভ্যুত্থান ভেঙে পড়ে। ২১ আগস্ট গর্বাচেভ মস্কো ফিরে আসেন। কিন্তু তিনি যে রাষ্ট্রে ফিরেছিলেন, সেটি রাজনৈতিকভাবে আর আগের সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল না। অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলেও সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছিল কেন্দ্রীয় সোভিয়েত কর্তৃত্বের। কমিউনিস্ট পার্টির রক্ষণশীল অংশের সঙ্গে অভ্যুত্থানের সম্পর্ক দলটির মর্যাদাকে ধ্বংস করে দেয়, আর ইয়েলৎসিন জাতীয় প্রতিরোধের প্রধান নেতা হিসেবে অসাধারণ রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করেন।
আগস্টের পর প্রজাতন্ত্রগুলোর স্বাধীনতার ঘোষণা দ্রুতগতিতে আসতে থাকে। ইউক্রেন ২৪ আগস্ট স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। এটি ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের ভবিষ্যতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার পর ইউক্রেন ছিল ইউনিয়নের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতন্ত্র—জনসংখ্যা, কৃষি, শিল্প, কৃষ্ণসাগরীয় অবস্থান এবং সামরিক অবকাঠামোর কারণে ইউক্রেন ছাড়া একটি কার্যকর সোভিয়েত ইউনিয়ন কল্পনা করা অত্যন্ত কঠিন ছিল।
১৯৯১ সালের ১ ডিসেম্বর ইউক্রেনে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোটদাতাদের প্রায় নব্বই শতাংশ স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেয়। শুধু পশ্চিম ইউক্রেন নয়, দেশের পূর্ব ও দক্ষিণের বহু অঞ্চলও স্বাধীনতার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেয়। এই ফল গর্বাচেভের সংস্কারকৃত ইউনিয়ন রক্ষার পরিকল্পনায় কার্যত চূড়ান্ত আঘাত হানে।
এর মাত্র এক সপ্তাহ পর, ৮ ডিসেম্বর, রাশিয়ার বরিস ইয়েলৎসিন, ইউক্রেনের লিওনিদ ক্রাভচুক এবং বেলারুশের স্তানিস্লাভ শুশকেভিচ বেলারুশের বেলাভেজা অরণ্য অঞ্চলে বৈঠক করেন। সেখানে তাঁরা ঘোষণা করেন যে সোভিয়েত ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক আইন ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে আর বিদ্যমান নেই। একই সঙ্গে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কমনওয়েলথ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা প্রজাতন্ত্রগুলোর তিনটি যখন নিজেরাই ইউনিয়নের অবসান ঘোষণা করল, তখন গর্বাচেভের হাতে রাষ্ট্রটিকে ধরে রাখার কার্যকর রাজনৈতিক উপায় প্রায় আর ছিল না।
২১ ডিসেম্বর আলমা-আতায় আরও আটটি সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র নতুন ব্যবস্থায় যোগ দেয়। বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো এই কাঠামোর বাইরে থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের পথ বেছে নেয়। জর্জিয়াও তখন এতে যোগ দেয়নি। কেন্দ্রীয় সোভিয়েত প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত অর্থহীন হয়ে পড়ছিল। বাস্তব ক্ষমতা ইতিমধ্যে প্রজাতন্ত্রগুলোর সরকার, বিশেষত ইয়েলৎসিনের নেতৃত্বাধীন রাশিয়ার হাতে চলে গিয়েছিল।
২৫ ডিসেম্বর ১৯৯১ গর্বাচেভ জাতির উদ্দেশে তাঁর শেষ ভাষণ দেন। তিনি ঘোষণা করেন যে সোভিয়েত ইউনিয়নের রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর পদ বিলুপ্ত হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করছেন। সোভিয়েত পারমাণবিক অস্ত্রের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ রুশ রাষ্ট্রপতি ইয়েলৎসিনের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। সেই সন্ধ্যায় ক্রেমলিনের ওপর সোভিয়েত পতাকা নামিয়ে রুশ পতাকা উত্তোলন করা হয়। ২৬ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।
এই পতনের জন্য একজন ব্যক্তি বা একটি ঘটনাকে এককভাবে দায়ী করা ইতিহাসকে অতিরিক্ত সরল করে ফেলে। গর্বাচেভের সংস্কার অবশ্যই ঘটনাপ্রবাহকে ত্বরান্বিত করেছিল, কিন্তু তিনি এমন একটি রাষ্ট্র উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন যার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যাগুলো বহু দশক ধরে জমা হচ্ছিল। আবার শুধু অর্থনৈতিক দুর্বলতাও পতন ব্যাখ্যা করে না। বহু দুর্বল অর্থনীতির রাষ্ট্র ভেঙে যায় না। সোভিয়েত ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে রাজনৈতিক বৈধতার পতন, জাতীয় পরিচয়ের পুনরুত্থান, কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষমতা হারানো এবং কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভক্তি একসঙ্গে ঘটেছিল।
গর্বাচেভের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব এখানেই। তিনি ব্যবস্থা সংস্কার করে সোভিয়েত ইউনিয়নকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সংস্কারের জন্য যে উন্মুক্ততা সৃষ্টি করেছিলেন, তা জনগণকে ব্যবস্থাটিকেই প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির একচ্ছত্র ক্ষমতা দুর্বল করেছিলেন, কিন্তু তার পরিবর্তে যথেষ্ট শক্তিশালী নতুন সর্বসোভিয়েত প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেননি। ফলে পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতা কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রের পরিবর্তে প্রজাতন্ত্রগুলোর হাতে চলে যায়।
ইয়েলৎসিনের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সোভিয়েত কেন্দ্রকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে তিনি জাতীয় স্বাধীনতাকামী প্রজাতন্ত্রগুলোর সঙ্গে কার্যত একই দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন, যদিও তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল স্বাধীন রাশিয়ার রাজনৈতিক ক্ষমতা সুসংহত করা। শেষ পর্যন্ত একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল—সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান প্রজাতন্ত্র রাশিয়ার নেতৃত্বই সোভিয়েত কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়।
পতনের আন্তর্জাতিক তাৎপর্য ছিল অসাধারণ। ১৯৪০-এর দশকের শেষভাগ থেকে বিশ্বরাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা স্নায়ুযুদ্ধের দ্বিমেরু কাঠামো শেষ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছে যায়, যার সমতুল্য সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তখন আর ছিল না। ওয়ারশ চুক্তি ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত হয়েছিল, পূর্ব ইউরোপ সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল এবং ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্র দ্রুত বদলাচ্ছিল।
একই সঙ্গে পনেরোটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম নতুন সমস্যাও তৈরি করে। সোভিয়েত যুগে আঁকা প্রশাসনিক সীমান্তগুলো এখন আন্তর্জাতিক সীমান্তে পরিণত হয়। কোটি কোটি মানুষ হঠাৎ এমন নতুন রাষ্ট্রে বসবাস করতে শুরু করে যেখানে তাদের জাতিগত পরিচয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর থেকে আলাদা ছিল। পারমাণবিক অস্ত্র রাশিয়ার পাশাপাশি ইউক্রেন, বেলারুশ ও কাজাখস্তানের ভূখণ্ডেও অবস্থান করছিল। সোভিয়েত সেনাবাহিনীর সম্পদ, বৈদেশিক ঋণ, কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে সোভিয়েত আসনের উত্তরাধিকার নিয়ে জটিল প্রশ্ন দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত রাশিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান আন্তর্জাতিক উত্তরসূরি হিসেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী আসনসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে।
সাধারণ মানুষের জন্য পতনের অর্থ ছিল আরও জটিল। কারও কাছে এটি ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার অবসান। বিশেষ করে বাল্টিক রাষ্ট্র ও বহু জাতীয় স্বাধীনতাকামী জনগোষ্ঠীর কাছে ১৯৯১ ছিল রাষ্ট্র পুনরুদ্ধার বা স্বাধীনতা অর্জনের বছর। অন্যদিকে বহু মানুষের কাছে সোভিয়েত পতন পরিচিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার আকস্মিক ধ্বংসের সূচনা করে। নব্বইয়ের দশকে সাবেক সোভিয়েত অঞ্চলের অনেক অংশে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, সঞ্চয়ের মূল্যহানি, শিল্প উৎপাদনের পতন, অপরাধ এবং সামাজিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায়।
এই কারণেই সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের স্মৃতি আজও একরৈখিক নয়। একই ঘটনা কারও কাছে মুক্তি, কারও কাছে রাষ্ট্রের বিপর্যয়, আবার কারও কাছে একটি অকার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থার অনিবার্য সমাপ্তি। রাশিয়া, ইউক্রেন, বাল্টিক রাষ্ট্র, মধ্য এশিয়া এবং ককেশাসে ১৯৯১ সালের অর্থ ও স্মৃতি এক নয়। পরবর্তী দশকগুলোর রাজনীতি, নিরাপত্তা সংকট এবং জাতীয় পরিচয়ের বিতর্কেও এই ভিন্ন স্মৃতির প্রভাব রয়ে গেছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সামরিক পরাশক্তির পতন কোনো সর্বাত্মক বিদেশি আক্রমণ বা রাজধানী দখলের মাধ্যমে ঘটেনি। সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে তখনও হাজার হাজার পারমাণবিক অস্ত্র, বিশাল সেনাবাহিনী এবং বিপুল ভূখণ্ড ছিল। কিন্তু একটি রাষ্ট্র কেবল অস্ত্রের শক্তিতে টিকে থাকে না। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যখন ক্রমশ অকার্যকর হয়, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়, কেন্দ্রের নির্দেশ মানার ইচ্ছা কমে যায় এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশ নিজেদের ভবিষ্যৎ আলাদাভাবে কল্পনা করতে শুরু করে, তখন সামরিক শক্তি রাষ্ট্রের ঐক্য নিশ্চিত করতে পারে না।
১৯৯১ সালের শেষ দিনগুলো তাই শুধু একটি দেশের পতনের ইতিহাস নয়। এটি দেখায় কীভাবে কয়েক দশক ধরে স্থিতিশীল ও অপরিবর্তনীয় বলে মনে হওয়া একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। অর্থনৈতিক স্থবিরতা সেই দুর্বলতার ভিত্তি তৈরি করেছিল, গর্বাচেভের সংস্কার রাজনৈতিক দরজা খুলেছিল, গ্লাসনস্ত রাষ্ট্রের অতীত ও বর্তমানকে প্রকাশ্য বিতর্কের বিষয় করেছিল, জাতীয়তাবাদ প্রজাতন্ত্রগুলোকে কেন্দ্র থেকে দূরে সরিয়েছিল, পূর্ব ইউরোপের বিপ্লব সোভিয়েত সাম্রাজ্যিক বলয় ভেঙেছিল, আগস্টের ব্যর্থ অভ্যুত্থান কমিউনিস্ট কেন্দ্রের শেষ কর্তৃত্ব ধ্বংস করেছিল এবং ইউক্রেনসহ প্রধান প্রজাতন্ত্রগুলোর স্বাধীনতার সিদ্ধান্ত ইউনিয়নের অস্তিত্বকেই অসম্ভব করে তুলেছিল।
ক্রেমলিন থেকে লাল পতাকা নামানোর মুহূর্তটি তাই ছিল দীর্ঘ প্রক্রিয়ার শেষ দৃশ্য মাত্র। যে রাষ্ট্র নাৎসি জার্মানিকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা রেখেছিল, মানুষকে প্রথম মহাকাশে পাঠিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক সমতা অর্জন করেছিল এবং কয়েক দশক ধরে বিশ্বের রাজনৈতিক ভারসাম্য নির্ধারণ করেছিল, সেই সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৯১ সালের শেষে ইতিহাসে পরিণত হয়। তার পতনের মধ্য দিয়ে শুধু একটি রাষ্ট্রের অবসান ঘটেনি; শেষ হয়েছিল বিশ শতকের আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে সংজ্ঞায়িত করা একটি সম্পূর্ণ যুগ।
চীনের এক-সন্তান নীতি: ১৯৮০ সালের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কীভাবে বদলে দিয়েছিল একটি জাতির ভবিষ্যৎ?
ক্রিমিয়ার রুশ অন্তর্ভুক্তি ২০১৪: ইউক্রেনের ভূখণ্ড দখল, বিতর্কিত গণভোট ও ইউরোপের সীমান্ত বদলের সংকট
বিল ক্লিনটনের অভিশংসন ১৯৯৮–১৯৯৯: যৌন কেলেঙ্কারি, মিথ্যা সাক্ষ্য ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঐতিহাসিক বিচার
মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো: বিষুবরেখার কাছে আফ্রিকার সর্বোচ্চ পাহাড়ে বরফ রয়েছে কেন?
আটলান্টিক মহাসাগর: ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকাকে আলাদা করা বিশাল জলরাশির ইতিহাস
গোবি মরুভূমি: এশিয়ার বিশাল শীতল মরুভূমি সাহারার চেয়ে এত আলাদা কেন?